Allar dan
রবিউল আউয়াল হিজরি চান্দ্রবর্ষের তৃতীয় মাস। এটি প্রিয় নবীজি (সা.)–এর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাস। ‘রবি’ অর্থ বসন্তকাল, ‘আউয়াল’ মানে প্রথম। সুতরাং রবিউল আউয়াল হলো প্রথম বসন্ত তথা বসন্তকালের প্রথম মাস। এই মাসেই নবীজি (সা.)–এর দুনিয়ায় শুভাগমন হয়েছিল। এই মাসেই তাঁর নবুয়তের প্রকাশ ঘটেছিল। এই মাসে তিনি জন্মভূমি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন। এই মাসেই তিনি ওফাত গ্রহণ করেন। তাই মুসলমানের জন্য এই মাস অতীব তাৎপর্যমণ্ডিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর জন্মের দিনটি ছিল সোমবার এবং তিনি মাতৃগর্ভে আগমন করেন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বা শবে জুমুআয়। প্রিয় নবীজি (সা.) ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন ভোরের শেষে, প্রভাতকালে উষালগ্নে। তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন দিবা শেষে গোধূলিলগ্নে।
সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুই দিন নবীজি (সা.) বেশি রোজা পালন করতেন। নবীজি (সা.) বলেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়, আমি চাই আমার আমল আমার রোজা অবস্থায় পেশ করা হোক।’ (তিরমিজি: ৭৪৭, সহিহ্ আলবানী)।
নবীজি (সা.) বিশেষত প্রতি সোমবার রোজা পালন করতেন। সাহাবাগণ এর কারণ জানতে চাইলে নবীজি (সা.) বলেন, ‘এই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনে আমার প্রতি ওহি নাজিল হয়েছে।’ (মুসলিম: ১১৬২, নাসায়ী ও আবুদাঊদ)।
মদিনায় এখনো সোমবার রোজা পালনের নিয়ম ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে এবং মক্কা শরিফে বৃহস্পতিবার রোজা পালনের রীতি রয়েছে। মদিনা শরিফে প্রতি সোমবার মসজিদে নববীসহ বিভিন্ন মসজিদে স্থানীয় জনগণ ইফতারের বিশাল আয়োজন করে থাকে, মক্কা শরিফে মসজিদুল হারামে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।
‘সুন্নাত’ হলো নবী কারিম (সা.) যে অবস্থায় যে কাজ যতটুকু গুরুত্বসহকারে করেছেন বা ছেড়েছেন, সে অবস্থায় সে কাজ ততটুকু গুরুত্বসহকারে করা বা ছাড়া। অনুরাগে নবীজির প্রতিটি কাজ অনুকরণ করা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) যা যা করেছেন, সবই সুন্নাত। তাঁর জীবনের প্রধান অবলম্বন ছিল সত্য, পবিত্রতা ও প্রেম। সত্যবাদিতার জন্য তিনি আশৈশব ‘আল আমিন’ অর্থাৎ সত্যবাদী, বিশ্বাসী ও বিশ্বস্ত উপাধি পেয়েছিলেন। আজীবন কোনো শত্রুও তাঁকে কখনো মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেনি।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka