Comilla
15/07/2025
সকালে দেশের নামকরা একটা ব্যাংকে রেমিট্যান্স গ্রহন করতে গেলাম।
প্রথমে আমাকে যেতে হলো সার্ভিস ডেস্কে। সেখানে যে ভদ্রলোক কাজ করলেন, তিনি পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আধা ঘন্টার ওপর সময় নিলেন। এমন না যে, তিনি অলসতা করছিলেন। তিনি আসলে এর মাঝে অনেক কাজ করছিলেন। কিছু ফর্ম পূরণ করছিলেন, ফোনে কিছু ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলছিলেন এবং অনেক অনেক হিসাব করছিলেন।
এরপর আসলাম ক্যাশ কাউন্টারে। এখানে লাগলো আরও প্রায় ২৫ মিনিট। কারণ ৬টি কাউন্টারের মধ্যে মাত্র ২টিতে সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। এমন না যে, বাকীরা নেই বা বসে গান শুনছেন। তারাও কাজ করছেন, ফম পূরণ করছেন, ফোনে ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলছেন।
ব্যাংক বা ব্রাঞ্চের নাম বললাম না। তাতে কিছু যায় আসে না।
আপনারও নিশ্চয়ই এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে? ব্যাংকের নাম শীতলক্ষা হোক বা ব্রহ্মপূত্র; এই অভিজ্ঞতা আপনাদের সকলেরই হওয়ার কথা যে- ক্যাশ কাউন্টার বা সাভিস ডেস্কের সংখ্যা যাই হোক, তারা প্রত্যক্ষ কাস্টমার সামলানোর সময় পাচ্ছে না। গ্রাহক বসিয়ে রেখে তারা কীসব যেন করতে থাকেন। ৭-৮টা কাউন্টারের মধ্যে দেখা যায় বড় জোর ৩-৪টাতে এক্টিভলি কাজ হয়।
কেনো এমন হয়? কেনো এই মানুষগুলো তাদের মূল কাজ রেখে অন্যসব কাজে ব্যস্ত থাকেন? কী করেন তারা?
আসেন আপনাদের একটা গোপন কথা বলে দেই। এই মানুষগুলো আসলে ২৪ ঘন্টা একটা ভয়ানক টার্গেট বা কেপিআইয়ের পেছনে ছোটেন।
খুবই বিচিত্রভাবে আমাদের দেশের সব বেসরকারী ব্যাংকের কমীদের সকলের জব ডেসক্রিপশনে গত কয়েক বছর ধরে ঋণ প্রদান, এফডিআর সংগ্রহ, ডিপিএস সংগ্রহ, একাউন্ট বাড়ানো, ক্রেডিট কার্ড প্রদানের কাজ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আপনি ফ্রন্ট ডেস্কে কাজ করেন বা সাভিস ডেস্কে; এসব টার্গেট আপনাকে নিতেই হবে। আপনার জেডির সাথে মিলুক আর নাই মিলুক; আপনাকে এসব সেলসের কাজ করতেই হবে। আপনার কেপিআইয়ের বেশ উল্লেখযোগ্য একটা মার্ক বরাদ্ধ থাকবে এসব টাগেট পূরণের ওপর। এগুলো করতে না পারলে হয়তো ইমিডিয়েট কারো চাকরি যাবে না; তবে প্রমোশন বা ইনক্রিমেন্ট কার্যত থমকে যাবে। প্রমোশনের সম্ভাবনাই থাকবে না।
কেউ যে প্রমোশনের মায়া ছেড়ে এসব অবাস্তব টাগেটকে এড়িয়ে থাকবেন, তারও উপায় নেই। ম্যানেজার চামড়া তুলে ফেলবে। নইলে তার ব্রাঞ্চের টার্গেট পূরণ হবে না। তখন অন্য কেউ আবার তার চামড়া তুলে ফেলবে। ফলে চান আর নাই চান, এই নারকীয় প্রতিযোগিতায় আপনাকে নামতেই হবে।
এবার আপনি ক্যাশ কাউন্টারে বসে থাকা সদ্য স্নাতক তরুন ব্যাংকারের জায়গায় একবার নিজেকে ভাবেন। সে প্রায় বিসিএসের মতো কঠিন পরীক্ষা দিয়ে, ট্রেনিং নিয়ে এই চেয়ারে এসে বসেছে। এই নগরে তার কোনো ক্লায়েন্ট লিড নাই, সে কোনো ব্যবসায়ী-চাকরিজীবিকে চেনে না। সে শুধু তার কাজটা পারে। কিন্তু তাকে ২৪ ঘন্টা আসলে ভাবতে হচ্ছে ওই টাগেট পূরণ নিয়ে- কিভাবে আরেকটা লোন করানো যাবে, কিভাবে আরেকটা ক্রেডিট কার্ড সেল করা যাবে। সামনে বসা গ্রাহককে ইতস্তত করে সে একটা এফডিআর করতে বলতে চায়; কিন্তু তাতে গ্রাহক খেপে গেলে চাকরিটাই চলে যাবে। সে তখন শেষ বিকেলে ম্যানেজারের ভযঙ্কর মুখটা মনে করে কাঁপতে থাকে।
ফলে সে কখনো বিভিন্ন অনিশ্চিত জায়গায় ফোন দেয়, কখনো কারো ফর্ম পূরন করে গ্রাহক বানানোর চেষ্টা করে, কখনো সিনিয়রের টেবিলে গিয়ে একটা লিডের জন্য দাড়িয়ে থাকে। তার আসল কাজ, গ্রাহককে সেবা দেওয়া; সেটা পড়েই থাকে।
এভাবেই আমাদের তরুনদের বিচিত্র সব কেপিআইতে আটকে ফেলে করপোরেট দুনিয়া। আর আমরা আশা করি, এই দেশের ক্লায়েন্ট সার্ভিস মানসম্পন্ন হবে একদিন!
হায় কেপিআই!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the organization
Address
Cumilla