Ne El

Ne El

Share

04/09/2025

চিন্তায় আমার কিছু ই ভাল্লাগে না । ছাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছি। দুয়ে দুয়ে চার যেনো মিলছেই না। হয় তিন নয় পাঁচ হচ্ছে। জীবনের করা ৬ বছর আগের পাপ যেনো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। ভুল তো করে ফেলছি সে কবেই, এখন ইচ্ছে করলেও আমি তা ঠিক করতে পারব না। নাহ, কেউ পারবে না। তবে পুরোনো জিনিস টা এখন, এভাবে কেন? এই পাঁচ টা বছর তো আমি সুখেই ছিলাম, কোন পাপ পিছু টানে নাই তবে আজ কেন? এগুলো ভাবতেই, হঠাৎ ছাদের দরজাটা চিকন উদ্ভুত শব্দে খুলে গেলো। মৃদু আলোতে কেউ দাঁড়িয়ে আছে, আমি তার দিকে তাকালাম....

আমি ধ/র্ষক! হা, সত্যি! ছয় বছর আগে একটা নিরীহ মেয়েকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে আমরা ছয় বন্ধু মিলে ধর্ষণ করে মেয়েটির লাশ পুরিয়ে ফেলেছি। মেয়েটি দেখতে ছিলো লোভনীয়, নামে মতো, এ্যালিনা। আজ ও কেউ জানে না এই খবর। গরীব ঘরের মেয়ে, তার বাবা মা হাল্কা পাতলা কেইস করছে, আমি পরিবারের একমাত্র ছেলে, তাই আব্বা তখন এই ঘটনা কে ধামাচাপা দিয়েছে খুব ইজিলি। এতো বছর পর পুলিশ সেই কেইসের সূত্র ধরে একটু আগে আমার বাসায়।
যদিও কোনো প্রমাণ পায় নাই তবে, আমার স্ত্রী আমার দিকে নিরব চোখে তাকিয়ে দুফোঁটা জল ফেলে, মেয়েকে নিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছে। আমার একটা সাফাই শুনতে চাইল না।

ছাদের দরজা থেকে, গাঢ় বাদামী রঙের দু_জোড়া শীতল চাহনি আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ঠোঁটে রহস্যময় হাঁসি, যেনো আমার সামনে স্বয়ং এ্যালিনা দাঁড়িয়ে আছে। আমি একটু ভয় পেলাম বটে তবে তা মুখের এক্সপ্রেশন এ বুঝতে দিলাম না। নিজেকে একটু ঠিক করে, আবার তাকালাম......

পাঁচ বছর বয়সী এই ছোট্ট মেয়েটির চোখে এতো অদ্ভুত শক্তি, মূহুর্তে ই আমি আমার চিন্তাধারার বিচরণ করতে লাগলাম। গুনে গুনে ৫ টা খুন হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এর মূল পর্যন্ত যেতে পারে নাই পুলিশ।
ভাবছেন? এতে আমার কি? আসলে সেই ৫ জন আমার খুব কাছের বন্ধু। যৌবন বয়সের সব কৃর্তিকলাপ যাদের সাথে করেছি! প্রত্যেকে মৃত্যুর আগে আমাকে ই কল দিয়েছিলো, বলেছিলো - ৬ বছর আগে আমরা ভুল করেছি, পাপ করেছি, যার ক্ষমা হয় নাই, আজ মাশুল দিচ্ছি....." তারপর ই কল কেটে যায়‌।

সাধারণ খুনের মতো এই খুনগুলো হয় নাই, যেনো প্রতিটি সূক্ষ্ম গনিত ক্যালকুলেশন করে করা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে একটা ইন্টার কানেকশন আছে, পুলিশ জানালো, আমাদের বাড়ির এই পাঁচ বছর বয়সী মেয়েটা।
আমি এগুলো এতোটাই ভাবতেছি, যে কখন আমার অতি নিকটে মেয়েটি চলে এসেছে আমি টের ই পেলাম না। হঠাৎ করেই সে আমার হাতে ধরলো, আমি চমকে উঠলাম। ইশারায় আমাকে বসতে বললো। আমি ও বাধ্য হয়ে হাঁটু গেড়ে বসলাম। আমার কানে ফিসফিস করে বলল - " পুনর্জন্ম আর হবে না, মেনে নাও, না হয় প্রতিশোধ নিতে ফিরে এসো নয়া নয়া রুপে...."

আমি চমকে উঠে দাঁড়ানো চেষ্টা করতেই, মেয়েটা আমাকে ধাক্কা দিলো, ছাদে রেলিং নেই, আমি আর সামলাতে পারলাম না, নিচে পরে যাচ্ছি। পাঁচ তলা থেকে নিচে পরতে পরতে দেখলাম মেয়েটা একটা মহিলা কে জড়িয়ে ধরে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে বাবা বলে চিৎকার দিলো । সাথে সাথে ই আমি জমিতে আছড়ে পরলাম। মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে, তবুও আমি উপরের দিকে তাকিয়ে আছি, মেয়েটা মহিলাটিকে জড়িয়ে ধরলো, মহিলাটি নিচের দিকে তাকিয়ে আছে! সে যেনো তৃপ্তি নিয়ে দেখছে? মহিলাটি কে? এ্যালিনা ?

#এ্যালিনা
(ছোট গল্প)
(নীল_নূর)

02/09/2024

ুদ্ধতার_চাদরে
•একাংশ (২)

বিস্তর এই কোলাহল শহরে , দৈত্যাকার ব্লিডিং আর ব্লিডিং!! শো শো শব্দে চলছে মস্তিষ্ক খাওয়ার মিশিন(গাড়ি), দূষিত এই বাতাস, তবুও এই শহরের মানুষের অহংকার কমে না, হৃদয় কুঞ্জে একখান মায়া ও জন্মে না।

নিস্তব্ধ আরো একটি রাত। আজ ঢাকায় আমি তিনদিন। এই দুয়ারে, সেই দুয়ারে, কতো দুয়ারে করাঘাত করলাম। একটা চাকরি, একটু থাকার জায়গা আর একমুঠো খাওয়ার আশায়। সবকিছু তে ই ব্যর্থ। এই শহরের মানুষ স্বার্থ চিনে, স্বার্থ ছাড়া কেউ ই কারো নয়...

কাঁধ থেকে ব্যাগ টা নামালাম। পথের পাশেই টপ করে বসে পরলাম। ব্যাগের সাইড পকেটে হাত দিলাম, মাত্র আর পাঁচশ টাকা আছে হয়তো। খুব ক্ষুদা লেগেছে, সেই সকালে একটা পাউরুটি খেয়েছি, এখন ও না খাওয়া। দশটা টাকা নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। রাস্তা টা পার হবো, ওপারে একটা টং দোকান আছে, সেখান থেকেই না হয় কিছু খেয়ে নেই।

রাস্তায় পা বাড়াতেই, মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো, নিমিষেই চোখে আবছা আবছা দেখছি, আজ তিন দিন পর আবারো একই অনুভূতি, হুট করে কানে গুঞ্জন ভেসে আসছে, কেউ যেন বলছে - "এমা !! এমা !! নিজের সাথে সাথে আমাকে ও কষ্ট দিচ্ছিস, কেন? আমাদের কষ্ট দেওয়া সবাইকে আমি কে/টে কুচি কুচি করে ফেলতে পারি, কিন্তু তোকে কি করবো? আমি কতটা সময় জগত দেখি না..."

নিজের মাথার এই খামখেয়ালি বেড়াম টা কে নিয়ে কি যে করি!! কেন আমি চোখ জাপ্টালে অন্য এক অস্তিত্ব খুঁজে পাই, কেন? "এমা" নিজের এই ছোট্ট নামটা অন্য এক অস্তিত্ব পরিচয় হিসেবে বহন করে.... ইশ্!! কি জটিল এই অঙ্ক, এর জবাব কোথায় পাবো? আমায় কে মিলিয়ে দিবে....?

পেটে গুড়ুম গুড়ুম হাঁক দিলো, সব চিন্তা সাইডে রেখে, নিজেকে সতেজ রাখার এক আকাশ সম প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেই, রাস্তা পার হওয়ায় মনযোগ দিলাম। মূহুর্তে ই, মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো, মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলাম, ওপাশ থেকে একটা লাইট আমার দিকে এগিয়ে এলো, মাথাটা কিছুর সাথে বারি খেলো, সাথে সাথে ই আমি ছিটকে কয়েক হাত দূরে ছিটকে পরলাম। সবকিছু আলো থেকে অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে, আর আমি হারিয়ে যাচ্ছি, হারিয়ে যাচ্ছি.....

~নীল_নূর

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Dhaka