Sahab
04/07/2025
এই সমাজের একটা বড় অংশ নারীবাদী-সেক্যুলার মানসিকতায় বড় হয়েছে যার ফলে নারীদের সম্পর্কে তাদের কয়েকটি ব্যাসিক ধারণা মস্তিষ্কে ঢুকে গিয়েছে।
সেকুদের দ্বারা ব্রেইন ওয়াশের ফলে তারা মনে করে-
১. নারীরা নিজ ইচ্ছায় পর্দা করে না- বাবা/ভাই/স্বামী পর্দা করতে তাদের জোর করে।
২. মেয়েরা বিয়ের পর বা বিয়ের আগেও উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চায়। স্বামী তাদেরকে জোর করে বিয়ের পর একাডেমিক জেনারেল পড়াশোনা থেকে দূরে রাখে।
৩. মেয়েরা চাকরি করতে চায়, উপার্জন করতে চায় কিন্তু স্বামীরা তাদেরকে জোর করে ঘরে বসিয়ে রাখে।
তাদের ধারণা কোনো মেয়ের নিজ ইচ্ছা থেকে পড়াশোনা ও চাকরির প্রতি অনিহা সৃষ্টি হতে পারে না। কোনো নারী নিজ ইচ্ছায় পর্দা করতে পারে না।
কিন্তু বর্তমান সমাজের একটা বড় অংশের নারীদের কাছে পর্দা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে ঐ নারীর পর্দা এক মূহূর্তের জন্যও ছুটে যাওয়া মানে কেউ তার কলিজা টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলছে এমন অনুভূতি।
অসংখ্য মেয়ে আছে যাদের পড়াশোনা একদমই ভালো লাগে না। বাবা মা এর চাপে পড়ে জোর করে পড়াশোনা করে। বিয়ের পর তারা স্বস্তি পায় এই ভেবে যে এখন আর পড়াশোনা নেই।
এছাড়া দ্বীনে ফেরা অনেক নারী নিজ ইচ্ছায় মাঝপথে উচ্চ শিক্ষার পথ ছেঁড়ে দিয়েছে কিন্তু পরিবারের ক্রমাগত চাপ তাকে সহ্য করতে হয়েছে এমন অনেক উদাহরণ দেখা গিয়েছে।
চাকরি করা বা উপার্জন করা তো খুব আনন্দের বিষয় নয়। এমন তো নয় চাকরি করলে খুব মজা লাগে। ছেলেদের জন্যই এটা একটি মানসিক ও শারীরিক পীড়া। এছাড়া বেকারত্বের হার এই দেশে অনেক, চাইলেও কাজ পাওয়া যায় না। যার ফলে মানসিক কষ্ট বাড়ে কয়েকগুণ। পাশাপাশি একটি মেয়েকে ঘর সামলাতে হয়, সন্তান লালন পালন করতে হবে। বাহির ঘর মিলে একটি মেয়ে কাজ করা মানে তার ওপর দিয়ে যে কি যায় ঐটা ঐ মেয়ে ছাড়া কেউ বুঝে না। এখন এই কষ্টের জগৎকে সব নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করবে এটা ভাবা কি যৌক্তিক কিছু? বরং অধিকাংশ নারীই চায় সে একজন গৃহিণী হোক। সে একজন মা হোক। এটাই অধিকাংশ মেয়েদের চাওয়া। কিন্তু সেকু স্বামী , সেকু বাবা-মা দের চাপ থাকে ঐ নারী যেন চাকরি করে। কারণ তার টাকায় তারা খেতে পারবে এই আর কি!
উপরোক্ত ৩ টি ব্যাপারে উল্টো চিত্র দেখা যায়।
• নারীরা পর্দা করতে চাইলে পরিবার, আত্মীয় স্বজন থেকে বেশিরভাগ সময়ই বাধা আসে। তাকে জোর করা হয় যেন পর্দা না করে।
• মেয়েরা পড়াশোনা করতে না চাইলে পরিবার আত্মীয় স্বজনের চাপ থাকে পড়াশোনা করতেই হবে। এ+ পেতেই হবে। পাবলিকে চান্স পেতেই হবে ব্লা ব্লা ব্লা...
• মেয়েরা চাকরি করতে না চাইলে সমাজের এক অদৃশ্য চাপ তারা অনুভব করে। সেকু স্বামী অসম্মান করে। স্বামীর পরিবার ছোট চোখে দেখে। সমাজ তাকে অসফল বলে। বাবা মা অনেক সময় আশায় থাকে মেয়ের উপার্জনের টাকা খাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং চাকরির ক্ষেত্রে মেয়েদের চাপ দেওয়া হয় জোর করা হয়।
সমাজের এই চিত্রটা আমাদের মস্তিষ্কে না আসার কারণ সেকুদের মত আমরা ন্যারেটিভ বিল্ডাপ করতে পারি নি। তারা বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ যেভাবে আমাদের ব্রেইন ওয়াশ করে এসেছে। এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে অনেক বেশি পজিটিভ স্টেপ প্রয়োজন। নারীদেরই উচিত নারীদের এই ব্যাপার গুলো নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা করা।
copy
সব কিছু যদি আবু সাঈদ আর মুগ্ধ কেন্দ্রিক করা হয় তবে বাকি যারা জিবন দিলো তাদের সাথে কি বৈষম্য করা হচ্ছে না?
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Fulchharighat
Dhaka
5760