Rose.com

Rose.com

Share

15/06/2020

#আত্না

গল্পটির সবগুলো পর্ব এই এই পেইজেই আছে। পেইজে জয়েন করে তারপর নিচের দিকে একটু খুঁজলেই সব পর্ব পেয়ে যাবেন।

06/06/2020

চাচীর সাথে যা ঘটে ছিল
১ম অংশ

বড় চাচীর বাচ্চা হবে দীর্ঘ নয় বছর পর। খুশিতে আত্মহারা হয়ে বড় চাচা এক ছাগল জবাই দিয়ে ফেলেছেন। সেই ছাগলের মাংস রান্না করে চালের আঠার রুটি করে ইউনিয়নের যত এতিম মিসকিন আছে সবাইকে দাওয়াত করে তিনি খাইয়েছেন। খাওয়ার শেষে ওদের প্রত‍্যেকের হাতে পঞ্চাশ টাকা করে দিয়ে বলেছেন,'আমার স্ত্রীর সন্তান হবে আমাদের বিয়ের নয় বছর পর। এরচেয়ে খুশির সংবাদ আমার কাছে আর কিছু নাই।তোমরা আমার স্ত্রীর জন্য দোয়া করবা। আমার সন্তান যদি সহি সালামতে পৃথিবীর আলো দেখে তবে তোমাদেরকে আমি গরু জবাই দিয়ে খাওয়াবো ইনশাআল্লা।'
এতিম আর মিসকিনেরা সেদিন খুশি মনে বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে পকেটে টাকা নিয়ে নিজেদের বাড়ি বাড়ি চলে গেল। যাওয়ার সময় শুকরিয়ায় চোখে জল এনে দোয়া করলো,'মাবূদ গো, তোমার এই বান্দা যে আমার মতো নাদান এক এতিমরে এতো বড় সম্মান দিয়ে তার বাড়িতে এনে দাওয়াত খাওয়ালো আবার খুশি হয়ে হাতে টাকাও দিলো তার মনের আশা তুমি পূরণ করো। দয়াল মাবূদ গো, তোমার ইব্রাহিম নবীর অভ‍্যাস ছিল ফকির মিসকিনরে সম্মান করে দাওয়াত করে খাওয়ানো, তোমার এই বান্দার অভ‍্যাসও তেমন।সে কোন ধনী মানুষ খুঁজে দাওয়াত করেনি। আমার মতন নাদানরে খুঁজে বের করে সম্মান দিয়েছে।ও মাবূদ, তোমার যে বান্দা এই এতিমরে সম্মান দিলো তারে তুমি নিজে সম্মান দিও।'
এভাবে প্রত‍্যেকজন এতিম আর মিসকিনেরা দোয়া করলো।কেউ শুনিয়ে,কেউ চুপিচুপি।
বড় চাচাকে সেদিন দেখে মনে হলো জগতে তার মতো এমন সুখি মানুষ আর একটিও নেই। সন্ধ্যা বেলায় বড় চাচী যখন জলভরা চোখে জায়নামাজে বসে আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করছিলো তখন বড় চাচা তার কাছে এসে ত্রিশ হাজার টাকায় গড়ানো সোনার চেইনটা বড় চাচীর গলায় পড়িয়ে দিয়ে বললেন,' এ আমার উপহার। আল্লাহ তোমায় বিবি হাজেরার মতো কবুল করুন।'
বড় চাচী তখন দোয়া শেষ করে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন।বড় চাচা চাচীকে জড়িয়ে ধরে বললেন,'শান্ত হও।'
চাচী শান্ত হলেন না।প্রাণ ভরে অনেক্ষণ কাঁদার পর বড় চাচাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,'যে জগতে কোন মেয়ে মানুষের সন্তান না হলে তাকে নিত‍্যদিন তার স্বামীর গঞ্জনা সয়তে হয়,কত অবহেলা কত অত‍্যাচার নেমে আসে সেই মেয়েটির উপর,আর আপনি সেখানে আমায় শুধু সান্ত্বনা আর অনুপ্রেরণাই দিয়ে গেছেন বছরের পর বছর। কোন কারণে যেন আমার একটুও মন খারাপ না হয় সেই চেষ্টায় করে গেছেন সব সময়। আমার কোন কাজে অসন্তোষ আসে এমন কিছুই করেননি কোনদিন আপনি।ও স্বামী, আল্লাহ আপনাকে এর উত্তম প্রতিদান দান করুন।'
বড় চাচা মৃদু হেসে বড় চাচীকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন,'রাবেয়া,আমরা যদি আজীবন সন্তানহীন থাকতাম তবুও তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা এক বিন্দুও কমতো না কোনদিন।'
বড় চাচী নিজের চোখের জল আঁচলে মুছে বললেন,'আল্লাহ আপনার এই ভালোবাসা আরো বৃদ্ধি করুন।'
বড় চাচা বললেন,'আমীন।'
তারপর দিন যত যেতে লাগলো বড় চাচীর প্রতি বড় চাচার যত্ন নেয়া তত বাড়তে লাগলো। এমনকি ঘরের রান্না- বান্না থেকে শুরু করে আর যত গৃহস্থালির কাজ আছে সবকিছুই চাচা নিজের হাতে করতেন। মানুষ এতে অট্টহাসি হাসতো।বলতো,'এমন বেকুব জীবনে দেখিনি।'
চাচা এইসব কথা শুনে মোটেও মন খারাপ করতেন না। তিনি ধৈর্য্য ধারণ করে নিজেকেই নিজে বলতেন,'শোনো মতিন, নিজের ঘরের কাজ কেউ করলে সে ছোট হয় না।আর নিজের স্ত্রীকে ভালোবাসলেও কেউ বেকুব হয় না। বেকুব তো তারাই যারা নিজের ঘর সংসারের কাজ আর স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসাকে ভাবে বেকুবের কাজ!'
বড় চাচী একদিন রাতে চাচাকে বললেন,'আচ্ছা, আমাদের সন্তান যদি মেয়ে হয় তবে তুমি কী খুশি হবে?'
বড় চাচা আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠে বললেন,'আমার কী সে কপাল আছে! রাবেয়া, সত্যি সত্যি আমি যদি কোন কন‍্যা সন্তানের বাবা হতে পারতাম তবে আমি নিজেকে ঘোষণা করে দিতাম আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সফল মানুষদের একজন!'
বড় চাচী অবাক হয়ে বললেন,'কী অদ্ভুত কথা। যেখানে মানুষ মেয়েদের ভাবে অপয়া সেখানে আপনি বলছেন আপনার মেয়ে সন্তান হলেই আপনি সফল?'
বড় চাচা মৃদু হেসে বললেন,'রাবেয়া, তুমি কী জানো না আমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে গেছেন মেয়ে সন্তান তার পিতার জন্য জান্নাত?'
বড় চাচীর চোখ মুখ হঠাৎ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। তিনি বড় চাচার হাত টেনে নিয়ে তার দু ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে বললেন,'আমার জান্নাত।'
চাচা বললেন,'আমার জান্নাত গমনের সহজ পথ।'
তারপর সেইদিন এসে গেল যেদিন বড় চাচীর পেটে অসম্ভব ব‍্যথা।রাত থেকে একটানা পানি ভেঙেছে চাচীর। গ্রামের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ধাই ও বলছে, 'সন্তান আছে উল্টা হয়ে।বলা যায় না কী হয়।গাছ-ফল দুইটাই নষ্ট হয়তে পারে। ভাগ্য ভালো হইলে একটা টিকতে পারে...........(চলবে)

নেক্সট পর্ব পেতে পেইজে লাইক দিয়ে জয়েন করে রাখুন।

31/05/2020

জল- ২১
শেষ পর্ব
সাদিয়া

রেমীর আচরণে বিন্দু জানপরাণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
এ কী বলছে রেমী?

"বিন্দু কেউ জানবে না প্লিজ! একটু ভালোবাসা চাই।"

"ছিঃ আপু আপনি কী পাগল হয়ে গেছেন?"

"পাগল না আমি উন্মাদিনী হয়েছি। তোমার ভালোবাসায় আমি উন্মাদিনী হয়েছি। প্রথম যে রাতে তোমাকে ছাদে দেখেছিলাম সে রাতে তোমার হাসি আমাকে পাগল করে দিচ্ছিলো।
তোমাকে আমি এতটা ভালোবাসি তুমি কেনো বুঝতে পারো না?
পানিতে যখন তুমি ডুবে যাচ্ছিলে আমার মনে হচ্ছিলো আমি মরে যাচ্ছি।তোমার শরীরে আমি আলাদা গন্ধ পাই।
নক্ষত্র তোমাকে এতটা সুখ দিতে পারবে না যতটা আমি দিবো।"

রেমী তখন দুহাতে বিন্দুকে আটকে ফেলেছে। বিন্দু চেষ্টা করছে নিজেকে ছাড়ানোর কিন্তু রেমীর শক্তির সাথে পারছে না। যতটা সে পারছে তার থেকে বেশি অস্থির হয়ে উঠছে । ভরা পেটে আর সইছে না যে।

"আপু পায়ে ধরি ছাড়ো। আমার বাবুটার কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে৷"

রেমী ততক্ষণে পুরো উন্মাদ৷ সে বিন্দুকে কাছে চাইছে। বিন্দু সব শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিলো রেমীকে। রেমী কিছুটা সরে এসে আবার ঝাপিয়ে পড়ে বিন্দুর উপর৷

"এই বাবুর জন্য এত কিছু?একজন নারী অন্যকে বাচ্চা দিতে পারে না বলে এমন?বাচ্চাই কি সব?তুমি এই নারীত্বের মায়া ছেড়ে দাও৷ আমি তোমাকে পৃথিবীর সব সুখ এনে দিবো।"

বিন্দু অস্থির হয়ে উঠেছে। নিজেকে মানসিক ভাবে প্রথমে শান্ত করতে হবে৷ এর পর শারিরীক ভাবে পারবে সে। তাই মনে মনে নিজেকে শান্ত করলো।
নিজের দু হাতে রেমীর মুখ আজলায় ভরে নিতেই রেমী যেন এক শান্ত মানবী।
রেমীর দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে বিন্দু সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তার হাটু দিয়ে আঘাত করে রেমীর তলপেটে।
ব্যথায় ককলিয়ে উঠে রেমী।সেই সুযোগে দরজা খুলে বেরিয়ে যায় বিন্দু।

কিন্তু কপাল বেশি দূর সায় দেয় না।রেমী উঠে এসে বড় সাইজের এক মোমবাতি গড়িয়ে দেয় বিন্দুর দিকে। সেটার মধ্যে পা লেগে ধপাস করে পড়ে যায় বিন্দু। গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে বিন্দু প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রইলো সিড়ির ধারে।

সাদা ফ্লোরে তখন একটা ধারা বইয়ে যাচ্ছিলো। পাতলা, সরু তবে গাঢ় রক্তের ধারা৷

বিন্দু ছেলে জন্মেছে। এক ফুটফুটে ছেলে। কণা তাকে কোলে নিয়ে অঝোরে কেঁদেই চলেছে।
বিন্দুর চিৎকার প্রথমে শুনতে পায় জ্যোতি।

ওরা ভেবেছিল সে পড়েছে পা পিছলে।
রক্তের ধারা তখন অনেকটা। ব্লাউজের হাতা ছেড়া দেখে ওরা কিছুটা আঁচ করতে পারলেও আমল নেওয়ার সময় পায়নি।
তবে রাস্তায় নক্ষত্রের কানে বিন্দু ধীরেধীরে এসব বলে নিস্তেজ হয়ে যায় বিন্দু।

"আপুর ছেলে কালো হয়নি। হয়নি কালো।আমার আপুর জীবনে আলো হয়ে আসছে আমার বর্ণ।মা, মা গো আপুর ছেলে কালো হয় নি।"

নক্ষত্রকে স্বান্তনা দিচ্ছে রেহানা বেগম অথচ এদিকে নিজেই প্রচল ভাবে কাঁপছে।

দীর্ঘ তিন ঘন্টা পর স্বস্তি ফিরে এলো সবার মাঝে। বিন্দু রেসপন্স করছে। এদিকে বাচ্চাটা সুস্থ। সময়ের আগে হলেও ছেলেটা সুস্থ আছে।

বিন্দুর অবস্থা মোটামুটি হলেই তার মুখ থেকে সবাই সব'টা শুনে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।প্রথমে বিন্দুর কথা অবিশ্বাস্য হলেও যখন জ্যোতি, কণা বলল রেমীর আচরণ আসলেও স্বাভাবিক নয় তখন অর্হ্য, নক্ষত্র ছুটে বেরিয়ে এলো হাসপাতাল থেকে। কারণ অবশ্যই রেমী এতবড় অপরাধের পর থাকবে না। পালিয়ে যাবে।
বাসায় ফিরে এসে তাদের ধারণা ঠিক হলো।ইতিয়ারা বেগম মেয়েকে নিয়ে ঘন্টা দুয়ের মধ্যেই যেন হাওয়ায় মিশে অদৃশ্য হয়ে গেলো।
কোথাও তাদের খুঁজে পেলো না।

দেখতে দেখতে কেটেছে প্রায় পঁচিশ বছর। সেরাতের ঘটনা ভোলাতে বিন্দুকে অনেক পোহাতে হয়েছে নক্ষত্রের। এখন চুলে পাক ধরেছে সবার। জ্যোতির দুই ছেলেও বড় হয়েছে। কণার এক মেয়ে এক ছেলে।
নক্ষত্রের ভালোবাসায় সিক্ত বিন্দু ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে এক সংসারী নারী। রেহানা বেগমের মৃত্যুর পর নক্ষত্র এবং সংসার দুহাতে সামলে নিয়েছে বিন্দু।
আজ এসেছে বিন্দুর ছেলে বর্ণের জন্য মেয়ে দেখতে।

মেয়ে সব দিক থেকেই ভালো অথচ গায়ের রঙ দেখতে কালো।
বিন্দু মনে মনে ভাবলো সে বিয়ের জন্য না করে দিবে। কারণ তার ছেলে দেখতে কত সুর্দশন, শিক্ষিত। অথচ এই মেয়ে!না কোনো ভাবে যায় না।
বিন্দুরা যখন ফিরে আসার জন্য উঠে দাড়িয়েছে তখন সেই কৃষ্ণবর্ণী চোখ তুলে বিন্দুর দিকে তাকায়।
কী অদ্ভুত! বিন্দু নিজের আবছায়া যেন দেখতে পাচ্ছে এই মেয়ের মাঝে।
ঠিক যেন যুবতী বিন্দু বসে আছে তার সামনে। যে বার বার বরপক্ষের না মেনে নিয়ে ছলছলে চোখে মাথা নিচু করে বসে থাকতো।

সমাপ্ত

নতুন সিরিজ আসছে শিঘ্রই।

24/05/2020

জল-১৮
সাদিয়া

"মৃত্যু এবং বিশ্বাসঘাতকতা দুটোই অনিবার্য স্নিগ্ধ সত্য।
অথচ আমরা এদুটো শব্দকে ভয় পাই।"

বিন্দু পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিলো তখন রেমী তাকে উঠিয়ে নিয়ে এলো।গায়ের সব কাপড় ভিজে লেপ্টে গেছে। অর্হ্য সেদিকে না তাকিয়ে সরাসরি সেখান থেকে চলে গেলো।

জ্যোতি ছুটলো কিছু একটা আনতে। রেমী বিন্দুর পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। নক্ষত্র এগিয়ে যেতে চাইলে রেমী বাধা দেয়।

"হেই আমি আছি তো! আমি দেখছি। তুমি যাও। দেখছো না ও ভিজে আছে?"

একটা শুকনো তোয়ালে দিয়ে বিন্দুকে আবৃত করে কণা বলল,

"তুমি অযথা ব্যস্ত হচ্ছো রেমী আপু। আপু গ্রামের মেয়ে৷ আমরা আর কিছু পারি না পারি ছোট বেলা থেকে সাতার কাটতে জানি। আর আপু তো সাতার কাটতে পটু।"

রেমীর উদ্বিগ্নতা কিছুটা মলিন হলেও আবার বলল,

"তোমার কাটেনি তো!"

"না। আমি ঠিক আছি। আমার জন্য আপনি অযথা ভিজে গেলেন।"

"ব্যাপার নয়। তুমি এসো চেঞ্জ করে নিবে।"

রেমীর ব্যবহার এমন যেন নক্ষত্র বিন্দুর জন্য অচেনা কেউ একজন।
বিন্দুকে এভাবে আবৃত করেছে নক্ষত্র দেখলে পাপ লাগবে।

"রেমী তুমি যাও। বিন্দুকে আমি নিয়ে আসছি। কণা তুমিও যাও। "

নক্ষত্রের কন্ঠে কিছু একটা ছিল যা সচরাচর থাকে না। কেমন একটা কাঠ কাঠ স্বর, অস্পষ্ট লক্ষ্য এবং আদেশ মিশ্রিত।

ওরা চলে যেতেই নক্ষত্র বিন্দুকে কাছে টেনে নিলো। নিজের সাথে লেপ্টে থাকা বিন্দুর শ্বাস-প্রশ্বাস তাকে যেন জীবন দান করছে।

"আমি ভিজে আছি। কী পরবো?"
"চলো ওদিকটায় চেঞ্জ করে নিবে।"

বিন্দু যখন চেঞ্জ করে ওয়াশরুম থেকে ফিরে এলো নক্ষত্র তখন কটেজের বিছানায় বসে আছে। বিন্দুকে হাত ধরে টেনে এনে সামনে দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করল,

"পড়ে গেলে কীভাবে?"

"হঠাৎ মাথাটা ঘুরে উঠেছিল। চোখ ঝাপসা হয়ে এলো।"

"আমি কিন্তু ভয় পাইনি।"

বিন্দু মুচকি হেসে নক্ষত্রের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,

"আমি জানি।কারণ পুরুষ মানুষের ভয় পেতে নেই।যেকোনো পরিস্থিতিতে তাকে থাকতে হয় বীরের ন্যায়।"

"শুধু শ্বাস বন্ধ হয়ে এসেছিল।"

"আমি এতটাও সুন্দরী নই।"

"তুমি আমার সহধর্মিণী। এটাই কী বড় নয়?"

"এত ভালোবাসা কপালে সইবে তো!"

"না সইয়ে যাবে কোথায়?"

জ্যোতি বসেছিল কটেজের বা দিকের শেষ সীমানায়৷ অর্হ্য তার সামনে ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত।
জ্যোতির দিকে তাকানোর সময় অবধি নেই। তাই জ্যোতি অর্হ্যের সব'চে অপছন্দের কাজ টি করতে লাগলো।
কাউকে দিয়ে পান আনিয়ে গাল ভরে খাচ্ছে। আর গান গাইছে

"যদি সুন্দর একটা মুখ পাইতাম, যদি সুন্দর একটা মুখ পাইতাম।
সদর পান খিলি তারে বানাই খাওয়াইতাম।"

পানের পিক ফেলে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে সে ফোনে ব্যস্ত হয়ে গেলো। অর্হ্য আশেপাশে নেই এমন একটা হাবভাব তার৷

এইকাজটা অর্হ্যের সব'চে বিরক্ত লাগে। পান -পানের পিক। গা ঘিনঘিনে ব্যপার।
জ্যোতির মুখে পান দেখে ফোন রেখে তার দিকে ভ্রু-কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

"মুখে কী?"
"হুম?"
"মুখে কী?"
"পান।"

জ্যোতি ভেবেছিল ঝাড়ি খেতে হবে তবে তাকে অবাক করে দিয়ে অর্হ্য তার পাশে বসে বলল,

"দে আমিও খাবো।"

"হুম?"
"হুম দে।"
"আর তো নেই।"
"কে বলেছে নেই? যা আছে তাই দে।"
"আমার মুখে ব্যতীত আর কোথাও নেই। "
"তো আমি কী বলেছি না কী অন্য কোথাও আছে?"

জ্যোতি একটা ফাকা ঢোক গিলে বলল,

"দূরে থাকো।ছিঃ ঘেন্নাপিত্তি কিছু নেই?"

তারপরের মিনিটে জ্যোতির মুখে থেকে পান হঠাৎ উধাও হয়ে গেলো।
অর্হ্য পান চিবুতে চিবুতে বলল,

"মাঝেমধ্যে ঘেন্নাপিত্তির জিনিসে টইটম্বুর ভালোবাসা থাকেরে কপিলা।"

বিকেলবেলা যখন ফিরে আসছিল বিন্দুর শরীর আরো খারাপ হলো। এতটা খারাপ যে বার বার বমি করছে।
তাই বাধ্য হয়েই রেহানা বেগম এবং নক্ষত্র তাকে নিয়ে ডক্টরের কাছে যেতে চাইলো।

রেমী বলল সে যাবে, তাই সবাই মিলেই গেলো।বিন্দু বার কয়েক বমি করে সে নেতিয়ে পড়েছে।

গাইনী বিশেষজ্ঞ মিহু খানের চেম্বারে বসে সেদিন রেহানা বেগম এবং নক্ষত্র কিছু জানতে পারে। যা পুরোপুরি ভাবে বদলে দিতে চলেছিল নক্ষত্র বিন্দুর সম্পর্ক। কারণ জন্ম এবং মৃত্যুতে আমাদের কারো হাত নেই।

--চলবে

বাকি অংশ পেতে পেইজে জয়েন করে রাখুন।

Want your business to be the top-listed Business in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address


Dhaka