Hasnat Abdullah Fans
#গরিবের_বন্ধু_Hasanat_Abdullah
োককে_কিকরা_উচিৎ_বলুন
#এজন্যই_হাসনাত_আবদুল্লাহ_কে_সবাই_পছন্দ_করে
28/03/2026
যারা নবীন ফ্যাশনের প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবসা করতে চাচ্ছিলেন, তাদের জন্য সুখবর নিয়ে এল নবীন ফ্যাশন..
#নবীনফ্যাশন
Kmn acen apnara
Good morning
04/12/2024
-"নি*র্লজ্জ, বেহায়া মেয়ে আর কতকাল আমাদের ঘাড়ে বসে এভাবে খাবে তুমি? লা*জ-ল*জ্জা বলতে কিছু আদো আছে তোমার মাঝে? সেটা যদি থাকতো তাহলে স্বামী ছেড়ে গেছে আজ প্রায় দুই বছর। সেখানে কী করে স্বামী ব্যতীত বেহায়ার মত পরে আছো শশুরবাড়ি!"
কথাটুকু বলে ঐশ্বর্যকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিল তার শাশুড়ি অনিমা।
-" কী করছো বৌমা? মেয়েটাকে এভাবে বাড়ি থেকে বের করে কেন দিচ্ছো? মেয়েটার তো কোনো দোষ নেই।"
-" আর কী দোষের বাকি রেখেছে মা? কেবল এই মেয়েটার জন্যই আমার বুকের মাণিক প্রায় দু বছর আমার থেকে সুদূর প্রবাসে থেকেছে। এমন কী করো সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত রাখেনি। কতটা অভিমান পুষে রেখে আমার ছেলেটা দেশ ছেড়েছিল একবার ও ভাবতে পারছেন মা? এতকিছুর পর ও বলবেন এই মেয়ের কোনো দোষ নেই!
তবে আর না! আমি মা হয়ে আমার ছেলের জীবন আর নষ্ট হতে দিব না। দুই বছর আগে আপনার ছেলের একটা ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আমার সোনার মানিক ছেলে যে ভোগান্তি ভুগেছে সেই ভুল আজ আমি একেবারে শুধরে দিব।"
কথাটা বলেই তিনি সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে ঐশ্বর্যকে নিচ থেকে টেনে তুলে শক্ত কণ্ঠে বলল,
-" এখনই বেরিয়ে যাবে তুমি এই বাড়ি থেকে। আজ আমার ছেলে এতগুলো দিন পর দেশে আসছে। আমি চাইনা তোমার এই অপয়া মুখখানা দর্শন করে আমার ছেলেটা আবার আমাদের ছেড়ে যাক।"
কষ্টে চোখ ভিজে এলো ঐশ্বর্য্যর। এই বুঝি ছিল তার ভাগ্যে!
এই দুটো বছর তার নিজের উপর দিয়ে ও তো কম দুর্ভিক্ষ যায়নি। কম কথা তো শুনতে হয়নি তাকে। পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, এমনকি শ্বশুরবাড়ির প্রতিটি মানুষ তাকে উঠতে বসতে কথা শুনিয়েছে, খোটা দিয়েছে।
নিরবে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে মুখ বুঝে প্রতিটি কথা সহ্য করে গেছে সে এই ভেবে, কোনো একদিন হয়তো মানুষটি ফিরে আসবে তার কাছে। আপন করে নিবে তাকে। বাঁচিয়ে নিবে মানুষের কথার তীর থেকে।কিন্তু হলো উল্টো। মানুষটি ফিরছে ঠিকই। কিন্তু তাকে আপন করে নিতে নয়। বরং নিজের জীবন থেকে তাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে। অনিমার ঝাঁঝালো কণ্ঠ কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠল ঐশ্বর্য্য। বাম হাতের উলটো পিঠে নেত্র কোণে জমে থাকা অশ্রুটুকু মুছে সামনের দিকে হাঁটা ধরলো সে। সামনে এগুতে এগুতে পুনরায় পিছন ঘুরে তাকালো। সেই সময়ই তার শাশুড়ি তার মুখের উপর বাড়ির মেইন দরজা বন্ধ করে দিল।
তৎক্ষণাৎ অশ্রু দ্বারা ভিজে উঠল তার চোখ জোড়া। চিরতরের জন্য নিজের হয়েও না হওয়া স্বামীর সংসার ছেড়ে যাচ্ছে সে। দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে পুনরায় হাটা ধরলো ঐশ্বর্য্য। বাড়ির মেইন গেইট পেরিয়ে রাস্তার একপাশে এসে দাড়ালো । হাত নাড়িয়ে সিএনজি ডেকে তাতে উঠে বসল। সিএনজি চলতেই এক মনে বাহিরের দিকে নিজের দৃষ্টি নিক্ষেপ করল সে। কিছুদূর এগুতেই হঠাৎ চিৎকার চেঁচামেচির শব্দে ঘোর থেকে বেরিয়ে এলো ঐশ্বর্য্য। আশেপাশে চোখ বুলিয়ে বুঝতে পড়লো দুইজন লোক রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে গ্যাঞ্জাম করছে। আর অপরপাশেরর মানুষগুলো তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলস্বরূপ সেখানেই বসে থাকতে হলো থাকে।তবে সমস্যা ঘটলো তখনই যখন রাস্তার উড়ে আসা ধুলোর ঝাঁক আর পেট্রোলের ভোটকা গন্ধ নাসারন্ধ্রে পৌঁছালো। সহসা পেট গুলিয়ে আসলো ঐশ্বর্য্যের।
বিরক্তি'তে চোখ মুখ কুঁচকে ঘাড় ঘুরিয়ে রাস্তার বাম পাশে থুথু ফেলতে নিলে অকস্মাৎ চোখ যায় পাশের গাড়িতে অবস্থানরত ব্যক্তিটির দিকে। মুহূর্তে হাত পা বরফের ন্যায় শীতল হয়ে গেল ঐশ্বর্য্যের। অস্বাভাবিক ভাবে কম্পন দিতে লাগল তার সমস্ত সত্তা।
চোখ বেয়ে আপনা-আপনি গড়িয়ে পড়ে একফোঁটা নোনাজল। ঠিক দেখছে কী-না তা সিউর হতে হাত দিয়ে চোখ কচলে পূনরায় তাকায় ব্যক্তিটির দিকে। হ্যাঁ! ঠিকই দেখছে সে। দীর্ঘ দুইবছরের সাধনার সেই ব্যক্তিটিই। তার স্বামী! যে বিয়ের রাতেই তাকে ফেলে পাড়ি জমিয়েছিল সুদূর প্রবাসে। নিষ্ঠুরের মত হাজারো মানুষের কথার যাতাকলের নিচে তাকে পিষতে দিয়ে চলে গেছিল সে। একবারের জন্য ও ফিরে তাকানোর প্রয়োজন মনে করেনি নিজের সদ্য বিয়ে করা নাবালিকা স্ত্রীর দিকে। নিষ্ঠুর, পাষাণ বুঝি একই বলে!
যার ফলস্বরূপ দীর্ঘ দুইটা বছর মুখ বুঝে শ্বশুর বাড়ির প্রতিটা মানুষের কটু কথা সহ্য করে এসেছে ঐশ্বর্য্য।
এক দেখায় কিশোরী ঐশ্বর্য্য প্রেমে পড়েছিল এই সুদর্শন পুরুষটির। ভালো ও বসেছিল।
স্বপ্ন সাজিয়েছিল হরেক রকমের। তবে তার সকল স্বপ্নকে চুরমার করে দিয়ে মাঝ রাস্তায় তার হাত ছেড়ে দিয়েছিল এই নির্দয় পুরুষটি সে। গুমরে গুমরে করতে তাকে ফেলে গেছিল একা।
চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে কয়েকটা লম্বা নিশ্বাস নিল সে।
শান্ত করতে চাইলো নিজ গহীন সত্ত্বাকে। কিন্তু পারলো না যখন দেখতে পেল মানুষটির পাশে নিবিড় ভাবে বসে আছে এক নারীমূর্তি। দুনিয়াটাই যেন ঘুরে উঠল ঐশ্বর্য্যের। তাহলে এই কী সেই কারণ ছিল! যার দরুন তাকে স্ত্রী বলে স্বীকৃতি দেয় নি প্রহর চৌধুরী! এই কী সেই নারী! যার জন্য তাকে মাঝ রাস্তায় ফেলে দিয়ে পাড়ি জমিয়েছিল সুদূর প্রসাসে। মুহূর্তেই দুইহাতে মুখ চেপে ধরে ঠোঁ*ট ভেঙে কেঁদে উঠল ঐশ্বর্য্য। হু হু কর কাঁদতে লাগলো সে। লোকল*জ্জা, ভয় কোনোকিছুই আজ পরোয়া করলো না যেন! দীর্ঘ দুই বছরের দুঃখ যেন আজ উগ্রে বের হতে চাইছে।
বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে গম্ভীর মুখ করে জ্যামে আটকে বসে আছে প্রহর। দীর্ঘ দুই বছর পর নিজ দেশে ফিরছে সে। মন অভিমানের পালা শেষ হওয়ার পূর্বেই খবর আসে তার মা বিছানায় শয্যশয়ী। গুরুতর অসুস্থ সে। সেই তাগিদে সকল মান অভিমান ভুলে দেশে ফিরছে সে। এতক্ষণ যাবত জ্যামে বসে থাকতে থাকতে এখন রাগ লাগছে তার! রাগে, বিরক্তিতে আরো কিছুটা কপাল সংকোচিত করলো সে। তখনই কোথা থেকে নারী কন্ঠের কান্না শুনে হচকিতে গেল যেন। এই মাঝরাস্তায় কে এমন হাউমাউ করে কাঁদছে!
বিষয়টা বেশ অদ্ভুত লাগল তার নিকট। আশেপাশে চোখ বুলাতেই পাশের সিএনজিতে বসে কাউকে কাঁদতে দেখল প্রহর। চেহারার দিকে তাকাতেই তাড়াতাড়ি করে নিজের উড়না দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল হু হু করে কান্না করা মেয়েটি। অচেনা মেয়েটির এমন কান্ডে বেশ অবাক হলো সে। অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকল মেয়েটির দিকে! ঠিক তখনই জ্যাম ছুটে গেল।
কাঁদতে কাঁদতে পুরো রাস্তা পাড় করলো ঐশ্বর্য্য। অবশেষে সিএনজি এসে থামলো তার বাবার বাড়ির সম্মুখে। তৎক্ষণাৎ চোখ মুছে বাইরে বের হলো সে। সিএনজি ওয়ালাকে দাঁড়াতে বলে বাড়ির ভিতরে গেল টাকা আনতে। ওই বাড়ি থেকে আসার পূর্বে নিজের পার্স ব্যাগটা ও নিয়ে পারেনি সে। হঠাৎ করেই যেন সব কিছু ঘটে গেল। কলিং বেল চাপতেই রেশমা বেগম এসে দরজা খুলল। এতদিন পরে মেয়েকে চোখের সামনে দেখে আবেগে প্রফুল্ল হয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। কিছুক্ষন ব্যয় হতেই ঐশ্বর্য্য মা'কে তাড়া দিয়ে উঠল,
-" আম্মু টাকা নিয়ে আসো তাড়াতাড়ি গাড়ি ভাড়া দিব।"
সম্বিত ফিরলেই তিনি মাথা নেড়ে দ্রুত পায়ে চলে গেলেন ভিতরে।
দীর্ঘ দুই বছর পর নিজের বাড়িতে পা রাখলো প্রহর। বাড়ির কাজের মেয়ে হলরুম পরিষ্কার কাজে মগ্ন ছিল। আজকে সন্ধ্যার দিকে তাদের ছোট সাহেব আসবে দেশে। সেই উপলক্ষে ঘর বাড়ি পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়েছে সবাই। ফ্লোর ঝাড়ু দিতে দিতে পাশে ফিরে তাকাতেই গগন বিদারী এক চিৎকার দিয়ে উঠল বিউটি। তার চিৎকার শুনে বাড়ির মহিলারা সকলে হলরুমে এসে হাজির হয়। অনিমা বেগম এই সময় নিজের কলিজার ধন'কে চোখের সামনে দেখে ডুকরে কেঁদে উঠলেন তিনি। দ্রুত কদমে হেঁটে গিয়ে ছেলের বুকে মাথা এলিয়ে দিয়ে কাঁদতে লাগলেন। মায়ের এহেন পাগলামি দেখে গোপনে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মাকে নিজের কাছ থেকে ছাড়িয়ে বলে উঠল,
-" মা এখন আমাকে ছাড়। কা*ন্নাকাটি পরে ও করতে পারবে।এখন ফ্রেশ হতে হবে আমায়।"
ছাড় পেতেই সকলকে উপেক্ষা করে হনহন করে উপরে নিজের কক্ষে গেল প্রহর। পাশেই দাড়িয়ে ছিল নিয়াম চৌধুরী। ছেলে আজ এতদিন পর দেশে আসবে বলে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছে সে। তবে বাড়ি ফেরার সাথে সাথেই যে ছেলেকে দেখতে পাবে সে, সে আশা করেননি তিনি। বেশ খুশি হয়েছিলেন ছেলের এই হঠাৎ আগমনে। তবে তাকে দেখে ও ছেলের এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিরব আ*ঘাত হানে তার অন্তঃকোণে। দুই বছর পূর্বের নেওয়া সেই ভুল সিদ্ধান্তের জন্যই দুটি জীবন নষ্টের দায় আজ তার কাঁধে।গোপনে তপ্ত শ্বাস ফেলে উপরে নিজের রুমের দিকে যান তিনি।
একে একে সকলে নিজেদের কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য অগ্রসর হতেই সকলের কর্ণকুহরে পৌঁছালো অচেনা মেয়ে লোকের কণ্ঠস্বর। তৎক্ষণাৎ সকলে চমকে সেদিকে ঘুরে তাকায় আর..
চলবে।
#প্রিয়_সে_অভিমানে
#পর্ব_১
#বনলতা_নাজ
04/12/2024
আজ আমার তৃতীয় ডিভোর্স বার্ষিকী। দশ বছরের বিবাহিত জীবন ছিলো আমার। আছে একজোড়া জমজ ছেলে মেয়ে। এগারো বছর বয়স। টগর আর নয়নতারা।আমার কাছে থাকে। আমিই ওদের সব।
আমি বেসরকারি স্কুলে উঁচু ক্লাসগুলোতে পড়াই। সমস্ত মন -প্রাণ দিয়ে পড়াই যেন ইংরেজি, বিজ্ঞান এই কোমল কচি মাথাগুলোতে ভালো করে
ঢুকে যায়, পঁয়ত্রিশ মিনিটের একেকটা ক্লাসে পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে আমি দশ মিনিট নীতিশিক্ষা দিই গল্পচ্ছলে। এই শিক্ষাটাই আমার কাছে সবচেয়ে জরুরি মনে হয় আমার কাছে। এই শিক্ষাটারই অভাব প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে আমাদের সমাজে।
ইচ্ছা হয়, ছাত্র -ছাত্রীদের বাবা-মা'কেও পড়াই। ভালো-মন্দের পার্থক্য শিখাই। বাবা-মা যদি নীতিবান না হন, আদর্শ নামের কোনো শব্দ যদি তাঁদের অভিধানে না থাকে, তাহলে বাচ্চাদের পক্ষে সুন্দর ও সঠিক জীবন বোধ নিয়ে গড়ে ওঠা খুব কঠিন।
যেমন, আবীরের মা ভয়ংকর মুখরা। বাচাল। আর এই অতি কথনের সিংহভাগ মিথ্যা, পরনিন্দায় ও আত্মপ্রশংসায় ভরা। আবীর আমার প্রতিবেশী বলে আমি ওর মা'কে খুব ভালো করে চিনি। মহিলা বকবক করে অনায়াসে চব্বিশ ঘন্টা পার করে দেন। স্কুলে গার্জিয়ানদের বসার জায়গায়, পথে ঘাটে, নিজের বাড়িতে, অন্যের বাড়িতে সব জায়গায় তাঁর চড়া গলার কথা চলতেই থাকে। কোন ছাত্রটা অকালপক্ব, কে ড্রাগস নেয়, কোন ছেলে-মেয়ের মধ্যে "লাইন ঘাট " চলছে, কার মায়ের পরকীয়া আছে, কে ডিভোর্সি, কেন ডিভোর্সি, এসবই উনার কথাবার্তার বিষয়বস্তু। পৃথিবীতে কেউ ভালো নয়, উনি আর উনার পরিবার ছাড়া।পরিবারের মধ্যে আবার শ্বশুরকুল বাদ। এমন মায়ের তিন সন্তান হেনা,আবীর, চয়ন কতোটা শুদ্ধ বোধসম্পন্ন হতে পারে? বাবার সাধ্য নেই , ইচ্ছাও নেই স্ত্রীকে সংশোধন করার। বাপ-মায়ের একজনকে তো অন্তত ঠিকঠাক হতে হয় ছেলেমেয়েদের মানুষ করার জন্য।
আমার আরেক ছাত্রী চন্দনা। ক্লাসের বন্ধুদের কাছে সারাক্ষণ নিজের বাবা-মা'কে নিয়ে অভিযোগ করে। বাসায় সারাক্ষণ চিল্লাচিল্লি, মায়ের গায়ে কথায় কথায় বাবার হাত তোলা, ছেলেমেয়েদেরও বেধড়ক মারধোর কারণে অকারণে, বাবা ও দাদির প্রবল প্রতাপ , আধিপত্য, স্বেচ্ছাচারিতা, চন্দনার নাকি বাসা থেকে পালিয়ে যেতে ইচ্ছা করে। বাবা আর দাদিকে খুন করতে ইচ্ছা করে। কী জটিল আর কষ্টকর জীবন ! মেয়েটা খুব উচ্ছৃঙ্খল হয়ে যাচ্ছিলো।
আবীর-চন্দনারা সংখ্যায় অনেক, অ-নে-ক। এতো অশান্তিময়, জঘন্য পরিবেশে বাস করে তারা শারীরিক ও মানসিক ভাবে কতোটা সুস্থ হয়ে বড় হয়ে উঠবে? কতোটুকু পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হবে ওদের মানসিকতা, চিন্তাভাবনা? কতোটা শুদ্ধ হবে বিবেক? কতোটা স্বচ্ছ ও উদার হবে ওদের দৃষ্টিভঙ্গি, বোধশক্তি?
তাই আমি পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে ছাত্র ছাত্রীদের মনের ভার কমানোর চেষ্টা করি, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কিভাবে নিজেকে ঠিক রাখতে হবে, মানসিক ভাবে শক্তিশালী হতে হবে সেই গাইডলাইন দিই, গোবরে থেকেও যে পদ্মফুলের মতো আলো ছড়ানো যায়, তার ব্যাপারে উৎসাহ ও নিশ্চয়তা দিই, সাহস ও আত্মবিশ্বাস যোগানোর চেষ্টা করি, কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায় সেগুলো বুঝাই। ওদের বলে দিয়েছি, যে কোনো দরকারে যেন আমার সাথে যোগাযোগ করে, প্রয়োজনে বাসায় চলে আসে। মনের কথা ও কষ্টগুলো যেন অকপটে আমার সাথে শেয়ার করে, মুখে বলতে না পারলে যেন লিখে জানায়।
আমার দুই ছেলেমেয়েকেও আমি একই শিক্ষা দিই। আমার টগর ও নয়নতারা।ডিভোর্সের সময় ওদের বয়স ছিলো নয়। বাবাকে ছোটো বেলা হতেই তারা একটু ভয় পেতো , কারণ বাবার সাহচর্য তারা পেতোনা একদম। বাবা ব্যস্ত থাকতো তাদের পারিবারিক ব্যাবসা আর নিজের পছন্দ -অপছন্দ নিয়ে। বাচ্চাদের ভালোবাসতোনা, তেমন নয়। তবে নিশ্চয় ভালোবাসায় গভীরতা কম ছিলো। নইলে মাসের পর মাস ছেলেমেয়েদের না দেখে পার করে কিভাবে?
রায়হান আমাকে বিয়ে করে তার বাবা-মায়ের ইচ্ছায়। তার যে আপত্তি ছিলো, সেরকম নয়। তার অনেক গার্লফ্রেন্ড। কাউকে সে সিরিয়াসলি নেয়নি। রায়হান অসম্ভব হ্যান্ডসাম, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়া, কথাবার্তায় -কাজকর্মে খুব স্মার্ট। তাদের পারিবারিক ব্যবসা বড়সড়, বাপ-মা,ভাই-বোনেরাও উচ্চশিক্ষিত।
আমরা সেই তুলনায় মধ্যবিত্ত। আমার বাবাও ব্যবসা করেন, মা প্রাইমারি স্কুলের হেডমিস্ট্রেস ছিলেন, আপা আর ভাইয়া জমজ, আপা ঢাকা ভার্সিটি থেকে অনার্স -এমএসসি করে এম ফিলও করেছে, একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির টিচার, সংসার-শিক্ষকতা-সামাজিকতা সামলে সে পিএইচডি কমপ্লিট করার পথে, ভাইয়া বুয়েট থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ গ্র্যাজুয়েশন করে কানাডায় সেটলড, এমএস করতে যেয়ে ওখানেই স্হায়ী হয়ে গেছে। আমিও ঢাকা ভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছি ইকোনমিকস নিয়ে। অনার্সের পরে বিয়ে হলো, মাস্টার্স করলাম প্রেগন্যান্ট অবস্থায়। বাবা-মায়ের বড় শখ ছিলো, অন্য দুই ভাইবোনের মতো আমি আরও পড়াশোনা করে খুব ভালো কোনো চাকরি করবো, কিন্তু টগর আর নয়নতারা হওয়ার পরে আমি সংসার, সন্তান, সমাজ এসব নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আমার ধাঁচটাই অমন। বাবা,মা,শ্বশুর,শাশুড়ি, নানি শাশুড়ি, অন্য কোনো নিকট আত্মীয় যে যখন অসুস্থ হয়েছেন, আমি ছুটে গেছি তাঁদের কাছে, সাধ্যমতো সেবা যত্ন করেছি। বস্তিতে বস্তিতে যেয়ে তাদের পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা দিয়েছি, নৈতিক শিক্ষা দিয়েছি, বস্তির শিশুদের জন্য আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে স্কুল খুলেছি, পড়াশোনা করিয়েছি, একবেলা পুষ্টিকর ভালো খাবারের ব্যবস্থা করেছি। আমাদের ঐ স্কুল থেকে অনেক বাচ্চা প্রাইমারির পার্ট শেষ করে আমাদের পরামর্শ মতো কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে। অনেকেই মোটর মেকানিক , অনেকে ইলেকট্রিশিয়ান, কেউ প্লাম্বার হিসাবে কাজ করে। মেয়েরা বাটিক,বুটিক, সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের পাশাপাশি। এই স্কুল থেকে যারা পাশ করেছে, তারা আমাদের মতো করে এখন নিজের ছেলেমেয়ে, ভাইবোন বা অন্য বাচ্চাদের শিক্ষা দেয়। বর্তমানে আমাদের স্কুলটাতে ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ানো হয়। এখন মোট ছাত্র ছাত্রী দুইশ জন। তারা দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করে, টয়লেটের ব্যাপারে খুব সচেতন, নিজেরা পরিস্কার থাকে, বস্তিবাসীদেরও পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা দেয়, তারা প্রতিদিন গোসল করে, দুপুরের খাবার আমরা দিই, সব্জিখিচুড়ি -ডিম, কোনোদিন ভাত ডাল সব্জি, সপ্তাহে একদিন ভাত-মাছ-ডাল, মাসে একবার খিচুড়ি গোশতো ডিম।এর বেশি সামর্থ্য আসলে আমাদের নেই। ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে পাঁচজন বন্ধু মিলে শুরু করেছিলাম, তারপরে অনেকেই এটাতে যোগ দিলো, বিনা বেতনে পড়ানো হয়, কিন্তু খাবার, বই খাতা,সাবান সোডার খরচ আছেতো। এগুলো আগে আমাদের বাবা,মা, আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশীদের চাঁদায় আর আমাদের টিউশনের টাকায় চলতো, এখন চলছে আমাদের বিশ বন্ধুর টাকায়। অনেকে আমাদের ফান্ডে দান করে, আমার বাবা আর শ্বশুরইতো দান করেছিলেন মোটা অংকের টাকা, তাও কয়েক দফা। টিনের স্কুলটা বাবা বানিয়ে দিয়েছিলেন, ছোট্ট এক টুকরো জমিটাও তাঁর দেওয়া।রায়হান নিজের থেকে দেয়নি, কিন্তু আমি চাইলে কখনো না করেনি। বলতো, " কতো দিবো? " আমি যা বলতাম, তাই দিতো।
না, কখনো রায়হান বা তার পরিবার আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। অবজ্ঞা করেনি। আমার প্রতি তীব্র ভালোবাসাও কখনো রায়হান দেখায়নি।সে বাইরে বাইরে থাকতো বেশি। আমাদের স্বাভাবিক ও সাধারণ দাম্পত্য জীবন ছিলো। বেবিদের নিয়েও তার উচ্ছ্বাস তেমন ছিলোনা। কোলে নিতো, চুমু দিতো কখনো, এই। আদিখ্যেতা ছিলোনা তবে আর্থিক দায়িত্বে সামান্য অবহেলাও ছিলোনা।
সেই রায়হান একদিন আমাকে বললো, " মুনিয়া, তোমার সাথে কথা আছে। এখন ফ্রী আছো? তাহলে বসো। "
তারপরে শান্ত গলায় খুব স্বাভাবিক গলায় সে আমাকে যা বললো, তার সারমর্ম হলো, বছরখানিক ধরে সে লিসা নামের একটা মেয়েকে খুবই ভালোবাসে। তারা বিয়ে করতে চায়। আমাকে ডিভোর্স না দিলে লিসা তাকে বিয়ে করবেনা। সুতরাং, তার ডিভোর্স দরকার।
বিনা মেঘে বজ্রপাত বলে একটা প্রবাদ আছে। সেটার তাৎপর্য সেদিন বুঝলাম।
প্রথম যে বাক্যটা আমি বললাম, "ঠাট্টা করছো? "
সে বললো, " দশ বছরের ম্যারেড লাইফে আমাকে ঠাট্টা করতে দেখেছো? ঠাট্টা আমার অভিধানে নেই। "
" আমার কী অপরাধ? কেন আমাকে ডিভোর্স দিবে? "
"তোমার অপরাধ নেই। কিন্তু আমি লিসাকে বিয়ে করতে চাই।তারজন্য তোমাকে ডিভোর্স দিবো।"
" বিয়ে এতো দুর্বল কোনো প্রক্রিয়া? একজনকে বিয়ে করলে, অন্য একজনকে ভালো লাগলো,তাই যাকে বিয়ে করেছো তাকে তালাক দিয়ে দিলে? বিয়ে ছেলেখেলা নয়। "
"দেখো, আমি কম কথার মানুষ। তর্ক -বিতর্কে আমি যাবোনা।আমার পরিস্কার কথা, আমি তোমার সাথে সংসার করতে চাইনা এবং আমি লিসাকে বিয়ে করবো।তোমার যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দাও। তোমার নামে ফ্ল্যাট লিখে দিবো, তুমি যতো টাকা ক্ষতিপূরণ চাও, সামর্থ্য থাকলে দিয়ে দিবো, তুমি যদি মাসিক মাসোহারা চাও, নিশ্চয় দিবো। যে স্বামী তোমাকে চায়না, তুমি জোর করে তার কাছে থাকতে চাইবে কেন? তোমার সেল্ফ রেসপেক্ট নেই? "
"বাচ্চাদের কী হবে? "
"ওদের সমস্ত খরচ আমার। আর দেখাশোনার জন্য এখানে রেখে যেতে পারো, আব্বা-আম্মা দেখাশোনা করবেন, চাইলে তোমার সাথেও নিয়ে যেতে পারো, তোমার ইচ্ছা। "
"তুমি কখনো আমাকে ভালোবাসোনি? "
" এগুলো নিয়ে ভাবিনি। তুমি ভালো মেয়ে, এটা জানি। তোমাকে ভালোবাসি নাকি বাসিনা, এর কোন অ্যান্সার নেই আমার কাছে। "
"লিসাকে ভালোবাসো? "
"ডেফিনিটলি।"
"কেন? "
" এটা কোন প্রশ্ন হলো? শী ইজ ভেরি প্রিটি, ভেরি স্মার্ট। তার অনেক অনেক গুণ। তার গান শুনে আমি পাগল। যে কোনো গান একবার শুনেই ক্যাচ করতে পারে। সে খুব ভালো নাচে। সে কথা বলে খুব সুন্দর। বিউটি অ্যান্ড ব্রেইনের এক্সিলেন্ট কম্বিনেশন। এবং তার সাথে আমার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বেডে তার ন্যাকামি, অহেতুক লজ্জা, জড়তা কিচ্ছু নেই। আমরা দু"জনেই হাইলি স্যাটিসফাইড। "
"বুঝেছি। শারীরিক মোহ। "
"শিওর। এটা একটা বড় ফ্যাক্টর। সে কিন্তু খুব গুণীও, তাইনা? তুমি ওর পায়ের নখের যোগ্য না। খারাপ কথা বলতে বাধ্য করলে। কী গুণ আছে তোমার? গাইতে জানো,নাচতে জানো, আবৃত্তি জানো? ভালো রান্না পারো? কী পারো তুমি? "
"কিছু পারিনা। স্বামীর কাছেও নির্লজ্জ হতে পারিনা। পরপুরুষের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে পারিনা, কারোর সংসার ভাঙার কথা মাথাতেও আনতে পারিনা।"
আমি ডিভোর্স দিলাম। দেনমোহরের টাকা নিলাম। বাচ্চাদের কাজে লাগবে। বাবা-মায়ের দেওয়া গয়নাগাটি নিলাম, ওর আর শ্বশুরবাড়ি থেকে দেওয়া একটা গয়নাও নিলামনা দশ বছরে শ্বশুর শাশুড়ি, ভাশুর, ননাস,ননদ অনেক গয়না দিয়েছেন।
শাশুড়ি কেঁদে বললেন, "আমার উপরে রাগ করছো কেন, মা? আমাদের অপরাধ কী? আমিতো ঐ মেয়েকে এই বাড়িতে ঢুকতেও দিবোনা। তোমার শ্বশুর, তোমার দেবর ননদেরা কেউ ঐ মেয়েকে মেনে নিবেনা। ছেলের মায়া ছাড়তে পারিনা, নইলে ওকে ত্যাজ্য করে দিতাম।আমাদের কাছে রায়হানের বৌ শুধু তুমিই। ও ডিভোর্স দিক, যাই করুক, তুমিই আমাদের বৌমা।"
" মা, আপনি আর বাবা সারাজীবন আমার মা-বাবা হয়ে থাকবেন। আমার দেবর ননদরা আমার ভাইবোন হয়ে থাকবে। আপনারা আমার অনেক ভালোবাসার জন। সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ, আন্তরিক হবে, মা।কথা দিলাম। যখন খুশি, আমার কাছে চলে আসবেন। "
"তুমিও চলে আসবে টগর-নয়নকে নিয়ে। এ বাড়ি ওদের। আর আমি আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করছি, কখনো ঐ মেয়ে আমার বাড়িতে আসতে পারবেনা। আমরা তোমার পাশে সবসময় থাকবো।"
শাশুড়ি মা তাঁর কথা রাখতে পারেননি। ছেলের মায়ায় হোক, বউকে মেনে নিয়েছেন। সময়ের সাথে সাথে দেবর ননদরাও লিসাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বাবা নেই আট বছর, মা পাঁচ বছর। ভাইবোনের সম্মতি আর উৎসাহে আমি আমার বাবা-মায়ের বাসায় উঠলাম। নিচতলা ও তিনতলায় ভাড়াটিয়া আছেন। এতো বড় বাসায় আমি আর আমার দুই ছেলেমেয়ে থাকি। গ্রাম থেকে দূর সম্পর্কের এক বিধবা, নিঃসন্তান ফুপুকে নিয়ে এসেছি।ভালোই চলছে সংসার।দ্বিতীয় বিয়ে করার কথা ভাবতেই পারিনা।
দুই ছেলেমেয়ে সবচেয়ে নামকরা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। পৌণে চার বছর বয়সে ভর্তি করেছিলাম। ওদের লেখাপড়ার জন্য যা দরকার, সেগুলো হিসাব করে ওদের বাবাকে জানিয়েছিলাম ডিভোর্সের পরে।মাসে মাসে খরচটা পাঠাবে।
অ্যামাউন্ট দেখে ওদের বাবা অবাক, " এতো অল্প টাকায় চলবে কীভাবে? "
"এতেই চলে যাবে।"
"আমি তোমাদের তিনজনের জন্যই মান্থলি টাকা পাঠাতে চাই।"
"কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা মা-বাচ্চারা স্বচ্ছন্দে জীবন পার করবো।"
আমি যে আদর্শে বিশ্বাস করি, সেই মতো মানুষ করছি টগর আর নয়নতারাকে। বাচ্চা দুটো খুব লক্ষী, ভদ্র , হৃদয়বান হয়েছে। স্বনির্ভর। মিষ্টভাষী, দায়িত্বশীল। পরোপকারী। আমাদের স্কুলে যায়, বাচ্চাদের সাথে খেলা করে, নিজেরাও মাঝেমধ্যে টিচার হয়। কোনো বাড়তি চাহিদা নেই। পড়াশোনাতেও ভালো।
আগেই বলেছি, আজ আমার তৃতীয় ডিভোর্স বার্ষিকী। অজানা নম্বর হতে ফোন এলো। আমি তখন ছাদে পায়চারী করছিলাম।
"হ্যালো, মুনিয়া? "
আমার প্রাক্তন স্বামী।
"বলো। কেমন আছো? "
"ভালো নেই। তোমাকে আর বাচ্চাদের ছাড়া ভালো নেই। "
" বাচ্চাদের সাথে দেখা হয়তো প্রতি মাসে।"
" এতে কোনো শান্তি হয়না। ওদের সারাক্ষণ দেখতে ইচ্ছা করে।তোমাকেও।"
আমি নিশ্চুপ থাকলাম। যা বলার, সে-ই বলুক।
" আমি খুব বড় অপরাধ করেছি। এই অপরাধের ক্ষমা নেই। আমি খুব , খুব অনুতপ্ত। "
আমি চুপ থাকলাম।
"মুনিয়া, লাইনে আছো?"
"আছি।"
"আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি নেই , তোমার মর্যাদা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি। তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মেয়ে।নিজের দোষে আমি তোমাকে হারালাম। তুমি ঠিকই বলেছিলে। আসলেই আমি মোহগ্রস্ত ছিলাম। মোহ ক্ষণস্থায়ী। লিসাকে বিয়ে করার পর হতে আমার মোহভঙ্গ শুরু হয়েছে। ভীষণ চালাক আর লোভী। চাহিদার শেষ নেই। টাকা দাও,শাড়ি দাও, গয়না দাও, শুধু দাও দাও দাও।"
"এসব কথা আমাকে বলছো কেন? ছেলেমেয়েদের স্কুলের খরচ দেওয়া নিয়ে তোমার স্ত্রীর আপত্তি থাকলে বলো, ওটা দিতে হবেনা।"
"কী বলছো তুমি মুনিয়া? তার লোভ,চালাকি, ধূর্তামিতে তাকে ঘেন্না করি আমি। যেমন সে, তেমন তার পরিবার।"
" আমাকে এসব বলছো কেন? "
" শুধু এটা বলতে, আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি। তোমার মূল্য আমি বুঝিনি। নাচতে,গাইতে, ছবি আঁকতে, অভিনয় করতে, গল্প-কবিতা লিখতে অনেকেই পারে, নিখাদ ভালোবাসতে পারে কতোজন? কয়জন স্বেচ্ছায়, পরম মমতায় অসুস্হের সেবা করতে পারে? কয়জন পারে গরীব, অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে? কয়জন আছে তোমার মতো যাদের লোভ, হিংসা, স্বার্থপরতা,অহংকার, কার্পণ্য স্পর্শ করতে পারেনি? কয়জন তোমার মতো সহজ,সরল, সৎ, সাহসী, এতোটা স্ট্রং পার্সোনালিটির হতে পারে? অন্যকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা কয়জনের আছে। তুমি অনন্য, অসাধারণ। এই কথাগুলো বলতে তোমাকে ফোন করেছি। লিসাকে আমি টলারেট করতে পারছিনা, ওকে ডিভোর্স দিচ্ছি, সেটা জানাতেও ফোন দিয়েছি।"
" আবার কোনো গুণী, স্মার্ট, সুন্দর মেয়েকে পছন্দ হয়েছে? তৃতীয় বিয়ে করবে? "
" না, তৃতীয় কেউ আসেনি, আসবেওনা। মুনিয়া, তুমি আসবে? আমি খুব ভালো স্বামী, খুব ভালো বাবা হবো, প্রমিজ। "
"প্রশ্নই ওঠেনা। আমি এখন খুব ভালো আছি।"
" তুমি আমাকে ভালোবাসোনা, তাইনা? "
" ভালোবাসি। একজন মানুষ অপর একজনকে যেমন ভালোবাসে, তেমন।"
" তুমি ভালো কাউকে জীবনসঙ্গী করে নাও।"
" তার প্রয়োজন দেখছিনা।ছেলেমেয়ে, কাজকর্ম নিয়ে দিব্যি দিন কেটে যাচ্ছে। "
" মাঝেমধ্যে ফোন করবো তোমার আপত্তি থাকলেও। আমার দরজা তোমার জন্য কখনো বন্ধ হবেনা। লাভ ইউ সো মাচ।"
"ওকে।রাখি।"
এমনও হয়? জীবনের পরতে পরতে কতো যে রহস্য! সূর্য ডুবছে। পশ্চিমের আকাশ লাল হয়ে আছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা উড়ে যাচ্ছে তাদের গন্তব্যে। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। নির্জন ছাদে অঝোরে কাঁদলাম কিছুক্ষণ। তারপরে চোখ মুছে রওনা হলাম বাসায়।
কতো স্বপ্ন, ইচ্ছা আর কাজ পড়ে আছে সামনে। ছোটোখাটো ব্যাপার নিয়ে ভাবার সময় কোথায়?
ভাঙা -গড়ার গল্প
ছোটো গল্প
নাহিদ ফারজানা সোমা
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Website
Address
Dhaka Chandragati