Sparkle Science

Sparkle Science

Share

16/12/2025

জোনাকি দেখতে কেমন? জোনাকি কি সত্যিই জোনাকির মাংস খায়?

উত্তর: কাক কাকের মাংস খায় না—প্রবাদটি হয়তো আমাদের জানা। কিন্তু জোনাকি কি জোনাকির মাংস খায়? হ্যাঁ, খায়। কথাটা আসলেই সত্যি!

গ্রামের মানুষ এদিক দিয়ে খুব ভাগ্যবান। সেখানে শহরের মতো টিউবলাইট কিংবা সোডিয়াম বাতির জৌলুশ নেই। বাঁশবন আর ঝোপঝাড়ে আটকে থাকে জমাট অন্ধকার। দূরের মাঠ থেকে শেয়ালের হাঁক ভেসে আসে। তক্ষক আর ঝিঁঝি পোকার ঐকতান মনে অন্য রকম অনুভূতির জন্ম দেয়। সেই মায়াবী অন্ধকার রাতে যেন আকাশ থেকে নেমে আসে খুদে পরির দল। লাল পরি, হলুদ পরি, সবুজ পরি!

কেউ কেউ বলে ওরা পরি নয়, নীল আকাশের তারা। পরিই হোক আর তারাই হোক, গ্রামবাংলার আঁধার রাতে স্বর্গ এনে দেয় ওই খুদে প্রাণীর দল। গ্রীষ্ম কিংবা শরতের অন্ধকার রাতে বড্ড গরম পড়ে। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে নেমে আসে উঠোনে। খেজুরপাতার মাদুর পেতে রূপকথার গল্প শোনে। কিন্তু বারবার ছেদ পড়ে সেই গল্পে। ওই যে নিমপাতার আড়ালে একটা জোনাকি খেলছে! পেছনে তার আশ্চর্য বাতি। জ্বলে আর নেভে। পুকুরপাড়ের বুনো ঝোপজঙ্গল। তার ভেতর শত শত জোনাকির মিছিল। তখন হয়তো কারও কারও কবিতার সেই কাজলা দিদির কথা মনে পড়ে যায়।

15/12/2025

ওষুধ খাওয়ার পর ব্যথা কমে কীভাবে?

উত্তর: সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধের তালিকার একেবারে সামনের সারিতেই থাকবে পেইনকিলার বা ব্যথানাশকের নাম। ব্যথার অনুভূতি যেমন আদিম ও অকৃত্রিম, তেমনি একে পাশ কাটানোর চেষ্টাও মানুষের বহু পুরোনো। আর সেই কারণেই আমরা পেয়েছি হরেক রকমের ব্যথানাশক।

ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের সেটি বুঝতে পারা পর্যন্ত লম্বা পথপরিক্রমার যেকোনো এক জায়গায় বাধা দিতে পারলেই সেটি জায়গা পায় ব্যথানাশকের তালিকায়। তবে দৈনন্দিন জীবনে পেইনকিলার বলে আমরা যে ওষুধগুলোকে চিনি ও ব্যবহার করি, সেগুলো মূলত এনএসএআইডি বা নন স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস নামে ওষুধের একটি গ্রুপের সদস্য।

মজার ব্যাপার হলো, এই গ্রুপের প্রোটোটাইপ বা প্রথম সদস্য হলো অ্যাসপিরিন, যা চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রথম ব্যবহৃত হতে শুরু করে ১৮৯০-এর দশকে। বর্তমানে অবশ্য অ্যাসপিরিন ব্যথা কমানোর চেয়ে রক্ত তরল রাখার জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসপিরিনের অনেক উত্তরসূরি আবিষ্কৃত হয়েছে, যারা ব্যথানাশক হিসেবে আরও অনেক বেশি দক্ষ।

আমাদের ভীষণ পরিচিত এই পেইনকিলারগুলোর ক্রিয়াকৌশল বুঝতে হলে আগে একটু জানতে হবে ব্যথার পেছনের বিজ্ঞান। আমাদের শরীরের ত্বক থেকে শুরু করে আরও প্রায় সব অঙ্গে থাকে ব্যথার অনুভূতি গ্রহণকারী রিসেপ্টর। এগুলোকে বলা হয় নোসিসেপ্টর।

ল্যাটিন শব্দ নোসি (Nocere) থেকে এদের নামটা এসেছে, যার অর্থ ক্ষতি করা। শরীরের যেকোনো জায়গায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলেই এরা তৎপর হয়ে ওঠে। সেই ক্ষতিটা হতে পারে যেকোনো ভৌত বা রাসায়নিক শক্তির কারণে—যেমন তাপ, চাপ কিংবা অ্যাসিড বা ক্ষারের মতো কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ।

14/12/2025

সিনেমার দেখানো ডাইনোসরের গায়ের রং আসলে কী ঠিক? গবেষণায় মিলল ভিন্ন ছবি!

উত্তর: ডাইনোসরের ফসিলে দুই ধরনের মেলানোসোম পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
ডাইনোসরের ফসিলে দুই ধরনের মেলানোসোম পেয়েছেন বিজ্ঞানীরাছবি: টেস গ্যালাঘার সৌজন্যে
জুরাসিক পার্ক মুভি বা বইয়ের পাতায় ডাইনোসরদের গায়ের রং কেমন দেখেছেন? সাধারণত ধূসর, কালচে সবুজ বা মেটে খয়েরি, তাই তো? শিল্পীরা সাধারণত বর্তমান যুগের কুমির বা টিকটিকির কথা মাথায় রেখে অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই এই রংগুলো দেন। কারণ, হাড়ের ফসিল দেখে তো আর চামড়ার রং বোঝা সম্ভব নয়।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবার সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। সম্প্রতি আমেরিকার মন্টানায় মাদার্স ডে কোয়ারি থেকে পাওয়া গেছে ডিপ্লোডোকাস নামে ডাইনোসরের ফসিল। লম্বা গলাওয়ালা যে বিশাল ডাইনোসরগুলো মুভিতে দেখেছেন, সেগুলো। আর সেই চামড়ার আণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। বিজ্ঞানীরা সেখানে খুঁজে পেয়েছেন মেলানোসোম।

মেলানোসোম কী? মেলানোসোম হলো আমাদের বা প্রাণীদের কোষের ভেতরের ছোট্ট এক অঙ্গাণু, যা পিগমেন্ট বা রঞ্জক তৈরি করে। সোজা কথায়, আপনার গায়ের রং ফর্সা, কালো নাকি শ্যামলা হবে, তা ঠিক করে দেয় এই মেলানোসোম। ডাইনোসরের ফসিলে এটা পাওয়া যাওয়া মানে, আমরা এখন তাদের আসল রঙের রহস্যভেদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি!

এটিই ইতিহাসের প্রথম ঘটনা, যেখানে কোনো সরোপডের ফসিলে মেলানোসোম পাওয়া গেল। কিন্তু এই কাহিনিতে একটু টুইস্ট আছে। বিজ্ঞানীরা এই ফসিলে দুই ধরনের মেলানোসোম পেয়েছেন। একটা লম্বাকৃতি, অন্যটা চ্যাপ্টা। লম্বাকৃতির মেলানোসোম সাধারণ সরীসৃপদের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু এউ চ্যাপ্টা বা ডিস্ক আকৃতির মেলানোসোম বিজ্ঞানীদের ভুরু কুঁচকে দিয়েছে।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


Dhaka