MH TECH 2.2
ডাকাত কাদিরের গল্প
অনেক বছর আগে, নদীর পাড়ের ছোট্ট গ্রাম “সোনারডাঙা”-য় মানুষের শান্তি নষ্ট করে রেখেছিল এক ডাকাত—কাদির ডাকাত। রাত নামলেই সে আর তার দল জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের ঘরে হানা দিত। স্বর্ণ-রূপা, গরু-ছাগল, এমনকি মানুষের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিত। গ্রামের লোকেরা এতটাই আতঙ্কিত ছিল যে, সন্ধ্যা নামলেই দরজা-জানালা বন্ধ করে ভয়ে কাঁপত।
কাদির ছোটবেলায় গরীবের সন্তান ছিল। অভাব-অনটনের মধ্যে বড় হতে হতে তার মনে জমে গিয়েছিল প্রচণ্ড ক্ষোভ। একসময় সেই ক্ষোভই তাকে ঠেলে দেয় ডাকাতির পথে। কিন্তু ক্রমে সে শুধু টাকার জন্য নয়, ক্ষমতা আর ভয় দেখানোর নেশায় মেতে ওঠে।
একদিন গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব কাদিরকে ডেকে বললেন—
“কাদির, ভয় দেখিয়ে মানুষকে কাঁদিয়ে কতদিন শান্তি পাবে? মৃত্যু তোকে ছাড়বে না। এখনো সময় আছে, ফিরে আয়।”
প্রথমে কাদির হেসে উড়িয়ে দিল। কিন্তু এক রাতে ডাকাতি শেষে যখন সে এক বৃদ্ধার কাঁদতে থাকা মুখ দেখল, তখন তার বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে শুধু বলছিল—
“হে আল্লাহ, আমাদের সব কেড়ে নিল, ওরও যেন শান্তি না থাকে।”
সেই রাত থেকেই কাদিরের ঘুম উধাও হয়ে গেল। বারবার সেই কান্নার শব্দ তার কানে বাজতে লাগল। ধীরে ধীরে তার মনে অপরাধবোধ জন্ম নিল।
অবশেষে এক ভোরে, সে তার সমস্ত দলকে নিয়ে গ্রামের মানুষের কাছে এসে বলল—
“আমি আর ডাকাতি করব না। তোমাদের কাছ থেকে যা নিয়েছি, যতটুকু পারি ফিরিয়ে দেব।”
গ্রামের লোকেরা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারল না। কিন্তু কাদির সত্যিই পরিবর্তিত হল। পরে সে তার জীবন উৎসর্গ করল গরীবদের সাহায্যে। একসময়ের ভয়ঙ্কর ডাকাত কাদিরই হয়ে উঠল গ্রামের রক্ষক।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka