TimePass
কখনো অতীত নিয়ে ভাবতে নেই , সুন্দর কোন স্মৃতি তোমার জীবনের ঐশ্বর্যের মতন । আর খারাপ কোন স্মৃতি তোমার জীবনের শিক্ষকের মতন যাই লালন করো না কেনো তোমাকে সামনের দিন গুলোতে চলার মতন পাথেয় হয়ে থাকবে । আর ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবার কিছু নাই । ভবিষ্যৎ আমরা কেউই জানি না কি হবে । তাই বর্তমানকে মূল্যায়ন করে যে কর্ম আমরা করবো তা ভবিষ্যৎকে সুন্দর করার প্লার্টফম তৈরী হবে । আর ভবিষ্যৎ ও যে সুন্দর হতে হবে এমন কোন কথা নাই । কারন এ পৃথিবীতে কিছুই স্হায়ী না।
ইসলাম সম্পর্কে আমার পরিপূর্ণ জ্ঞান নেই। তবে একজন মুসলমান হিসাবে যতটুকু জ্ঞান আছে তাতে এতটুকু বুঝতে পারি ইসলাম কখনোই কালেকশনের নাম করে ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে রাস্তা-ঘাটে ভিক্ষা করানোকে সমর্থন করে না।
চলতি পথে প্রায় সময় একটা জিনিস আপনারা খেয়াল করবেন, ৭-৮ বছরের পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত মাথায় টুপি দেওয়া ছোট ছোট কিছু বাচ্চা চলমান রাস্তায় ছুটাছুটি করছে আর এর ওর কাছে গিয়ে বলছে, "মাদ্রাসা-মসজিদের কাজ চলছে। কিছু সাহায্য করুন"
যেখানে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের কাছেই এইসকল ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাগুলো পারাপার হতে হিমশিম খেতে হয় সেখানে ফুলের মতো ছোট ছোট বাচ্চারা এইসকল রাস্তা পার হয় কালেকশনের নাম করে ভিক্ষাবৃত্তি করার জন্য।
কয়েকদিন আগে আমাদের অফিসের এক কলিগ আমার কাছে একটা ঘটনা শেয়ার করেছিলো। উনার ৯ বছরের এক ভাতিজাকে হাফেজ বানানোর জন্য উনার ভাই-ভাবী তাদের একমাত্র ছেলেকে ময়মনসিংহের কোন এক মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলো।
ভতিজা নতুন জায়গায় কি অবস্থায় আছে সেটা দেখার জন্য আমার কলিগ যখন কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ যায় তখন দেখে উনার ভাতিজা স্লিপ হাতে নিয়ে ব্রিজের মোড়ে দাড়িয়ে টাকা কালেকশন করছে। মানুষের কাছে স্লিপ বাড়িয়ে দিয়ে বলছে, " মাদরাসার উন্নয়ন মূলক কাছ চলছে। আপনারা সাহায্য করুন"
এটা দেখে আমার কলিগ তার ভাতিজাকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে গিয়ে বললো, " আপনাদের সময় মতো বেতন দেওয়া হয়। এক টাকাও বাকি রাখা হয় না। আমাদের অবস্থা এতটাও খারাপ না যে আপনি আমার ভাতিজাকে দিয়ে কালেকশনের নাম করে আধুনিক ভিক্ষা করাবেন। এই কাজটা আপনারা কেন করলেন?"
প্রিন্সিপাল তখন উত্তর দিয়েছিলো, "এমপি মন্ত্রীর ছেলে থাকলেও সপ্তাহে একদিন তাকে টাকা কালেকশনের কাজ করতে হবে কারণ মাদ্রাসায় নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে এজন্য টাকা দরকার "
কলিগ তখন বলেছিলো, "টাকা দরকার হলে সেই টাকার ব্যবস্থা আপনারা করেন। এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপির সাথে মাদ্রাসার কমিটির লোকজন গিয়ে কথা বলেন। এলাকায় নিশ্চয়ই অনেক বিত্তবান ব্যবসায়ী আছে। আপনারা মাদ্রাসা কমিটির লোকজন তাদের কাছে ডোনেশনের জন্য যান। কিন্তু এইসব না করে আপনারা ছোট ছোট বাচ্চাদের রাস্তাঘাটে নামিয়ে দিলেন। রাস্তা পারাপারের সময় যদি কোন দূর্ঘটনা হয় তখন এই দ্বায়ভার কে নিবে?"
কলিগের প্রশ্নের জবাবে প্রিন্সিপাল উত্তর দিয়েছিলো, "আরে কিছু হবে না। আল্লাহর বাণী শিখানোর জন্য নতুন ঘর নির্মাণ হচ্ছে। আল্লাহই তাদের হেফাজত করবে"
আমার কলিগ তখন কিছুটা রেগেই বলেছিলেন, "অবশ্যই আল্লাহ তার বান্দাদের হেফাজত করবেন কিন্তু তাই বলে আল্লাহ তো কখনো এটা বলে নি, "আমার ঘর নির্মাণের নাম করে বাচ্চাদের দিয়ে রাস্তাঘাট থেকে টাকা কালেকশনের নাম করে ভিক্ষা করাও"
প্রিন্সিপালের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমার কলিগ তার ভাতিজাকে নিয়ে বাড়ি চলে আসে। পরবর্তীতে ভালো করে খোজ-খবর নিয়ে অন্য একটা মাদ্রাসায় ভাতিজাকে ভর্তি করায়....
তেমনি গতকাল আমি যখন ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনা যায় তখন শম্ভুগঞ্জ মোড়ে খেয়াল করি একটা মাদ্রাসার ছোট বাচ্চা এক্সিডেন্ট করেছে। বাচ্চাটার হাত পা ছুলে গেছে।ওর ডান হাতে ছিলো কিছু খুচরো টাকা, আর বাম হাতে ছিলো একটা স্লিপ। এই শীতে বাচ্চা ছেলেটা থরথর করে কাপছিলো।
স্লিপ্টা হাতে নিয়ে দেখি একটা এতিমখানার নাম। বাচ্চাটাকে সাথে নিয়ে সেই এতিমখানায় গেলাম। এতিমখানায় গিয়ে যখন প্রশ্ন করলাম,
- এতিমখানার কোন উন্নয়ন মূলক কাজটা করছেন যার জন্য আপনারা বাচ্চাদের দিয়ে শম্ভুগঞ্জ চৌরাস্তার মতো এমন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় টাকা তুলাচ্ছেন?"
এতিমখানার একজন লোক উত্তর দিলো,
-"এতিম পোলাপানদের জন্য নতুন বাথরুম বানানোর কাজ চলছে তাই সাহায্য প্রয়োজন। এজন্য পোলাপান কিছু টাকা তুলছে"
আমি যখন বললাম কোন বাথরুমটা তৈরি হচ্ছে সেটা আমি দেখবো তখন এতিমখানার লোকটা কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে বললো,
-"নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয় নি। টাকা কালেকশন হলেই কাজ শুরু করবো"
আমি বললাম,
-আপনাদের এতিমখানার ফান্ডে কি একটা বাথরুম নির্মাণ করার মতোও টাকা নাই?
আমার কথা শুনে লোকটা চুপ হয়ে রইলো। আমি তখন লোকটাকে বললাম,
-আপনার ছেলে মেয়ে নাই?
লোকটা বললো,
" আল্লাহ মাল আমার দুই ছেলে"
আমি বললাম,
- আপনার ছেলেরা কি টাকা কালেকশন করতে যায় না?
লোকটা কিছুটা অবাক হয়ে উত্তর দিলো,
-"আমার ছেলেরা এতিম নাকি যে তারা কালেকশন করতে যাবে? আমি তো এখনো জীবিত আছি"
কথাটা শুনে মেজাজটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। নিজের রাগটা কোনরকম কন্ট্রোল করে উনাকে বললাম,
- নিজের সন্তানকে ভিক্ষা করতে পাঠাবেন না। অথচ এতিম বাচ্চাদের ভিক্ষা করতে এইসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাঠাবেন। এইসব এতিম বাচ্চাদের দিয়ে ব্যবসা করতে একটুও খারাপ লাগে না? একটা এতিম খানায় অনেককেই সাহায্য সহযোগিতা করে। এইসব টাকা গুলো যায় কোথায়? আপনাদের কাছে টাকা না থাকলে এইখানে অনেক সংঘটন আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। অনেক দোকান আছে তাদের মালিকের সাথে একটু যোগাযোগ করুন। এতিমদের প্রতি সকল মানুষের ভিতরে সহানুভূতি কাজ করে। তারা নিশ্চয়ই সাহায্য করবে।
লোকটা বলবো,
- "আপনি কে, যে আপনার কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে? ঝামেলা না করে যান তো"
কিছু বলার ছিলো না আর, তাই বাচ্চা ছেলেটাকে সাথে নিয়ে ফার্মেসিতে গিয়ে কিছু ঔষধ কিনে দিয়ে চলে আসলাম সেদিন..
আমাদের সমাজে অনেক মাদ্রাসা, এতিমখানা আছে যেখানে ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে এমন কাজ করানো হয়। কিছু চক্র তো এটাকে ব্যবসায় রূপান্তর করে ফেলেছে। আমাদের অনেকেরি ধর্ম সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞান না থাকার কারণে এটা নিয়ে প্রতিবাদও করতে পারি না। আমাদের এই দূর্বলতার সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে কিছু ইসলামের লেবাসধারী মানুষ ছোট ছোট বাচ্চাদের দিয়ে সাহায্যের নাম করে ভিক্ষা করাচ্ছে।
ভিক্ষাবৃত্তি
আবুল_বাশার_পিয়াস
15/01/2024
শীত সবার জীবনে রোমান্টিক হয় না, অনেকের জীবনে কষ্ট ও বয়ে আনে! 😊💔
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
28/12/2023
17/12/2023