Entertainment For Health

Entertainment For Health

Share

31/07/2025

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জুলাই আন্দোলনে অবদান আমরা সবাই জানি। সেই সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন ছিল না— এখনও নেই। তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর মনোনয়নেও তেমন কোনো আপত্তি চোখে পড়েনি।

প্রথমদিকে যাঁরা তাঁর কথাবার্তা কিংবা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতেন, আমি বরং তাঁদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছিলাম। কারণ আমার বিশ্বাস ছিল, একজন তরুণ নেতৃত্বের পক্ষে সময় দেওয়া জরুরি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছে, নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে— তাতে ভাবনায় না পড়ে উপায় নেই।

আসিফ ভাইয়ের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছাত্র উপদেষ্টা ছিলেন, এখনও আছেন। কিন্তু তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের বিষয়ে এত প্রশ্ন, এত গুঞ্জন আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। আশ্চর্যের বিষয়, আসিফ ভাইয়ের বাবাকে ঘিরেই বারবার আলোচনার সূত্রপাত হয়।

অনেক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, তাঁর পিতা এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ক্ষেত্রবিশেষে নানা সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তার করছেন। এসবের সত্য-মিথ্যা সময় বলবে, তবে সব কিছু যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন নয়, সে ইঙ্গিত আমরা নানা প্রতিবেদনে পাচ্ছি।

এই প্রশ্নগুলোকে যদি আমরা বরাবরই “ষড়যন্ত্র” কিংবা “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেই, তাহলে ভবিষ্যতে যখন অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠবে, তখন জনগণ কেনই বা তা বিশ্বাস করবে?

যেসব সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা রাজনৈতিক কর্মী আসিফ ভাইয়ের বিষয়ে কথা বলেছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছেন— তাঁদের বক্তব্য কি একেবারেই অগ্রাহ্য করা যায়? যদি এসব অভিযোগ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হয়, তবে তা প্রকাশ্যে এনে ব্যবস্থা নেওয়া আসিফ ভাইয়ের দায়িত্ব। আর যদি কিছু সত্য থাকে— তবে সেই দায়ভার এড়িয়ে যাওয়াও তাঁর জন্য সহজ হবে না।

বিশেষ করে একটি প্রশ্ন আমার মনকে নাড়া দেয়: যদি এখন ক্ষমতার অবস্থানে থেকেও এত অভিযোগ ওঠে, তবে ভবিষ্যতে যখন সেই ক্ষমতা থাকবে না, তখন বাবা ছেলের পরিণতি কী হতে পারে?

সম্প্রতি একটি ঘটনার কথা এসেছে, যেখানে ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে তাঁর বাবার সম্পৃক্ততা দেখা যায়। পরে সেই বিষয়ে বলা হয়— “আমার বাবা ছোট মানুষ, বিষয়টি বুঝে ওঠেননি।” কিন্তু একজন উপদেষ্টার পরিবারের ভূমিকা যদি এতখানি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, সেটি নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তার বিষয়।

আবার পিএস সংক্রান্ত ঘটনা— শুরুতে বলা হয়েছিল, তিনি চুরি করেননি, পড়াশোনার জন্য অবসর নিয়েছেন। পরে বের হয়, তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত কোটি টাকার লেনদেন। এসব বিতর্ক একটির পর একটি জমে যাচ্ছে, এবং একসময় তা আস্থার জায়গাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

আমার বক্তব্য সরল: ক্ষমতায় থাকলে সমালোচনা আসবেই, বিরোধিতা থাকবে। কিন্তু অনেক বিতর্ক এড়ানো যায়, যদি সময়মতো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।

আপনি যেখানে একটি ম্যাগাজিন নিয়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, সেখানে শেখ হাসিনার পকেটে ছিল পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র— প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, নৌ ও বিমানবাহিনী। সেই আপার চেয়ার আজ আপনাদের । সেই বাস্তবতায় অতিরিক্ত সতর্কতাই এখন আপনার জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হতে পারে।

সমালোচনা মানেই বিদ্বেষ নয়। প্রশ্ন তোলা মানেই শত্রুতা নয়। সময় থাকতে সত্য ও মিথ্যার মাঝে স্বচ্ছ রেখা টানা গেলে, আগামীর পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়। আশা করি, আসিফ ভাই সময়ের চাহিদা বুঝে সে দায়ভার গ্রহণ করবেন।

#বাংলাদেশ

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


Uttara
Dhaka
1230