Shamim Rashid

Shamim Rashid

Share

25/02/2026

একটা ছোট, হতাশাগ্রস্ত যুবকের গল্প বলছি।
সূর্য ডুবে যাচ্ছিল মরুভূমির ওপর।
আকাশ লাল-কমলা, কিন্তু তার চোখে কোনো রঙ ছিল না।
রাহাত, ২৭ বছর বয়স।
একসময় স্বপ্ন দেখত—চাকরি পাবে ভালো কোম্পানিতে, বাবা-মাকে নিয়ে বড় ফ্ল্যাটে থাকবে, বন্ধুরা বলবে “দোস্ত, তুই তো সেটেলড!”
আজ সে একা বসে আছে বালির ঢিবির ওপর।
পকেটে শেষ ২০০ টাকা। ফোনের ব্যাটারি ৪%। চার্জার ভেঙে গেছে দুই মাস আগে।
সে ভাবছিল—
“আমি কেন এত চেষ্টা করলাম?
পড়াশোনা করলাম রাত জেগে,
প্রত্যেকটা ইন্টারভিউতে হাসি দিয়ে বললাম ‘আমি খুব প্যাশনেট’,
আর তারা বলল ‘আমরা আরও এক্সপিরিয়েন্সড কাউকে খুঁজছি’।
এখন তো আমার এক্সপিরিয়েন্স শুধু হতাশা আর রিজেকশন লেটার।”
হাতের মুঠোয় বালি তুলে ছড়িয়ে দিল।
বালি উড়ে গেল হাওয়ায়, যেমন তার স্বপ্নগুলো উড়ে গেছে বছরের পর বছর।
“আমি কি ব্যর্থ?”
প্রশ্নটা মনে মনে করল, কিন্তু উত্তর দিতে গিয়ে গলা আটকে গেল।
চোখ ভিজে এল। কাঁদতে চাইল না—কারণ কে দেখবে? কেউ তো নেই।
হঠাৎ দূরে একটা ছায়া দেখল।
এক বৃদ্ধ লোক, ধীরে ধীরে হেঁটে আসছে।
মাথায় পুরনো টুপি, হাতে একটা লাঠি।
বৃদ্ধ কাছে এসে বসল তার পাশে। কোনো কথা বলল না প্রথমে।
শুধু একইভাবে বালির দিকে তাকিয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধ বললেন,
“তোমার মনে হচ্ছে সব শেষ?”
রাহাত চমকে তাকাল।
“আপনি কী করে জানলেন?”
“চোখ দেখে।
যারা হারিয়েছে, তাদের চোখে একটা নির্দিষ্ট ফাঁকা ভাব থাকে।
আমারও ছিল একসময়।”
রাহাত নিচু গলায় বলল,
“আমি আর পারছি না। সবকিছু ব্যর্থ লাগে।
জীবনটা যেন এই মরুভূমির মতো—শুধু বালি আর গরম। কোনো পথ নেই।”
বৃদ্ধ হাসলেন। খুব হালকা হাসি।
“জানো, এই মরুভূমিতে আমি ৪০ বছর ধরে হাঁটছি।
প্রথম দিকে মনে হতো—আমি হারিয়ে গেছি।
পরে বুঝলাম—হারানোর কোনো জায়গা নেই।
কারণ এখানে কোনো ‘ঠিক পথ’ বলে কিছু নেই।
শুধু হাঁটা আছে। আর হাঁটতে হাঁটতে কখনো কখনো একটা ছোট্ট ওয়েসিস দেখা যায়।
সেটা খুঁজতে হয় না—সেটা নিজে থেকে আসে, যখন তুমি থেমে যাওয়ার কথা ভাবো।”
রাহাত বলল, “কিন্তু আমি তো থেমেই গেছি।”
বৃদ্ধ বললেন,
“তাহলে এখনো হাঁটো।
থামার পরও হাঁটো।
কারণ হতাশা তোমাকে থামিয়ে দেয়, কিন্তু তোমার পা দুটো এখনো তোমার।
ওগুলোকে বলো—‘আরেকটু চল। শুধু আরেকটু।’
একদিন দেখবে—বালির মাঝে একটা ছোট্ট ছায়া পড়েছে।
সেটা তোমার নিজের ছায়া।
আর সেটাই তোমার প্রথম বন্ধু হয়ে উঠবে।”
বৃদ্ধ উঠে দাঁড়ালেন।
“আমি যাই। তুমি বসে থাকো যতক্ষণ চাও।
কিন্তু সূর্য উঠলে আবার হাঁটতে শুরু করো।
এক পা। তারপর আরেক পা।
বাকিটা সময় বলে দেবে।”
বৃদ্ধ চলে গেলেন।
রাহাত বসে রইল অনেকক্ষণ।
তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
পা কাঁপছিল। চোখ ভিজে ছিল।
কিন্তু সে এক পা এগোল।
তারপর আরেকটা।
দূরে সূর্য উঠছিল।
আকাশ আবার রঙ ফিরে পাচ্ছিল।
আর রাহাতের মনে—খুব ছোট্ট একটা ফিসফিস—
“আরেকটু... শুধু আরেকটু।”

12/01/2026
Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


Dhaka
1000