My Tech

My Tech

Share

08/04/2018

ইনকিউবেটরে ডিম ফুটানোর কৌশল ও প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা।

টার্কি খামারীদের অন্যতম সমস্যা হ্যাচিং রেইট। ডিমের ভিতরে পূর্নাঙ্গ বাচ্চা থাকা স্বত্বেও বাচ্চা ডিমের ভিতর থেকে বের হতে পারে না। মূলত যারা এবিষয়ে দক্ষ তারা অন্যদেরকে শেখাতে চান না বা সময়ের অভাবে শেখান না। তাই আমরা পর্যায় ক্রমে এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আমাদের এই আলোচনায় আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন যাতে সকল টার্কি খামারীগণ উপকৃত হতে পারেন। এই বিশ্লেষণ মূলক লেখাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতমঃ
১/ ফার্টাইল (উর্বর) ডিমের পরিচর্যা২/ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন
৩/ হিউমিডিটি (আদ্রতা) নিয়ন্ত্রন
৪/ হ্যাচিং পদ্ধতি
ফার্টাইল (উর্বর) ডিমের পরিচর্যা" বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ
১. খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করুন এবং ডিম সংরক্ষনের খাচাকে খুব ভাল করে পরিষ্কার করে শুকনো খড়ের উপরে রাখুন। ডিম প্রতিদিন ভোর বেলায় সংগ্রহ করতে হবে এবং দিনের বেলায়ও ঘনঘন খামারের চার পাশে খেয়াল রাখতে হবে যাতে অধিক সময় কোন ডিম পড়ে থাকার কারনে খুব বেশী ঠান্ডা বা গরম না হয়ে যায়।
২. খুব বেশী প্রয়োজন না হলে ডিমকে পানি দিয়ে ধৌত করবেননা, যদি কখনো ডিম ধৌত করার প্রয়োজন হয় তাহলে স্যাঁতসেঁতে কাপড় ব্যবহার করতে হবে।পাশাপাশি লক্ষ্য রাখতে হবে যে পানিতে কাপড়টা ভিজানো হবে তা যেন ডিমের চেয়ে গরম হয়। এই পদ্ধতিতে ডিমের ময়লাটা ঘাম হয়ে ঝড়ে পরবে। কিন্তু কোন ভাবেই এমন পানি ব্যবহার করা যাবেনা যাহা ডিম থেকে ঠান্ডা হয়। ডিমকে পানি শোষন করানো যাবেনা, যদি ডিম পানি শোষন করে কিছু সময় পর্যন্ত তাহলে ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্র সমকক্ষ হতে পারে এবং জীবানু ডিমের ভিতরে ঢুকার একটা বড় সম্ভাবনা থাকে। সংরক্ষন করার সময় ডিম শুকনো কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে, কখনো ডিমকে ভেজা কাপড়ে বা ভেজা অবস্থায় রাখা যাবে না।
৩. উর্বর ডিমকে এমন জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে যেখানের তাপমাত্রা ১৩-১৬ ডিগ্রী আদর্শ বলে বিবেচিত হবে এবং ১৬-২৪ ডিগ্রী তাপমাতায় সাধারন ভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব কিন্তু আদর্শ তাপমাত্রা বলে বিবেচিত হবে না, সেই সাথে হিউমিডিটি হবে ৭০-৭৫%. ২৪ ডিগ্রীর উপরে তাপমাত্রা এবং ৪০% এর নিচে হিউমিডিটি হবে এমন জায়গায় ডিম রাখা যাবে না। এমন অবস্থায় ডিমের হ্যাচিং রেট অতি তাড়াতাড়ি কমে আসবে। উর্বর ডিম সংরক্ষন করার পর প্রতিদিন ডিম গুলিকে হেলিয়ে বা উল্টিয়ে দিতে হবে। ডিম সংরক্ষনের সময় ডিমের শরু বা সুচালো অংশ নিচে এবং ৩০-৪৫ ডিগ্রী ডিমকে হেলিয়ে রাখতে হবে।ডিম সংরক্ষনের কার্টুন বা কন্টেইনারে প্রতি ডিমের জন্য ২"X৪" জায়গা রাখতে হবে এবং প্রতিদিন নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ডিমের পার্শ পরিবর্তন করতে হবে। কোন ভাবেই ডিমকে ১০-১৪ দিনের বেশী সংরক্ষন করবেন না। মনে রাখতে হবে যে ১৪ দিনের পর থেকেই ডিমের হ্যাচিং রেট উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করে।
৪.ডিমকে ইনকিউবেটরে বসানোর আগে ডিম গুলিকে রুমের সমান তাপমাত্রায় আসার আগ পর্যন্ত রেখে দিতে হবে। ফাটা বা ভাঙ্গা ডিমকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

কৃত্রিমভাবে ডিম ফোটানোর চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ
১/ তপামাত্রা
২/ আদ্রতা
৩/ বায়ূ চলাচল
৪/ ঘূর্ণন
এই সকল বিষয়ের মাঝে তাপমাত্রা হল সবচেয়ে সংকটপূর্ণ। তবে এখানে অধিকাংশ সময় আদ্রতার তত্ত্বাবধায়ন উপেক্ষিত হওয়ার কারনে হ্যাচিংয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ব্যাপক পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সর্বোত্তম ইনকিউবেটরের তাপমাত্রা হল ৩৭.৭৭ ডিগ্রী যেখানে তার সাথে আদ্রতা হবে ৬০%। লক্ষ্য রাখতে হবে অক্সিজেন যেন অবশ্যই ২০% হয়। কার্বনডাইঅক্সাইড অবশ্যই ০.৫% হতে হবে। ইনকিউবেটর এর তাপমাত্রা অবশ্যই ৩৭.২২- ৩৭.৫ ডিগ্রী এবং আদ্রতা ৬০-৬৫% সেট করতে হবে।
১। "তাপমাত্রা"
Incubator এ ডিম গরম করার সময় কালীন ৩৭.২২-৩৭.৭৭ সেট করতে হবে। সঠিক নির্ভরযোগ্য তাপমাত্রা এবং আদ্রতা জানার জন্য থার্মোমিটার কে সমান ভাবে ডিম থেকে উপরে এবং তাপের উৎস থেকে দূরে রাখতে হবে। সঠিক রিডিং নিশ্চিত করতে দুইটা থার্মোমিটার ব্যবহার করাই হল উত্তম। অবশ্যই মেশিনের বাইরের তাপমাত্রা সহনীয় হতে হবে। ইনকিউবেটরে তাপমাত্রা অবশ্যই ৩৭.২২ - ৩৭.৭৭ এর মাঝে রাখতে হবে। গ্রহনযোগ্য মাত্রা হল ৩৬.১১- ৩৮.৩৩ ডিগ্রী।

ভ্রুন মৃত্যুর হার পরিলক্ষিত হবে যদি তাপমাত্রা ৩৫.৫৫ ডিগ্রীর নিচে এবং ৩৯.৪৪ ডিগ্রীর উপরে চলে আসে কয়েক ঘন্টার জন্য। যদি তাপমাত্রা কয়েক দিনের জন্য চরম পর্যায়ে অবস্থান করে তখন ডিম না ফুটার সম্ভাবনাই বেশী থাকে। অতি তাপমাত্রা অনেক বেশী সংকটপূর্ণ হয় কম তাপমাত্রা থেকে। ইনকিউবেটর যদি ৪০.৫৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট চলে তাহলে ভ্রুন মারাত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেখানে মেশিন ৩৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় যদি ৩-৪ ঘন্টাও চলে তাহলে শুধু ডিম ফুটার ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্বিত হবে। টার্কির ক্ষেত্রে ২৮ দিনের জায়গায় ৩১ দিন লাগতে পারে। ইনকিউবেটর অবশ্যই এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখানে সূর্যের আলো সরাসরি না আসে।

উর্বর ডিম বসানোর আগে ইনকিউবেটর কে কয়েক ঘন্টার জন্য পানির সহিত চালাতে হবে ভিতরগত বায়ূ কে স্থির করার জন্য। ডিম বসানোর ৪৮ ঘন্টার ভিতর তাপমাত্রাকে উর্ধ্বাভিমূখী করা যাবেনা। এর ফলে ডিম সিদ্ধ হয়ে যায়। উন্নত ইনকিউবেটরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা কন্ট্রলার থাকে যা ডিমকে সিদ্ধ হতে দেয় না। ডিমগুলি ইনকিউবেটরের সমান তাপমাত্রায় গরম হতে কিছু সময়ের প্রয়োজন হয় এবং অনেক সময় ছোট মেশিনের ক্ষেত্রে ইবকিউবেটরের তাপমাত্রা ৩৬.৬৬ এর নিচে চলে আসে প্রথম ৬-৮ ঘন্টার জন্য যতক্ষন পর্যন্ত ডিম গুলি ৩৭.২২-৩৭.৭৭ ডিগ্রী গরম না হয়। যদি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা থাকে তাহলে হ্যাচিং কে বর্জন করা যাবেনা। এখানে অধিকাংশ সময়ই হ্যাচিং সংরক্ষিত থাকে। এখানে মূল বিষয় হল যতক্ষন সম্ভব ডিমকে গরম রাখতে হবে পাওয়ার আসার আগ পর্যন্ত।এটা হতে পারে পিচবোর্ড বক্স বা কম্বল দ্বারা ছোট ইনকিউবেটর কে ঢেকে দেওয়া অতিরিক্ত অন্তরনের জন্য। ডিমকে গরম করতে একটি বয়ামে মোমবাতি স্থাপন করে তাতে আলো দিতে হবে এবং উক্ত বয়ামকে বক্সের নিচে রেখে দিতে হবে যে বক্স দ্বারা ইনকিউবেটর কে ঢেকে রাখা হয়েছে।তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন ধরনের জালানি মোমবাতির কাছে না থাকে।আর এই পদ্ধতির দ্বারা ডিমকে ৩২.২২ ডিগ্রী এর উপরে গরম রাখা যাবে অতি সহজে পাওয়ার আসার আগ পর্যন্ত।
৩২.২২ ডিগ্রী তাপমাত্রার নিচে আসার পরও ভ্রুন ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত জীবিত থাকে, তাই অবশ্য আপনি ডিম গুলিকে ইনকিউবেটরের ভিতরে রাখবেন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর। অতপর ৪-৬ দিন পরে মোমবাতি পরীক্ষা করতে হবে পরবর্তি উন্নতি তথা ডিমে প্রানের চিহ্ন এসেছে কিনা তা জানার জন্য। যদি ৬ দিন পরেও আপনি কোন ডিমের মাঝে কোন প্রকার উন্নতি তথা প্রানের সন্ধান না পান তাহলে আপনি ইনকিউবেশন বাতিল করে দিবেন।অনেক সময় পাওয়ার বিভ্রাটের কারনে হ্যাচিংয়ে কিছুদিন দেরী হতে পারে এবং হ্যাচিং রেট ৪০-৫০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।
২য় পর্বের প্রথম অংশে তাপমাত্রা সংক্রান্ত আলোচলা করা হয়েছিল কিন্তু পাঠকদের বিশেষ অনুরোধে আরো কিছু তথ্য এখানে তুলে ধরছি। শুরু থেকেই ইনকিউবেটর এর নিখুঁত তাপমাত্রা ৩৭-৩৮ ডিগ্রি মেনে চলা হচ্ছে এবং এই তাপমাত্রা মূল্যায়ণ করা হয়েছে আবহাওয়ার ও পরিবেশের উপর। ভ্রুণের তাপমাত্রা ও ভ্রুণ উন্নয়ন কালীন সময়ে ইনকিউবেটরের বাতাসের তাপমাত্রার সহিত মিল নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে শেষের ২য় এবং ৩য় দিন। Incubation এর সময় সফল এবং বানিজ্যিক পোল্ট্রি Incubation এর জন্য পরিক্ষিত তাপমাত্রার দিকে লক্ষ্য রাখা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, জীববিজ্ঞানের নিয়মে যাকে ঘনঘন পরীক্ষা করা খুব জরুরি। অতি মাত্রায় তাপমাত্রার কারনে ভ্রুণের যেসব ক্ষতি হতে পারে তা নিচের দুটি ছবি (নাম্বার ১ এবং ২) দিয়ে বোঝানো হলো। পাশাপাশি Incubation এর সময় অতি মাত্রায় তাপমাত্রার কারনে ভ্রুণের যে ক্ষতি হতে পারে তা নিম্নরুপঃ
১/ ব্রেইন প্রকাশিত হওয়া।
২/ পা পরিবর্তন হওয়া
৩/ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাঝে অপ্রতিসাম্য হওয়া।যেমন পায়ের আঙ্গুল বাঁকা হওয়া ইত্যাদি।
৪/ ডিমের কসুমের মাত্রা বডি থেকে কমিয়ে ফেলা।
৫/ হৃদপিন্ডের আকার ছোট হওয়া।
৬/ লাল বন্ধকী থেঁতে যাওয়া।
৭/ ডিমের কসুম বিস্ফারিত হওয়া।
৮/ নাভিকে অসুস্থ করা।
৯/ ভ্রুণের বিলম্ব মৃত্যু বৃদ্ধিকরা।
১০/ পালক সাদা হওয়া।
এই সকল সমস্যা থেকে রেহায় পেতে সেই সব ইনকিউবেটর ব্যবহার করুন যাদের কন্ট্রোলারে "ওভার টেম্পারেচার কন্ট্রোলার" সয়ংক্রীয়ভাবে কাজ করে।
ডিমের খোসার তাপমাত্রা নির্নয়ঃ
অতি সাধারন ভাবে ডিমের খোসার তাপমাত্রা পরীক্ষা করার পদ্ধতি প্রথমত ১০ টা ডিম ইনকিউবেটরের ভিন্ন ভিন্ন জায়গা হতে নির্ধারন করতে হবে।অতপর Infrared Thermometer কে air cell এর শেষের দিকে নিচে ধরতে হবে। তাহলেই খোসার তাপমাত্রা জানা যাবে। ( ছবি নাম্বার ৩ এ দেখানো হচ্ছে) বিঃদ্রঃ মনে রাখতে হবে এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মৃত ভ্রুণ গুলি সাধারনত রিডিং কম দেখাবে। Incubation period এর শেষের দিকে ডিমের খোসার তাপমাত্রার লক্ষ্যমাত্রা হবে ৩৭.৪- ৩৭.৮ ডিগ্রি Incubation এর ৬-১৩ দিনের সময় কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কারন এ সময়ে Internal এবং external উভয় পরীক্ষায় দেখা যায় যে ভ্রণের এ স্তরের উন্নয়নে অতি তাপমাত্রার বেশী সামর্থ রাখে। এছাড়াও যদি কম সংখক ডিম ইনকিউবেটরে বসানো হয় তাহলে উত্তম তথা সঠিক পদ্ধতি হল সব গুলি ডিমকে নমুনা স্বরোপ পরীক্ষা করা। যদি ডিমের পরিমান ৩০০ বা তার চেয়ে বেশী হয় তাহলে অবশ্যই ১০০-২০০ ডিমকে নমুনা স্বরোপ পরীক্ষা করতে হবে। ফলাফলের নিখুঁত গুনগত মান এবং কম খরচের নিশ্চয়তা দিতে বড় হ্যাচারীর মাঝে নমুনার কার্যপ্রণালী অবশ্যই সঠিক পূর্ব পরিকল্পিত এবং পরিসংখ্যানবিদ এর সাহায্যের সহিত অথবা পোল্ট্রি স্পেশালিষ্ট দ্বারা হতে হবে। মোমবাতি পরীক্ষা এবং সঠিক গবেষনা যুক্তিযুত হতে পারে ডিমের উর্বরতার নিশ্চয়তা দিতে।
২। "আদ্রতা"
আগে জানতে হবে আদ্রতা কি? আদ্রতা হলো বাতাসে জলীয় বাষ্পের তথা পানির পরিমান। বাতাসের আদ্রতা Incubator এর ভিতর অবশ্যই ৫৫% থেকে ৬০% হতে হবে। শেষের তিন দিন তথা হ্যাচিং এর সময়ে Humidity অবশ্যই ৬৫-৭৫% এর কাছাকাছি হতে হবে। Incubator-এ অতি মাত্রায় আদ্রতা সাধারন বাষ্পীকরনের প্রতিরোধক এবং এর ফলে হ্যাচিং রেইট কমে আসে। কিন্তু ছোট Incubator-এ অতিমাত্রায় আদ্রতা কদাচিত সমস্যা তৈরি করে। অতি অল্প আদ্রতার ফলে বাচ্চা খোসার ভেতরই আটকে যায়। তাই অনেক সময় বাচ্চা খোসার ভিতরই মারা যায় এবং কোন কোন সময় বাচ্চা বিকলাঙ্গ হয়। পানির পাত্রের আকার পরিবর্তনের দ্বারা Incubator এ বাতাসের আদ্রতার বিভিন্নরুপ হতে পারে অথবা পানির পাত্রে চামচ রাখার ফলেও বৃদ্ধি পায় বাষ্পীভবনের পৃষ্ঠতল। Incubator ব্যবহার কালীন সময়ে নিয়মিত পানির পাত্রকে চেক করতে হবে যাতে সব সময় পাত্রে পর্যাপ্ত পানি থাকে। ইনকিউবেটরে অতিরিক্ত পানির পাত্র দেয়ার ফলে আদ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। হ্যাচিং এর সময়ে Incubator এ Atomizer / Humidity Fire ব্যবহারের দ্বারা আদ্রতা বৃদ্ধি হতে পারে। ( Atomizer হল তরল পদার্থকে সূক্ষ সূক্ষ কণায় ছড়াইবার জন্য ডাক্তারি যন্ত্র বিশেষ, যার দ্বারা বায়ু চলাচলের রাস্তায় অল্প পরিমান পানি ষ্প্রে করবে)। হাঁস এবং রাজহংসীর ডিম হ্যাচিং করার সময় এই পদ্ধতি বিশেষ ভাবে সাহায্যকারী হয়। Incubator-এ যখনই পানি দেয়া হবে তখন আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন পানির তাপমাত্রা Incubator এর তাপমাত্রার সমান হয়। এই পদ্ধতিতে আপনার দ্বারা ডিম এবং ইনকিউবেটরে কোন প্রকারের জোর প্রয়োগ করা হবেনা। এর একটি ভাল পরীক্ষা হল পানিকে ষ্পর্শ করার দ্বারা গরম অনুভব হবে।
আদ্রতা পরীক্ষা করার জন্য Wet bulb থার্মোমিটার ব্যবহার একটি ভাল পদ্ধতি।
বায়ু চলাচল (Ventilation): সাভাবিক বায়ূমন্ডলের দ্বারা হ্যাচিংয়ে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। যাহা সাধারনত ২০-২১% অক্সিজেন ধারন করে। অতিমাত্রায় অক্সিজেন সর্বরাহ করা অনেক কঠিন। কিন্তু অভাব পূরন করা সম্ভব। Incubator এ বায়ু চলাচলের রাস্তা নিশ্চিত করতে হবে সাধারন বায়ু পরিবর্তনের জন্য। আর ইহা Home made ইনকিউবেটরের ক্ষেত্রে সংকটপূর্ন। তবে মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত বায়ু চলাচল এর কারনে আদ্রতা বের হয়ে যায় এবং এর ফলে Incubator সঠিক ভাবে গরম করা কঠিন হয়ে যায়।

02/04/2018

"ফার্টাইল (উর্বর) ডিমের পরিচর্যা" বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ

১. খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করুন এবং ডিম সংরক্ষনের খাচাকে খুব ভাল করে পরিষ্কার করে শুকনো খড়ের উপরে রাখুন। ডিম প্রতিদিন ভোর বেলায় সংগ্রহ করতে হবে এবং দিনের বেলায়ও ঘনঘন খামারের চার পাশে খেয়াল রাখতে হবে যাতে অধিক সময় কোন ডিম পড়ে থাকার কারনে খুব বেশী ঠান্ডা বা গরম না হয়ে যায়।

২. খুব বেশী প্রয়োজন না হলে ডিমকে পানি দিয়ে ধৌত করবেননা, যদি কখনো ডিম ধৌত করার প্রয়োজন হয় তাহলে স্যাঁতসেঁতে কাপড় ব্যবহার করতে হবে।পাশাপাশি লক্ষ্য রাখতে হবে যে পানিতে কাপড়টা ভিজানো হবে তা যেন ডিমের চেয়ে গরম হয়। এই পদ্ধতিতে ডিমের ময়লাটা ঘাম হয়ে ঝড়ে পরবে। কিন্তু কোন ভাবেই এমন পানি ব্যবহার করা যাবেনা যাহা ডিম থেকে ঠান্ডা হয়। ডিমকে পানি শোষন করানো যাবেনা, যদি ডিম পানি শোষন করে কিছু সময় পর্যন্ত তাহলে ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্র সমকক্ষ হতে পারে এবং জীবানু ডিমের ভিতরে ঢুকার একটা বড় সম্ভাবনা থাকে। সংরক্ষন করার সময় ডিম শুকনো কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে, কখনো ডিমকে ভেজা কাপড়ে বা ভেজা অবস্থায় রাখা যাবে না।

৩. উর্বর ডিমকে এমন জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে যেখানের তাপমাত্রা ১৩-১৬ ডিগ্রী আদর্শ বলে বিবেচিত হবে এবং ১৬-২৪ ডিগ্রী তাপমাতায় সাধারন ভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব কিন্তু আদর্শ তাপমাত্রা বলে বিবেচিত হবে না, সেই সাথে হিউমিডিটি হবে ৭০-৭৫%. ২৪ ডিগ্রীর উপরে তাপমাত্রা এবং ৪০% এর নিচে হিউমিডিটি হবে এমন জায়গায় ডিম রাখা যাবে না।এমন অবস্থায় ডিমের হ্যাচিং রেট অতি তাড়াতাড়ি কমে আসবে।
উর্বর ডিম সংরক্ষন করার পর প্রতিদিন ডিম গুলিকে হেলিয়ে বা উল্টিয়ে দিতে হবে। ডিম সংরক্ষনের সময় ডিমের শরু বা সুচালো অংশ নিচে এবং ৩০-৪৫ ডিগ্রী ডিমকে হেলিয়ে রাখতে হবে।ডিম সংরক্ষনের কার্টুন বা কন্টেইনারে প্রতি ডিমের জন্য ২"X৪" জায়গা রাখতে হবে এবং প্রতিদিন নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ডিমের পার্শ পরিবর্তন করতে হবে। কোন ভাবেই ডিমকে ১০-১৪ দিনের বেশী সংরক্ষন করবেন না। মনে রাখতে হবে যে ১৪ দিনের পর থেকেই ডিমের হ্যাচিং রেট উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করে।

৪.ডিমকে ইনকিউবেটরে বসানোর আগে ডিম গুলিকে রুমের সমান তাপমাত্রায় আসার আগ পর্যন্ত রেখে দিতে হবে। ফাটা বা ভাঙ্গা ডিমকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

একটি মুরগীর ডিমের বিভিন্ন অংশ:১. ডিমের খোসা২. বহিঃমেমব্রেন৩. অন্তঃমেমব্রেন৪. চালাযা (Chalaza)৫. বহিঃঅ্যালবুমেন৬. মধ্য-অ্যালবুমেন৭. ভিটেলাইন মেমব্রেন৮. নিউক্লিয়াস অব প্যান্ডার৯. গার্মিনাল চাকতি১০. হলুদ কুসুম১১. সাদা কুসুম১২. অন্তঃঅ্যালবুমেন১৩. চালাযা১৪. বায়ু কোষ১৫. কিউটিকলHome / জাতীয় / ডিম সংরক্ষণের সহজ পদ্ধতিডিম সংরক্ষণের সহজ পদ্ধতিPosted by: momen in জাতীয় February 6, 2017 ডিম সংরক্ষণের সহজ পদ্ধতিদ্রুত পচনশীল পণ্যের মধ্যে ডিম একটি, যা শীতে ৭-১০ দিন এবং গরমের সময় ৩-৪ দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। কারণ ডিমের খোসা বা উপরিভাগের আবরণে চোখে দেখা যায় না এমন অসংখ্য ছিদ্র রয়েছে। এসব ছিদ্র দিয়ে গরম বাতাস ডিমের ভেতরে প্রবেশ করে এবং জলীয় অংশ বাষ্পাকারে বেরিয়ে আসে। এ সময় ছিদ্র পথে বিভিন্ন অনুজীব ঢুকে ডিমের পচন ঘটায়। তাই ডিমের ছিদ্রগুলো বন্ধ করা খুবই জরুরি। এছাড়া ডিম উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত এর গুণগতমান হ্রাস পায়। অথচ কিছু সনাতন পদ্ধতির মাধ্যমে ডিম সংরক্ষণ করে এ ধরণের সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব। একেক করে এবার জেনে নেয়া যাক সেসব কথা-চুনের পানি ব্যবহার: চুনের পানিতে ডিম ডুবিয়ে রাখলে এর ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য প্রথমে একটি পাত্রে এক লিটার পরিমাণ পানি নিতে হবে। এর মধ্যে ১০০ গ্রাম লবণ দিয়ে পানি গরম করতে হয়। লবণমিশ্রিত পানি ঠান্ডা হলে এতে ২৫০ গ্রাম চুন দিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে। পাত্রটি একদিন রেখে দিলে দেখবেন এর নিচে তলানি পড়েছে। পাত্রটি না নেড়ে উপরের পরিষ্কার পানি আলাদা পাত্রে ঢেলে নিতে হবে। এরপর পরিষ্কার পানিতে খাঁচাসহ ডিমগুলো কুড়ি মিনিট ডুবিয়ে তুলে ফেলুন। এবার ছায়ায় শুকিয়ে নিন। এভাবে বেশকিছু দিন ডিমের গুণাগুণ অটুট রাখা সম্ভব।সরিষার তেল ব্যবহার: এ পদ্ধতির জন্য কেবল খাঁটি সরিষার তেল প্রয়োজন হয়। তেলের মধ্যে ডিমগুলো এক মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে। পরে ডিম আলাদা পাত্রে স্থানান্তর করতে হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহারে ডিম বেশ কয়েকদিন ভালো থাকে। তবে ডিম হতে সরিষার কিছুটা ঝাঁজ আসতে পারে।মিনারেল তেল ব্যবহার: রংহীন, গন্ধহীন এবং স্বাদহীন এ ধরণের মিনারেল তেলের মধ্যে ডিম ডুবিয়ে পরে শুকিয়ে রাখতে হয়। এর ফলে ডিমের ভেতরের জলীয় অংশ বাষ্পীভুত হতে পারে না। এজন্য প্রথমে একটি পাত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল রাখতে হবে। এর মধ্যে খাঁচাসহ ডিম কিছুসময় ডুবিয়ে পুণরায় তুলে নিন। এরপর ডিমগুলো আলাদা পাত্রে রেখে দিতে হবে। আধুনিক উপায়ে যন্ত্রের সাহায্যে ডিমের উপর মিনারেল তেল ভালোভাবে মালিশ করেও সংরক্ষণ করা যায়।সোডায়াম সিলিকেট ব্যবহার: এ পদ্ধতির জন্য একটি পাত্রে পানি গরম করে পরে ঠান্ডা করতে হয়। এতে প্রতি নয় ভাগ পানির সাথে এক ভাগ সোডিয়াম সিলিকেট ভালোভাবে মেশাতে হবে। এবার ডিমের খাঁচাসহ পানির মধ্যে কুড়ি মিনিট ডুবিয়ে পুণরায় তুলে ফেলতে হবে। ডিমের গায়ে সিলিকেট পানি শুকিয়ে গেলে ডিমের ছিদ্রপথ বন্ধ হয়ে যাবে। এসমস্ত ডিম প্যাকেটজাত করে ঠান্ডা স্থানে রাখতে হয়। এ পদ্ধতিতেও অনেক দিন পর্যন্ত ডিম ভালো রাখা যায়।হাঁড়ি পদ্ধতি: ডিম সংরক্ষণের জন্য গ্রামাঞ্চলে ঘরের কাঁচা মেঝেতে গর্ত তৈরি করে এর মধ্যে একটি মাটির হাঁড়ি বসিয়ে চারদিকে কাঠকয়লা ভরাট করে দেয়। প্রতিদিন কয়েকবার কাঠকয়লা ভিজিয়ে দিলে হাঁড়ির মধ্যে বেশ ঠান্ডা অনুভব হয়। এভাবে হাঁড়ির মধ্যে ডিম রেখে মাটির সরা দিয়ে ঢেকে দিলে বেশ কিছুদিন ভালো থাকে।

Want your business to be the top-listed Business in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


Sonargaon Janpath Road House Building, Uttara
Dhaka
1230