Dars
27/05/2025
মা তার মৃত সন্তানদের একটু মুখও দেখতে পারেননি। কারণ সবগুলো সন্তান আ/গুনে পু/ড়ে কঙ্কাল হয়ে গিয়েছিল। তার সামনে ছিল এক সারি লা/শে/র প্যাকেট। অথচ সকালেই তিনি ওদেরকে সুস্থ রেখে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন। গেছেন অন্য কাজে নয়, নিজ সন্তানের মত আহত ও অসুস্থ শিশুদের সেবা করতে।
ঘরে বাবুগুলো ডাক্তার বাবা-মায়ের ফেরার অপেক্ষায় ছিল। পড়ালেখা খেলাধুলায় তারা মেতে ছিল। বিকেলে বাবা ওবাড়ি ফিরবেন। তাদের আদর সোহাগে ভরে দিবেন, যেভাবে প্রতিদিন করে থাকন। কিন্তু আজ তাদের প্রতিতিনের মত ছিল না। ডাক্তার বাবা হামদী নাজ্জার বাড়িতে পৌঁছতেই বর্বর পৈচাশিক হামলা। ঘর ছাদসহ ভেঙে পড়ে মাথার ওপর। দাউ দাউ করে আ/গু/ন ঘিরে নেয় তাদের। সাতজনই ঘরসুদ্ধ পু/ড়ে ছাই। দুজন দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে আছে। মা তখনো হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসায় ব্যস্ত। এরই মাঝে আনা হয় তার সন্তানদের লা/শে/র প্যাকেট। যা তিনি ভাবতেই পারেননি!
আশ্চর্য ব্যাপার কি জানেন, পু/ড়ে কঙ্কাল হয়ে যাওয়ার কারণে কেউ লা/শ চিন্হিত করতে পারছিল না। কিন্তু মা ঘ্রান শুঁকে শুঁকে প্রত্যেকের নাম বলে দিলেন। কী মরমী মমতাসয়ী অন্তপ্রাণ মা! কী সন্তান সোহাগিনী মা!
আহ, এ মায়ের কত কষ্ট বুকে! মাত্র বার বছরে নয় সন্তান প্রসব করেছেন তিনি। একেক সন্তানকে গর্ভে ধারণ ও প্রসব করণ কত যে কষ্টের- মা ও তার মনিব ছাড়া আর কেউ বুঝে না। তথাপি তিনি ঘন ঘন এ সন্তান ধারণ করেছেন। পেটে সন্তান, পীঠে দায়িত্ব, ঘরে কাজ, বাইরে সেবা- সব নিয়েও এতগুলি সন্তান ধারণ করেছেন নবীজির গর্বের মুকুট উঁচু করার জন্যে। কারণ, নবীজি অধিক সন্তান নিতে আদেশ করেছেন, যেন তাঁর উম্মাত সংখ্যা বেশি হয়।
তাঁর একটিই আশা- এরা হাফেজ হবে, আলেম হবে, জ্ঞানী ও শিক্ষিত হবে। দীনের অনুসারী ও নবীজির সাচ্চা উম্মতী হবে। আর হবে আকসার সেই মুজাহিদ, যারা দখলদারদের তাড়িয়ে ফিরবে জাযিরাতুল আরবের বাইরে! ইতিমধ্যে একটি শিশু হেফজ সম্পন্ন করে পাগড়ি নিয়েছে। অন্যগুলিও কুরআন দীনিয়াত পড়া আরম্ভ করে দিয়েছে। কিন্তু নিষ্ঠুর এক দানবীয় হাত সবগুলো ফুলকলি দলিত মথিত করে দিয়েছে।
তিনি কোনো সাধারণ মা নন। তিনি এক অসাধারণ মা। অতিপ্রাকৃতিক মা। যিনি মাত্র ১৩ বছরে দশ দশটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন। আবার নয়টি সন্তান একত্রে হারিয়েছেন। এসব হারিয়েও তিনি ধৈর্যের হিমালয়। আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক একটি শব্দও নেই তার মুখে। নেই হতাশা কোনো ছাপ।
তিনি এক মহিয়সী মা! যুগের উম্মে তালহা আনসারীয়া, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও স্বামীর তুষ্টির জন্যে কলিজার টুকরার মৃত্যুসংবাদ গিলে ফেলেছিলেন। কিংবা তিনি সেই হযরত খানসা, যিনি চার সন্তান শহীদ হওয়ার সংবাদ শুনে আনন্দে নেচে ছিলেন। ইতিহাসে শত্রুর আক্রমণে ৯সন্তান হারিয়ে অবিচল থাকা প্রথম মা তিনি!
আলা নাজ্জার। সত্যি একজন অসাধারণ মা। একজন পর্দাবতী মা। ঠিক আমাদের দেশের রক্ষণশীল আলিমদের স্ত্রী-কন্যাদের মত। হাতে মোজা মুখ নেকাবে ঢাকা। এত সন্তান হারানোর পরে তিনি পর্দা অনাবৃত হননি। এ যেন আরেক উম্মে খাল্লাদ, যিনি বলেছিলেন - “আমি সন্তান হারিয়েছি, তাই বলে কি লজ্জা হারাব নাকি?”
হাঁ, আমাদের বোন আলা নাজ্জার যেন সে কথাই বলছেন। আরও বলছেন, “সন্তান হারিয়েছি বলে আমি আমার রবকে হারাব নাকি?” : “বাড়ি হারিয়েছি, তাই বলে জান্নাত হারাব নাকি?” “দুনিয়ায় সন্তান ও সম্পদ হারিয়েছি, তাই বলে আখেরাতের নেকি হারাব নাকি?”
বস্তুত, মুুমিন তো দুনিয়ার সব হারালেও কোনোভাবেই আখিরাত হাতছাড়া করে না! বোনটি আমাদের কত কথাই যেন বললেন। কিন্তু মুখে তিনি কোনো কথাই বললেন না।
এ বোনের স্বামী হামদী নাজ্জার এখনো আইসিওতে। একমাত্র বেঁচে যাওয়া সন্তান আদম নাজ্জারের শরীরও থেতলে গেছে।
দুআ করি, এবং পরম আকুতি নিয়ে দুআ করি- হে পরওয়ারদেগার, বাবু আদমকে তুমি বাঁচিয়ে রাখ। তাকে পূর্ণ সুস্থ করে তোল! তার ঔরষ থেকে এত এত সুসন্তান দাও, যারা এ জনপদকে আবাদ করে তুলবে, যেভাবে বাবা আদমকে দিয়ে তুমি দুনিয়া আবাদ করেছ। আদম ও তার সন্তানেরা যেন শত্রুদেরকে আটলান্টিকের কেনারা পর্যন্ত তাড়া করতে পারে, কিংবা জাহান্নামের গর্ত পর্যন্ত!
আমীন! ইয়া রব্বাল আলামীন!
~লেখা-সাইফুদ্দীন গাজী
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
41 Lake Circus, Kalabagan, Dhanmondi
Dhaka