BooK ShelF

BooK ShelF

Share

25/03/2023

Book Review- 32
বইঃ ❝সে এখানে নেই❞
লেখকঃ সাদাত হোসাইন
রেফারেন্সঃ RS Rafsan Ahammed

রিভিউঃ আমার পড়া উপন্যাস গুলোর ভিতর সব থেকে বাজে একটা উপন্যাস...

14/03/2023

Book Review- 28
বইঃ ❝সুবোধ অল সিরিজ ❞
লেখকঃ আলী আব্দুল্লাহ
রেফারেন্সঃ Sakib Bin Mushfiq

রিভিউঃ #সুবোধ_সিরিজ
প্রধান চরিত্রের নাম সুব্রত রায়হান ওরফে সুবোধ তবে নিজেকে পরিচয় দেয় আব্দুল্লাহ বা আল্লাহর গোলাম হিসেবে। সে একটু অন্যভাবে বড় হয়েছে, আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো নয় কারণ তার বাবা তাকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান নি। তাকে বানাতে চেয়েছেন একজন মহাপুরুষ। কিন্তু তার বাবা মারা যাওয়ার পরে সে সুব্রত রায়হান ওরফে সুবোধ থেকে হয়ে ওঠে আল্লাহর গোলাম তথা আব্দুল্লাহ।
বর্তমানে আব্দুল্লাহ ইসলামকে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরেছে যেন, তার থেকে ইসলামকে আলাদা ভাবে কল্পনা করা দুঃস্বপ্ন! শুধু নামে নয় তার কাজেও তার পরিচয় মেলে। এই গল্পে অন্যতম চরিত্রটির নাম হলো অভি, যে আব্দুল্লাহর ফুপাতো ভাই। আব্দুল্লাহর সংস্পর্শে এসে সেও খুব ভালোভাবে ইসলামকে আঁকড়ে ধরেছে।
এখানে আব্দুল্লাহকে উপস্থাপন করা হয়েছে একটি চমক পাথর হিসাবে। সে এমন এক চমক পাথর যে, যেই ব্যক্তিই তার কাছে ঘেঁষে সে ই ইসলামের ভিতর ব্যাক করেছে। অভির দুঃসম্পর্কের নাস্তিক ভাই ইরাম, জাদরেল টাইপের টহল পুলিশের সার্জেন্ট, জেলখানায় তার পাশের কয়েদি, কানকাটা মজিদ নামের কুখ্যাত সন্ত্রাসীসহ তার পুরো গ্যাং, এরা সবাই আব্দুল্লাহ সংস্পর্শে এসে তার উত্তম চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে ইসলামে প্রবেশ করেছে।
অবশ্য বিভিন্ন সময়ে আব্দুল্লাহ তার এই মহৎ কাজের জন্য এবং সরল জীবনযাপন করার জন্য জেলখানায় ও গিয়েছিলো। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ তার গায়ে একটি ফুলের টোকা তো দিতেই পারে না, উল্টে তারাই নাকানি চুবানি খেয়ে যায় আব্দুল্লাহর বিচক্ষণতার কাছে। শেষে দেখা যায় তার আশেপাশের কয়েদিরা এবং তাকে যেসকল গার্ডরা খাবার সরবরাহ করতো, তারা ইসলামের ভিতর পরিপূর্ণভাবে ফিরে এসেছে।
আব্দুল্লাহ চরিত্রের খুবই আশ্চর্যকর একটি ব্যাপার হলো, সে কোন অবস্থাতেই কোন মানুষের উপর ভরসা করে না। সকল ভরসা সে করে আল্লাহ তা-আলার উপর। রবের সাথে একটা মানুষের কতটা মধুর সম্পর্ক হলে তার সকল মোনাজাতই আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন সেটা আব্দুল্লাহ চরিত্রকে না দেখলে বলা যাবে না। বেশিরভাগ রাতের অধিকাংশ সময় সে ব্যয় করে তাহাজ্জুদ নামাজে।
বইটি পড়ে একটা জিনিস ভালোভাবে মাথায় গেঁথে গেল, আর তা হলো, সহীহ মুসলিম শরীফের একটি হাদিসের বর্ণনায় আল্লাহ তা'আলা বলেন "বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি (আল্লাহ) তার দিকে এক বাহু অগ্রসর হই।"
আসুন, আমরা সবাই আমাদের ভেতরের সুবোধকে জাগিয়ে তুলি এবং আব্দুল্লাহ তে পরিণত হই...

23/02/2023

Book Review- 24
বইঃ ❝বৃষ্টি বিলাস❞
লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
রেফারেন্সঃ রাফসান আহাম্মেদ।

রিভিউঃ বর্তমান সময়ের এ্যরেঞ্জ ম্যারেজ এর তুলনায় লাভ ম্যারেজ টা ই বেশি প্রচলিত হয়ে উঠেছে। এই উপন্যাসেও একটি এ্যরেঞ্জ নিয়ে গোটা কাহিনি। শামা নামে উপন্যাসের কেন্দ্রিয় যে চরিত্র তার সাথে আতাউর নামের একটি ছেলের বিয়ে ঠিক হয়। তো, শামার বাবা এই বিয়ে টার স্বমন্ধ আনলে শামা একবারেই রাজি হয়ে যাই। শামা তার হবু স্বামী কে "খাতাউর" নিক নেম দিয়ে তাকে নিয়ে ভাবনা শুরু করে। এইভাবে চলতে চলতে ছেলেটার সাথে একদিন দেখা করে, অনেক গল্প গুজব করে ঐ দিন আশ্চর্য জনক ভাবে আতাউর, শামা দের বাড়িতে দুপুরে খেতে চলে আসে বিয়ে হওয়ার আগেই। ভালোই চলছিলো সব কিছু। তারপর হঠাৎ জানা গেলো যে আতাউর লোকটা একজন মানসিক রোগী এবং সে খুব ই অসুস্থ থাকে বৃষ্টির দিনে। তো এই কারণে শামার সাথে তার বিয়ে টা ভেংগে যাই। শামার বান্ধবীর অনেক বড়লোক একজন আত্নীয় শামাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবে শামা ও তার পরিবার রাজি হয়ে যাই। তো, যে দিন নতুন ছেলে টার সাথে শামার বিয়ের দিন ঠিক করা হই ঐ দিন আতাউর শামা কে একটা চিঠি পাঠাই। ঐ চিঠি টাই উপন্যাসের প্রাণ বলা যায়,, বৃষ্টি বিলাস এর আসল রহস্য এই চিঠির ভিতর। শামা চিঠি টা পড়ার পর আতাউর এর সাথে দেখা করতে যাই ঐ যাওয়া টাই শামার শেষ যাওয়া হই। শুরু থেকে যদি শেষ অব্দি বলতে যাই তাইলে এই উপন্যাসের কোনো শেষ পাবো নাহ কারণ লেখক উপন্যাস টা এমনভাবে শেষ করেছে যে আপনার খুব ই রাগ বা কান্না আসতে বাধ্য আর এটাই একজন ঔপন্যাসিকের সফলতা।
উপন্যাস টা বিয়ে ভেংগে যাওয়া একটা চঞ্চল মেয়ের করুণ কাহিনির মধ্যে দিয়ে শেষ হলেও এর ভিতরে আবার শামার ছোট বোনের ও একটা রিলেশনশিপ থাকে সেই ছেলেটি একজন মার্ডার কেসের আসামি। এক কথায় বলতে গেলে খুব ই প্রাণবন্ত একটা উপন্যাস। পুরো কাহিনি জানতে উপন্যাস টি পড়ুন অনেক ভালো লাগবে...

23/02/2023

Book Review- 23
বইঃ ❝বরফ গলা নদী❞
লেখকঃ জহির রায়হান
রেফারেন্সঃ তাওহীদুজ্জামান বুরুজ।

রিভিউঃ ‘বরফ গলা নদী’ উপন্যাসের কাহিনী বোধকরি অধিকাংশেরই জানা! এককথায় এটি একটি ক্ষয়িষ্ণু নিম্নবিত্ত পরিবারের বিপর্যয়ের কথাচিত্র। দরিদ্র কেরানী হাসমত আলী ও সালেহা বিবির পাঁচ সন্তান, মাহমুদ, মরিয়ম, হাসিনা, খোকন ও দুলু এই উপন্যাসের মুখ্য চরিত্রেরা। বছর তিরিশের মাহমুদ একটি সংবাদপত্রের অফিসে সাংবাদিকের কাজ করে, উনিশ-কুড়ির মরিয়ম কলেজে পড়তে পড়তে টিউশন করছে। হাসিনা স্কুলে পড়ে ও খোকন, দুলু নিতান্তই ছোটো। উপন্যাসে মুল চরিত্রের ভার প্রথমে মরিয়ম থেকে পরে মাহমুদের উপর ন্যস্ত হয়েছে। এছাড়াও অন্যদের মধ্যে মনসুর ও লিলি নিশ্চিতভাবে উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন চরিত্রেরা। মরিয়মের সাথে মনসুরের প্রেমের বিয়ে ও পরে ঝগড়া, শেষে দুর্ঘটনায় পরিবারের সকলকে হারিয়ে মাহমুদের লিলির কাছে আসার মধ্যে দিয়ে এক নদী জল বয়ে গিয়েছে। তবে সেসব কথায় আসব ধীরে ধীরে।
এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা যেটা, সেটাই এর দুর্বলতা হয়ে দাড়িয়েছে। হ্যাঁ, সেটা হল লিলির চরিত্র। লিলি সবার ভরসা, সব সমস্যায় মসীহা হয়ে উদয় হয়েছে, কিন্তু তার সম্মন্ধে সবচেয়ে কম বিবরন দিয়েছেন লেখক। এমনকি, লিলির চেয়ে রফিক আর শাহাদাত-আমেনার বিবরনও এখানে অনেক বেশী। লিলি মরিয়ম এর দু:খের সাথী, হাসিনার ছবি তোলার সাধ পুরনের উপায়, স্বজন হারানো-বিপর্যস্ত মাহমুদের সান্ত্বনা ও সহায় কিন্তু লিলির জীবন, পরিবার, ভাবনা-চিন্তা সম্মন্ধে কিছুই জানা যায় না। উল্টে বরং লিলির ভাবনার অভাবটাই যেন প্রকট হয় যখন দেখি, মনসুর-সেলিনা কে নিমন্তন্ন করা হয়েছে মিতার জন্মদিনে! লিলিই তো সব জানত, মরিয়মের প্রতি মনসুরের দুর্ব্যাবহারের কথা, বকলমে মরিয়ম ও তার পরিবারের সবার মৃত্যুর কারন হওয়ার কথা! তবু কেন লিলি সে কথা জানাল না মাহমুদকে? এটা লিলির দোষ না লেখকের দোষ? লেখক লিলি কে যেন কেবলই ভরসার দেবীসুলভ নিষ্কলুষ রূপে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, তার মধ্যে তাই অসূয়া, রাগ, ঘৃণা ইত্যাদি মানবিক দোষ কিছুই দেননি! আর তাই বোধহয় তার সম্মন্ধে সবচেয়ে কম কথাও বলেছেন। আমার মতে, এটি অবশ্যই এই উপন্যাসের দুর্বলতা।

Want your business to be the top-listed Shop in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka
1205

Opening Hours

09:00 - 17:00