TrUe MoTiVaTiOn
21/07/2025
বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা কী, জানেন?
বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হলো- ৫৬,৫০০ বর্গমাইলের দেশটি এর আয়তনের ০১ শতাংশ ৫৬৫ বর্গমাইলের ঢাকা নামক এক নগরীতে বন্দী।
গোটা বাংলাদেশকে আমরা ঢাকার মধ্যে বন্দী করে রেখেছি।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বাংলাদেশের সচিবালয় ঢাকায়। বাংলাদেশের সব সরকারি দপ্তরের হেডকোয়ার্টার ঢাকায়।
বাংলাদেশের পুলিশের হেডকোয়ার্টার ঢাকায়।
বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টার ঢাকায়। বাংলাদেশের নৌবাহিনীর হেডকোয়ার্টার ঢাকায়। বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর হেডকোয়ার্টার ঢাকায়। বাংলাদেশের আনসার বাহিনীর হেডকোয়ার্টার ঢাকায়। বাংলাদেশের বিজিবির হেডকোয়ার্টার ঢাকায়।
বাংলাদেশের সব ব্যাংকের হেডকোয়ার্টার ঢাকায়। বাংলাদেশের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হেডকোয়ার্টার ঢাকায়।
বাংলাদেশের সব ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকায়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
বাংলাদেশের গ্যাস এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
বাংলাদেশের পানি'র প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
বাংলাদেশের কুটির শিল্পের প্রধান কার্যালয় ঢাকায়। বাংলাদেশের হস্তশিল্পের প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
বাংলাদেশের এনজিওগুলোর প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
বাংলাদেশের মৎস্য ভবন ঢাকায়।
বাংলাদেশের বীজ ভবন ঢাকায়।
বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
বাংলাদেশের সমবায় ভবন ঢাকায়।
বাংলাদেশের সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকায়।
বাংলাদেশের প্রধান এয়ারপোর্ট ঢাকায়।
বাংলাদেশের প্রধান লঞ্চঘাট ঢাকায়।
বাংলাদেশের প্রধান বাস টার্মিনাল ঢাকায়।
বাংলাদেশের অধিকাংশ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ঢাকা এবং এর আশেপাশে।
বাংলাদেশের সব ভালো হাসপাতাল ঢাকায়। ঢাকার বাইরের সব হাসপাতালের ডাক্তার রোগীদের একটু ক্রিটিক্যাল কন্ডিশন দেখলেই তাকে ঢাকায় রেফার করেন।
বাংলাদেশের ৮০% এর অধিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপ হয় ঢাকায়। প্রায় সব ব্যবসা ঢাকায়।
আপনি যদি প্রশ্ন করেন, ঢাকায় মৎস্য ভবনের কাজ কী?
উত্তর পাবেন না।
আপনি যদি প্রশ্ন করেন, ঢাকায় বিএডিসি'র কাজ কী?
উত্তর পাবেন না।
আপনি যদি প্রশ্ন করেন, ঢাকায় খামারবাড়ির কাজ কী?
উত্তর পাবেন না।
আপনি যদি প্রশ্ন করেন, রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি কেনো বন্দরনগরী চট্টগ্রামে না হয়ে ঢাকার আশেপাশে হলো?
উত্তর পাবেন না।
ঢাকা এবং এর আশেপাশে অন্তত ৫ কোটি মানুষ থাকে। সবাইকে কেনো ঢাকায়ই থাকতে হবে? এই প্রশ্নের অবশ্য উত্তর আছে- ঢাকার বাইরে মধু নেই। সব মধু ঢাকায়।
ঢাকার বাইরে আরও ১৩ কোটি মানুষ আছে বাংলাদেশে। তারাও কোনো না কোনো ভাবে ঢাকার উপর নির্ভরশীল।
একটা চাকরির পরীক্ষা দেবেন? আপনাকে ঢাকায় আসতে হবে।
একটা পণ্যের ভালো দাম পেতে চান? আপনাকে সেটা ঢাকায় পাঠাতে হবে।
সন্তানকে ভালো মানের উচ্চশিক্ষা দিতে চান? আপনার সন্তানকে ঢাকায় পাঠাতে হবে।
দুনিয়ার আর কোনো দেশে এতো কম জায়গায় এভাবে সব কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত আছে বলে আমার জানা নেই।
ফলাফল: ঢাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যপুরী।
ঢাকা শহরে যদি একটা ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, অন্তত তিন কোটি মানুষ মারা যাবে।
ঢাকা শহরে ভয়াবহ দাহ্য রাসায়নিক দ্রব্য গুদামে রাখা হয় লোকালয়ের মাঝখানে।
ঢাকা শহরে যেসব পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চলে, তাদের ৮০% এরই নেই ফিটনেস সনদ। ড্রাইভারদের নেই প্রশিক্ষণ কিংবা সচেতনতা।
আল্লাহ বাঁচাইয়া রাখছেন, তাই ঢাকা শহরের কোটি কোটি মানুষ বেঁচে আছে।
এই যে, ঢাকামুখীতা, এটা বন্ধ করারও কোনো উদ্যোগ নেই। দিন যাচ্ছে, ঢাকার ওপর চাপ বাড়ছে।
চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ১৩,০০০ একর জমিতে করা হয়েছে। সেখানে দেশী-বিদেশী নানা রকম কোম্পানির নামে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। আপনি সেখানে গেলে দৃশ্যমান তেমন কোনো ফ্যাসিলিটি খুঁজে পাবেন না।
অথচ, উচিৎ ছিলো বাংলাদেশের সব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ওই ১৩,০০০ একর জায়গায় স্থানান্তর করা। তাতে বন্দর থেকে পোশাকের কাঁচামাল আনতে কিংবা বন্দরে পোশাক পাঠাতে সময় এবং খরচ কম লাগতো। দেশের রপ্তানি আয় বাড়তো। কেউ কি সেই চিন্তা করেছে।
দেশের নানা অঞ্চলে অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছে। জামালপুর ইকোনমিক জোনে গরু চরতে দেখে এসেছি। সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন আছে কাগজে কলমে। সিলেটের শ্রীহট্ট ইকোনমিক জোনও আলোর মুখ দেখেনি।
ঢাকায় একেকটা দুর্ঘটনা হয়, একেক মাতম ওঠে। কিছুদিন পর সেই মাতম থিতিয়ে যায়। আবার একটা দুর্ঘটনা ঘটে।
নিমতলীর আগুনে লাখো মানুষ মারা যেতে পারতো। আল্লাহর অসীম দয়ায় সেটা হয়নি। সে সময় লোকালয় থেকে রাসায়নিকের গুদাম সরানোর জোর দাবী উঠেছিলো। সেই দাবী মিইয়ে গেছে হাওয়ায়।
আজকে এয়ারফোর্স এর প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় ঝরে গেলো অনেকগুলো নিষ্পাপ প্রাণ। হয়তো দাবী উঠবে, লোকালয়ে বিমান প্রশিক্ষণ বন্ধ করার। আবার সেই দাবী মিইয়ে যেতে সময় লাগবে না।
ইস্যুখোর আর ফুটেজখোর জাতির মেমোরি বড়ই উদ্বায়ী। এরা সব ভুলে যায়। নতুন ইস্যুর তলে পুরনো ইস্যু চাপা পড়ে যায়।
সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী - এগুলোর সদর দপ্তর কেনো রাজধানীর কলিজার ভেতর হতে হবে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেনো একেবারে নগরীর কেন্দ্রে থাকতে হবে?
সচিবালয় ঢাকার বাইরে সরানো যায় না?
ঢাকা, চট্টগ্রাম বাদে অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়া যায়না?
এরকম অনেক প্রশ্ন আসে মাথায়। উত্তর পাইনা কোনোটারই।
যতোদিন ঢাকার মধ্যে বন্দী থাকবে বাংলাদেশ, ততোদিন এই বেজন্মা জাতির কোনো গতি হবে না। লিখে রাখলাম, মিলিয়ে নেবেন।
একবার ভীষণ রাগ নিয়ে একজনকে বলেছিলাম,
You will never message me again.
মানুষটা কষ্ট পেয়ে আর আমাকে নক দেয়নি এরপর। অথচ সে প্রতিদিন অপেক্ষা করতো, হয়তো আমি নিজে থেকে তাকে পারমিশন দিবো। আমি কোনো স্টোরি দিলে সে সবাইর আগে সিন করতো। আমি কোনো পোস্ট দিলে সবাইর আগে সে রিয়েক্ট দিতো, আবার সাথে সাথে রিয়েক্ট সরিয়ে নিতো। এটা সে করতো, কারণ সে আমাকে ভুলতে পারেনি। ভুলতে পারেনি কিছু বাক্য, বলে ফেলা কিছু শব্দ যা শুধু আমাকেই বলা হতো। যা শুনে আমি বিরক্ত হতাম কিংবা আন্দোলিত হতো আমার মন। প্রতিবার সেসব শব্দে শুধু আমাকেই মনে করতো সে।
তার এহেন কর্মকাণ্ড দেখে মনে মনে হাসতাম আমি।
অপেক্ষা করতে করতে একটা সময় সে বুঝে ফেললো যে আমি আর তাকে পারমিশন দিবো না। সে এরপর অপেক্ষা করা ছেড়ে দিলো। আমার স্টোরি সিন করাও ছেড়ে দিলো। পোস্টে রিয়েক্ট দিয়ে তা উঠিয়ে নেওটাও বন্ধ করে দিলো।
probably she realized that she was waiting for a wrong man.
আচমকা তাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে একদিন আমি তাকে কল করলাম। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে অনেকক্ষণ ধরে সে তার অভিমান ঝাড়লো আমার উপর।
সেদিন প্রথম আমি অনুভব করলাম,
"পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় তৃষ্ণা হলো, কারো সাথে একটুখানি কথা বলবার তৃষ্ণা"
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Dhaka