Nature Version 3.0

Nature Version 3.0

Share

23/05/2026

আপনি বডি ডিজমরফিয়ায় ভুগছেন না তো? আসুননলক্ষণ, কারণ ও সমাধান জেনে রাখি 🙂

আমার এক কাজিন ঘরের আয়নাটা ঢেকে রেখেছে। ভালো কথা। বাথরুমে গিয়ে দেখি, সেখানেও বেসিনের আয়না একটা ওড়না দিয়ে ঢাকা। আজব তো! এটা নিয়ে জিজ্ঞেস করতেই বলল, তার নাকি নিজের চেহারা দেখতে ইচ্ছা করে না। নিজের শরীর বা নিজের চেহারা নিয়ে নিজের ভেতরে জন্মানো যে অসন্তোষ, নিজের শরীর দেখতে না পারা বা ঘৃণা করা—এ বিষয়কেই মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘বডি ডিজমরফিয়া’ বা ‘বডি ডিজমরফিক ডিজঅর্ডার’ (বিডিডি)।

আয়নায় তাকালেই মনে হয়—নাকটা ঠিক নেই, ত্বকের অবস্থা খারাপ, শরীরটা ভারী বা অস্বাভাবিক
আয়নায় তাকালেই মনে হয়—নাকটা ঠিক নেই, ত্বকের অবস্থা খারাপ, শরীরটা ভারী বা অস্বাভাবিকছবি: পেক্সেলস
বিডিডি কী
আয়নায় তাকালেই মনে হয়—নাকটা ঠিক নেই, ত্বকের অবস্থা খারাপ, শরীরটা ভারী বা অস্বাভাবিক। মনে হয়, সবাই নিশ্চয়ই আমার শরীরের এই ত্রুটি দেখছে। কিন্তু আশপাশের মানুষ হয়তো সেসব কিছুই ভাবছে না বা খেয়াল করছে না।

এ ধরনের ‘ইনসিকিউরিটি’ যখন নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়িয়ে ভয় ও ঘৃণায় পরিণত হয়, তখন সেটাকে বলে বডি ডিজমরফিয়া বা বডি ডিজমরফিক ডিজঅর্ডার (বিডিডি)।

এই রোগে মানুষ নিজের চেহারা বা শরীর নিয়ে এমন হীনম্মন্যতায় ভোগে, যা তার স্বাভাবিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে। এখানে ব্যক্তি নিজের চেহারার একটি ছোট বা প্রায় অদৃশ্য বিষয়কে খুব বড় সমস্যা মনে করে।

সম্প্রতি অনেক সেলিব্রিটিই তাঁদের বিডিডির অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সামনে, যা এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সাহায্য করছে।

নিজের চেহারা ও শরীর নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা এত তীব্র হতে পারে যে—

আত্মবিশ্বাস কমে যায়

সামাজিক জীবন ব্যাহত হয়

কাজ বা পড়াশোনায় প্রভাব পড়ে

মানুষ আয়না, ছবি বা অন্যের মন্তব্য নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ে

নিজের চেহারা বা শরীর আয়নায় দেখতে চায় না, আবার অনেকে আয়নার সামনে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে, নিজের চেহারা বা শরীরের ত্রুটিবিচ্যুতি নিয়ে ভাবতে থাকে

চেহারা বা শরীর দেখে অন্যে কী মনে করবে, এই চিন্তায় সামাজিক জীবন যাপন থেকে নিজেকে দূরে রাখে

সাধারণ লক্ষণ
১. চেহারা বা শরীর নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা

দিনের অনেকটা সময় কাটে নিজের চেহারার কথা ভাবতে ভাবতে। অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে করতে। নিজের আণুবিক্ষণিক ‘খুঁত’গুলো বড় করে দেখতে দেখতে। সেসব লুকানোর উপায় খুঁজতে খুঁজতে।

২. বারবার আয়না দেখা বা পুরো এড়িয়ে চলা

কেউ বারবার আয়না দেখে, আবার কেউ আয়না এড়িয়ে চলে। কারণ, দেখলেই অস্বস্তি হয় তাদের।

৩. ছবি তুলতে অস্বস্তি

অনেকেই ক্যামেরা এড়িয়ে চলে। ছবি এডিট করতে থাকে। নিজের ছবিতে কেবল ‘ত্রুটি’ দেখতে পায়।

৪. সামাজিক অস্বস্তি

মনে হতে পারে, ‘সবাই তাকাচ্ছে। সবাই বিচার (জাজ) করছে। বা মানুষ নিশ্চয়ই আমার চেহারা নিয়ে ভাবছে।’ ফলে অনেকেই ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেয়।

বডি ডিজমরফিয়ায় ভুগলে কেউ বারবার আয়না দেখে, আবার কেউ আয়না এড়িয়ে চলে
বডি ডিজমরফিয়ায় ভুগলে কেউ বারবার আয়না দেখে, আবার কেউ আয়না এড়িয়ে চলেছবি: পেক্সেলস
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ফিল্টার্ড ছবি অনেক সময় অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ড তৈরি করে। মনে মনে নিয়মিত তুলনা করতে করতে মানুষ নিজের স্বাভাবিক চেহারাকেই ‘ভুল’ বা ‘ত্রুটিপূর্ণ’ মনে করতে শুরু করতে পারে।

কেন হয় বিডিডি
এককভাবে সঠিক কারণ জানা না গেলেও কিছু বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।

ভুল প্যারেন্টিং বা স্কুলে বুলিং অথবা ছোটবেলার বা বড়বেলার কোনো ট্রমা থেকে নিজেকে নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগা।

আত্মসম্মান কম থাকা বা ব্যক্তিত্ব সঠিকভাবে বিকশিত হতে না পারা।

টক্সিক পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ।

নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে না পারা।

শিক্ষাঙ্গন বা কর্মক্ষেত্রে বডি শেমিংয়ের শিকার হওয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল পারফেকশনিজম, নিজেকে ‘চেহারা বা শরীরসর্বস্ব’ মনে করা।

উদ্বিগ্নতা, হতাশা বা অবসেসিভ চিন্তার প্রবণতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কমপারিজন কালচার।

কখন সাহায্য নেওয়া জরুরি
চেহারা বা শরীর নিয়ে চিন্তা যদি আপনার—

দৈনন্দিন জীবন নষ্ট করে

সম্পর্ক, কাজ বা পড়াশোনায় সমস্যা হয়

বাইরে যেতে ভয় লাগে

চেহারার ‘ত্রুটি’ ঢাকতে অতিরিক্ত কসমেটিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করতেই থাকেন

নিজের শরীর বা চেহারাকে ঘৃণা করেন বা এসব নিয়ে হতাশ লাগে

—তাহলে মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নিজেকে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য্য দিয়ে না দেখে দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক, মূল্যবোধ—এসবকে মূল্যায়ন করুন
নিজেকে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য্য দিয়ে না দেখে দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক, মূল্যবোধ—এসবকে মূল্যায়ন করুনছবি: পেক্সেলস
করণীয়
১. নিজের চিন্তাকে ‘সত্য’ ভাববেন না

আপনার মনে হওয়া প্রতিটি চিন্তাই সত্য নয়। বিডিডিতে মস্তিষ্ক অনেক সময় ত্রুটিকে বাস্তবের চেয়ে অনেক বড় করে দেখে।

২. তুলনা বন্ধ করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যকে দেখে নিজেকে বিচার করা বন্ধ করুন। যা দেখেন, তার সবটাই সত্য নয়। আর সত্য হলেও কী আসে যায়! আপনি আপনার মতো, সে তার মতো…এই তো!

৩. আপনি কেবল আপনার চেহারা বা শরীর নন

চেহারা ছাড়া নিজের পরিচয় তৈরি করুন। নিজেকে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য্য দিয়ে না দেখে দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক, মূল্যবোধ—এসবকে মূল্যায়ন করুন। কেননা এসব মিলেই সত্যিকারের ‘আপনি’। চেহারা, শরীর গৌণ।

৪. আপনি যেমন, নিজেকে তেমনভাবেই গ্রহণ করুন

সুন্দর-অসুন্দর মানুষের তৈরি একটা ধারণা। সমাজ ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য, বৈষম্য করার জন্য এমন ধারণা তৈরি করে। কিন্তু সত্যটা হলো, নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করাই সুন্দর। এটা আপনাকে শক্তিশালী আর আত্মবিশ্বাসী করে।

৫. বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলুন, প্রয়োজনে পেশাদারের সাহায্য নিন

নিজের অনুভূতি ভেতরে চেপে না রেখে বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করুন। থেরাপি, বিশেষ করে সিবিটি (কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি) বিডিডি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।

একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি আপনার চেহারা আর শরীরের চেয়ে অনেক বেশি কিছু।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে ও ভোগ

21/04/2026

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের কিছু কার্যকারিতা কমতে শুরু করে। স্মৃতি হারানো, মনোযোগে দুর্বলতা, শেখার গতি ধীর হওয়া—এসব চল্লিশের পর থেকেই শুরু হয়ে যায়। কিন্তু গবেষণা বলে, সঠিক অভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে তরতাজা রাখা সম্ভব।

১. মগজের ব্যায়াম
পাজল, শব্দ খেলা, মেমোরি গেম, নতুন দক্ষতা শেখা—এসব মস্তিষ্ককে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ফলে নিউরোলজিক্যাল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হয়। যেমন দাবা খেলা মস্তিষ্কের জন্য খুব ভালো ব্যায়াম।

২. শারীরিক ব্যায়াম
হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং—কার্ডিও কার্যকলাপ মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতা উন্নত করে।

৩. স্বাস্থ্যকর খাবার
ফল, সবজি, বাদাম, ওমেগা-৩–সমৃদ্ধ খাবার—এসব মস্তিষ্ককে পুষ্টি জোগায়, প্রদাহ কমায়।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম
গভীর ঘুমে মস্তিষ্ক বর্জ্য পদার্থ (অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি, ক্ষতিকর প্রোটিন) বের করে দেয়। স্মৃতি সুন্দরভাবে গুছিয়ে সংরক্ষণে সাহায্য করে।

৫. সামাজিক জীবন
বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সময় মানসিক চাপ কমায়। মস্তিষ্কের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখে।

৬. স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ
ধ্যান, শ্বাস-ব্যায়াম বা রিল্যাক্সেশন মেথড মেজর স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখে।

৭. নতুন কিছু শেখা
নতুন ভাষা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ইউটিউব দেখে নতুন কোনো রান্না বা প্রযুক্তি শেখা মস্তিষ্কে নতুন নিউরাল সংযোগ তৈরি করে, যা স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়ায়।

৮. রুটিনে বৈচিত্র্য আনা
প্রতিটি দিন যাতে একই রকম একঘেয়ে না হয়ে যায়, সে জন্য সেখানে বৈচিত্র্য আনুন। রং যোগ করুন। যেমন হতে পারে নতুন পথে হাঁটা, ভিন্ন হাতে কাজ করা বা নতুন জায়গায় যাওয়া। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। মাঝেমধ্যে বাজার থেকে ক্যানভাস আর রংতুলি এনে পেইন্টিং করাও শুরু করে দিতে পারেন। এতে আক্ষরিক অর্থেই আপনার দিনে যুক্ত হবে নতুন রং। এসবে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।

৯. দীর্ঘ সময় শুয়ে–বসে না থাকা
একটানা বসে থাকা মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন কমায়। প্রতি ৩০–৬০ মিনিট পর উঠে ১০–১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে উপকার পাওয়া যায়।

১০. পর্যাপ্ত পানি খাওয়া
ডিহাইড্রেশন মনোযোগ কমায়, ক্লান্তি ও বিভ্রান্তি বাড়ায়। দিনে পর্যাপ্ত পানি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

১১. শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির যত্ন
কানে কম শোনা বা চোখে কম দেখা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক চাপ বাড়ায়। মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রয়োজনে চশমা বা হিয়ারিং এইড ব্যবহার করুন।

১২. মাছ, গাছ বা পোষা প্রাণীর যত্ন
মানুষ বাদে যেসব প্রাণীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ুন। গাছ, মাছ বা পোষা প্রাণীর যত্ন নিন। প্রতিদিন একটু একটু করে ডায়েরি লিখতে পারেন। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আপনার সেই স্মৃতিকথাই হতে পারে অমূল্য সম্পদ। যেকোনো একটা আনন্দদায়ক শখকে রাখুন নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে। মানসিকভাবে ফুরফুরে থাকুন।
আরও যা
দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা বা নেতিবাচক চিন্তা স্মৃতি ও মনোযোগে প্রভাব ফেলে। কৃতজ্ঞতা চর্চা, প্রার্থনা ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এ ছাড়া বয়সের ক্যালেন্ডারে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানোর সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও থাইরয়েড সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

Want your business to be the top-listed Health & Beauty Business in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00