Soruar Creation
11/07/2025
SSC/Dakhil ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর গাইডবুক৷
আপনার পরিচিত কেউ আছে যে এবার পরিক্ষায় ফেল করেছে৷ তাকে এই pdf টি পড়তে দিন৷ পরিক্ষায় ফেল মানে থেমে যাওয়া নয় বরং ঘুরে দাড়ানোর আরেকটি সুযোগ৷
pdf লিংক কমেন্ট বক্সে
গ্রামীণ সমাজের গণমনস্তত্ত্ব বিনির্মাণে তাফসির মাহফিলের ভূমিকা, পলিটিক্যাল ইসলামের পুনর্জাগরণে মুফতি আমির হামজার অবদান, সম্ভাবনা ও সংকট।
আবহমানকাল থেকে গ্রামীণ সমাজে দ্বীনি জ্ঞান বিস্তারের অন্যতম মাধ্যম ছিল বাড়ির উঠানে, উঠানে মিলাদ-মাহফিল। পাশাপাশি আরেকটু বড় পরিসরে মহল্লায় মহল্লায় ওয়াজ নসিহত।
এই সিস্টেমের আধুনিকায়ন ও কুরআন থেকে সরাসরি সহজ-সরল ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে তাফসিরের রূপায়ণ করেন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাইদী রহ.
এই ধারাবাহিকতায় প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণীর কাছেও তাফসির মাহফিল দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠে পাশাপাশি সম্মানের আসনে আসীন হতে থাকে তাফসিরকারক তথা আলোচকেরা। বর্তমানে তাফসির মাহফিলের জনপ্রিয়তা দেশের প্রায় প্রতিটি শ্রেণীর মধ্যে দেখা যায়।
এখন মূল কথা হলো, গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে বক্তাদের গ্রহণযোগ্যতা সবার শীর্ষে।
বক্তারা হাজার হাজার মানুষের মনস্তত্ত্ব পরিবর্তনে কাজ করতে সক্ষম।
সমাজের যে কালেক্টিভ মেমোরি আছে তা সংশোধন, পরিবর্তন ও সংযোজনে বক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে পলিটিক্যাল ইসলামের পুনর্জাগরণকারী আল্লামা সাইদী রহ.।
প্রান্তিক জনপদের মানুষের অধিকাংশ ইসলামি রাজনীতি, ইকামাতে দ্বীন কিংবা সরাসরি জামায়াতের ইসলামি আসলে কি? কীভাবে কাজ করে এই বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞান রাখেনা ও বলতেও পারবে না।
তবে শুধু আল্লামা সাইদীর ওয়াজ শুনে শুনে দেশের বিরাট বড় এই অংশটি স্পেসিফিক কিছু বিষয় মগজে গেঁথে নিয়েছে ও নিষ্ঠার সাথে বিশ্বাস করে।
যেমন, কুরআন দিয়ে দেশ চলতে হবে,সংসদে কুরআন অনুযায়ী কাজ হতে হবে,মুসলমান হয়ে ইসলামি দলছাড়া অন্যদল করা হারাম, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, মানুষের বানানো আইন অনুযায়ী দল করা যাবে না ইত্যাদি।
সাধারণ মানুষের মাঝে আলেম ওলাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তুলনামূলকভাবে বেশি। আবার একজন বক্তার গ্রহণযোগ্যতা শতগুণ বেশি। সমাজের যে শ্রেণিটা পড়াশোনা করে না, লেকচার-সেমিনার শোনার মত ক্যাপাবল না। এই শ্রেণীরটার কাছে সর্বোচ্চ গ্রহণীয় বক্তারা। আর এই শ্রেণিটা এদেশের বড় একটা সংখ্যা।
একজন বক্তাকে সুনির্দিষ্ট প্লানিং অনুযায়ী পরিচালনা করা সম্ভব হলে এই শ্রেণীটার মাঝে পলিটিক্যাল ইসলামের পুনর্জাগরণ খুব সহজেই সম্ভব।
পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম ও উচ্চ শিক্ষিত সমাজেও সম্ভব। তার প্রমাণ আল্লামা সাইদী রহ.।
বাংলাদেশে আল্লামা সাইদীর পরে জাতীয়ভাবে গণ-পরিসরে পলিটিক্যাল ইসলামের ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে আল্লামা তারিক মুনাওয়ার এবং চলমান সময়ে মুফতি আমির হামজা।
অসংখ্য আলেম এই খেদমতটি করেছেন তবে এই ৩ জন গণ-পরিসরে, শহর থেকে প্রান্তিক অঞ্চলের কোনায় কোনায় পৌঁছিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন।
একটা বিষয় লক্ষণীয়, তাফসির মাহফিলের অনেকগুলো দিক থাকে। আখিরাতমুখী বয়ান, সফট নাসিহা, ব্যক্তি উন্নয়ন, মাসায়াল ইত্যাদি।
আমি এগুলোর বিষয়ে আলোকপাত করছি না। পলিটিক্যাল ইসলাম ও ইসলামি আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে আলাপ করছি।
অন্যরা এসব ক্ষেত্রে তারিক মুনাওয়ার ও আমির হামজা সাহেব থেকেও এগিয়ে থাকতে পারে।
নানাবিধ কারণে আল্লামা সাইদীর মত বিরাট খেদমত ও ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার মত ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে আমি মুফতি আমির হামজাকে এগিয়ে রাখবো। তবে তাকে নিয়ে যেমন সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে তেমনি ক্রিটিক্যাল সংকটও বিদ্যমান আছে।
মুফতি আমির হামজা সাহেবের নিয়ত, প্রচেষ্টা, সাহসিকতা,মেধা অনন্য।
কুরআন ও তাফসিরের উপরে তার দখল বলার অপেক্ষা রাখে না। সময়ের অসংগতিকে খোলামেলা সোজাসাপ্টা তুলে ধরার ক্ষেত্রে পারদর্শী।
নিজস্ব ভঙ্গিমায় তিনি আইডলে পরিণত হয়েছেন। তার কণ্ঠ তেমন সুরেলা না হলেও হৃদয় স্পর্শ করার মত নেয়ামতি কণ্ঠ আল্লাহর পক্ষ থেকে পেয়েছেন বলেই মনে হয়েছে।
সংকট: একজন প্রেজেন্টারের অনেক সহায়ক ও বিজ্ঞ পরামর্শদাতার প্রয়োজন হয়।
মুফতি আমির হামজার সবচেয়ে বড় সংকটের জায়গা হলো তাকে ইনটেলেকচুয়াল সাপোর্ট দেওয়ার মত কেউ নাই। তিনি নিজেও ইনটেলেকচুয়াল ব্যক্তিত্ব নন। স্মার্ট একটি প্রোটোকল তার জন্য জরুরি। তার আশেপাশে যারা থাকেন তাদের মাঝেও এগুলো অনুপস্থিত। তার শব্দ চয়নে ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। এছাড়াও ইনফরমেশনের ক্ষেত্রে তিনি অনেক মিস্টেক করেন। ইনফরমেশন যাচাইয়েও তিনি যথাযথ পারদর্শী নন। অতি সরলতার কারণে তিনি সুযোগ সন্ধানীদের কাছে হরদম ব্যবহৃত হন। যার ফলে যে পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব তিনার গড়ে উঠার কথা ছিল সেখানে যথেষ্ট ঘাটতি দেখতে পেয়েছি। স্মার্ট, বুদ্ধিবৃত্তিক মুভমেন্টের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছেন।
তিনি চাইলে বহুমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব। যা ইসলামি আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে বেনিফিট এনে দিতে পারে। এই দূরদর্শী মুভমেন্টগুলোর জন্য তার ইনটেলেকচুয়াল সাপোর্ট বেশি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক ইন্টেলিজেন্স জরুরি।
আল্লামা সাইদী রহ. এর পাশে ছিলেন একজন দার্শনিক অধ্যাপক গোলাম আযম রহ. সহ বেশকিছু লেখক,গবেষক।
বিভিন্ন ডিপ প্লানিং থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিষয়বলী, চলমান রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, বিভিন্ন মতবাদ,ন্যারেটিভ সহ বুদ্ধিবৃত্তিক সকল সেক্টরের জ্ঞান, ইনফরমেশন দিয়ে সহযোগিতা করতেন।
আল্লামা সাইদী রহ. তাফসির মাহফিল শুনলে মনে হয় সম্পাদনা সম্পন্ন,ফাইনাল প্রুফ দেখা পান্ডুলিপির মত।
বাক্যের নিখুঁত-ঝরঝরে গাঁথুনি ,যথাযথ শব্দচয়ন, সাহিত্যিক কথামালা, দূরদর্শী, তীক্ষ্ণ যুক্তি, সহজ কিন্তু গভীর উপলব্ধি ও ভাবাবেগের। এগুলো পারফেক্ট পরিকল্পনা ও চর্চার ফসল।
মুফতি আমির হামজা এখন পর্যন্ত যে মাত্রায় অবস্থান করছেন। সেটাও উল্লেখযোগ্য তবে, তার মাধ্যমে ইসলামি আন্দোলন ও পলিটিক্যাল মুভমেন্টের বিরাট বড় খেদমত ও ঐতিহাসিক অবস্থান তৈরি হওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে তার ব্যাপারে সিরিয়াস হতে হবে ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
অন্যথায় সাময়িক,কিছুকালব্যাপী উল্লেখযোগ্য খেদমত সম্ভব হবে বটে কিন্তু ব্যাপক,বহুমুখী, সাসটেইনেবল খেদমত থেকে দেশ,উম্মাহ বঞ্চিত হবে। যুগের আবর্তনে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে।
© masud rana
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka