English Tips BD

English Tips BD

Share

25/12/2020
03/12/2020

No. এবং Number-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
ইংরেজিতে 'Number' শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'número'[1] থেকে। এখানে (Nº, No, No./no) Number ব্যবহার করা হয়। এখানে সংক্ষেপে número এর প্রথম শব্দ আর শেষ শব্দ নেওয়া হয়। তাই Number এর সংক্ষেপে No. ব্যবহার করি।

24/10/2020

#দক্ষিণ_কোরিয়াকে_বদলে_দেয়া_একটি_মহাসড়কের_গল্প_এবং_বাংলাদেশ।

১৯৫০ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত কোরিয় যুদ্ধে পুরোপুরি বিধ্বস্ত দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি। অবকাঠামো বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। কোরিয়া ছিলো তখন গরীব একটি দেশ। কিন্তু এই দেশটি হঠাৎ করে সারা বিশ্বের বুকে শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়।

আর এই শক্তিশালী অর্থনৈতিক সুপারপাওয়ার হবার পেছনে রয়েছে একটি জাতির শক্ত মনোবলের ইতিহাস।

কোরিয়াকে পরিবর্তন করে দেয় একটি মহাসড়ক। হ্যা। আজকের গল্প জিয়ংবু এক্সপ্রেসওয়ের। সালটি তখন ১৯৬৩। ভঙ্গুর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন পার্ক চুং হে।

তিনি সিদ্ধান্ত নেন কোরিয়ার রাজধানী সিউলের সাথে দ্বিতীয় বৃহৎ শহর বুসানকে যুক্ত করবেন। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হয় জিয়ংবু এক্সপ্রেসওয়ের। এই এক্সপ্রেসওয়েতে তিনি যুক্ত করতে চান দেশের প্রধান শহর গুলিকে। যুক্ত হবে সুয়ং, দাইজিয়ন, গুমি, দাইগু এবং বুসান শহর।

অভাবের দেশে এরকম বিলাসবহুল প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন সেদেশের অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ এমনকি সাধারণ মানুষ। মহাসড়কটি করতে গিয়ে কোরিয়া বিশ্ব ব্যাংক সহ বিভিন্ন দেশের কাছে হাত পাতে। সাহায্য চায়। কিন্তু প্রত্যেকেই কোরিয়াকে ফিরিয়ে দেয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলি চিন্তাও করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া তাদের নিজস্ব অর্থে, প্রযুক্তিতে এবং জনবলে এরকম একটি প্রকল্প করতে সক্ষম।

১৯৬৭ সাল। দক্ষিণ কোরিয়ার মোট বাজেটের ২৩.৬ শতাংশ বরাদ্ধ করা হলো এই প্রকল্প বাস্তবায়নে। ১৯৬৮ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি শুরু হলো এই মহাযজ্ঞের কাজ। দুর্গম পথে বিরতিহীন অক্লান্ত পরিশ্রম চলতে থাকলো। ক্রমেই এগোতে লাগলো এই প্রকল্প।

মাত্র ২ বছর ৫ মাসে শেয় হয় এই প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পের পথে পাহাড়ি দূর্গম অঞ্চলও ছিলো। ৪২৮ কিমি এই সড়কে রয়েছে ২৯ টি বড় ব্রিজ, ১২ টি টানেল এবং ১৯ টা ইন্টারচেঞ্জ।

এই মহাসড়ক নির্মাণে কতজন সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেছিলো জানেন? ৮৯ লক্ষ মানুষ। প্রায় ১৬.৫০ লক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে এই সড়ক নির্মাণে। সেই আমলে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার যা এখনকার সময়ের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সমান। সড়কটি নির্মাণে প্রাণ হারিয়েছিলো প্রায় ৭৭ জন মানুষ। আহত হয়েছিলো অসংখ্য।

৭ জুলাই, ১৯৭০, এই সড়কটি উদ্বোধন করা হয়।

কি পেয়েছিলো দক্ষিণ কোরিয়া এই এক্সপ্রেসওয়ে করে?

দেশটির প্রায় ৬৩% জনগণ এই রাস্তার মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগের সুবিধা পায়। কোরিয়ায় গড়ে উঠে হাজার হাজার শিল্প কারখানা যার ভেতর ৮১% কারখানা যুক্ত হয় এই সড়ক কে ঘিরে। দক্ষিণ কোরিয়া পরিণত হয় সারা বিশ্বের অন্যতম কন্সট্রাকশন জায়ান্ট হিসাবে।

সেই আমলের এরকম অসাধ্য সাধন কে কোরিয়ারা বলে থাকে Can Do spirit অর্থাৎ, আমরা পারবোই। হুন্দাই কোম্পানিকে চেনেনা এমন লোক কম আছে। হুন্দাই কোম্পানির যাত্রা শুরু হয় এই মহাসড়ক নির্মাণে যুক্ত থেকেই।

"আমরা পারবোই" এই প্রত্যয় থেকেই কোরিয়াতে গাড়ি নির্মাণ, বিমানবন্দর নির্মান, স্টিল মিল নির্মাণের মতো কাজ শুরু হতে থাকে যার প্রধান শক্তি ছিলো এই প্রকল্প থেকেই।

এবার আসি বাংলাদেশের প্রসঙ্গে। পদ্মা সেতু যখন আমরা করতে গেছি তখন বিশ্বব্যাংক থেকে শুরু করে অনেকেই আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে। তারা কখনো ভাবেনি বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে এরকম বৃহৎ প্রকল্প করতে পারবে। তারা জানতো সামান্য ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলেও বাংলাদেশ কে সারা বিশ্বের কাছে হাত পাততে হয়।

এদেশের বড় বড় অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ এমনকি সাধারণ মানুষও বলেছিলো এটা সম্ভব না। হবে না। কিন্তু সকলকে উপেক্ষা করে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুতে হাত দিয়েছি। এই পদ্মা সেতুর হাত ধরে আবদুল মোনেম এর মতো কোম্পানি সংযোগ সড়কের কাজ পেলো। এই একটি সেতু নির্মাণ শুরু হতেই বিশ্ব ব্যাংক এখন আমাদেরকে টাকা সাধে। আমরা পদ্মা সেতু করবোই। পারতেই হবে। এই প্রত্যয়ে শুরু হলো পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক অন্যান্য প্রকল্প। নেয়া হলো পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের প্রকল্প। ঢাকা থেকে পায়রা পর্যন্ত রেলপথ।

এদেশের কোন কোম্পানি রেল লাইন নির্মাণ করতে পারে সেটা কারো ধারনা ছিলো না। ম্যাক্স সেটা করে দেখাচ্ছে। হয়তো এখনো তাদের অবস্থান ক্ষুদ্র পরিসরে৷ হয়তো এক সময় তারাও শুধু বাংলাদেশে নয় বরং সারা বিশ্বে মাথা উচু করবে এই দেশের।

আমরা পারি। এটা আমরা জানি। এই সেতুর কাজ শেষ হলে, পায়রা বন্দর হয়ে গেলে, রেলপথে যুক্ত হলে এই অঞ্চল ঘিরে গড়ে উঠবে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। ঢাকা চট্টগ্রাম চার লেনের কাজ হয়ে গেছে। খুব শীঘ্রয় এক্সপ্রেসওয়ের কাজও শুরু হবে। ঢাকা মাওয়া বাংলাদেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত চলছে। গাবতলী থেকে নবীনগর দ্বিতীয় এক্সপ্রেসওয়ের কাজও দ্রুত শুরু হবে।

আমি হয়তো আপনাদের ডিফেন্স গ্রুপে রাস্তার গল্প শোনাই বেশি। অনেকেই বিরক্ত হন। কিন্তু এর প্রভাব অর্থনীতিতে যে কতোটা সুফল এনে দিবে সেটা হয়তো আর ৮-১০ বছরের মধ্যেই দেখতে পারবেন। এদেশে আমরা এখনো এসব প্রকল্পের বিরোধিতা করি। অযুহাত দেখাই খেতে পারিনা ব্রিজ দিয়ে কি করবো? অনেকে স্যাটেলাইট পাঠানোকে নিয়েও ট্রোল করি। এগুলা কোন কাজে আসবে না বলে গুজব ছড়াই। যাদের চিন্তা এমন তারাও সুফল পাবেন। সময় এখন আমাদের। ঘুরে দাড়ানোর। শক্তিশালী বাংলাদেশে যে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উত্থান হবে না সেটা কেউ বলতে পারে না। একটি দেশের অর্থনীতি কতো দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব সেটা দেখিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার এই মহাসড়কটি। আমাদের অবকাঠামোয় ঘাটতি রয়েছে। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে করতে গিয়ে বিদ্যমান রাস্তা মেরামতে খরচ করা সম্ভব হয়তো হচ্ছে না। কিন্তু যখন এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে তখন আমুল পরিবর্তন আসতে বাধ্য।

অপেক্ষায় থাকি সেই নতুন দিনের।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


Dhaka Cantonment
Dhaka
1206