decoding.us
29/04/2024
বাংলাদেশে কিভাবে আসলে মিল্টন সমাদ্দারা তৈরি হয় এই ভিদিওটা দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায়। চারিদিকে চাপাবাজ শিক্ষকরা একটা অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করেছে যেখানে আবেগ ছাড়া আর কিছুই নাই। মিল্টনদের আসলে কোন দোষ নেই। চোরা অশিক্ষিত এবং টাউট সমাজে সবাই সাহায্য করে লোক দেখাতে চায় কারন আমরা জানি আমাদের ব্যবসা দুই নম্বর। ফলে, গরিব দুস্থ আমাদের জন্যে আশীর্বাদ। এইসব লোকদের সাহায্য করে আসলে আমাদের দুর্নীতির ব্যলেন্স করি।
যদি তাই না হতো তাহলে রাষ্ট্রে যেসব প্রতিষ্ঠানকে এইসব মানুষদের দায়িত্ব নেয়ার কথা তাদের জবাবদিহিতার ভিতর আনতাম। নতুনদের বলবো একটা হোন্ডা, ক্যামেরা, ৫০০ টাকার কিছু নোট আর বিকাশ বা নগদ নাম্বার নিয়ে বেড়িয়ে এই লোকের মত ভিডিও করে ভাইরাল করে বলো আপনার সন্তানরা কোথায়, তারা আপনাকে দেখে না? দেখবে অনেকে ওর সন্তান থেকে ভালো সাজার আবেগ নিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করবে যার হিসাব তোমাকে দিতে হবে না।
আরে মূর্খ তোদের এই অশিক্ষিতদের সমাজে ওর সন্তানরাও যে ভালো নেই।
এইভাবে যদি করতে পারো আমরা মনে হয় না আর কোন চাকরি বা ব্যবসা করার দরকার আছে। কোন শিক্ষিত সমাজে সামাজিক শিক্ষা এবং সোশ্যাল ওয়ার্কের শিক্ষা ছাড়া টাকা চাওয়া তো দূরের কথা এইরকম ভিডিও করে হাতেম তাই হওয়া সম্ভব না। পাবলিক থেকে টাকা নিলে তার অডিটসহ পাই পাই হিসাব সরকার বুঝে নিয়ে জনগণকে বুঝিয়ে দিবে।
এইজন্যেই এই বাংলায় গরিব ভাইরাল হয় কিন্তু তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। ধর্ম, চিকিৎসার পরে বাংলায় এখন গরিব নিয়ে ব্যবসা তুঙ্গে। নতুনরা এইসব করো কাজে দিবে। যে দেশে যেমন ভাও।
মিল্টন সামাদ্দার যদি দানের টাকা চুরি করে মেরে দেয় আমি এইসব বিষয়কে স্যালুট জানাই। মূর্খ একটা জনগোষ্ঠী ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্বকে রাষ্ট্র না দিয়ে বা রাষ্ট্রকে প্রশ্নের ভিতরে না এনে যখন আরেক মূর্খ সাধারণ এক নাগরিকের হাতে সপে দিয়ে মাদার তেরেসা হওয়ার স্বপ্ন দেখে তখন তাদের কপালে এইসবই হবে।
আমাদের দেশে নতুনদের জন্যে সবচেয়ে বড় ট্রমা হচ্ছে স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত করা অথবা মানদণ্ড তৈরিই করতে পারে নাই যেইখানে সত্য বলে স্বীকৃতির চর্চা করা যায়। ঠিক এই বিষয়টাই ব্যবহার করছে বাংলার দালাল সমিতিরা আর সমালোচক যে কয়জন আছে তারা নতুনদের কাছে শত্রু হিসাবে পরিচিত হচ্ছে।
উদাহরণ দিচ্ছি, একজন ছেলে বা মেয়ে তারা কখনই শুধুমাত্র তাদের শিক্ষা দিয়ে কাজ বা মূল্যায়ন পায় না। তাদের আমরা এতোটাই ক্ষুধার্ত করে গড়ে তুলি যে একজন মূর্খ যখন তাদের মিথ্যা প্রশংসা করে তখন তারা বাধ্য হয় সেইটা বিশ্বাস করতে। এইজন্যে নতুনদের কোনভাবেই দোষ দেয়া যাবে না। বাস্তব সমাজ এতোটাই টক্সিক যে ঐ মিথ্যা আশ্বাসই নতুনদের জন্যে এই রিয়েলিটি থেকে বের হওয়ার একমাত্র অবলম্বন।
এখন কেউ যদি সঠিক উপায় বলে সেইটা স্বাভাবিকভাবে মনে হবে আরো ভয়ংকর এবং সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবশ্যই নতুনদের কাছে শত্রু হিসাবে দেখা দিবে।
ফলে, দালালরা হয় কোটিপতি। মানুষ দালালদের কাছে ভিড় জমায় আশ্বাসের জন্যে। নতুনদের বলছি ব্যবসা চাকরি যাই হোক না কেন। মিথ্যা আশ্বাস দেন দেখবেন সহজেই কোটিপতি বা সফল হতে পারবেন।
বিশ্বাস না হলে বিগত বছরগুলোতে প্রতারক কোটিপতি এবং সফল ব্যক্তিদের মূল উৎস খোঁজার চেষ্টা করুন...চোখ বন্ধ করে বলে দিচ্ছি চারিদিকে দেখবেন আশ্বাস আর মোটিভেশন।
যেই দেশের মানুষের মনে ঢুকে গেছে দালালরা শিক্ষিত মানুষের থেকে বেশি বিশ্বাসী সেই দেশ নিয়া আসলে কিছুই বলার নাই। আমি ইউরোপে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ানোর খাতিরে বিভিন্ন সময়ে বাঙ্গালি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে দেখা হয় এবং এরা প্রায় সবাইই দালালদের পূজা করে ভগবানের মতো করে অথচ নিজে একটা ইমেইল করে বিশ্ববিদ্যালয় অথবা এম্বাসিতে খোঁজ নিবে না।
এর থেকে বোঝা যায় আমাদের নতুন প্রজন্মকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি সত্য বলতে আসলে কিছু নাই। যোগাযোগ আর চামচামি করে নেটওয়ার্ক ছাড়া আর কোন উপায় নাই। নতুনদের এই আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে দেয়াই অন্যতম একটা লক্ষণ হয় স্বৈরাচার রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার ফুয়েল বা জ্বালানি।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
ঢাকা, বাংলাদেশ
Dhaka
1205