BookTook.Com

BookTook.Com

Share

21/10/2024

বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর জন্য কিছু কাজ করতে পারেন। যেমন:

(১) প্রথমত ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভেট করুন ততদিনের জন্য, একটা বই পড়ে কমপ্লিট করতে আপনার যতদিন লাগে। কেননা, একসময়কার বইপোকা আমরা যারা এখন ফেসবুক ইউস করি, তাদের মধ্যে অনেকেরই এখন ফেসবুকের নেশার কারণে বই পড়ার আগ্রহ কমে গেছে! ফেসবুকের প্রতি আমাদের প্রচন্ড নেশা! 'ফেসবুক' আর 'বুক' এই দুইটা বুক একসাথে কন্টিনিউ করতে গেলে মনোযোগে বিচ্যুতি ঘটেই, আগ্রহ হারায়-ই! তাই যেকোনো এক বুক ওপেন রাখতে হবে, আরেকটা বন্ধ রাখতে হবে!

(২) বুক রিভিউ, বুক সেলার পেইজগুলো See First করে রাখতে পারেন। বইয়ের গ্রুপগুলোতে ডেইলি ঢু মারতে পারেন। এতে ডেইলি নিত্যনতুন বইয়ের সন্ধান পাবেন এবং মাঝেমধ্যে খুব সুন্দর বুক রিভিউ পাবেন। যেটা দেখে বই কেনা, বই পড়ার আগ্রহ অটোম্যাটিক্যালি বেড়ে যাবে এবং বই পড়া তখন একটা নেশায়ও পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

শিক্ষামূলক বা বাস্তবিক জ্ঞানের পোস্ট ও ভিডিও পেতে Shakil Sir || ইংরেজি শিখতে Alada English পেজ ফলো করুন এবং নোটিফিকেশন পেতে বা অন্যকেও জানাতে এই পোস্টটিতে রিয়াক্ট,কমেন্ট ও শেয়ার করুন।

(৩) এখন যারা খুব ভালো বই পড়ে এবং আগে যারা অনেক বই পড়েছে, তাদের সাথে বেশি যোগাযোগ রাখুন। তাদের সাথে মিশুন, তাদের কাছে বিভিন্ন বইয়ের গল্প শুনুন, তাদের কাছ থেকে সাজেশন নিন- কোন বিষয়ে কোন বইটা ভালো। (কোনো Feমিনিস্ট, Moডারেট মুসলিমের কাছ থেকে বইয়ের ব্যাপারে সাজেশন না নেওয়াই উত্তম)। তারপর বই সম্পর্কে নিজেও নেট ঘেটে একটু খোঁজখবর নিন। আদৌ সেই বই ভালো বই কি না। এতে দেখা যায়, বই সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বই পড়ার আগ্রহটা বেড়ে যায়, আলহামদুলিল্লাহ।

(৪) আপনার প্রয়োজন এবং তারপর পছন্দ অনুযায়ী বই সিলেক্ট করুন। বুকলিস্ট করুন, তারপর ধীরে ধীরে একটা শেষ করে আরেকটার দিকে হাত বাড়ান। আর আমার মতে বিরামহীনভাবে একের পর এক বই না পড়াই ভালো। কেননা মাঝেমধ্যে একটার পর একটা পড়তে গিয়ে বিরক্তিভাব চলে আসে; অনেকেই তখন পড়ার আগ্রহই হারিয়ে ফেলে। একটা বই পড়ার পর সেটার বিষয়বস্তু কিছুদিন মাথায় ঘুরপাক খায়, তাই একটা বই পড়ে অন্তত ২/৩ দিন নতুন কোনো বই পড়া অফ রাখুন। সেটা নিয়ে ভালোভাবে চিন্তা করুন, প্রশ্ন বের করুন, নোট করুন, ব্রেইন জ্যামমুক্ত করুন, তারপর আরেকটা পড়ুন।

(৫) যারা নতুন পড়ুয়া, তারা অবশ্যই সহজবোধ্য এবং পড়ে বিরক্তি আসে না, বরং আনন্দ পাওয়া যায়, এমন বই পড়তে পারেন। ইসলামি গল্প-উপন্যাসের বইগুলো সিলেক্ট করতে পারেন। এরপর পড়ার অভ্যাস হয়ে গেলে ধীরে ধীরে তখন হাইয়ার লেভেলের বইয়ের দিকে এগুবেন। প্রথম দিকেই কেউ কঠিন, রসকষহীন বই পড়লে তার আর বই পড়ার প্রতি আগ্রহ হয় না।

(৬) যারা 'ফোন এডিক্টেড' তারা কষ্ট করে ফোনটা দূরে রাখুন এবং তারপর পড়তে বসুন; না-হয় দুই লাইন পড়ামাত্র কোনো জরুরি কাজের বাহানায় ফোন ধরে বসবেন, তখন বই পড়ার আগ্রহ জানালা দিয়ে পালাবে।

(৭) যখনই পড়তে বসবেন তখনই পড়া শুরু করার পূর্বে ইসতিআজা ( আউজুবিল্লাহহিমিনাশ শাইতানির রজিম), বাসমালা ( বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম), হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) পাঠ করে নিবেন।

(৮) আশপাশে ইসলামি বুকশপ বা লাইব্রেরি থাকলে যাতায়াত বাড়ান। তবে নন মাহরামে পরিপূর্ণ হলে সেখানে মহিলাদের না যাওয়াটাই উত্তম। মহিলাদের উদ্যোগে গড়ে উঠা কিংবা মহিলাদের পড়ার জন্য পর্দার ব্যবস্থা আছে এবং মহিলাদের যাতায়াত ব্যবস্থা আছে সেরকম লাইব্রেরি হলে মহিলারা যেতে পারেন, অন্যথায় ঘরেই থাকুন।

(৯) সামর্থ্য থাকলে বেশি বেশি বই কিনুন আর যেসব পড়ুয়া দ্বীনি ভাই-বোনেরা নতুন বই আসামাত্র সেটা পড়ে নলেজ বাড়ানোর চিন্তায় থাকে তাদের সাথে কম্পিটিশান করুন। ভালো কাজে সবসময় নিজের চেয়ে এগিয়ে থাকা লোকদের অনুসরণ করবেন, তাদের সাথে কম্পিটিশান করবেন, এতে যেকোনো কাজের আগ্রহ বাড়বে ইনশাআল্লাহ।

(১০) যাদের পক্ষে বই কেনা সম্ভব না তারা যেসব দ্বীনি ভাই-বোনদের বাসায় বুকশেলফ সুন্দর সুন্দর বইয়ে ঠাসা, তাদের বাসায় যাতায়াত করুন। এদের প্রব্লেম না থাকলে তাদের কাছ থেকে বই ধার করে এনে পড়ুন, ফেরত দিন আবার আনুন, পড়ুন। অবশ্যই অন্যের বই আনলে যত্নসহকারে রাখবেন, এটা আপনার কাছে আমানত।

(১১) আপনি যে রুমে থাকেন সেই রুমেই বই রাখুন। আপনার রুমে বুকশেলফে, বিছানার পাশে, টেবিলের ওপরে, ওয়ারড্রবের ওপরে -এসব জায়গাগুলোয় কয়েকটা করে বই রাখুন, যেন চলতে-ফিরতে সারা দিনই বই আপনার চোখে পড়ে। আর বই চোখের সামনে থাকলে তখন একটু হলেও হাতে নিতে ইচ্ছা হয়, পড়তে ইচ্ছা হয়। বই চোখের আড়ালে রাখার কারণে দেখতে না পেয়ে ব্যস্ততার কারণে মাঝেমধ্যে বইয়ের কথা আমরা ভুলেও যাই। আর যখন বই চোখের সামনে থাকবে, তখন যতই ব্যস্ততা থাকুক দিনে কোনো না কোনো একসময় বই পড়তে আগ্রহ হবে ইনশাআল্লাহ।

(১২) একটা রুটিন বানিয়ে নিন আর তাতে বই পড়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় সেট করে রাখুন, যেন প্রতিদিন কিছুটা সময় হলেও বই পড়া হয়। ডেইলি বই পড়ুন, বেশি না পারলেও অন্তত দুই পৃষ্ঠা করে পড়ুন। পড়ার অভ্যাসটা চালু রাখুন। কারণ, না পড়তে না পড়তে একসময় গিয়ে বইয়ের সাথে আমাদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে যায়, তখন আমাদের বই পড়ার আগ্রহটাই হারিয়ে যায়। এভাবেই পরবর্তী সময়ে গিয়ে বই পড়া আমাদের জন্য খুব কষ্টকর কিংবা বিরক্তিকর কাজে পরিণত হয়।

(১৩) মোস্ট ইম্পরট্যান্ট কথা হচ্ছে, বেশি বেশি দুআ করতে থাকুন, যেন আল্লাহ আপনার বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করে দেন। দুআর চেয়ে উত্তম সলিউশান আর কিছুই হতে পারে না।

বিঃদ্রঃ বই পড়ার অভ্যাস করার আগে সুন্দর করে বই ধরতে এবং পৃষ্ঠা উলটাতে শেখা প্রয়োজন।

(শেষ বিকেলের রোদ্দুর বইয়ের ১৭৪-১৭৬ পৃষ্ঠা থেকে সংগৃহীত) Muhammad Publication

02/07/2024

WHY YOU SHOULD START READING. 📖 👓

1. READ TO Acquire knowledge.

2. READ TO Improve memory.

3. READ TO Strengthen your critical and Analytical skills.

4. READ TO Advance your career.

5. READ TO Improve your writing skills.

6. READ TO Reduce stress and anxiety.

7. READ TO Improve focus and concentration.

8. READ TO Boost Inspiration and Motivation.

9. READ TO Learn at your own pace.

10. READ TO Stimulate Imagination.

11. READ TO Improve your conversation skills.

12. READ TO Become more empathetic.

13. READING HELPS you Sleep better.

14. READING helps you secure a Source of companionship.

15. READING Increases your lifespan.

16. READING Connects you to the right people.

11/04/2024

✅বই পড়ুয়াদের জন্য ৩০টি টিপস!🆗
১) বইপড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো পড়ার জন্য বসা! অধিকাংশ মানুষের এই সুযোগটাই হয় না।
২) পড়ার মজা বাড়ানোর একটি কার্যকরী উপায় হলো, বোরিং টপিকের বইগুলো আগে না পড়া।
৩) একটি বই পড়লেই জীবন হয়ত পাল্টে যাবে না। কিন্তু প্রতিদিন বই পড়লে একদিন না একদিন জীবন পাল্টাবে ইনশাআল্লাহ।
৪) নতুন বইয়ের চাইতে সেসব বই বেশি পড়ুন, যেগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষ পড়ছে।
৫) জীবনে আপনি কয়টা বই পড়েছেন, সেটা দেখার বিষয় না। দেখুন কয়টা বই আপনার ভিতরে রেখাপাত করতে পেরেছে।
৬) পড়ার সময় মনোযোগ থাকে না? মোবাইল অন্য রুমে রেখে আসুন। মনোযোগ আসতে বাধ্য।
৭) একটি ভালো বই যদি একবার পড়তে হয়, তাহলে সেরা বইগুলো বার বার পড়তে হবে।
৮) বই পড়া শুরু করতে চাইলে 'পড়ুয়া' হওয়া জরুরী না। বরং বই পড়তে পড়তেই একদিন আপনি পড়ুয়া হয়ে উঠবেন।
৯) পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলার চেয়ে একটা খারাপ বই ছেড়ে দেওয়া ভালো।
১০) কোনো বই যদি আপনার জীবনে সামান্য পরিবর্তনও এনে থাকে, তাহলে বছরে সেটা একবার হলেও পুনরায় পড়ুন।
১১) যে বই আপনার ভালো লাগেনি, সেটা নিজের কাছে না রেখে অন্যকে গিফট করে দেওয়া ভালো।
১২) বই পড়ার মোক্ষম সময় হলো, যখন আপনি মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকেন।
১৩) সব পাঠককেই এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যখন সে বুঝে উঠতে পারে না তার জন্য কোন বইটি ভালো হবে।
১৪) ওপরের সমস্যাটার সমাধান হলো, সঙ্কোচ না করে বড়দের সহায়তা নেওয়া। তাহলে অনেক সময়, শ্রম দুটোই বেঁচে যাবে।
১৫) একটি সেরা বইয়ের বৈশিষ্ট্য হলো, আপনি চাইলেও সেটা দ্রুত পড়ে ফেলতে পারবেন না। কারণ, সে আপনাকে বার বার থামিয়ে দেবে, ভাবাবে।
১৬) বই পড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো কাজে পরিণত করা। মুখস্থ নয়। সুতরাং তথ্য-উপাত্ত মনে রাখার বদলে কাজেকর্মে বাস্তবায়নে বেশি মনোযোগ দিন।
১৭) বই পড়ার অভ্যাস গড়তে চান? তাহলে প্রতিদিন ২ মিনিট করে পড়ার টার্গেট নিন। জি এত ছোট টার্গেট, যাতে আপনার মন অজুহাত দেখানোর সুযোগই না পায়।
১৮) একটি ভালো বইয়ের সারাংশ যে পড়ে, তার চাইতে ১০ গুণ বেশি উপকার পায় সেই ব্যক্তি, যে সারাংশটা লিখে। কাজেই বই পড়া শেষে সারাংশ লিখতে ভুলবেন না।
১৯) কোনো বই পড়ার পর যদি আপনার আচার-ব্যবহারে, চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন না আসে, তাহলে বুঝে নিবেন হয় বইটি ভালো নয় অথবা আপনি কিছুই শিখতে পারেন নি।
২০) প্রচুর বই কিনলেই পাঠক হওয়া যায় না। কথা সত্য। তবে অল্প বই নিয়ম করে প্রতিদিন পড়লে একদিন ঠিকই ভালো পাঠক হয়ে যাবেন।
২১) বই কেনা মানে বিনিয়োগ করা, খরচ নয়। হতে পারে একটি ভালো বই ভবিষ্যতে আপনাকে লক্ষকোটি টাকা আয়ের রাস্তা দেখিয়ে দিচ্ছে।
২২) পড়ার জন্য মোটিভেশন নয়, বেশি দরকার পড়ার পরিবেশ তৈরি করা। একটা সাধারণ বই আপনি লাইব্রেরীতে বসে যত সহজে পড়ে ফেলতে পারবেন, একটি অসাধারণ বই কোলাহল পরিবেশে পড়া ততটাই কঠিন হবে, যদিও বইটা অসাধারণ।
২৩) যেখানেই যান, একটি বই সঙ্গে রাখুন। কারণ, আপনি জানেন না, কখন আপনি বই পড়ার জন্য বাড়তি সময় পেতে যাচ্ছেন।
২৪) একটি বইকে সর্বোচ্চ ৩বার সুযোগ দিতে পারেন (৩টি অধ্যায় পড়ার মাধ্যমে)। এরপরও যদি বইটি ভালো না লাগে, তাহলে অন্য বই ধরুন।
২৫) একজন লেখকের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশংসার বিষয় হলো, যখন সে দেখে পাঠক তার বইটি দাগিয়ে দাগিয়ে পড়েছে, হাইলাইট করেছে, নোট টুকে রেখেছে।
২৬) ছোট বইকে কখনো তুচ্ছজ্ঞান করবেন না। কখনো কখনো ছোট মরীচে ঝাল বেশি হয়।
২৭) আপনার সমস্যা যদি অসংখ্য হয়, তাহলে বইও অসংখ্য পড়ুন। প্রত্যেক নতুন সমস্যারই নতুন বই আছে।
২৮) বই হলো শিক্ষা নেবার সবচেয়ে শর্টকাট রাস্তা। মাত্র ১০০ টাকা খরচ করে আপনি ১০০ দিনের শিক্ষা পেয়ে যেতে পারেন, কিংবা কয়েক বছরের!
২৯) অতীতের ফেলে আসা সময়গুলো যদি বই জন্য পড়ার ভালো সময় হয়ে থাকে, তাহলে আজকে থেকেই পড়া শুরু করলে সেটা হবে সর্বোত্তম সময়।
৩০) একটি ভালো বইয়ের নাম ভুলে যেতে পারেন, বইয়ের আলোচনাও ভুলে যেতে পারেন। কিন্তু শিক্ষাটা আজীবন আপনার মনে গেঁথে থাকবে।

Collected

11/04/2024

❝বই পড়ার অভ্যাস কেন জরুরি❞

এগারো শতকে দ্য টেল অব গেঞ্জি নামে একটি বই লিখেছিলেন মুরাসাকি শিকিবু। ৫৪ অধ্যায়ে লেখা জাপানি লেখিকার এই বইকে বলা হয় বিশ্বের প্রথম উপন্যাস। এক হাজার বছর পর আজও সেই উপন্যাস মুগ্ধ হয়ে পড়ছেন পাঠক। মুঠোফোন বা ডিজিটাল স্ক্রিনে সব যখন দেখা যায়, হাতের নাগালে যখন লোভনীয় সব সিরিজ আর সিনেমা, তখনো কেন সেকেলে ভাষা ও ভঙ্গিতে লেখা হাজার বছরের পুরোনো এই উপন্যাস পড়ছেন মানুষ? বই পড়ে মানুষ আসলে কী পান? জ্ঞান, আনন্দ আর তৃপ্তি তো পায়ই; পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক, উভয় স্বাস্থ্যেরই উপকার হয় বিস্তর। শৈশব থেকে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করে দেয় সারা জীবনের গভীর ভিত্তি। বই পড়ার আরও কিছু উপকারিতার কথা জানাচ্ছে হেলথলাইন ম্যাগাজিন।

শক্তিশালী হয় মস্তিষ্ক:
বই পড়ার অভ্যাসে আক্ষরিক অর্থে মন পরিবর্তন হয়। এমআরআই স্ক্যানার ব্যবহার করে গবেষকেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পড়লে অনুরণিত হয় মস্তিষ্কের নিউরন। পড়ার ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউরন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী ও পরিশীলিত হয়। ২০১৩ সালের এক গবেষণা থেকে এসব তথ্য জানা যায়। গবেষকেরা মস্তিষ্কের প্রভাব জানতে উপন্যাস পড়ার সময় মানব মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান করেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা ৯ দিন ধরে পম্পেই নামের একটি উপন্যাস পড়েন। গল্পের উত্তেজনাকর নানান বিষয় পড়ার সময় মস্তিষ্কের নানান অংশে সক্রিয় ক্রিয়াকলাপ দেখা যায়। মস্তিষ্কের স্ক্যান থেকে জানা যায়, বই পড়লে মস্তিষ্কের সংযোগ বৃদ্ধি পায়। সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্সের অংশে পরিবর্তন দেখা যায়। মস্তিষ্কের এই অংশ চলাফেরা ও ব্যথার মতো শারীরিক সংবেদনে প্রতিক্রিয়া জানায়।

শিশুরা বদলে যায়:
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের চিকিৎসকদের পরামর্শ, সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বই পড়ুন। শৈশব ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় এমনটা করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে বই পড়ার মাধ্যমে শিশু ও মা–বাবার মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। বাড়িতে পড়ার অভ্যাস থাকলে স্কুলে শিশুর পড়া ও অন্যান্য কর্মক্ষমতা বাড়ে। তৈরি হয় যোগাযোগ দক্ষতা, বাড়ে আত্মসম্মান। বই শিশুর মস্তিষ্ককে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করে।

বই পড়লে সহানুভূতি বাড়ে
গবেষণায় দেখা যায়, যাঁরা কথাসাহিত্য পড়েন, গল্পে থাকা বিভিন্ন চরিত্রের অভ্যন্তরীণ জীবনের খোঁজ রাখেন—অন্যদের অনুভূতি ও আবেগ তাঁরা বেশি বোঝেন। গবেষকেরা এই ক্ষমতাকে ‘থিওরি অব মাইন্ড’ (মনতত্ত্ব) বলেন। সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করতে, নিজেকে পরিচালনা করতে, সমাজে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার সূত্র বইয়ের মধ্যে আছে। দীর্ঘমেয়াদি কথাসাহিত্য পড়ার অভ্যাস পাঠকের মনের জোর বাড়ায়।

শব্দভান্ডার তৈরি করে:
১৯৬০ দশকে বই পড়ার ওপর গবেষকেরা ‘ম্যাথিউ ইফেক্ট’ নামের একটি ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন। যেসব শিক্ষার্থী নিয়মিত বই পড়েন, তাঁরা নিজের অজান্তে ছোটবেলা থেকে ধীরে ধীরে বড় শব্দভান্ডার তৈরি করেন। শব্দভান্ডারের পরিধি যাঁর যত ভালো, যত উন্নত হয়, তাঁর জীবনও তত উন্নত হওয়ার সুযোগ থাকে। নতুন শব্দ জানার ও চর্চা করার দারুন একটা উপায় হচ্ছে বই পড়া।

বয়স বাড়ার সংকট কমায়:
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনকে ব্যস্ত রাখার উপায় হিসেবে বই ও ম্যাগাজিন পড়ার পরামর্শ দিয়েছে। গবেষণার চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো হাতে না এলেও আভাস মিলেছে, বই পড়ার অভ্যাস থাকলে আলঝেইমারের মতো রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হয়ে যায়। বয়স্ক যাঁরা প্রতিদিন সুডোকু বা গণিতের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামান, তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক থাকে, উন্নত হয়। তাই আপনি যত আগে পড়া শুরু করবেন, আপনার জন্য তত ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের রাশ ইউনিভার্সিটির মেডিকেল সেন্টার ২০১৩ সালে একটি গবেষণা চালায়, যেখানে বলা হয়েছে, যাঁরা সারা জীবন বই পড়ার মতো কার্যকলাপে যুক্ত থাকেন, তাঁদের মস্তিষ্ক ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের চেয়ে ভালো থাকে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের চাপের স্তর জানতে যোগব্যায়াম, কৌতুক ও বই পড়ার প্রভাব পরিমাপ করা হয়। সেই সমীক্ষায় দেখা যায়, দিনে ৩০ মিনিট বই পড়লে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন স্থির থাকে। মনস্তাত্ত্বিক সংকট কমে যায়।

জীবনমান উন্নত করে বই:
রাতে ঘুমানোর আগে চিকিৎসকেরা মুঠোফোনের পরিবর্তে ছাপা বই পড়তে পরামর্শ দেন। নিয়মিত বই পড়লে কমে আসে বিষণ্নতার উপসর্গ। বই পড়লে আয়ু বাড়ে, প্রায় ১২ বছর ধরে চলা এক গবেষণা থেকে এমন তথ্য জানা যায়। ৩ হাজার ৬৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণকারীর ওপর চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, যাঁরা বই পড়েন, তাঁরা বই না–পড়ুয়াদের তুলনায় প্রায় দুই বছর বেশি বেঁচে থাকেন। যাঁরা প্রতি সপ্তাহে ৩০ মিনিট বই পড়েন, তাঁদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ২৩ শতাংশ বেশি।

সূত্র: হেলথলাইন

06/03/2024

জেনে নেওয়া যাক বই নিয়ে মজার কিছু তথ্য-

১)কাগজে–কলমে এখন পর্যন্ত বই প্রকাশিত হয়েছে ১৩০ মিলিয়ন।

২)পুরনো বইয়ের গন্ধ শুঁকতে অনেকেরই ভালো লাগে। এই ভালো লাগা বা ভালোবাসার রোগকে বলা হয় ‘বিবলোসমিয়া’।

৩)বিশ্বের যে কয়টি বই আজ অব্দি সর্বোচ্চ পঠিত হয়েছে, তা হলো পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র বাইবেল, মাও সে–তুঙের উক্তি ও হ্যারি পটার।

৪)বিশ্বব্যাপী যত বই বিক্রি হয়, তার ৬৮% কেনেন নারীরা।

৫)যেসব পোকা বইয়ের বাঁধাই কেটে খেয়ে জীবনধারণ করে, তাদের অনুকরণ করেই ‘বইয়ের পোকা’ শব্দযুগল বইপড়ুয়াদের জন্য ধার নেওয়া হয়েছে।

৬)বিশ্বের সবচেয়ে দামি বইয়ের নাম ১৬৪০ বে সাম, যা বিক্রি হয়েছে ১৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারে।

৭)বিশ্বের সবচেয়ে বড় বই হলো দ্য ক্লেংক এটলাস, যার দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৭৫ মিটার এবং প্রস্থে এটি ১ দশমিক ৯০ মিটার চওড়া।

৮)মার্সেল প্রুস্তের ইন সার্চ অব লস্ট টাইম পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ উপন্যাস, যা তেরটি খণ্ডে বিভক্ত এবং ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন শব্দ দিয়ে লিখিত।

৯)হ্যারি পটারকে ভালবাসেন? জেনে রাখুন, বইটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশিবার নিষিদ্ধ হয়েছে।

১০)বই লিখতে গেলে কাগজ–কলম নিয়ে বসে লিখতে হয়, তা–ই নয়? কিন্তু ভার্জিনিয়া ওলফ একমাত্র লেখক, যিনি তাঁর সমস্ত বই দাঁড়িয়ে লিখেছেন।

১১)টাইপরাইটারে লেখা প্রথম বইয়ের নাম অ্যাডভেঞ্চারস অব টম সয়ার।

১২)প্রথম বেস্টসেলার বই হিসেবে পরিচিতি পায় অ্যালিস ব্রাউনের ফুলস অব নেচার

#কালেক্টেড

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


Dhaka
1917