PinkAsia Mosque
08/05/2026
“জীবন হোক শুকরাবরের মতো সুন্দর, সরল, পবিত্র!”
এবং হাদিসের অংশ উল্লেখ করা হয়েছে:
“আল্লাহুম্মা সাল্লিওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ”
অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মাদের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।”
এ বিষয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা:
১. ইসলাম সরল ও পবিত্র জীবনকে উৎসাহ দেয়
আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই সফল হয়েছে সে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে।”
— Al-Quran
আরও বলেন—
“আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্রতাকেই ভালোবাসেন।”
— হাদিস, Sahih Muslim
অর্থাৎ একজন মুমিনের জীবন হওয়া উচিত পরিষ্কার, নম্র, সুন্দর চরিত্রপূর্ণ ও গুনাহ থেকে দূরে।
২. জুমার দিনের মর্যাদা
ছবিতে “জুমা মোবারক” বলা হয়েছে। জুমার দিন ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
“তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম।”
— Sunan Abu Dawud
এই দিনে বেশি বেশি দরুদ পড়া, দোয়া করা, কুরআন তিলাওয়াত করা উত্তম।
৩. নবীর প্রতি দরুদ পাঠের গুরুত্ব
ছবিতে দরুদ শরিফ লেখা হয়েছে। কুরআনে আল্লাহ নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন—
“নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ কর।”
— Al-Quran
তাই “আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম…” পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
৪. “জীবন হোক জুমার মতো”—এর অর্থ কী হতে পারে?
এটি মূলত একটি অনুপ্রেরণামূলক কথা। অর্থ হতে পারে—
ঈমানি জীবন যাপন করা
অন্তরকে পবিত্র রাখা
মানুষকে কষ্ট না দেওয়া
আল্লাহর স্মরণে থাকা
শান্তি ও কল্যাণ ছড়ানো
তবে মনে রাখতে হবে, ইসলামে কোনো দিনকে কেন্দ্র করে অতিরঞ্জিত বা শরিয়তবিরোধী বিশ্বাস রাখা ঠিক নয়। জুমার মর্যাদা আছে, কিন্তু প্রকৃত সফলতা হলো তাকওয়া ও আমলের মধ্যে।
আল্লাহ আমাদের জীবনকে ঈমান, আমল ও সুন্দর চরিত্রে পরিপূর্ণ করুন।
আমিন।
সূরা আল-কদর
সূরা আল-কদর পবিত্র কুরআনের ৯৭তম সূরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে মোট পাঁচটি আয়াত রয়েছে। আকারে ছোট হলেও এর তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। এই সূরায় মূলত লাইলাতুল কদরের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। এটি এমন একটি সূরা, যা সময়ের মূল্য, ইবাদতের গুরুত্ব এবং আল্লাহর রহমতের ব্যাপকতা সম্পর্কে মানুষকে গভীরভাবে সচেতন করে।
প্রথম আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন যে কুরআন লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, এই রাত কেবল একটি বরকতময় রাত নয়; বরং মানবজাতির হেদায়াতের সূচনা-রাত। কুরআন নাজিলের মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আলোর পথে চলার নির্দেশনা শুরু হয়। তাই এই রাতের মর্যাদা কুরআনের মর্যাদার সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” হাজার মাস প্রায় তিরাশি বছরেরও বেশি সময়ের সমান। অর্থাৎ, এই এক রাতের ইবাদত দীর্ঘ জীবনের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হতে পারে। এখানে আল্লাহ মানুষের জন্য অসীম সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছেন—যাতে অল্প সময়ে অধিক সওয়াব অর্জন করা যায়। এটি আল্লাহর অপার দয়া ও অনুগ্রহের নিদর্শন।
চতুর্থ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই রাতে ফেরেশতারা এবং রূহ (হযরত জিবরাইল আ.) আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, এই রাত আসমানী রহমত, বরকত ও শান্তিতে পরিপূর্ণ। আল্লাহর বিশেষ ফয়সালা ও রহমত এ রাতে বিতরণ করা হয়।
শেষ আয়াতে বলা হয়েছে, “এটি শান্তিময় রাত, ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।” অর্থাৎ, পুরো রাতটি কল্যাণ, নিরাপত্তা ও প্রশান্তিতে ভরা। যারা আন্তরিকভাবে ইবাদত করে, তারা এই শান্তি ও রহমতের অংশীদার হয়।
সার্বিকভাবে, সূরা আল-কদর আমাদের শেখায়—জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান, তবে কিছু সময় আল্লাহ বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। সেই বিশেষ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোই একজন মুমিনের দায়িত্ব। এই সূরা আমাদের আত্মশুদ্ধি, তওবা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক মহাসুযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। 🌙
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Dhaka