Hoops
21/01/2021
19/01/2021
Material German Silver
For order please inbox
27/12/2020
350tk per pair
15/12/2020
কুমিল্লা মুক্ত হওয়ার পর!
ক্যাপ্টেন খালেদের সাথে রেণুর বিয়েটা ধুমধাম করে হয়েছিল। বিয়ের পরদিনই যুদ্ধের ডাক পেয়ে রনাঙ্গনে চলে যায় ক্যাপ্টেন খালেদ। যদিও প্রেমের বিয়ে না, তবে চিঠি চালাচালির মাধ্যমে এনগেজমেন্ট আর বিয়ের মাঝামাঝির তিনমাসে ভালোই প্রেম করেছে ওরা...
রেনুর মনে পড়ে বাসর রাতের কথা...
- আচ্ছা রেনু, তুমি কি কখনও প্রেম করেছ।
রেনু মুচকি হেসে বলল,
" হাঁ করেছি তো। "
খালেদের মুখটা কেমন বোকাবোকা হয়ে গেল। আর্মির লোক সে। জেনারেলের অর্ডার বুঝে। কিন্তু নারীর মন বুঝা তার চেয়ে কঠিন...
" তার মান... তার মানে, তুমি আমায় বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছ।" খালেদ... উত্তেজিত হলে তোতলানো তার অভ্যাস
" আচ্ছা, তুমি এতো গাধা কেন" -রেনু
" মানে আমি গাধা না। আর তুমি যার সাথে প্রেম করতে সে খুব চালাক ছিল। "
" না গো না। আমি তোমারই।"
" এই শুন... তুমি সবসময় চোখে কাজল দিবা"
" কেন"
" কাজল দিলে তোমায় সুচিত্রার মত লাগে..."
আচ্ছা তাই বুঝি,......... "
বৃদ্ধ শশুরকে নিয়ে থাকত রেণু। অগাস্টের ১৫ তারিখে প্রথম রাজাকারেরা তার বাসায় হানা দিয়ে তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করে। রেণু কিচ্ছু বলেনি। পরের সপ্তাহে আসবে বলে হুমকী দিয়ে চলে যায় রাজাকারেরা। অগাস্টের ২২ তারিখে রাজাকারেরা ক্যাপ্টেন খালদের স্ত্রী রেণুকে টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন আগে রেণু স্বামীর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখে পাঠায়। এরপর থেকে রেণুর আর খোজ পাওয়া যায়নি...
আখাউরা সেক্টর, মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প
অগাস্টের ২৫ তারিখ কুমিল্লা ফেরত সহযোদ্ধা টিপু মারফত ক্যাপ্টেন খালেদ একটা চিঠি আর কিছু টাকা পায়। রেণুর চিঠি।
টিপুকে বিদায় দিয়ে কাঁপা হাতে চিঠিটা খুলল খালেদ। সুন্দর গোটা গোটা অক্ষরে লিখে রেনু
প্রিয় খালেদ
কেমন আছ। আশা করি ভাল। তোমার চিঠিটা পেয়েছিলাম। বাবা আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছেন। খালেদ কিছু কথা তোমায় বলা হয়নি। সেদিন রাতে প্রশ্ন করেছিলে, আমি কাউকে ভালবেসেছিলাম কিনা?এড়িয়ে গিয়েছিলাম প্রশ্নটা।আজ মনে হল প্রশ্নটার জবাব না দিলে আমি অশুচি রয়ে যাব। হাঁ, কলেজ লাইফে একজন কে ভালোবেসেছিলাম। আমার বড় ভাইয়ের বন্ধু। কবিতা লিখত। কবিতা শুনিয়ে অল্পবয়সী রেনুকে পাগল করে দিয়েছিলেন। অনেক স্বপ্ন দেখানোর পর একদিন জানতে পারি, ওনার একটা বিয়ে হয়েছে আগে। গোপনে। সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর কোনদিন কোন পুরুষ কে ঘিরে স্বপ্ন দেখব না। কিন্তু এরপর তোমার সাথে কথা হল। চিঠিতে। বুঝলাম মেয়ে সম্পর্কে তোমার ধারণা কম। আমি এমনটাই চেয়েছিলাম, একতাল কাঁদা... যা দিয়ে একটা ঘর বানানো যায়। গতকাল রাজাকার মোবারক আর তিন পাক মেজর এসেছিল বাসায়। আমাকে নানা প্রশ্ন করেছিল। তুমি কোথায় আছ, তোমাদের ক্যাম্প কোথায়, তুমি বাড়িতে আসো কিনা। মনে হয় ওরা কিছু সন্দেহ করছে। আমি জানি ওরা আবার আসবে। বাবার জন্য চিন্তা কোরনা। বাবার দুই মাসের ঔষধ কিনে রেখেছি। কাজল ফুফু রেধে দিবেন রোজ। আমাকে হয়ত ইন্টারোগেট করার জন্য ওরা ধরে নিয়ে যেতে পারে। চিন্তা কোরনা। কিছু বলব না। মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর সম্মানটা রাখব, যতই কস্ট দেক। স্বামী হিসেবে মাত্র একটা রাত তোমায় পাশে পেয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস কর,সেই রাতটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত ছিল। সাথে কিছু টাকা পাঠালাম। আমার স্কলারশিপের টাকা। সংকোচ বোধ কোরনা নিতে। তোমার ফেরার অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি তোমার
রেনু
রেনুর জন্য বুকটা হু হু করে ঊঠক খালেদের্।
____________________
পরিশেষঃ ডিসেম্বরের ৪ তারিখে বিখ্যাত আখাউড়ার যুদ্ধে , হানাদার বাহিনীর গুলিতে আরো দুই সহযোদ্ধাসহ ক্যাপ্টেন খালেদ নিহত হন। ডিসেম্বরের ৮ তারিখে কুমিল্লা মুক্ত হওয়ার পর, পাকবাহিনীর ক্যাম্পের পেছনে মুক্তিযোদ্ধারা একজন নারীর গলিত লাশ খুজে পায়। পচা লাশ শেয়াল কুকুরে খেয়ে ফেলেছিল অর্ধেক। তবে হাতের আংটি সনাক্ত করে বোঝা যায়, সেটা ক্যাপ্টেন খালেদের স্ত্রী রেণুর লাশ...
“স্বাধীনতা তুমি প্রেমিকের রক্তে লেখা তোমায় ভালোবাসি
স্বাধীনতা তুমি শহীদ প্রেমিকার একটুখানি হাসি”
#সংগৃহীত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka