PQS MART
কলকাতা ঘুরতে গিয়ে সঠিক গাইড লাইনের অভাবে অনেকেই ট্যাক্সি বা ক্যাবের পিছনে অনেক টাকা খরচ করছেন। যারা ওই অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে সুন্দর ভাবে ঘুরতে চাচ্ছেন তাদের ভরসার অন্য নাম হতে পারে কলকাতা মেট্রো রেল। এ সম্পর্কে আপনাদের কিছু বিষয় জানাচ্ছি।
মেট্রো রেল গুলো প্রতি ৪ মিনিট পর পর সকাল থেকে রাত ১০.২০ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া যায়। আপনি যদি টাকা কে পাইলটের মত উড়াতে ভালোবাসেন তবে এই পোস্ট টি আপনাদের জন্য নয়।
অনেকেই বনগাঁ থেকে সরাসরি শিয়ালদাহ স্টেশনে চলে আসেন। এর পর ক্যাবে ১০০ - ১৫০ রুপি দিয়ে পার্ক স্ট্রিট বা মির্জা গালিব স্ট্রীটে। আপনারা সরাসরি বনগাঁ থেকে দমদম জংশনে এসে নামবেন (দমদম জংশন এবং দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের মধ্যে প্যাঁচ লাগাবেন না)। এখান থেকে মাত্র ১০ রুপি দিয়ে মেট্রো রেলে করে পার্ক স্ট্রীট চলে আসতে পারবেন।
কলকাতা মেট্রো রেলের রুট:
দমদম > বেলগাছি > শ্যাম বাজার > শোভা বাজার > গিরিশ পার্ক > M.G রোড > সেন্ট্রাল > চাঁদনী চক > স্প্লানেড > পার্ক স্ট্রীট > মায়দান > রবীন্দ্র সনদ > নেতাজী ভবন > জতীন দাস পার্ক > কালীঘাট > রবীন্দ্র সরোবর > টালীগঞ্জ > নেতাজি >মাস্টার দা সুর্যসেন > গীতাঞ্জলী > কবি নজরুল > শহীদ ক্ষুদিরাম > কবি সুভাস।
ভাড়া ৫, ১০, ১৫, ২০ রুপি। আপনি যদি দমদম থেকে পার্ক স্ট্রীট আসেন তবে ভাড়া ১০ রুপি আবার পার্ক স্ট্রীট থেকে চাঁদনী চক যান তবে ভাড়া ৫ রুপির মত। চিন্তা করার কোন কারন নেই এই দ্রুত গামী মেট্রো রেলের প্রতিটি স্টেশনে সে স্টেশন থেকে যে স্টেশনে যাবেন সেখানকার ভাড়া লেখা আছে। আপনি টিকিট কেটে উপরের সাইনবোর্ড দেখে বাম বা ডান দিকের প্লাটফর্মের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করবেন।
এবার আসুন আলোচনা করি কোন মেট্রো রেলওয়ে স্টেশনের পাশে কি কি আছে ।
╚►ভিক্টরিয়াল মেমোরিয়ালঃ ময়দান মেট্রো স্টেশন।
╚►গড়ের মাঠঃ ময়দান মেট্রো স্টেশন।
╚►হাওড়া ব্রিজঃ মহাত্মা গান্ধী মেট্রো স্টেশন।
╚►ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামঃ পার্ক স্ট্রীট অথবা ময়দান মেট্রো স্টেশন।
╚►জোড়া সাঁকোর ঠাকুর বাড়িঃ গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশন।
╚►রাম মন্দিরঃ মহাত্মা গান্ধী মেট্রো স্টেশন।
╚►মার্বেল প্লেসঃ মহাত্মা গান্ধী মেট্রো স্টেশন।
╚►ময়দানঃ ময়দান মেট্রো স্টেশন।
╚►কালীঘাট কালী মন্দিরঃ কালীঘাট মেট্রো স্টেশন।
╚►ইডেন গার্ডেনঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►কার্জন পার্কঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►নেতাজী সুভাস স্টেডিয়ামঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►মিনেলিয়াম পার্কঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►দ্বিতীয় হুগলী ব্রিজঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►কলকাতা হাইকোর্টঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►বাবুঘাট কলকাতাঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►প্রিন্সেপ ঘাটঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►ফোর্ট উইলিয়ামঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►শহীদ মিনারঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►সেন্ট পল চার্চঃ রবীন্দ্র সদন মেট্রো স্টেশন।
╚►চাঁদনী চকঃ চাঁদনী চক মেট্রো।
╚►নিউমার্কেটঃ এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন।
╚►বড় বাজারঃ মহাত্মা গান্ধী মেট্রো স্টেশন।
╚►রবীন্দ্র সরোবরঃ রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন।
╚►লায়ন সাফারি পার্কঃ রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন।
অনেকেই নিউমার্কেট এলাকায় অনেক সময় হোটেল সংকটের কারনে বেশি দামে হোটেল ভাড়া দিয়ে থাকে । আপনারা ইচ্ছে করলেই দমদম বা শোভা বাজার এদিকের হোটেলে থাকতে পারেন । সেক্ষেত্রে মাত্র ১০ বা ৫ রুপি দিয়ে এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনে চলে আসুন। এখান থেকে মিনিট ২ হাটলেই নিউমার্কেট এলাকা।
নোটঃ মেট্রো রেলওয়ে স্টেশন গুলো থেকে ভ্রমনের স্থান গুলো খুব বেশি হলে ১ কিঃ মিঃ এর মধ্যে অবস্থিত, যারা ট্রাভেলার তাদের জন্য এটা কিছুই না। মেট্রো রেলের স্টেশন গুলোতে ছবি তুলা নিষিদ্ধ এবং এই ট্রেন গুলোতে আপনি বড় বড় বস্তা ক্যারি করতে পারবেন না। সাধারন ব্যাগ , হ্যান্ড ব্যাগ, অফিস ব্যাগ, শপিং ব্যাগ ইত্যাদি বহন করতে পারবেন। ভালো থাকবেন।
লেখা এবং ছবি সাজেদ রহমান ভাইর ওয়াল থেকে।
আশা করি শেষ পর্যন্ত পড়বেন।
এক লেবানিজ লোক জাপানে ঘুরতে গিয়ে সেখানকার এক ফাইভ স্টার হোটেলে উঠেছে। সে যখন সুইমিংপুলে নেমেছে, তখন আর কোনো গেস্ট ছিলো না। একা সুইমিংপুলে সাঁতার দিতে গিয়ে আরব বদমাইশটার মাথায় চ্যাগান দিয়ে উঠলো শয়তানি। ভাবলো, "একটা ফাইভ স্টার হোটেলের সুইমিংপুলে হিসু করে রেখে যাই। আমার মূত্রে বাকি গেস্টরা অবগাহন করবে, অনেক মজা হবে।"
মজা পাওয়ার জন্য ভাইটি মূত্রবিসর্জন করামাত্র দেখলেন, পুলের ওই অংশের পানি গোলাপি হয়ে গেছে এবং এলার্ম বেজে উঠেছে। হোটেল স্টাফরা এসে সাথে সাথে তাকে পুল থেকে তুলে ফেললো। কারণ, এখন পুরা সুইমিংপুলের পানি ফেলে দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর নতুন করে পানি ভরা হবে।
ঘটনা ঘটার দশ মিনিটের মাথায় লোকটাকে রিসেপশনে ডেকে আনা হলো। তার হাতে পাসপোর্ট ধরিয়ে দিয়ে হোটেল থেকে বিদায় করে দেয়া হলো। লোকটা ভাবলো, সে সম্মানিত ট্যুরিস্ট এবং তার প্রচুর পয়সা আছে। অন্য হোটেলে গিয়ে উঠলেই হবে।
এখান থেকেই মূল খেলাটা শুরু। লোকটা প্রথমদিকে আশপাশের ফাইভ স্টার হোটেলগুলায় উঠার চেষ্টা করলো। মজা হলো, যেই হোটেলেই সে উঠার চেষ্টা করে, রিসেপশনিস্ট তার পাসপোর্টের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে ফেলে, "আচ্ছা, আপনিই সেই লোক যে সুইমিংপুলে.... আহ্, সরি স্যার, আপনাকে গেস্ট হিসেবে আমরা নিতে পারতেসি না। অন্য হোটেল দেখেন।"
লোকটা হোটেল দেখা শুরু করলো। প্রথমে সবগুলো ফাইভ স্টার, এরপরে ফোর স্টার, এরপর থ্রি স্টার.... প্রত্যেকটা হোটেলেই সেইম ঘটনা ঘটতেছে। কেউই তাকে গেস্ট হিসেবে নিচ্ছে না। সারাদিন ঘুরে জাপানের কোনো হোটেলেই থাকার জায়গা না পেয়ে লোকটা শেষমেশ নিজের এমব্যাসিতে আশ্রয় নিলো।
সেখানে তাকে পরামর্শ দেয়া হলো, জাপানের এমন কোনো হোটেলেই তুমি আর কোনোদিন উঠতে পারবা না, যেখানে সুইমিংপুল আছে। তারচেয়ে বড় কথা, তোমার এই অপরাধের ছাপ্পা তোমার পাসপোর্টের সাথে লেগে গেছে। তোমার জাপান ভ্রমণ এখানে সমাপ্ত করাটা হবে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।
লোকটার অপমান সেখানেই শেষ হয় নাই। চলে যাওয়ার সময় এয়ারপোর্টে পাসপোর্ট অফিসার তার পাসপোর্টে সিল মারতে মারতে বললো, "আশা করি আপনি আপনার শিক্ষা পেয়েছেন। অন্য দেশে যাওয়ার সময় শিক্ষাটা ভুইলেন না।"
লেবাননে ফিরে এসে লোকটা পুরো ঘটনাটা তার ফেসবুকে লিখেছে। সেই স্ট্যাটাসের লাস্ট লাইন ছিলো, "পুরো জাপান জেনে গেছিলো যে আমি ওদের হোটেলের সুইমিংপুলে হিসু করেছি। এদিকে আমার দেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কারা আমাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চুরি করে নিয়ে গেছে, সেটা আমাদের সরকার এখন পর্যন্ত বের করতে পারে নাই।"
# সোহা
ঈমান ও কুফরের পার্থক্য জানা একজন মুসলিমের জন্য ফরয। কী কী কারণে একজন মুসলিম মুরতাদ হয়ে যেতে পারে তা যদি তার জানা না থাকে এবং এই না জানার কারণে সে মুরতাদ হয়ে কবরে চলে যায় তবে মুক্তির আশা করা বোকামি। কেননা “জানি না” বলে আল্লাহ্র কাছে পার পাওয়া যাবে না। দুনিয়ার সবকিছু জানতে পারি, সব ব্যবসা চাকরি বুঝি, কিন্তু দ্বীনের বেলায় আসলে নিজেকে মূর্খ দাবি করা আরও বড় মূর্খতা।
মদ পান করলে, যিনা করলে, সুদ-ঘুষ খেলে, মিথ্যা বললে, গীবত করলে, খুন করলে কেউ ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় না। অবশ্যই কাজগুলো হারাম ও কবিরা গুনাহ। কিন্তু ইসলামের কোন বিধানকে তা যত ছোটই হোক না কেন কেউ কটাক্ষ করলে, অস্বীকার করলে, অপছন্দ করলে, বিপক্ষে যুক্তি দাঁড় করালে, আল্লাহ্র দেয়া বিধানকে বাতিল করে দিয়ে কুফফারদের তৈরি কোন বিধানকে পছন্দ করলে, কুফফারদের পক্ষ হয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে।
আজকের মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর শাসক ও শাসকের আইনের আনুগত্যশীল সকল বাহিনীর কর্মকান্ডের দিকে তাকালে তা সহজেই বোঝা যায়। কেননা তাগুতের যারা রক্ষাকবচ তারাও কোন অংশে কম দায়ী নয়। কেননা তারা আল্লাহ্র দেয়া বিধান আল কুরআনকে সংবিধান মানার পরিবর্তে নিজেদের তৈরি সংবিধানকে সর্বোচ্চ সংবিধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, আল্লাহ্র দেয়া বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেরা আইন তৈরি করেছে, যারা আল্লাহ্র জমিনে আল্লাহ্র আইন কায়েম করতে চায় তাদেরকে কট্টরপন্থী, মৌলবাদী, জঙ্গি আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যা একজন মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দিতে যথেষ্ট।
এজন্যই উলামায়ে হক্ব বলেন, বিসিএস দিয়ে সরকারি প্রশাসনে চাকরি করা নাজায়েজ, কেননা এখানে তাকে আল্লাহ্র বিধানের পরিবর্তে মানুষের তৈরি বিধান তৈরিতে সাহায্য ও বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে হয়।
কেউ হারামকে হালাল মনে করলে বা হালালকে হারাম করে দিলে সেও মুরতাদ হয়ে যাবে। যেমন, এখন মদের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, সুদকে হালাল করা হয়েছে, পতিতালয়কে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, গণতন্ত্রকে জীবন বিধান হিসেবে মেনে নেয়া হয়েছে, মহান আল্লাহ্র দেয়া শারিয়াহ আইনকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে, প্রকাশ্যে দাড়ি, টুপি, পর্দা, হজ, ইসলামি বইয়ের বিরোধীতা করা হচ্ছে। এগুলো সবই মুরতাদ হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
“যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।” [সূরা মায়িদাঃ৪৪]
“আর যারা কাফের,তাদের জন্যে আছে দুর্গতি এবং তিনি তাদের কর্ম বিনষ্ট করে দিবেন। এটা এজন্য যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন।” [সূরা মুহাম্মাদঃ৮-৯]
“ফেরেশতা যখন তাদের মুখমন্ডল ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে প্রাণ হরণ করবে, তখন তাদের অবস্থা কেমন হবে? এটা এজন্য যে,তারা সেই বিষয়ের অনুসরণ করে,যা আল্লাহর অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করে। ফলে তিনি তাদের কর্মসমূহ ব্যর্থ করে দেন।” [সূরা মুহাম্মাদঃ ২৭-২৮]
ইসলাম শুধুমাত্র সালাত, সাওম, হজ, যাকাতের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাষ্ট্রীয়নীতি, বিচার ব্যবস্থা প্রতিটির বিধান মহান আল্লাহ্ ও রসুলুল্লাহ( ﷺ ) দিয়ে দিয়েছেন। এর কোন একটিকে কেউ পরিবর্তন করলে এবং ওই পরিবর্তনের উপর সন্তুষ্ট থাকলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে। যদিও তার নাম মুসলিমদের মতো হোক না কেন, যদিও সে ৫ ওয়াক্ত সালাত মাসজিদের সামনের কাতারে আদায় করুক না কেন, হজ, যাকাত আদায় করুক না কেন। সে তার নিজের অজান্তেই ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।
এইসব মুরতাদরা কাফিরের চেয়েও বেশী জঘন্য। কেননা আসল কাফিরকে তাদের নাম পরিচয় দিয়ে চেনা যায়, কিন্তু এইসব মুরতাদরা ইসলামি নামের আড়ালে তাদের কুফুরি কার্যকলাপ চালিয়ে যায় আল্লাহ্র দ্বীনকে দুনিয়া থেকে মিটিয়ে দেয়ার জন্য।
“তারাও ষড়যন্ত্র করে আল্লাহ্ও পরিকল্পনা করেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ই সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী।” (সূরা আল ইমরানঃ৫৪)
মূসা আলাইহিসসালাম ছিলেন কালিমুল্লাহ। তিনি আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলতে পারতেন।
একদিন এক মহিলা মূসা আলাইহিসসালাম এর কাছে এসে অনুরোধ করলো, যাতে তিনি আল্লাহর কাছে তার ব্যাপারে ফরিয়াদ করেন। ওই মহিলা নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি চাচ্ছিলেন মূসা আলাইহিসসালাম যাতে আল্লাহকে অনুরোধ করেন আর আল্লাহ তাকে সন্তান দান করেন।
মহিলাটি বিবাহের পর অনেকদিন হয়ে গিয়েছিল, মনেপ্রাণে তিনি মা হতে চাচ্ছিলেন। মূসা আলাইহিসসালাম আল্লাহর কাছে চাইলেন। আল্লাহ জবাব দিলেন- সেই মহিলা বন্ধ্যা, সে সন্তান জন্মদানে অক্ষম। মূসা আলাইহিসসালাম মহিলাকে এ কথা জানালে সে চলে গেলো।
আমি বা আপনি যদি আল্লাহর কাছ থেকে এব্যাপারে জানতে পারতাম, আমরা হয়তো থেমেই যেতাম। আমরা অনেকে তো কিছুদিন দু'আ করেই হতাশ হয়ে যাই আর নালিশ জানাই। অনুযোগ করে বলে ফেলি- আল্লাহ কখনোই আমার দু'আ শুনেন না। কিন্তু ওই মহিলা ক্রমাগত আল্লাহর কাছে দু'আ করে যাচ্ছিলো। সে অকাতরে, বিনীত ও বিনম্রভাবে আল্লাহর কাছে চাইতে থাকলো। কখনো দু'আ করা বাদ দিলোনা।
এরপর একদিন তিনি দ্বিতীয়বার মূসা আলাইহিসসালাম এর কাছে গিয়ে বললেন, "আপনার প্রভুকে বলুন, হে মূসা!"
মূসা আলাইহিসসালাম জানালেন- আল্লাহ একই জবাব দিয়েছেন, আপনি বন্ধ্যা।
এভাবে তিনি তিনবার মূসা আলাইহিসসালাম এর কাছে অনুরোধ জানিয়ে প্রত্যাখ্যান হলেন। প্রতিবারই একই উত্তর পেলেন- তিনি বন্ধ্যা, সন্তান জন্মদানে অক্ষম।
তিনি চতুর্থবার মূসা আলাইহিসসালাম এর সাথে দেখা করলেন। কিন্তু, এবার তার কোলে একটি ফুটফুটে শিশু ছিলো। তার হাত ধরে নারছিলো আরেকটি শিশু। তিনি বললেন, "দেখুন মূসা! আল্লাহ আমাকে দুটো সন্তান দান করেছেন।"
মূসা আলাইহিসসালাম বিব্রতবোধ করলেন। আল্লাহকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহ! আপনি তিনবার আমাকে জানালেন যে, সে বন্ধ্যা, তার সন্তান হবেনা। কিন্তু তারপর আপনি তাকে সন্তান দান করলেন!"
আল্লাহ জবাব দিলেন, "প্রত্যেকবার যখন আমি লিখে রাখি যে সে বন্ধ্যা, তখনই সে দু'আ করছিলো আর বলছিলো: 'হে দয়াময়! হে দয়াময়!"
আল্লাহ বলেন- হে মূসা, তখন আমার দয়া তার জন্য নির্ধারিত তাক্বদীরকে পরিবর্তন করে দিয়েছে।
(শিক্ষা: ক্রমাগত দুয়া তাকদীরকে উত্তম কিছু দ্বারা পরিবির্তন করে দিতে পারে।)
- শাইখ মূসা জিবরীল
বই: বিপদ যখন নিয়ামত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka