Ascend
03/06/2026
পড়াশোনায় অসামান্য সাফল্য, গোল্ডেন এ+ কিংবা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির বড় পজিশন—বাহ্যিক দৃষ্টিতে এরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে সফল মানুষ। কিন্তু দিনশেষে এরা 'মানুষ' হিসেবে কতটা সফল হতে পারলেন?
আজকের দিনে আমরা এক অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর স্বার্থপরতার যুগে প্রবেশ করেছি, যেখানে সমীকরণটা দাঁড়িয়েছে—"শুধু নিজের জন্য বাঁচো, অন্য কারো কথা ভাবার বা অন্যকে অনুভব করার কোনো প্রয়োজন নেই।"
১. পারিবারিক সম্পর্কের দেউলিয়াত্ব
যে সন্তানকে নিয়ে বাবা-মা গর্বের শেষ রাখেন না, অনেক সময় সেই সন্তানই দিনশেষে চরম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। নিজের জন্মদাত্রী মায়ের খোঁজ নেওয়ার সময়টুকু যাদের হয় না, এমনকি ঈদের মতো আনন্দের দিনেও একটা ফোন করার কথা মনে থাকে না—তাদের এই বিশাল ডিগ্রির মূল্য আসলে কতটুকু? এই তথাকথিত মেধা আমাদের আবেগগুলোকে গ্রাস করে ফেলছে।
২. কর্মক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতা
এই 'লো-ইকিউ' (Low EQ)-এর প্রভাব আমাদের কর্পোরেট বা কর্মক্ষেত্রে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
রিজিক কেড়ে নেওয়া: নিজের পজিশন টিকিয়ে রাখা বা একটু বাড়তি সুবিধার জন্য অন্যের চাকরি খেয়ে ফেলতে অনেকের একটুও বুক কাঁপে না। ১০০ জন মানুষের সর্বনাশ করে হলেও নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত একদল মানুষ।
টানাপোড়েন ও টালবাহানা: চাকরি ছেড়ে যাওয়া একজন কর্মীর পাওনা বুঝিয়ে দিতে মাসের পর মাস ঘোরানো, টালবাহানা করাটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
অনভুতিহীনতা: চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমরা ভুলেই যাই যে, ওই মানুষটার একটা সংসার আছে, মাস শেষে তারও কিছু নির্দিষ্ট খরচ আছে।
ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স (EQ) আসলে কী?
অন্য মানুষের কষ্ট বা পরিস্থিতিকে নিজের ভেতর অনুভব করা এবং সেই অনুযায়ী সংবেদনশীল আচরণ করার দক্ষতার নামই হলো Emotional Intelligence বা ইমোশনাল কোশেন্ট (EQ)।
জাতিগতভাবে আমাদের EQ কি মাইনাসের দিকে?
অনেকে মনে করেন, মধ্যবিত্ত বা গরিব দেশ বলেই হয়তো টিকে থাকার এই নিষ্ঠুর লড়াইয়ে আমাদের EQ দিন দিন কমছে। নিজের একটা প্রমোশন বা একটা বিজনেস ডিল পাওয়ার জন্য আমরা পুরো সমাজকে বিপদে ফেলতে দ্বিধা করছি না।
খাবারে ভেজাল মেশানো থেকে শুরু করে নকল পণ্য বানিয়ে মুনাফার পাহাড় গড়া—এগুলো সবই ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের চরম অভাবের লক্ষণ। পুরো দেশটার যে এতে ক্ষতি হচ্ছে, সেই দূরদর্শিতা বা নৈতিকতাবোধ আমাদের মাথাতেই আসছে না। আমরা জাতিগতভাবে আমাদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সকে মাইনাসের দিকে নিয়ে যাচ্ছি।
অমানুষ হওয়ার এই প্রতিযোগিতায় আমরা যে বহু আগেই নেমে পড়েছি, তার প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়ত চারপাশে দেখতে পাই। সচিব, বুয়েটের শিক্ষক ও কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা ছেলেদের মা'এর পচা গলা লাশ-এর ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় এবং তাজা নমুনা।
আপনি নিজেকে আপগ্রেইড করছেন তো?
কোম্পানি চেকলিস্ট তৈরি করুন, পরিকল্পনা মাফিট এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the organization
Telephone
Website
Address
Motijheel
Dhaka
1000