Today Topic

Today Topic

Share

18/11/2022

শেষ প্রহর
Md Nasir Uddin Ontu

জরুরি কাজে সাভারের সেনা কমপ্লেক্সে ঢুকে লিফটের সিড়িতে উঠতেছিলাম হঠাৎ খেয়াল করলাম পাশের নিচে নামার সিঁড়িতে একটা মেয়ে আমার দিকে তাকাচ্ছে, আমি স্মার্টও না, সুন্দরও না, আমার দিকে তাকানোর প্রশ্নই আসে না,ভেবে উপরে উঠে নিচের দিকে তাকাতেই দেখি মেয়েটা আমার দিকে আবারো তাকিয়ে আছে, হিজাব পড়া সাথে মাস্কও পরা ছিলো। পরিচিতো হলেও চিনতে পারছিলাম না।খেয়াল করলাম মেয়েটা হাত ইশারা করে ডাকতেছে। আশে পাশে কেউ নেই আমার,,বুজলাম আমাকেই ডাকছে। নিচে নামার পরেই মেয়েটা বলে উঠলো

--ভাইয়া আপনি নিলয় না?
--হ্যা আপনাকে তো চিনলাম না?
--ভাইয়া আমি তুলির ছোট বোন তোহা
--আরে আল্লাহ আগে বলবা না। মাস্ক পড়া তাই চিনতে পারি নাই।।কেমন আছো বলো?
--ভাইয়া আছি কোনোমতে।
--এখানে কেন?তুলি কেমন আছে?

তুলির কথা শুনতেই দেখি তোহার চোখে পানি চলে আসছে কিছুই বুজতে পারলাম না৷ তুলি আর আমার রিলেশন ছিলো তিন বছরের। ওর আব্বু আম্মুও আমায় অনেক পছন্দ করতেন।খুব ভালোবাসতো তুলি আমায়,প্রায় ওদের বাড়িতে যেতাম আন্টি আমায় ভিষন ভালোবাসতো।নিজের মাকে ভুলিয়ে দিতেন,এতোটাই ভালোবাসতেন।আর তুলি আমায় বলতো এতো সুখ কই রাখো তুমি,আমি মজা করে বলতাম বিয়ে করেই এখানেই থেকে যাবো।।একদিন কল না দিলে রাগ ভাঙ্গাতেই কতো যে কথা দিতে হতো তার হিসেব নাই। কতো সপ্ন ছিলো ওর, বিয়ের পর কেমনে ঘর সাজাবে,কেমনে শাশুড়ীকে পটায় রাখবে, আর সব সময় বলতো আমাদের প্রথম যেনো মেয়ে সন্তান হয়। কথা ছিলো এই পরিক্ষা শেষ হলেই বিয়ে করে নিবো।হঠাৎ করেই শুনলাম ও নাকি অসুস্থ,আমার পরিক্ষা ছিলো তাই যেতে পারি নি,খবর রাখছিলাম প্রতি মহুর্ত্যেই।হাসপাতালে ছিলো তিন দিন,পরে বাসায় আসছে।পরে শুনলাম ঔষধ খেলেই ঠিক হবে।তারপর জানি না ওর কি হলো যোগাযোগ করা কমায় দিলো।। কল দিলে রিসিভ করতো না।কথা বল্লেও কেমন জানি পাওা দিতো না ভিষন কষ্ট হতো আমার,কেন এই পরিবর্তন। ততোদিনে আমার পরিক্ষা শেষ হলে তুলিকে বল্লাম তোমাদের বাসায় যাবো কিন্তুু ও রাজি হচ্ছিলো না।তার পরের দিনেই বল্লো আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।।আমার গ্রামের ফুফাতো ভাইয়ের সাথে,সরকারি চাকুরী করে সে।।কাল বিয়ে আমায় ভুলে যেও।বলেই ফোন কেটে দিলো।কল দিলাম নাম্বার বন্ধ। অনেক চেষ্টা করেও পাই নি। মেসেঞ্জারে,ফেইসবুকে,কলে কোথাও না। ওরা যে বাড়িতে থাকতো চলে গেলাম সেখানে,দেখি তালা মারা বাড়ি। লোকজন কে জিজ্ঞেস করলে তারা বললেন গ্রামে গেছে সবাই।পাগলের মতো ছুটছি এক মাস৷ কোথাও পাই নি ওরে ওর পরিবারের লোককে।ছয় মাস হলো ভুলতে পারি নি কিছুই, কিন্তুু আগের থেকে একটু শক্ত হইছি।তোহার কথাই ফিরে আসলাম স্মৃতি থেকে

--ভাইয়া আমাদের বাড়ি যাবেন একটু,সব কিছুই জানতে পারবেন।এখান থেকে বেশি সময় লাগবে না
--না থাক।তোমার আপু কেমন আছে।
--ভাইয়া আপু তো আর নাই (কাদতে কাদতে)
--মানে কি বলো।কি হইছে তুলির কোথায় ও
ভাইয়া তুলি আপুর ক্যান্সার হইছিলো আপনাকে বলতে না করছিলো। আপনি শুনলে কষ্ট পাবেন আর তাই আসতে আসতে আপনার থেকে দুরে আসছে,আপনি যেদিন আমাদের বাড়িতে আসতে চাইলেন সেদিনেই আমরা গ্রামে গেছিলাম।তার একমাস পরেই আপু ------------(কান্না)

তোহার কথা শুনতেই কেমন জানি মাথার উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেলো।কি শুনলাম আমি। তুলি কেনো জানালো না আমায়। আমি কি ওকে নিয়ে বাকি দিন গুলা কাটাতে পারতাম না?আমি তো শুধু ওরেই ও কি বুঝলো না সেটা।এভাবে স্বার্থপরের মতো একা করে গেলো আমায়।আমার ভালোবাসাটা শেষ পর্যন্ত শুধু তো তারেই জন্য।
তোহার কথাতে চিন্তা থেকে বের হয়ে আসলাম

12/11/2022

অপরিতা
লেখকঃMd Nasir Uddin Ontu
Part: 1
সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।বালিশের নিচে ভাইব্রেট করা ফোনটা দেখি কাপতেছে।ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি নিলার কল।এতোদিন পর কল পেয়ে অবাকেই হলাম।ভাবলাম ভুল করে দিছে হয়তো।রিসিভ না করে রেডি হয়ে অফিসের দিকে যাওয়া শুরু করলাম।।খেয়াল করলাম আবারো বাজতেছে। দুই তিনবার রিং হওয়ার পর কল রিসিভ করলাম।
--হ্যালো,কে?
--আমি নিলা।
--কোন নিলা চিনলাম না তো?
--না চিনারি কথা, বিশ্বাস করো কল না দিয়ে থাকতে পারলাম না।
(নিলার পরিচয়টা একটু দিয়ে নেই)
নিলার সাথে আমার পরিচয় ২০২০ সালে শুরুর দিকে,যে বাসায় ভাড়া থাকতাম সেই বাসায় ও থাকতো ওর আব্বু আম্মুর সাথে। সেখান থেকেই পরিচয়। পড়াশুনা করতো মাঝে মাঝে ওর আব্বু আম্মুর কাছে বেড়াতে আসতো।আমার অফিসের অফ ডে আমরা গল্প করতাম এভাবেই ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা দেড় বছরের প্রেম ছিলো আমাদের। একদিন ছাদে আমার হাত ধরে বলেছিলো আমার একটা অতীত আছে আমি বলেছিলাম শুনবো না,তোমার অতীত। এভাবেই ভালোবাসবো তোমায়।চিন্তা ছিলো অতীত শোনার পর যদি তার প্রতি আমার ভালোবাসা কমে। এই ভয়ে শুনতাম না৷ আমরা বিয়ে করবো বলে ঠিক করে রেখেছিলাম। হঠাৎ গ্রামের বাড়িতে গিয়ে একদিন কল দিয়ে জানালো,আমার কিছু করার নেই বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।আমি মা বাবার কথার বাহিরে যেতে পারবো না। বিশ্বাস করেন শোনার পর কয়েক ঘন্টা নিজেকেই নিজে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।।দেড় বছরে কতো জায়গায় গিয়েছি কতো ঘুরেছি।বাহিরে ঘুড়তে বের হলে, সে বলতো আমারা স্বামী স্ত্রী। এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে কল্পনাতে নিতে পারছিলাম না।কিভাবে করতে পারলো আমার সাথে এইটা। বার বার ইচ্ছা হয়েছিলো মারা যাই।।নিজের মায়ের কথা ভেবে কখনো খারাপ কিছু করি নাই।অনেক কষ্ট করে বড় করেছে তিনি আমায়।দেড় বছর পর তার কল।।অবাক করার মতোই বিষয়টা
যাই হোক কলে ফিরে যাই

আমি বল্লাম,

--এতো দিন পর কল কেনো দিছো নাকি ভুল করে আসছে?
--না আমি ইচ্ছা করে কল দিছি তোমার সাথে আমার অনেক কথা আছে।প্লিজ একটু সময় দাও আমায়।জানি আমার উপর অনেক রাগ তোমার। বলছি আমার কথাগুলো তোমার শুনা দরকার
--তোমার কথা শুনে আমার লাভ কি?তোমার তো কথা শুনার লোক আছে তাকেই বলো.
--প্লিজ পাঁচ মিনিট দাও(কান্না কান্না কন্ঠে?
---চলবে---

বি দ্রঃ যদি ভালো পরের পার্টের জন্য বলবেন।উতসাহ পেলে লিখার চেষ্টা করবো।

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka
5570