Islamic Sirah
জীবনের সারকথা কী?
মুফতি তাকি উসমানী উত্তরে ২০টি সুক্ষ্ম বিষয়ের কথা তুলে ধরেন:
১. সর্বদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর।
২. চেষ্টা কর সারা জীবনে কেউ যেন তোমার অভিযোগ অন্য কারো কাছে না করে। আল্লাহর কাছে কখনই না।
৩. বংশীয় লোকদের সাথে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করো না। ক্ষতি হলে মেনে নিও, তবে বিরোধিতা করো না। পরে ভালো ফল পাবে।
৪. কোথাও এ কথা বলো না যে, আমি আলেম। আমার সাথে অনুগ্রহ করেন। এটি কখনই কাম্য নয়। চেষ্টা কর দ্বীনদারী হয়ে চলার।
৫. সর্বোত্তম দস্তরখান হল নিজ ঘরের দস্তরখান। যে রিজিক পাবে তাই রাজার হালে খাবে।
৬. আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো থেকে আশা করো না।
৭. প্রত্যেক আগামী দিনে পরিশ্রম বৃদ্ধি কর।
৮. বিত্তশালী ও অহংকারী ব্যক্তি থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।
৯. প্রতিদিন সকালে কিছু দান খয়রাত কর। আর সন্ধ্যায় এস্তেগফার পাঠ করার অভ্যাস কর।
১০. নিজের কথার মাঝে মিষ্টতা তৈরি কর।
১১. উচ্চস্বরে কথা বলো না। এমনকি ছোট বাচ্চাদের সাথেও নয়।
১২. যে জায়গা থেকে তোমার রিজিকের ব্যবস্থা হচ্ছে সে জায়গাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসো। যেমন সম্মান করবে তেমন রিজিক বৃদ্ধি পাবে।
১৩. চেষ্টা কর সারা জীবনে সফল মানুষদের সাথে ওঠাবসা করবে। একদিন তুমিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
১৪. প্রত্যেক সেক্টরের যোগ্য ব্যক্তিদের সম্মান কর। তার সামনে আদবের সাথে আসা উচিত। হোক সে যে কোন ময়দানের।
১৫. পিতা মাতা, শিক্ষক ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে যেমন উত্তম আচরণ করবে তেমন রিজিক বৃদ্ধি পাবে।
১৬. সব কাজে মধ্যমপন্থা গ্রহণ কর।
১৭. জন সাধারণের সাথে সম্পর্ক রেখ। তাদের থেকে অনেক কিছু শেখা যায়।
১৮. একজনের অভিযোগ অন্যের কাছে না করা। অভিযোগকারীকে আমাদের নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপছন্দ করতেন।
১৯. সব কথা ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন কর। এর দ্বারা অনেক সমস্যার সমাধান হয়।
২০. বড়দের বৈঠকে চুপ থেক।
আপনি যখন ঈমানের পথে আরও দৃঢ় হন, নামাজ বা পর্দা মেনে চলেন, তখন প্রায়ই বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের কেউ কেউ দূরে সরে যায়। আড্ডার গ্রুপগুলো নীরব হয়ে যায়। এটা মোটেও কাকতালীয় নয়, বরং এটা একটি পরীক্ষা।
এই একাকীত্ব আসে আপনার আধ্যাত্মিক উন্নতির কারণেই। এটিকে সূরা আল-আনকাবুত ২৯:২ এর আলোকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখুন: "মানুষ কি মনে করে যে, তারা বিশ্বাস করে বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া হবে?" এই পরীক্ষার অংশ হলো সামাজিক সম্পর্কগুলো আলগা হওয়া।
আধ্যাত্মিক বিকাশ আপনার চারপাশের পরিবেশ, কথাবার্তা এবং কাজকর্মের প্রতি আপনার সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। পুরোনো বন্ধুত্বের সাথে আপনার মূল্যবোধের দূরত্ব স্পষ্ট হয়। এই সংবেদনশীলতা আপনার আধ্যাত্মিক জাগরণেরই একটি বৈশিষ্ট্য।
নবীদের জীবনেও এই পরীক্ষার প্রমাণ মেলে। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) সত্যকে বেছে নিয়েছিলেন, এমনকি তার জন্য তাঁকে একাকীত্ব বরণ করতে হয়। মানবশ্রেষ্ঠরাও এই একাকীত্বের মুখোমুখি হয়েছেন।
আজ আমরা অনেক সংযুক্ত থাকলেও, ঠিক তখনই আমরা গভীর একাকীত্ব অনুভব করি যখন আমাদের ঈমান শক্তিশালী হতে থাকে। নবীগণ সাবধান করে গেছেন এমন সময়ের ব্যাপারে যখন, ধর্ম ধরে রাখা হবে জ্বলন্ত কয়লা ধরার মতো কষ্টের। এই কষ্ট কখনও কখনও সম্পর্ক শিথিল হওয়ার মাধ্যমেই আসে।
আপনার জীবনে আল্লাহর রহমত বা প্রভাব যত বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আপনার একাকীত্বের পরীক্ষাও তত বড় হতে পারে। এই একাকীত্ব ব্যর্থতার প্রমাণ নয়, বরং আপনার আহ্বানের স্বীকৃতি।
ছুটির দিন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোনো বন্ধুদের দেখে একাকীত্ব সবচেয়ে বেশি অনুভব হতে পারে। এগুলো হলো পুরোনো জীবনের জন্য শোক করার মুহূর্ত। এই কষ্টকে স্বীকার করুন এবং আল্লাহর কাছে নিয়ে যান।
পুরোনো সম্পর্কগুলো, আপনি আগে কেমন ছিলেন তার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। নাটকীয় আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের সাথে সাথে সেই সম্পর্কগুলো সহজেই খাপ খাইয়ে নেবে এমনটা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
একাকীত্ব মানে আল্লাহ আপনাকে ছেড়ে দিয়েছেন এমন নয়, বরং আল্লাহ আপনাকে পরিশুদ্ধ করছেন, যেমন আগুনে সোনা খাঁটি হয় বা চাপে হীরা তৈরি হয়। আল্লাহ যা মূল্যবান মনে করেন, তার পরীক্ষাই নেন।
এই একাকীত্বকে ইতিবাচকভাবে দেখার জন্য CONNECT নামে একটি পদ্ধতি রয়েছে, যার মূল কথা হলো—এটাকে আধ্যাত্মিক পথের অংশ হিসেবে বোঝা, নিজের পরিবর্তনকে মেনে নেওয়া, নতুন সম্পর্ক তৈরি করা, পরিবারের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা, বর্তমান অবস্থাকে গ্রহণ করা, একাকীত্বকে ভালো কাজে লাগানো এবং এই প্রক্রিয়াটির উপর ভরসা রাখা।
শেষ প্রশ্ন হলো, আপনি এই একাকীত্বকে ভুলের প্রমাণ মনে করবেন, নাকি সঠিক পথে থাকার স্বীকৃতি?
সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে আল্লাহকে বেছে নেওয়া আখিরাতের জন্য একটি বিনিয়োগ, নবীদের দেখানো পথে চলা এবং আল্লাহ আপনাকে যেমন বানিয়েছেন তেমন হওয়ার একটি ধাপ। সাময়িক বিচ্ছিন্নতা আপনার লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া নয়, বরং তার জন্য প্রস্তুতি।
26/03/2025
বায়তুল মাকদিস: প্রেক্ষাপট ও বাঙালি মুসলমানদের ভাবনা
আলহামদুলিল্লাহ, মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়াররা ১৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সবচেয়ে পবিত্র স্থান। এরপর বায়তুল মাকদিসের স্থান, যা বারবার সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। প্রায় ২০০ বছর ধরে চলা ক্রুসেডে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনহানি হয়েছে।
জেরুজালেম দখলের আকাঙ্ক্ষা পূর্বে ও পশ্চিমে বহুবার দেখা গেছে। এমনকি কলম্বাসও গ্রানাডার পতনের পর আমেরিকা থেকে সম্পদ এনে জেরুজালেম পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে এই সংঘাতের মূল কারণ রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক নয়, বরং বিশ্বাস ও আকিদা।
যদি এটি কেবল ইহুদিদের জন্য ভূমি দখলের বিষয় হত, তবে বিশ্বে তাদের বসতি স্থাপনের জন্য আরও অনেক স্থান ছিল। কিন্তু ফিলিস্তিনের উপর তাদের জোর দেওয়া গভীর ধর্মীয় উদ্দেশ্যকেই ইঙ্গিত করে। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, তারা মসজিদুল আকসা ও কুব্বাত আস-সাখরার স্থানে তৃতীয় মন্দির (হাইকাল-এ-সোলায়মান) পুনর্নির্মাণ করতে চায়।
টেম্পল ইনস্টিটিউটের মতো ইহুদি সংগঠন ইতিমধ্যেই পুনর্নির্মিত মন্দিরের নকশা ও আচার-অনুষ্ঠান তৈরি করেছে। তারা মনে করে, পরিশুদ্ধির জন্য একটি লাল গাভী ব্যবহারের পরই তারা পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারবে। খ্রিস্টান জায়নবাদীরাও ইসরায়েলের শক্তিবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণকে যিশুর দ্বিতীয় আগমন ত্বরান্বিত করবে বলে বিশ্বাস করে।
ব্রিটিশ জেনারেল এডমান্ড অ্যালেনবির জেরুজালেমে প্রবেশ এবং সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর সমাধিতে তার প্রতীকী কাজ ক্রুসেডারদের চেতনার প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হয়।
ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদুল আকসার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় মসজিদ, যা সম্ভবত ফেরেশতা, আদম (আঃ) বা ইব্রাহিম (আঃ) কর্তৃক নির্মিত এবং পরবর্তীতে সুলাইমান (আঃ) এর সাথে সম্পৃক্ত। এটি নবীদের ভূমি, যেখানে অসংখ্য নবী বসবাস ও ইবাদত করেছেন।
আল-ইসরা ওয়াল-মিরাজের রাতে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় যান এবং সকল নবীদের ইমামতি করেন, যা তাঁর শেষ নবী হওয়ার মর্যাদাকে তুলে ধরে। হিজরতের পর প্রায় ১৬-১৭ মাস ধরে এটি মুসলমানদের প্রথম কিবলা ছিল।
বিশ্বাস করা হয়, কিয়ামতের দিন ইসরাফিল (আঃ) এই স্থান থেকেই শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন, সম্ভবত কুব্বাত আস-সাখরার নিচের পাথরটি থেকে। অনেক হাদিস অনুযায়ী, শেষ যামানায় বায়তুল মাকদিসে মুসলমানদের শক্তিশালী অবস্থান থাকবে এবং ঈসা (আঃ) দামেস্কে অবতরণ করে বায়তুল মাকদিসের কাছে দাজ্জালকে পরাজিত করবেন। মুসলমান ও ইহুদিদের চূড়ান্ত যুদ্ধ এখানেই হবে, যেখানে গাছপালা ও পাথর ইহুদিদের গোপন আস্তানা প্রকাশ করে দেবে।
বায়তুল মাকদিসের চূড়ান্ত সংঘাত কেবল রাজনৈতিক বা জাতীয়তাবাদী বিষয় নয়, বরং ইসলাম ও কুফরের মধ্যে আকিদা ও বিশ্বাসের লড়াই। আল-আকসার মুক্তি একটি প্রজন্মগত প্রকল্প, যেমনটি সুলতান নুরুদ্দিন জিনকি দেখিয়েছিলেন, যিনি সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর হাতে এর পুনরুদ্ধারের বহু দশক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
আমাদের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে এবং এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে যারা এই মুক্তি প্রত্যক্ষ করবে। গাজার জনগণের ধৈর্য (সবর) এবং আল্লাহর একত্ববাদের (তাওহীদ) প্রতি অবিচল থাকা বিশাল কষ্টের মধ্যেও একটি শক্তিশালী নিদর্শন। বক্তা তাদের পরিস্থিতি সূরা আল-বুরুজের বিশ্বাসীদের সাথে তুলনা করেছেন, যাদের তাদের বিশ্বাসের জন্য আগুনে পোড়ানো হয়েছিল।
বক্তা বিশ্বাস করেন, বর্তমান ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধানের দিকে ইঙ্গিত করছে, সম্ভবত গাজা বা ইসরায়েলের সম্পূর্ণ ধ্বংস। আল-আকসা উম্মাহর সম্মিলিত পরিচয়ের অংশ এবং ইসলামী আকীদার সঠিক বুঝ এটিকে বাদ দিয়ে অসম্পূর্ণ।
উম্মাহর মধ্যে বাঙালি মুসলমানদের অনন্য অবস্থানের উপর জোর দিয়েছেন, যারা জনসংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী এবং যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশের। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল প্রধান মুসলিম সাম্রাজ্যের সামরিক বা রাজনৈতিক কেন্দ্র না হওয়া সত্ত্বেও এটি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
বাংলাদেশে একটি "স্বৈরাচারী" শাসনের পতন এবং ভারতীয় "আধিপত্য" দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যা ইসলামের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করেছে, যা অনেক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তুলনায় একটি অনন্য ঘটনা। এই অঞ্চলের ইতিহাস ইসলামী আদর্শের জন্য এবং কুফর ও শিরকের বিরুদ্ধে মুসলিম পূর্বপুরুষদের সংগ্রামে পরিপূর্ণ।
আমাদের দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এই অঞ্চলের (বাংলার) মুসলমানদের জন্য কল্যাণকর কিছু এবং একটি ইতিবাচক পরিণতি রেখেছেন। একটি বিশ্বশক্তিতে পরিণত হতে হলে, বাংলাদেশের ভিত্তি অবশ্যই ইসলাম হতে হবে, এর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও ইতিহাসের কারণে। অন্যান্য মতাদর্শ কেবল বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবে।
আল-আকসা বাঙালি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের পরিচয়ের অংশ এবং বৃহত্তর উম্মাহর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম, বিশেষ করে তাদের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা এবং অ-ইসলামিক সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে। আল-আকসার কারণকে ধারণ করার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানরা তাদের উম্মাহ চেতনা, পরিচয় এবং সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে পারে।
বিশ্ব "মহাকাব্যিক যুদ্ধের যুগে" প্রবেশ করছে, যার আগে "মহাকাব্যিক আত্মত্যাগের যুগ" দেখা যাচ্ছে, যেমন গাজা, সিরিয়া, কাশ্মীর, আফগানিস্তান, ইরাক, আরাকান এবং উইঘুরদের মধ্যে। ১০০ বছরেরও বেশি সময় পর দামেস্ক আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ সংক্রান্ত হাদিসে এর উল্লেখ রয়েছে।
দামেস্কে প্রবেশের সময় মুজাহিদীনদের উত্থাপিত স্লোগান ("লাব্বাইক ইয়া আল্লাহ" এবং "খায়বার ইয়া ইয়াহুদ") অত্যন্ত প্রতীকী হিসেবে দেখা হয়।
ইবনুল আছির বলেছেন, যখন আল্লাহ কোনো নির্দিষ্ট পরিণতি চান, তখন তিনি তার প্রেক্ষাপট তৈরি করেন এবং বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ মুসলমানদের বিজয়ের পথ তৈরি করছেন। এই বিজয় অর্জনে মুসলমানদের ভূমিকা গভীর চিন্তাভাবনা ও কর্মের দাবি রাখে।
গাজায় ভয়াবহ পরিস্থিতি!
অবিরাম বোমা হামলায় জীবন ও মৃত্যুর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের আর্তনাদ, মিসাইলের শব্দে হারিয়ে যাচ্ছে সাহায্য প্রার্থনার মিনতি।
ইফতারের পর বিশ্রাম নিতে বসা একটি পরিবার মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেল। ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসা একটি শিশুর হাত যেন সেই ভয়াবহতার প্রতীক। এটা কোনো যুদ্ধ বা প্রতিরোধ নয়, বরং একতরফা গণহত্যা।
১৮ই মার্চ, "কসাই" নেতানিয়াহুর বাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ৪০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরেও নির্বিচারে বিমান হামলা চলছে।
এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি সারি সারি অচেনা মৃতদেহ দেখেছেন, এমনকি একটি শিশুর শুধু মাথাটিও শনাক্ত করা যায়নি। এটা কি সভ্যতার পরিচয়?
গাজার শিশুদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, তাদের পৃথিবী পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। ছোট্ট আমলের কথা ভাবুন, যার বাবা যুদ্ধ শেষে খেলনা কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, সে তার পরিবারকে হারিয়েছে।
গাজার শিশুরা আজ এতিম, গল্প শোনা, স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করার মতো স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত। তাদের জীবন একটাই – মৃত্যুর হাত থেকে পালানো, এক নির্মম বাস্তবতা।
যদি প্যারিস, লন্ডন, নিউইয়র্ক বা বার্লিনে এমন হামলা হতো, বিশ্ব কি নীরব থাকত? গাজায় হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলেই কি বিশ্ব বিবেক ঘুমিয়ে আছে? এই নীরবতা কি চিরকাল চলবে?
এক বাবা তার মৃত সন্তানের পাশে বসে আছেন, হাতে আঁকা সূর্য, ঘর ও পরিবারের ছবি – যা এখন ধ্বংসস্তূপ। অতিরিক্ত শোকে তার চোখে জল নেই। তার প্রশ্ন, "এই গণহত্যা কবে থামবে?"
ইসরায়েলের কৌশল হলো আরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা, যাতে তারা ভূমি দখল করতে পারে। বাড়িঘর ধ্বংস করা, মৌলিক চাহিদা সীমিত করা – এটাই তাদের পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ, যা "জাতিগত নিধন" নামেও পরিচিত।
"ফিলিস্তিন মুক্ত না হলে মানবতা মুক্তি পাবে না।" গাজার আগুন পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গাজার শিশুদের জীবন রক্ষা পেলে তবেই বিশ্বের সকল শিশু নিরাপদ থাকবে।
যারা দেখছেন, তাদের কাছে অনুরোধ, গাজার মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন মনে রাখুন, তাদের জন্য आवाज তুলুন। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান যখন তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করছে, তখন মৃত বাবা-মায়ের পাশে শিশুদের কান্না – এটা মানবতার বিরুদ্ধে অমানবিক কাজ।
ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মাহমুদ নামের একটি ছোট্ট ছেলে, যার স্কুলব্যাগে একটি চিঠি ছিল – "কবে যুদ্ধ শেষ হবে?" এবং তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। ফাতেমার কথা ভাবুন, যে আর কখনো তার লাল জামা পরতে পারবে না। মাহমুদ ও ফাতেমার মৃত্যু শুধু গাজার নয়, "বিশ্ব মানবতার" ক্ষতি।
"যদি আজ ফিলিস্তিন মুক্ত না হয়, তবে বিশ্বের কোনো মানুষই মুক্ত নয়।" ফিলিস্তিনের লড়াই শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, সমগ্র মানবতার জন্য।
ধ্বংসস্তূপ থেকে হয়তো একদিন এক নতুন ফিলিস্তিন জেগে উঠবে, যেখানে প্রতিটি শহিদ শিশুকে স্মরণ করা হবে এবং মানবতা আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সেদিন মানুষ ফিলিস্তিনের মুক্তির ঘোষণা করবে, আর তার সাথে মুক্তি পাবে মানবতা।
"ফিলিস্তিনের মুক্তি ছাড়া আমাদের স্বাধীনতা অর্থহীন।" আমরা একটি শান্তিময় সকালের প্রত্যাশা করছি।
বর্তমান নিষ্ক্রিয়তা, কাপুরুষতা এবং স্বার্থপরতার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে আমরা ক্ষমা চাইছি।
ফিলিস্তিন মুক্ত করো, আর নয় হত্যা, আর নয় মিথ্যা, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the place of worship
Telephone
Website
Address
Gulshan
Dhaka
1212