Huminity & infinity.
এই পেইজের কোন ছবি বা কোন পোস্ট অনুগ্রহ করে অন্য কোন পেইজে পোস্ট করবেন না।
06/04/2017
একটি শিক্ষনীয় গল্প-
সময় থাকলে পড়ুন এবং শেয়ার করে অন্যকেও পড়ার সুযোগ করে দিন।
------------------------
ছোট্ট একটি ফুটফুটে ছেলে।
মায়ের খুব আদরের সন্তান। এমন
সুন্দর ছেলে খুব কমই দেখতে
পাওয়া যায়। মায়ের যত
ভালবাসা এ ছেলেটিকেই
ঘিরে। খুব আদর যত্ন করে
ছেলেকে চোখে চোখে
রাখেন। এমন চোখের নিধিকে
রেখে মা কখনো একটুকুও আড়াল
হন না।
কি জানি কখন ছেলের কোন
দুর্ঘটনা ঘটে যায় কিনা!
মোটামুটি ছেলে এখন হাঁটতে
শিখেছে। আধো আধো বোল
ফুটেছে মুখে। আনন্দ আর
চঞ্চলতা শিশু বয়সকে মায়ের
চোখে আরো প্রাণবন্ত করে
তোলে এবং পাশাপাশি কত
রকমের স্বপ্নের জালও বুনছেন
ছেলের জন্য। পৃথিবীর সমস্ত
চাওয়া পাওয়া একমাত্র এ ছোট্ট
ছেলেটিকে ঘিরে। মায়ের
প্রত্যাশার অন্ত নেই যেন।
একদিন মা সাংসারিক নানা
কাজের মাঝে নিজেকে মগ্ন
রেখেছিলেন ছেলেটিকে
পাশের রুমে রেখে। খেলার
সমস্ত আয়োজন ছেলেটিকেও
বিভোর রেখেছিল। তাই মা
নিশ্চিন্ত ছিলেন যে, ছোট্ট
বাবুটি কান্নাকাটি করছেনা
বলে। কথাটি মনে হতেই
ক্ষণিকের মধ্যে ছোট্ট
ছেলেটির চিৎকার শুনে বিদ্যুত
গতিতে ছেলের কাছে গিয়ে
গভীর মমতায় ঝাপটে ধরে
কোলে তুলে নিলেন।
কিন্তু ছেলেটির তো আর
কান্না থামছেনা। কতো আদর
আর চুমুর পর চুমু খেয়ে শান্ত
করতে চাইলেন একমাত্র বুকের
ধনকে। হঠাৎ করেই ছেলের বাম
চোখের দিকে তাকাতেই
চমকে উঠলেন মা এবং চিৎকার
করে বললেন কী হয়েছে
বাবা... তোমার চোখটি ফুলে
উঠলো কেন! ভাবতে না
ভাবতেই বুঝে ফেললেন মা,
কোন রকম আঘাত থেকে হয়তো
বাম চোখটির এমন অবস্থা
হয়েছে। ছেলেকে নিয়ে
দৌড়ে ডাক্তারের কাছে
গেলেন। কিন্তু হায় দুর্ভাগ্য
যেন হাতছানি দিয়ে ডাকল।
ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন
যে, আপনার ছেলের বাম
চোখটি আঘাত প্রাপ্ত হওয়ায়
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। একথা
শুনে মাকে দুঃস্বপ্নের আধার
ঘিরে ধরল ছেলেটিকে
নিয়ে.... দিন যায়, সন্তানটি
সুখে দুঃখে বড় হতে লাগলো।
মা ও যথাসম্ভব সাধ্যের সবটুকু
বিলিয়ে দিয়ে আদরের
সন্তানটিকে বড় করতে
লাগলো। তবে সন্তানের
মেধা ছিল চমৎকার। স্কুল জীবন
থেকেই পড়াশুনায় কৃতিত্বের
সাথে ফলাফল করে এগিয়ে
যেতে লাগলো। সত্যিই
ছেলেটি একদিন বেশ বড় হলো
এবং ভালো একটি সরকারী
প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ
কর্মকর্তা হলো। ইতোমধ্যে সে
বিয়ে করে তার দুটি সন্তানও বড়
হলো। ভাল স্কুলে পড়ালেখার
জন্য ভর্তিও করে দিলো।
তবে মা ছেলের সরকারী
বাসায় দুর্বার আকর্ষণে ছুটে
যেতেন নাতি-নাতনীদের
দেখতে। মাঝে মধ্যে বৌমা
আপত্তি জানাতো তার
ছেলের কাছে যে, গ্রামের
বাড়ি থেকে মা কি আমাদের
শহুরে বাসায় না আসলেই নয়!
স্ত্রীর এমন কথা শুনে যদিও
ছেলে প্রতিবাদের ভাষায়
বলতে চায় যে, আমার মা তার
নাতীদের দেখতে আসবে
এতে দোষের কী? এটা তো
তার অধিকার।
এসব বিষয়ে স্ত্রীর সাথে
মাঝে মধ্যে মনোমালিন্য হয়।
স্ত্রীর অভিযোগ শাশুড়ীর
একচোখ নেই অর্থাৎ অন্ধ। অতএব
একজন অন্ধ বুড়ীকে দেখলে
আমার বাচ্চারা খুব ভয় পায় এবং
বাচ্চারা ভীত হয়ে পড়লে
তাদের বড় হয়ে উঠা বাধাগ্রস্ত
হবে। মাঝে মধ্যে মা তার
বাচ্চাদের স্কুলে গিয়েও আদর
দিতে বা তাদের বাসায়
পৌঁছে দিতে খুব আনন্দ পান।
তাতেও স্ত্রীর অভিযোগ যে,
স্কুলের ছেলেমেয়েরা
তাদের সন্তানদের অন্য ছেলে
মেয়েরা তিরস্কার করে যে,
তোমার দাদী কানা বা
ডাইনীর মতো ভয়ঙ্কর মনে হয়।
এবং বাচ্চারা তাতে খুব লজ্জা
পায়।
এতোসব অভিযোগ স্ত্রীর পক্ষ
থেকে শুনে স্বামীকে অর্থাৎ
তাদের বাবাকে বলল যে, বুড়ী
মা যেন স্কুলে বা আমার বাসায়
আর না আসেন। কী আর করা,
স্ত্রীর সবসময়ই এমন অভিযোগ
তাকেও উব্ধুদ্ধ করল মাকে বলে
দেবে যে- মা, তুমি আর আমার
বাসায় এসো না। আমার স্ত্রী ও
সন্তানরা তোমার এক চোখ
দেখে ভয় পায়, অতএব তুমি আর
আমার বাসায় এসো না। একদিন
ঠিক এমনিভাবেই নিজের
মাকে বলে দিলো স্ত্রীর
অভিযোগ। দুঃখে এবং
অন্তরভরা ব্যথা নিয়ে
ছেলেকে বললেন, ‘ব্যাস, ঠিক
আছে। আমি আর আসবো না’।
এমনিভাবে অনেকদিন হয়ে
গেলো বুড়ী মা ছেলে ও
নাতি-নাতনীদের সাথে আর
কোন সম্পর্ক রইল না। শহরের
অভিজাত পরিবেশে থাকা
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা একদিন তার
বাল্যকালের স্কুলে বার্ষিক
ক্রীড়া প্রতিযোগিতার
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
থেকে সেই স্কুলের কমিটির
সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের পক্ষ
থেকে দাওয়াত পেলেন, চীফ
গেস্ট হয়ে অনুষ্ঠানে
অংশগ্রহণের জন্য। সঠিক দিনে
যথাসময়ে পুরনো সেই
স্মৃতিঘেরা আপন বিদ্যালয়ে
উপস্থিত হয়ে আবেগঘন কন্ঠে
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ছাত্র-
ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে
বললেন যে, ‘হে কোমলমতি
শিশুরা তোমরা কিন্তু বড়দের
শ্রদ্ধা করবে, ছোটদের
ভালবাসবে। বিশেষ করে মা
বাবাকে কখনো কষ্ট দিবে না।
একথা বলেই হঠাৎ করে সম্বিত
ফিরে এলো তার এবং
নিমিষেই তার অন্তর দুমড়ে-
মুচড়ে ব্যথায় কঁকিয়ে উঠল। কারণ
সহসাই নিজের মায়ের প্রতি
তার অবহেলা এবং অশ্রদ্ধার
অপরাধবোধ জেগে উঠল। যাই
হোক স্কুল থেকে বিদায় নিয়ে
তার নিজের গ্রামের
বাড়ীতে গেলো পাগলপারা
হয়ে বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ নিতে।
একে ওকে জিজ্ঞাসা করে
জানতে পারল যে তার মা গত
ক’দিন আগে মৃত্যুবরণ করেছেন।
সে তখন উদ্বেগাকুল তার
মায়ের ছোট্ট কুটিরে গিয়ে
অাঁতিপাতি করে খোঁজ করে
দেখল যে, টেবিলের উপর
একটি খাম পড়ে আছে। খামের
উপরে মায়ের কাঁপানো হাতে
লেখা ‘বাবা মতিন, আমার
জীবনের অন্তিম সময়ে মৃত্যুর
কাছাকাছি এসে তোমাকে
একটি কথা জানাতে চাই যে,
আমার একটি চোখ না থাকার
জন্য তুমি এবং তোমার স্ত্রী-
বাচ্চারা ভয় পায় বলে তোমার
বাসায় না যাওয়ার জন্য অনুরোধ
করেছিলে, সেজন্যই
তোমাদের থেকে আমি
নিজেকে দূরে রেখেছিলাম।
তবে একটা বিষয় জেনে রাখা
তোমার দরকার, যা আমি
তোমাকে কখনো বলিনি। আজ
মৃত্যুর পূর্বক্ষণে বলে যাওয়া
সঙ্গত মনে করেই এই চিঠিটি
লিখে যাচ্ছি, তাহলো, তুমি
যখন খুব ছোট ছিলে তখন খেলার
ছলে তোমার বাম চোখটি
খোঁচা খেয়ে অন্ধ হয়ে
গিয়েছিল। তোমার সেই অন্ধত্ব
আমার জীবনকে করেছিল
বিষণ্ণ। শেষ পর্যন্ত নিজের
জীবনকে তুচ্ছ করে তোমার
ভবিষ্যত জীবন সুখী ও সুন্দর করার
জন্যই নিজের চোখটি
তোমাকে দান করেছিলাম।
সে কারণেই আমার বাম চোখটি
ছিলনা।
সুখে থেকো ... ইতি তোমার
দুঃখিনী মা।.... এ চিঠিটি পড়ার
পর থেকে মায়ের চিঠি হাতে
ধরে বাকরুদ্ধ হয়ে দু’টি চোখে
নিজের মহাপাপী অন্তরের
অনুশোচনায় অবিরল ধারায় অশ্রু
গড়িয়ে পড়ছিল দু’গন্ড.....
"যখন ওরা প্রথমে কমিউনিস্টদের জন্য এসেছিলো,
আমি কোন কথা বলিনি,
কারণ আমি কমিউনিস্ট নই।
তারপর যখন ওরা ট্রেড ইউনিয়নের লোকগুলোকে ধরে
নিয়ে গেল,
আমি নীরব ছিলাম, কারণ আমি শ্রমিক নই।
তারপর ওরা যখন ফিরে এলো ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ভরে মারতে,
আমি তখনও চুপ করে ছিলাম, কারণ আমি ইহুদি নই।
আবারও আসল ওরা ক্যাথলিকদের ধরে নিয়ে যেতে,
আমি টু শব্দটিও উচ্চারণ করিনি, কারণ আমি ক্যাথলিক নই।
শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,
আমার পক্ষে কেউ কোন কথা বলল না,
কারণ, কথা বলার মত তখন আর
কেউ বেঁচে ছিল না।"
-কবি মারটিন নেমলার
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
7th Floor, Beyond Buffet, Gulshan Pink City Shopping Center, 15 Gulshan Ave
Dhaka
1212