Ali Ahmed Rabbi
ভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠান। সুন্দরী একটা মেয়ে বক্তৃতা দিচ্ছে। পরনে শাড়ি, চুলগুলো সিল্কি, সিম্পল সাজুগুজু করা।
কনক্লুডিংয়ে সে বলছিল, "আজকের এই আমি! পুরোটাই বাবার অবদান। বাবা না থাকলে এতদূর আসতে পারতাম না। He is the real hero of my Life."
উপস্থিত সকলের হাততালিতে মুখর হয়ে উঠলো হলরুম।
কিন্তু আমার ঠিক বুঝে আসলোনা এতগুলো শিক্ষিত মানুষের বিবেক একই সাথে কিভাবে লোপ পেলো।
শো-রুমে হালের আপডেট ভার্সন মোটরসাইকেলের সামনে ইয়া বড় চাবি হাতে ছবি তুলে একটা ছেলে ক্যাপশনে লিখলো, "থ্যাংকিউ বাবা, ইউ আর মাই সুপার হিরো।"
সেই ছেলেকে কেউ একজন অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে বসলো, "তুমি কি কুরআন পড়তে জানো?"
আজকাল দেখি খেলো-য়াড় মেয়ে, গিটা-রিস্ট ছেলে, অভিনেতা-অভিনেত্রী, নৃ-ত্য-শিল্পী, বি-জাতীয় সংস্কৃতির ধারক কিংবা সমাজের চোখে নানাভাবে সফল অনেকেই পুরো ক্রেডিট বাবার দিকে দিয়ে দেয়। সাক্ষাৎকারে বলে, বাবা তাদের জীবনের সুপার হিরো, রিয়েল হিরো।
আই এপ্রিশিয়েট। সন্তানদের মানসিকতায় প্যারেন্টসের প্রতি এমন কৃতজ্ঞতাবোধ থাকাটা একটা মানবীয় গুণ। না থাকাটা বরং দোষের।
তবে কথা হচ্ছে, একদিন সব উল্টে যাবে। গরম তাও-য়ার সেই রুটির মতন। সেই হিরো বাবা আ-সামী বেশে দাঁড়াবে কাঠগড়ায়। বাদী আদরের সন্তান।
সন্তান বলবে, আমার বাবা আমাকে হাতে ধরে পথ চলা শিখিয়েছিলেন, কিন্তু দ্বী-নের পথে চালাননি।
পদে পদে অনেককিছু শিখিয়েছেন, কিন্তু দ্বী-ন শেখাননি, কুরআন শেখাননি। স্কুলে না গেলে মা-র-তেন, নামাজে না গেলে কিছু বলতেন না।
আমার ক্যারিয়ারের পিছনে ওনার সবটুকু ইফোর্ট দিয়েছিলেন, কিন্তু আমার আখেরাতের ব্যাপারে ছিলেন উদাসীন।
আমরা বলি, এই পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একটাও খারাপ বাবা নেই।
একদিন আমরা অনেক খারাপ খারাপ বাবাদের দেখতে পাবো। যারা পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ বাবার সম্মাননা পেয়েছিলেন।
সেদিন হলো ইয়ামুদ্দিন।
সেদিন ইয়াওমুস সা'আহ!
ইয়াওমুল হিসাব!
দুনিয়ার অনেক সুপারহিরো বাবা সেদিন ভি-লেন-রূপে আবির্ভূত হবেন।
~ মাহদী ফয়সাল!
07/06/2024
আমার এক বন্ধু বিরাট বড় কোকের পাগল, সে কোকের পিছনে এই দুই বছর যত টাকা ঢালছে তাতে মনে হয় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে এক দুই খান বাড়ি বানানো যেতো।
ইদানীং সে কোক খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।
এর আগেও ওজন কমানোর তাগিদে সে একশ চল্লিশ বারের বেশি কোক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে, ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তার কোকের জন্য গলা শুকিয়ে গেছে, সে ঝপাৎ করে কোক কিনে খাওয়া শুরু করেছে। এইবারও আমরা তাই ভেবেছি, দুদিন পরই কপকপ করে কোক খাবে।
কিন্তু সে খেলোই না। শুধু কোক না, পেপসি টু যত ই*স*রা*ইলের পন্য বাদ দেওয়া সম্ভব সবই বাদ দিয়ে ঝিম মেরে বসে রইলো। অন্যসব বাদ দেওয়া তার জন্য দূরহ নাও হতে পারে, কিন্তু চার মাস সে কোক পুরো ছেড়ে বসে আছে এই তথ্য তার নিজের আম্মা জানার পরও বিশ্বাস করেনি,
আমরা তো দূরের কেইস।
কারণটা খুব সাধারণ, তার একার কোক খাওয়া না খাওয়াতে হয়তো তেমন কিছু আসবে যাবে না, কিন্তু এটা তার জন্য মনের শান্তি।
দুনিয়ার এক প্রান্তে নির্বিচারে গনহত্যা চলছে, আর সেই গনহত্যার মূলনায়কের একটা প্রডাক্ট বর্জন করে যতটা সম্ভব প্রতিবাদ করছে।
আর দশটা মানুষের প্রতিবাদ হয়তো এই লেভেলেই থেমে যেতো, কিন্তু সে আরেকটা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলল, টার্ম ফাইনালের প্রেজেন্টেশনের পিপিটি ফাইলের শেষ স্লাইডকে আমরা বলি থ্যাংক ইউ স্লাইড। এই স্লাইড অন্য সবাই ফুল পাতা লতা দিয়ে সাজিয়ে একসার করে। সে পুরো উলটো কাহিনি করে বসলো।
থ্যাংক ইউ স্লাইডের বদলায় গাজার ধ্বংসস্তপের ছবি সাথে হ্যাশট্যাগ স্টপ গাজা জেনোসাইড দিয়ে প্রেজেন্টেশন শেষ করলো। পুরো রুমে পিন পতন নিরবতা। দুই কোর্স ইন্সট্রাকটর কটকট করে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
"রিসার্চ ওয়ার্কে রাজনীতি ঢুকানোর কারণে তোমাকে আমি জিরো দিতে পারি এই তথ্য জানো?" এক স্যার খড়খড়ে গলায় বলল।
আমার বন্ধু শান্ত গলায় বললো, "এটা রাজনীতি না স্যার, এটা জেনোসাইড। এখানে নির্বিচারে মানুষ মারা হচ্ছে। রিসার্চ করে কি লাভ যদি মানুষই না বাচে? রিসার্চ ইজ ফর পিপল।"
আরেক কোর্স ইন্সট্রাকটর কড়া গলায় বলল, এতে কি লাভ হলো? তোমার এই প্রেজেন্টেশন তো ই*জ*রা*&ইল দেখে নাই যে তারা তোমার প্রতিবাদের ঝড়ে উড়ে যুদ্ধ থামাবে।"
"এই রুমের ত্রিশজনের মত মানুষ আছে, স্যার। এই ত্রিশজন মানুষ এই প্রেজেন্টেশন দেখবে। তারা আজকে একবার হলেও এই গণহত্যার কথা ভাববে। ত্রিশজনের মধ্যে পনেরজন বাসায় গিয়ে এটা নিয়ে সার্চ দেবে, শেয়ার দেবে। এই পনেরজনের মধ্যে একজন হয়ত ভবিষ্যতে বড় কোনো পজিশনে যাবে। আমাদের পক্ষ থেকে সে তখন বলতে পারবে। ইট'স লাইক এ চেইন রিয়েকশন।"
আমার বন্ধুর উত্তরটা ছিলো এইরকম।
ক্লাশের পিনপতন নিরবতা ভেঙে তালির শব্দে সে দিন ডিন অফিস থেকে লোক পর্যন্ত ছুটে এসেছিলো।
গল্প এখানেই শেষ। তবে একটা ছোট তথ্য শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছি না। সেই প্রেজেন্টেশন আমার বন্ধু পেয়েছিল ২০ মার্ক। পুরো প্রেজেন্টেশনে মার্ক ছিলো ১৫, এক্সটা ৫ নাম্বার সে পেয়েছে খুব সহজ একটা কারনে, কারণ সে তার শেষের স্লাইড দিয়ে প্রুভ করতে পেরেছে "রিসার্চ ইজ ফর পিপল।"
এবং একটা ছাত্র ছাত্রীও, আমাদের মিনমিনা... টপারগুলো পর্যন্ত বিন্দুমাত্র কথা বলেনি তার মার্কিং নিয়ে।
আমার এই কাহিনি শেয়ারের উদ্দেশ্য খুব সাধারণ। রা*ফায় যে গনহত্যা চলছে, তা নিয়ে যারা শেয়ার করছে বা লেখালিখি করছেন তারা প্রায়শই হয়ত শুনে যাচ্ছে, "তুমি একলা কি করবা? তারা কি তোমার কথায় যুদ্ধ বন্ধ করবে?"
উত্তরটা হচ্ছে একা একা না। আপনার আমার শেয়ার করা এই লেখা বা ভিডিও আর দশটা মানুষের কাছে যাবে, তারাও দেখবে আর জানবে পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে আপনার আমার মতোই মানুষগুলো কি ভয়ংকর বিভীষিকাময় দিন কাটাচ্ছে...
কেউ শুনুক, আর নাই বা শুনুক।
[সংগ্রহীত এবং কিঞ্চিৎ সক্ষেপিত লিখা।
27/11/2023
এই ড্রিংকস গুলো বর্জন করুন।
যাদের ড্রিংকস ছাড়া চলেই না তারা দেশি মোজো, ক্লেমন, লেমন ইত্যাদি নিতে পারেন। খেয়াল রাখুন আপনার টাকা হাতিয়ে কেউ আপনার মুসলিম ভাই-বোনদের হত্যা করার জন্য অস্ত্র না বানাতে পারে।
⚪ আপনি বেপর্দায় চলেন না কিন্তু আরেকজন শাড়ি পরে বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যাবে, তাকে যে আপনি শাড়ি, কসমেটিক্স, হিজাব দিয়ে পরম যত্নে সাজিয়ে দিচ্ছেন এতেও আপনার আমলনামায় অটোমেটিকলি গুনাহ উঠে যাবে।
⚪ গান শুনার জন্য যে আরেকজন কে ইয়ারফোন দিলেন এতেও আপনার
গুনাহ হয়।
⚪ একজন বেপর্দায় বের হচ্ছে আপনি তার প্রশংসা করলেন,এতে আপনি তাকে খারাপ কাজে উৎসাহ দিলেন।
⚪ এই যে আপনার প্রোফাইল এ আপনার ছবি দেওয়া নেই কিন্তু অন্য মেয়ের ছবি দেয়া এতেও আপনার গুনাহ হচ্ছে। আর যারা নিজের বেপর্দায় ছবি দেন সেটা নিয়া কিছু বলার রুচি নাই।
⚪ এই যে আপনি গান শুনেন না,কিন্তু আপনার রিংটোন, এলার্ম টোন এ মিউজিক দেয়া এদিকে আমরা বড্ড বেখেয়াল।
⚪ আপনি তো ছবি দেন না খুবই ভালো। কিন্তু মাঝে মধ্যে হাত,পা, চোখ বা মুখে ইমুজী মেরে ছবি দিয়ে আপনি কি বুঝাতে চান আমি জানি না।আপনার নিয়ত টা কি?
⚪ কেউ বেপর্দা ছবি দিল, রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দিল,হারাম রিলেশন করলো তাকে আপনি কোন রুচিতে কংগ্রাটস করতেছেন, মা শা আল্লাহ্ বলে কিসের সাপোর্ট করছেন আমি জানি না।
আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে বুঝার তাওফীক দান করুক।
আমিন🤍🥀
সংগ্রহিত
29/10/2023
আশ-শিফা হাসপাতাল, গাজা।
নবজাতকের নরম নরম হাত কেঁপে কেঁপে উঠছে। সময়ের আগে জন্ম নেওয়ায় ইনকিউবেটরের কৃত্রিম উত্তাপে বেঁচে আছে ওরা। সারা শরীরে নল লাগানো।
সামনে দুশ্চিন্তিত চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ক্লান্ত ডাক্তার। গাজায় জ্বালানি শেষ হয়ে আসছে, যেকোনো সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। শতাধিক অপরিণত শিশু পৃথিবীতে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেবার আগেই মারা যাবে।
একই হাসপাতালের অন্য বিছানায় আতঙ্কিত চেহারায় মৃত্যুর প্রহর গুণছেন ডায়ালাইসিসের রোগীরা। এক বৃদ্ধা বললেন, বাসা অনেক দূরে। একদিন পর পর ডায়ালাইসিস করতে আসা সম্ভব না। যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই এখানেই থেকে গেছেন, বাসায় ফেরেননি আর।
অন্য একজন বৃদ্ধ কাঁদকাঁদ স্বরে বলতে লাগলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে আর ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হবে না। পুরো শরীর টক্সিনে ভরে যাবে। আর এভাবেই মারা যেতে হবে তিলে তিলে।
হাসপাতালে হাঁটার জায়গা নেই। রোগীর ধারণক্ষমতা পার হয়ে গেছে বহু আগে। চারদিকে মানুষের কান্না আর যন্ত্রণাভরা গোঙানির শব্দ।
অপারেশন থিয়েটার কখনো খালি হচ্ছে না, অস্ত্রোপচার চলছে একের পর এক।
অস্ত্রোপচার চলছে করিডোরে, মাটিতে—যতখানে সম্ভব!
বিদ্যুতের অভাবে ওটির লাইটের জায়গা নিয়েছে মোবাইলের টর্চের আলো। এনেস্থেসিয়া শেষ হয়ে আসছে। অতএব চেতনানাশক ছাড়াই চলছে অনেকের কাঁটাছেড়া। ওষুধের সাপ্লাইও শেষের পথে।
অ্যাম্বুলেন্স নিয়েও সহজে রোগী আনা যাচ্ছে না। অ্যাম্বুলেন্স এর পেছনে মিসাইল হামলা করা হচ্ছে। এই হামলায় মারা গেছে একাধিক প্যারামেডিক কর্মী। ধ্বংস হয়েছে অনেক অ্যাম্বুলেন্স।
হাসপাতালের মর্গ উপচে পড়ছে। তিল ঠাঁই নেই কোথাও। আইসক্রিমের গাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে লাশ রাখার জন্য। সেখানেও গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে কাফনে প্যাঁচানো মানুষের শরীর।
মৃত মানুষ তো দূরের কথা, জীবিতদেরই জায়গা নেই…।
ঘরবাড়িহারা গাজাবাসীর অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন হাসপাতালের আঙিনায়। ৬০ হাজারের বেশি মানুষ আছেন এখন সেখানে।
আশ্রয় নেওয়াদের মাঝে আছে শিশু, বৃদ্ধ, নারী…। ছোট্ট শিশুর ক্ষুধার কান্নায়, আপনজন হারানোর বিলাপে বাতাস ভারী হয়ে আছে। বিদ্যুৎ, পানি, খাবার, ওষুধ—সবকিছু শুধু নেই আর নেই।
ㅇ গতকাল আশ-শিফা হাসপাতালের ওপর একটা প্রতিবেদন দেখছিলাম আল জাজিরায়। সেখানকার কিছু ছোট ছোট অংশ তুলে ধরলাম। গাজায় এটিই বৃহত্তম হাসপাতাল, যার মাধ্যমে ধুকে ধুঁকে চিকিৎসাসেবা চলছে, কিছুটা হলেও।
● কিছুক্ষণ আগের সংবাদ : ইসরায়েল থেকে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এই হাসপাতাল খালি করতে। কারণ তারা এখানে শীঘ্রই বোমাহামলা করবে। তাদের ধারণা, এই ভবনের নিচ দিয়েই হ|মাসের সুড়ঙ্গ গিয়েছে।
অতএব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে সব…।
এখানে যারা আছে, তাদের যাবার কোনো জায়গা নেই। অনেকে আছেন, সরানোর সাথে সাথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন।
● আরো সাম্প্রতিক সংবাদ :
ভয়ানকভাবে বোমাহামলা চলছে এখন গাজার ওপর। তাদের বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগের সমস্ত রাস্তাঘাট, ইন্টারনেট ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অন্ধকারে ডুবে থাকা নগরী এখন মুহুর্মুহু কেঁপে উঠছে বোমার আঘাতে। আগুনের কুণ্ডলীই যেন একমাত্র আলো এখন।
__________________
|| মৃত্যুপুরী ||
#রৌদ্রময়ী
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Dhaka
1311