Bcs Advice
শেষ মুহূর্তে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থীদের যে যে টপিক গুরুত্বসহকারে রিভিশন দেওয়া উচিত!
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। হাতে সময় আছে মোটামুটি ২মাস। পরিশ্রমের পাশাপাশি কৌশলী হতে হবে। বুঝতে হবে এই মুহুর্তে আমাকে কোন কোন টপিকে বেশি সময় দিতে হবে। এই দুইমাসে পড়াশোনায় কৌশলী হতে পারলে প্রিলিমিনারির বেড়া ডিঙ্গানো সম্ভব। শেষ মুহূর্তে যে টপিকগুলো বারবার রিভিশন দিতে হবে সেটার তালিকা দেখে নিতে পারেন:
➤ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য: [মোট ৩৫ মার্কস; প্রিলিমিনারি পাশ করতে চাইলে ২২/২৫ মার্কস তুলতে হবে।]
# বাংলা ব্যাকরণ: [মোট ১৫ মার্কস]
√ প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ ***
√ বানান ও বাক্যশুদ্ধি ***
√ পরিভাষা ***
√ সমার্থক শব্দ ***
√ বিপরীতার্থক শব্দ ***
√ ধ্বনি ও বর্ণ, সন্ধি ***
√ শব্দভাণ্ডার ***
√ পদ
√ বাক্য
√ প্রত্যয় ***
√ সমাস ***
√ বাগধারা **
√ এককথায় প্রকাশ **
[ এগুলো পড়লে ব্যাকরণে ১০-১২ মার্কস কমন পড়বে।]
# বাংলা সাহিত্য: [মোট ২০ মার্কস]
√ প্রাচীন যুগ (চর্যাপদ) ও মধ্যযুগ [৫ মার্কস]
(এই দুটি টপিক ভালো করে শেষ করতে হবে কারণ এখান থেকে ৫ মার্কস কনফার্ম আসে।)
√ আধুনিক যুগ অনেক বিস্তৃত, তাই নিম্নলিখিত কয়েকজন সাহিত্যিক সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ***
- কাজী নজরুল ইসলাম ***
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ***
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় **
- মীর মশাররফ হোসেন ***
- কায়কোবাদ
- প্রমথ চৌধুরী **
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ***
- সুফিয়া কামাল
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- আবুল মনসুর আহমদ **
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
- পঞ্চপাণ্ডব (অবুজ বিসু) ***
- জসীমউদ্দিন
- সৈয়দ মুজতবা আলী ***
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় **
- আহসান হাবীব
- শওকত ওসমান ***
- ফররুখ আহমদ
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ***
- আবু ইসহাক
- সুকান্ত ভট্টাচার্য
- শামসুর রাহমান
- জহির রায়হান
- সৈয়দ শামসুল হক ***
- আল মাহমুদ
- শওকত আলী
- হাসান আজিজুল হক
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস **
- আব্দুল মান্নান সৈয়দ
- সেলিম আল দীন ***
- সেলিনা হোসেন ***
[ বাংলা সাহিত্যের এই টপিকগুলো পড়লে ১৩-১৫ মার্কস তোলা সম্ভব।]
➤ ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য: [মোট ৩৫ মার্কস; প্রিলিমিনারি পাশ করতে চাইলে ২২/২৫ মার্কস তুলতে হবে।]
# ইংরেজি ভাষা: [মোট ২০ মার্কস]
ইংরেজি গ্রামারের গুরুত্বপূর্ণ টপিক.....
- Noun ***
- Gender **
- Number
- Adjective ***
- Verb ***
- Adverb
- Preposition ***
- Corrections ***
- Right forms of Verb ***
- Phrases & clauses ***
- Correct Spelling ***
- Transformation of Sentence
- Synonyms & antonyms ***
- One word substitution ***
[ গ্রামারে ১৫+ মার্কস তোলা সম্ভব।]
# ইংরেজি সাহিত্য: [মোট ১৫ মার্কস]
- Renaissance Period ***
- Romantic Period ***
- Victorian Period ***
- William Shakespeare **
- Christopher Marlowe **
- G. B. Shaw ***
- T. S. Eliot ***
- Ernest Hemingway
- William Wordsworth ***
- P. B. Shelley ***
- John Keats ***
- Lord Byron
- S. T. Coleridge **
- Charles Dickens ***
- Alexander Pope
- Lord Alfred Tennyson ***
- D. S. Lawrence
- John Milton **
[এই টপিকগুলো সম্পর্কে ভালো করে পড়লে এবং বিগত প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ পড়লেই ইংরেজি সাহিত্যে ১০+ পাবেন।]
➤ বাংলাদেশ বিষয়াবলি: [ মোট ৩০ মার্কস; প্রিলিমিনারি পাশ করতে চাইলে ২০/২২ মার্কস তুলতে হবে।]
এই সাবজেক্টে প্রচুর মার্কস রয়েছে। তাই ভালো করে পড়তে হবে। তুলনামূলক সহজ ও ছোট চাপ্টারগুলো আগে শেষ করতে হবে। তারপর বড় চাপ্টারগুলো পড়বেন। তুলনামূলক ছোট ও গুরুত্বপূর্ণ চাপ্টারগুলো (কোনটা আগে কোনটা পরে পড়বেন) সিরিয়ালি দেয়া হলো...
√ বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ ***: খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে ৩ মার্কস আসবেই।
√ বাংলাদেশের জনসংখ্যা **: এটি ছোট একটি চাপ্টার। এখানে ৩ মার্কস বরাদ্দ থাকলেও কমপক্ষে ২টি প্রশ্ন কমন পাবেন।
√ বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য ***: এই অধ্যায় থেকে ৩ মার্কস থাকেই থাকে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
√ বাংলাদেশের অর্থনীতি ***: খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যবহুল টপিক এটি। খাতায় লিখে লিখে পড়বেন। এই চাপ্টার লে ৩ মার্কস বরাদ্দ রয়েছে।
√ বাংলাদেশের সংবিধান ***: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক যেখানে ৩ মার্কস বরাদ্দ থাকলে কখনো ৪/৫ মার্কসও এসে থাকে। এছাড়াও এই টপিকটি প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইবা তিন ধাপেই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভাইবাতে মাঝেমধ্যেই সংবিধান থেকে প্রশ্ন করা হয়। সংবিধান যেভাবে পড়বেন....
- প্রস্তাবনা (মুখস্থ করবেন)
- বৈশিষ্ট্য
- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ৪৭ (এই ৪৭টি অনুচ্ছেদ ভালো করে পড়তে হবে। সরাসরি মুখস্থ করে ফেলতে হবে।)
- বাকি অনুচ্ছেদগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ দেখে দেখে পড়লেই হবে।
- সংবিধানের সংশোধনীগুলো ভালো করে পড়তে হবে।
√ বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন ***: খুবই গুরুত্বপূর্ণ চাপ্টার। এটি পড়ার সময় সাম্প্রতিক তথ্যগুলোর সাথে মিলিয়ে পড়তে হবে। অধিকাংশ তথ্যই আপডেট করে নিতে হয়।
√ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা *: সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ টপিক। এখানেও ৩মার্কস বরাদ্দ থাকলেও মাঝেমধ্যে ১ মার্কস আসে। কখনো কখনো কোনো মার্কসই আসে না। তাই এই চাপ্টারটি কেবল রিডিং পড়লেই হবে।
√ বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা ***: বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে এই চাপ্টার থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভবনা প্রবল। তাই গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে।
√ বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি ***: এই চাপ্টারে ৬ মার্কস বরাদ্দ রয়েছে। মাঝেমধ্যে ৭/৮ মার্কসও এসে থাকে। যেহেতু ছোটবেলা থেকেই আমরা প্রাচীনকালের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পড়াশোনা করে আসছি, তাই এই টপিকটি আমরা সবশেষে পড়ব। কারণ এই চাপ্টারের অনেক তথ্যই আমাদের ভালো করে জানা রয়েছে। এটি ভালো করে রিভিশন দিলে ৬/৮ মার্কস কমন পড়তে পারে।
➤ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: [মোট ২০ মার্কস; প্রিলিমিনারি পাশ করতে চাইলে ১২/১৩ মার্কস তুলতে হবে।]
তুলনামূলক সহজ ও ছোট চাপ্টারগুলো আগে শেষ করতে হবে। তারপর বড় চাপ্টারগুলো পড়বেন। তুলনামূলক ছোট ও গুরুত্বপূর্ণ চাপ্টারগুলো (কোনটা আগে কোনটা পরে পড়বেন) সিরিয়ালি দেয়া হলো...
√ আন্তর্জাতিক পরিবেশগত ইস্যু ও কূটনীতি ***: ছোট এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ চাপ্টার যেখান থেকে ৩/৪ মার্কস কনফার্ম থাকবে। তাই ভালো করে পড়ে ফেলতে হবে।
√ আন্তজার্তিক নিরাপত্তা ও আন্তরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক ***: খুবই কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ চাপ্টার। কেননা এখানে বিভিন্ন যুদ্ধ ও চুক্তির সাল মনে রাখতে হয়। যদি আপনি যুদ্ধ ও চুক্তিগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে খাতায় লিখে লিখে পড়েন, তাহলে পরীক্ষার হলে আপনার কনফিউশান তৈরি হবে না লিখে দিলাম।
√ আন্তর্জাতিক সংগঠন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি ***: গুরুত্বপূর্ণ টপিক কিন্তু অসংখ্য প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য মাথায় রাখতে হয় বিধায় কঠিন মনে হয়। উত্তর ভুল হয় এবং মার্কস কাটা যায়। গুরুত্বপূর্ণ দেখে দেখে পড়তে হবে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিয়ে দিলাম। যেমন.... জাতিসংঘ, World Bank, IMF, WTO, UNCTAD, UNHCR, WHO, EU, NATO, Commonwealth, NAM, OIC, APEC, OPEC, SAARC, BRICS, ARAB LEAGUE, ASEAN, BIMSTEC, G-7, G-20, G-77 ইত্যাদি পড়তে হবে।
√ বিশ্বের সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনাসমূহ **: এখানে ৪ মার্কস বরাদ্দ রয়েছে। আমরা অনেকেই সাম্প্রতিকের পেছনে ছুটি, মূল টপিকে ভালো করে সময় দিলে সাম্প্রতিকের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। ফেসবুক চালানোর কল্যাণে প্রতিনিয়ত আমাদের টাইমলাইনে বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহ আসে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা আপডেট থাকতে পারি। মোটকথা সাম্প্রতিক সাম্প্রতিক করে সময় নষ্ট করা যাবে না। মনে রাখবেন সাম্প্রতিকের প্রশ্ন যেটি সবাই পারবে, আপনিও সেটি পারবেন। আর আপনি যেটি পারবেন না, সেটি আর কেউই পারবে না। সো, সাম্প্রতিকের নেশা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।
এছাড়া যে কাজটি করতে পারেন সেটা হলো- পরীক্ষার ১৫ দিন আগে বাজার থেকে ৩০/৪০ টাকা দামের সাম্প্রতিকের ট্যাবলেট জাতীয় বই নিয়ে পড়ে ফেলুন।
➤ বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-,রাজনীতি **: এই টপিকটি বিশাল। তাই সবশেষে পড়ব এবং এখান থেকে দেখে দেখে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো পড়ে নিব। বড় চাপ্টার হওয়ায় এটি আমাদের পড়ার ৫০% সময় কেড়ে নেয়, তাই এই চাপ্টার পড়ার সময় কৌশলী হতে হবে।
➤ সাধারণ গণিত: [মোট ১৫ মার্কস; প্রিলিমিনারি পাশ করতে চাইলে ৭/১০ মার্কস তুলতে হবে।]
তবে আপনি যদি গণিতে দুর্বল হয়ে থাকেন তাহলে এই ৪৭এর জন্য আপনি এই সাবজেক্টটি স্কিপ করতে পারেন। কারণ আপনি গণিত না করলেও ৩/৪টি প্রশ্ন নির্ভূলভাবে দাগাতে পারবেন। ঘাটতি মার্কস আপনি আপনার স্ট্রং সাবজেক্ট থেকে তুলে নিবেন।
- বাস্তব সংখ্যা
- মুনাফা
- শতকরা
- বীজগাণিতিক রাশি
- সূচক
- লগারিদম
- ধারা
- সেট
- সম্ভাব্যতা
- সমাবেশ
- অসমতা
- কোণ
- ত্রিভুজ
[ এই টপিকগুলো ভালো করে পড়লে আপনি ১০+ কমন পাবেন।]
➤ মানসিক দক্ষতা: [মোট ১৫ মার্কস]
যেহেতু বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিতে একই প্যাটার্নের (এমসিকিউ) প্রশ্ন হয় সেহেতু আপনার এরকম প্রস্তুতি নেওয়া উচিত যেন লিখিত পরীক্ষার আগে মানসিক দক্ষতার জন্য পড়তে না হয়। এজন্য যা করবেন.....
- বিগত প্রিলিমিনারির প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ সমাধান।
- বিগত লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ সমাধান।
[প্রশ্নে কোনোরকম ভুল না থাকলে মানসিক দক্ষতায় ১৫ মার্কসই তোলা সম্ভব।]
➤ সাধারণ বিজ্ঞান: [মোট ১৫ মার্কস; প্রিলিমিনারি পাশ করতে চাইলে ৭/১০ মার্কস তুলতে হবে।]
যারা বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট নয় তাদের কাছে কাঙ্ক্ষিত মার্কস তোলা কঠিন। আপনি যদি বিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ডের স্টুডেন্ট না হয়ে থাকেন তাহলে এভাবে বিজ্ঞানের প্রস্তুতি নিবেন..... বিজ্ঞানের চাপ্টার ৩টি। যথা-
√ ভৌতবিজ্ঞান (৫ মার্কস)
√ জীববিজ্ঞান (৫ মার্কস)
√ আধুনিক বিজ্ঞান (৫ মার্কস)
ভৌতবিজ্ঞান তুলনামূলক কঠিন কেননা এটি পদার্থ ও রসায়ন নিয়ে গঠিত। আপনি যেহেতু বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট নন, তাি আপনি জীববিজ্ঞান ও আধুনিক বিজ্ঞান ভালো করে শেষ করে নিবেন। তাহলে আপনার সিলেবাসের ১০ মার্কস কাভার হয়ে গেল। এখান থেকে ৫/৬ মার্কস কমন পড়বে। আর বিগত বিজ্ঞানের সকল প্রশ্ন সমাধান করলে আরো ২ মার্কস কমন পাবেন। আর যারা বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট ছিলেন তারা নিজেরাই ভালো বুঝেন কতটুকু পড়তে হবে।
➤ কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি: [ মোট ১৫ মার্কস, প্রিলিমিনারি পাশ করতে চাইলে ৮/১০ মার্কস তুলতে হবে।]
এই সাবজেক্টে ভালো করতে গেলে যা যা গুরুত্ব দিয়ে পড়বেন.....
√ কম্পিউটার ও মোবাইল নেটওয়ার্কিং
√ টপোলজি
√ ডাটাবেজ
√ সংখ্যা পদ্ধতি
√ লজিক গেইট
√ সাইবার অপরাধ
√ ক্লাউড কম্পিউটিং
√ কম্পিউটারের পেরিফেরালস
√ সফটওয়্যার
√ তথ্য প্রযুক্তির বড় বড় প্রতিষ্ঠান
√ তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত Abbreviation
➤ ভূগোল, পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা: [মোট ১০মার্কস; প্রিলিমিনারি পাশ করতে চাইলে ৫/৬ মার্কস তুলতে হবে।]
ভূগোল ছোট ছোট ৫ অধ্যায় নিয়ে গঠিত। প্রতি অধ্যায়ে ২ মার্কস করে বরাদ্দ। ভূগোল ভালো করে পড়লে বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতেও প্রশ্ন কমন পড়ে। তাই কোনো বই থেকে ভূগোলের অধ্যায়গুলো ২/৩ বার পড়ে নিবো।
➤ নৈতিকতা, সুশাসন ও মূল্যবোধ: [মোট ১০মার্কস; প্রিলিমিনারি পাশ করতে চাইলে ৫/৬ মার্কস তুলতে হবে।]
এই সাবজেক্টটি আপনাকে পরীক্ষার কনফিউশানে ফেলব। শতভাগ কনফার্ম হয়ে তারপর দাগাবেন নয়তো ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এজন্য বিগত বিসিএসের প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ ভালো করে পড়তে হবে। সাথে কোনো একটি বই ফলো করলেই কাঙ্ক্ষিত মার্কস পাওয়া সম্ভব।
সময় আছে হাতে ৬০দিন। প্রোপার ওয়েতে এই ৬০দিন ইউটিলাইজ করতে পারলে আপনি প্রিলিমিনারি পাশ করবেন। উপরের সাজেশন অনুযায়ী আপনি টানা পরিশ্রম করেন। ফলাফল নিজেই দেখতে পারবেন। স্রষ্টা পরিশ্রমীকে কখনোই খালি হাতে ফেরান না।
শুভকামনায়,
দেবাশীষ ঘোষ
প্রভাষক (ইংরেজি),
৪৩তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)
সরকারি নূরুননাহার মহিলা কলেজ, ঝিনাইদহ।
04/07/2025
প্রশ্ন:বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি চিহ্নিত করুন।
উত্তর:বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভূগোল, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্পর্ক। যদিও উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, তবুও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ইস্যু দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
নিম্নে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
১. সীমান্ত নিরাপত্তা ও সীমান্ত হত্যা
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচার, মানবপাচার ও চোরাচালানজনিত কারণে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে সংঘর্ষ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকে। এই সমস্যা সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
২. পানি বণ্টন ও অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা
দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। গঙ্গা পানি চুক্তি ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত হলেও তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি এখনও সম্পাদিত হয়নি, যা একটি দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের বিষয়।
৩. বাণিজ্য ভারসাম্য
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি। ভারত বাংলাদেশের পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও অজস্র অ-শুল্ক বাধা বিদ্যমান। এই কারণে বাংলাদেশ ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য চায়।
৪. সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
বাংলাদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শন করেছে। উভয় দেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ মহড়া করছে।
৫. রোহিঙ্গা ইস্যু
মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে বাংলাদেশ বড় সংকটে রয়েছে। ভারত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ালেও প্রত্যাবাসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
৬. যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন
উভয় দেশের মধ্যে রেল, সড়ক ও নৌযোগাযোগ সম্প্রসারণ হচ্ছে। ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’, ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ ইত্যাদি সংযোগ বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত।
৭. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতা
বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে আসছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যৌথ প্রকল্পগুলো দুই দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
৮. নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ও এনআরসি বাংলাদেশে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ এই নীতির প্রভাব বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
উপসংহার: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয় এখনো অমীমাংসিত। সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক সম্মান, কূটনৈতিক সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি অপরিহার্য।
বিসিএস এডভাইস
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Website
Address
Dhaka University
Dhaka