Ahm Riduan
হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সাথে........... উপরের ব্যালকনি থেকে প্রতিদিনের মত আজও একই সুর কানে এলো। আশ্চর্য রকম ধৈর্য মানুষটার। নতুন বাসায় উঠেছি আজ প্রায় কুঁড়িদিন। মাঝখানে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কয়েকদিন কাটিয়ে গতকাল আবার নতুন বাসায় এলাম। আমি মিরাজ। ফিজিক্সে মাস্টার্স শেষ করেছি দু'বছর। জীবনের এক কঠিন সময় পার করে পরিশ্রমের সবটুকু ঢেলে দিয়েই এক প্রাইভেট ব্যাংকে চাকুরী হয়েছে মাত্র। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রি করছে এমন খবরে আগে হা হা হা মজার হাসি হাসলেও আজ সেই অবিশ্বাস্য সত্যটাই বিশ্বাসের পাতায় নাম লিখেছে তার বাস্তবতা আমি নিজেই। ভাবতে ভাবতে ড্রইংরুমে এসে বসলাম। অল্প দামে আর এখন বাসা পাওয়া যায়না।
- আংকেল টু লেট দেখলাম একটা। ভাড়া হবে?
- কে থাকবে?
- এইতো আমি আর আমার এক ফ্রেন্ড। মাত্র চাকুরীতে জয়েন করেছি। আমরা দুইজনই থাকবো।
- ব্যাচেলর?
- না মানে আসলে.......
মুখের উপর দড়াম করে দরজা বন্ধ করে মনে হয় ভিতরের সব ছিটকানি আটকে দিলো। যেন ব্যাচেলর কোন দৈত্য দানব। যত্তসব।
তিনদিন সময়। এর মধ্যেই বাসা খোঁজে বের করতেই হবে।
দক্ষিন দিকে ছোট্ট একটা রুম, দুইজন ফ্লুরিং করলেই তৃতীয় কারো প্রবেশের সুযোগ নেই। এটাই বেডরুম। দিব্যি ভালো ভাবেই দুজন মিলে রাত কাটিয়ে দেয়া যায়। নেহায়েত মন্দ নয়। প্রথম দিনের কথা মনে পড়তেই ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি চলে এলো।
ঘর্মাক্ত শরীরে কানা গলির একদম ভিতরের ছোট্ট মসজিদে যোহরের সালাম ফিরাতেই মোবাইলের বিকট শব্দে রিংটোন। দ্রুত হাত চালিয়ে সাইলেন্ট করার আগেই পাশের নামাজীরা বিরক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে ফেললো। চারদিকে বোকার মত একটা হাসি দিয়ে আস্তে করে মোবাইলটা বের করলাম। ব্যাংক ম্যানেজার। ইশরে...গুরুত্বপূর্ণ ফোনগুলোও যেন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেখেই আসে।
প্রতিবেশীরা আগেই বলেছিলো পুরা বাড়ি। কিন্তু এতটা অবস্থা খারাপ উঠার পর বুঝতে পারছি। চারতলা, প্রথম দেখেই পরিত্যক্ত বলা যায়। তবুও কয়েকটা ফ্যামিলি দেখা যায় জরাজীর্ণ জানলার ফাঁক দিয়ে। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ? ও যে শয়তানের ভাই এই রীতি ভালই মানিয়ে চলেন উনি। ও হ্যা, উনি হলেন আমারই পাশের ছোট্ট ঘুমানোর জায়গাটার মালিক।
অনেক্ষন পর্যবেক্ষণের পর নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো এই বুলি আওড়াতে আওড়াতে দরজার কড়া নাড়া দিলাম। কলিং বেল? ইতিহাসের পাতায় নাম লিখা বাড়ি গুলো অন্যতম বৈশিষ্ট তাদের কলিং বেল থাকে না। জোরে ধাক্কাতে হয়। ডোর বেচারার যা অবস্থা, জোরে কড়া নাড়লেই বুঝি ভবন সহ ধ্বসে পড়বে। কতক্ষনে শোনতে পাবে কে জানে? দ্বিতীয়বার কড়া নাড়তেই হুট করে খোলে গেলো। প্রায় ষাটোর্ধ এক লোক মুখ বাড়িয়ে দিলেন। চমকে গেলাম। শ্রবণশক্তি এত ভালো!
-কি চাই?
-চাচা কোন বাসা কি খালি আছে?
শ্রবণশক্তির চেয়ে দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই হয়তো দূর্বল, নাহয় চাচার সন্দেহ হচ্ছে আমরা কি সত্যি ওই কথা জিজ্ঞেস করেছি কিনা। মনে হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য পূর্ণ হতে চলেছে। পূর্বেকার বাসার মালিকদের মত বিরক্তি প্রকাশের জায়গায় কিঞ্চিৎ খুশির ঝিলিক দেখতে পাচ্ছি।
-হুম। কয়দিন থাকবা?
মোটা ফ্রেমের চশমার ময়লা গেঞ্জিতে মুছতে মুছতে জিজ্ঞেস করলেন।
- বুঝলাম না চাচা।
আশার আলো দেখে মৃতব্যয়ী বন্ধুটির মুখেও কথা ফুটেছে। চাচা অদ্ভুত দৃষ্টি নিয়ে তাকাতেই বুকের ভিতরটা ধ্ক করে উঠলো।
(চলমান......)
মুমিনের রাত কাটে সিজদায় পড়ে
দিন যায় রিজিকের সন্ধানে গত,
নফসের সাথে এরা দৃঢ়ভাবে লড়ে
মুছে দেয় জীবনের মরিচীকা যত।
কোরানের আলোময় পথ ধরে চলে
জান্নাতী সুবাতাস বুকে পেতে চায়,
আলেয়ার কালো ছায়া মাড়ায়না কভু
মানুষের মুক্তির গান গেয়ে যায়।
শহীদের সুধা মেখে বেহেশতি যারা
মুমিনেরা চায় হতে তাদেরই মতো।
পৃথিবীর যত মায়া ভুলে গিয়ে তারা
রহমত খুঁজে ফেরে প্রার্থনা সুরে,
মালিকের প্রিয় হতে লড়ে যায় খুব
বাতিলের শত মত ছুড়ে ফেলে দূরে।
মুমিনের মন প্রাণ কুরবানী হয়
রাসুলের ভালোবাসা মেখে সারা গায়,
মঞ্জিলে আঁকে তারা ইসলামী রাজ
কুরানের বাণী করে প্রচার ধরায়।
নবীজির পথ ধরে চলে গেছে যারা
মুমিনেরা চায় হতে তাদেরই মতো।
(মাত্রাবৃত্ত ছন্দ,
৪+৪+৪+২)
০৫/০৯/২০২১
পান্থপথ, ঢাকা।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Mogbazar
Dhaka
1217