Rimon Raj
01/01/2026
19/10/2025
মানুষের মূল্য সব জায়গায় একরকম না। শিক্ষামূলক গল্পটি পড়ুন ভালো লাগবে। একদিন এক ছোট্ট ছেলে কাঁদতে কাঁদতে তার বাবার কাছে এসে বললো, "বাবা জানো, আজকেও আমার বন্ধুরা আমাকে খেলতে নিলোনা। ওরা বলে আমি নাকি কুৎসিত! তবে কি দেখতে সুন্দর না বলে আমার কোন মূল্য নেই?
ছেলের এমন কথা শুনে বাবা কিছুটা ব্যথিত হলেন। কিন্তু ছেলেকে নিজের খারাপ লাগার বিষয়টি বুঝতে দিলেন না। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে তিনি বললেন, "কে বলেছে তোমার কোন মূল্য নেই? অবশ্যই মূল্য আছে। তবে এসব বিষয়ে আমি তোমার সাথে এখন কোন কথা বলতে চাইনা। তার চেয়ে তুমি এখন আমার একটা কাজ করে দাওতো আব্বু।
ছোট্ট ছেলেটা খুবই উৎসাহ নিয়ে বাবাকে বললো, 'কি কাজ বলো বাবা? আমি এখনি করে দিচ্ছি... "এবার বাবা বললেন, "আমার কিছু জরুরি টাকার প্রয়োজন , এজন্য পুরাতন এই ঘড়িটা বিক্রি করতে চাচ্ছি। তুমি একটু এলাকায় গিয়ে খোঁজ করে দেখতো কেউ এটা কিনতে চায় কিনা?"
হঠাৎ বাবার কাছ থেকে এমন কথা শুনে ছেলে ভীষণ অবাক হলো। সে বললো, "কি বলো বাবা? এই ঘড়িটা না দাদুভাই তোমাকে উপহার দিয়েছিল? শেষ পর্যন্ত কিনা এটা বিক্রি করবে? তাছাড়া এই পুরাতন অচল ঘড়িটা মনে হয়না কেউ কিনবে। এবার বাবা একটু সিরিয়াস ভাবে বললেন, "আহা! বিক্রি করা না করা পরের ব্যপার, তুমি আগে এটার দাম যাচাই করে আসো। আর তাছাড়া বিপদে অন্যের কাছে হাত পাতার চেয়ে নিজের যা আছে তাই নিয়েই বিপদ মোকাবেলা করা উচিত।
ঠিক আছে বাবা, তাহলে ঘড়িটা দাও...আমি দেখি আশপাশের কেউ এটা কিনতে চায় কিনা!" -- এ কথা বলেই ছেলে ঘড়িটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লো । কিছুক্ষণ পর বিষণ্ন মন নিয়ে বাবার কাছে সে এসে বললো, "তোমাকে বলেছিলাম না বাবা পুরাতন এই ঘড়িটা কেউ নিতে চাইবেনা, একজন নিতে চাইলো কিন্তু দাম বলেছে মাত্র ২৫০ টাকা।
বাবা বললেন, "না না! এত কমদামে ঘড়ি বিক্রি করবোনা, তুমি বরং বাজারের কিছু ঘড়ির দোকানে যাচাই করে দেখে এসো আরেকটু ভালো দাম পাওয়া যায় কিনা। এবার ছেলে ঘড়িটা নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্য রওনা হলো। ঘন্টা দুই পর সে এসে বললো, "বাবা তুমি চাইলেই এবার ঘড়িটা বিক্রি করতে পারো। কয়েকটি দোকানে ঘড়িটার মোটামুটি ভালো দাম বলেছে । এক আংকেল তো বললো উনি দু'হাজার দিবে।
দুই হাজার? না না, ওতে তো আমার কাজ হবেনা! শোনো আব্বু, তুমি শেষবারের মত আরেকটা চেষ্টা করো। এই ঘড়িটা নিয়ে শহরের পুরাতন জাদুঘরে গিয়ে দেখো ওনারা রাখতে চায় কিনা?"- বাবার কথা শোনামাত্রই ছেলেটা সরাসরি জাদুঘরে চলে গেল। কিন্তু এবার তার অভিজ্ঞতা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন।
আনন্দে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে সে বাবার কাছে এসে বলতে লাগলো, "বাবা, তাড়াতাড়ি চলো ৷ জাদুঘরের আংকেলরা এটা দেখামাত্রই আমাকে বললো এই ঘড়িটা আমি কোথায় পেয়েছি? এই ঘড়িটা নাকি একটা এন্টিক পিস... ওনারা এটার জন্য দু'লক্ষ টাকা দিতে চেয়েছে।
তাই নাকি? থাক, কোথাও আর যেতে হবেনা আব্বু...আমি আসলে ঘড়িটা বিক্রি করবোনা। এটা তোমার দাদুভাইয়ের শেষ-স্মৃতি। আমার কাছে এটি অমূল্য। "-- বাবা হেসে হেসে কথাগুলো যখন বলছিলেন তখন অবাক বিস্ময়ে ছেলে কিসের যেন সমীকরণ মেলাচ্ছিল।
বাবা এবার বললেন, "শোনো আব্বুসোনা, আমাদের জীবনটা বড়ই বিচিত্র। ঠিক এই ঘড়িটার মতই আমাদের মূল্য সব জায়গায় একরকম না। জীবনে চলার পথে কেউ আমাদের অবমূল্যায়ন করে এড়িয়ে যায়, আবার সঠিক স্থানে গেলে ঠিকই সঠিক মূল্যায়ন পাওয়া যায়। তোমার বন্ধুরা তোমাকে খেলতে নেয়নি বলে নিজেকে মূল্যহীন ভাবার কিছু নেই, আসলে ওরা তো তোমার বন্ধু-ই নয়। নিশ্চয়ই তুমি চলার পথে জীবনে অনেক ভালো সঙ্গী পাবে যারা নিঃস্বার্থভাবে তোমাকে পছন্দ করবে-- রূপ-গুণ আর বাহ্যিকতা দেখে জাজ করবেনা।
তাহলে বলতো আব্বুসোনা আজকের ঘড়ি বিক্রি করার এ বিষয়টি থেকে তুমি কি শিখলে??' ছেলে খুবই খুশি মনে বাবাকে বললো, "তোমাকে অনেক ধন্যবাদ বাবা... আজ আমি বুঝলাম জীবনে চলার পথে সবাই বন্ধু হতে পারেনা আর সবার কাছ থেকে গুরুত্ব পাওয়ার আশা করাও বোকামি। সঠিক স্থানে গেলে ঠিকই সঠিক মূল্যায়ন পাওয়া যায়।"
বাবা-ছেলের এই গল্প থেকে আমাদের ও অনেককিছু শেখার আছে। জীবনের ধ্রুব বাস্তবতায় আমরাও মাঝেমধ্যে ঠকে যাই, ঠেকে যাই। ভুল মানুষের কাছে অবমূল্যায়িত হয়ে নিজেকে পরাজিত ভাবতে শুরু করি। জীবনের পরিক্রমায় এসব ভুল মানুষের সাথে জড়িয়ে থাকা দুঃসহ স্মৃতি ভুলে যাওয়াই ভালো। সামনে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে । বুদ্ধিমান তারাই যারা সঠিক সহযাত্রী আর উপযোগী পরিবেশ খুঁজে নিতে পারে।"
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
Mirpur
Dhaka
1216