Md Rony C
খাজা বাবা
01/11/2025
#গল্প জীবন সঙ্গী
#পর্ব ৩
: khan gp
এইদিন আর তাদের মাঝে কথা হয় নি, পরের দিন দুষ্টু মেয়ে একের পর এক মেসেজ দিয়েই যাচ্ছে, কিন্তু রাহুলের কোনো রেসপন্স নেই। ছয় ঘন্টা পর রাহুল এসে রিপ্লে দিলো। এতে কিছুটা রেগে যায় দুষ্টু মেয়ে।
রাহুল : করেন
দুষ্টু মেয়ে : কিছু না
রাহুল : খাবার খাইছেন
দুষ্টু মেয়ে : না
রাহুল : কেন
দুষ্টু মেয়ে : খিদে নাই, আমরা দুজন ত একে অপরের বন্ধু, তাহলে কি তুমি করে বলা যায় না।
রাহুল : আচ্ছা ঠিক আছে এখন থেকে তুমি করে বলবো
দুষ্টু মেয়ে : হুম
এভাবে তাদের মাঝে প্রায় ১ বছর কথা হয়, রাহুল এখনো বাড়ির কারো সাথে যোগাযোগ করে না, বাড়িতে ও যায় না, মুক্তার উপর এখনও তার অনেক অভিমান জমে আছে।
রাহুল আর দুষ্টু মেয়ে তাদের সম্পর্কটা এমন হয়ে যায় যে একদিন কথা না হলে যেন দুজনের মনেই ছটফট শুরু করে। দুজন দুজনের সম্পর্ক সবকিছু জানলেও রাহুল এখনো বুঝতে পারে নাই কে এই মেয়ে। দুষ্টু হঠাৎ প্রপোজ করে বসে রাহুল কে, কিন্তু রাহুল কিছুতেই রাজি হতে চাচ্ছে না।একপর্যায়ে রাহুলকে দেখা করতে বলে দুষ্টু মেয়ে। অনেক রিকুয়েষ্ট করার পর রাহুল রাজি হয়, রাহুল এর পাশের গ্রামের পরিচয় দেয় দুষ্টু মেয়ে। ২ বছর পর রাহুল বাড়ি যেতে চলছে। রাহুল বাড়ি গিয়ে দেখে তার বউ মুক্তা বাসায় নেই, এতে তার কোনো জানার ইচ্ছে ও নেই। বাড়িতে গিয়ে দেখে সবাই তার উপর রাগ করে বসে আছে কেউ কথা বলছে না তার সাথে, এক এক করে সবার রাগ ভাঙায় তারপর রেডি হয়ে চলে যায় দুষ্টু মেয়ের সাথে দেখা করতে, পাশের গ্রামের এক পার্ক আছে সেখানে অপেক্ষা করছে দুষ্টু মেয়ে। রাহুল সেখানে গিয়ে দেখে মুক্তা বসে আছে, রাহুল মনে মনে ভাবতে সে এখানে কি করছে, নিশ্চয়ই কারো সাথে দেখা করতে আসছে, রাহুল আড়াল থেকে দেখছে মুক্তা একাই বসে আছে কিন্তু কেউ আসছে না। রাহুল এবার দুষ্টু মেয়েকে কল দিতেই মুক্তার ফোন বেজে উঠলো। কি ব্যাপার দুষ্টু মেয়েকে কল দিলে ওর ফোন বাজে কেন তাহলে কি মুক্তাই সেই দুষ্টু মেয়ে। রাহুল এবার কল কেটে আরেক বা কল দিতেই মুক্তার ফোন বেজে উঠে। মুক্তা কিছুটা বুঝতে পেরে চারপাশে তাকাতে লাগলো আর রাহুকে দেখে ফেলে। এক দৌড়ে রাহুল এর কাছে গিয়ে তার পায়ে দরে ক্ষমা চাইতে লাগলো, কিন্তু রাহুলের মনে এখনো অভিমান রয়ে গেছে তাই সে কোন রেসপন্স করছে না
রাহুল : পা ছারো বলছি
মুক্তা : আমি আমার ভুল বুঝতে পারছি প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি জানি আমি যেই অপরাধ করছি তা ক্ষমার অযোগ্য। তাই ফেইক আইডি খুলে আপনার সাথে কথা বলছি। আমার জন্য আপনার প্রিয় মানুষ মারা গেলো এরোকমটা হয়ে যাবে আমি কখনো ভাবিনি। আপনি যেদিন কান্না মুখে আমায় চর মারেন, তার পর থেকে অনেক ইচ্ছে হয়েছিলো আপনার সাথে কথা বলার, সেদিন এর পর থেকে আপনি আমার মনে জায়গা করে নেন৷ কিন্তু আপনার সাথে কথা বলার সাহস পাচ্ছিলাম,,,,,
রাহুল : পা ছাড়তে বলছি
মুক্তা : আপনি যদি ক্ষমা না করেন তাহলে পা ছারবো না, নিজেকে শেষ করে দিবো ( কান্না করে)
রাহুল : ঠিক আছে ক্ষমা করে দিলাম এবার পা ছারো,
রাহুল তার নিজ হাতে মুক্তার দুই হাতের ডানায় দরে উপরে তুলে, বাসার উদ্দেশ্য রওনা দেয় কিছু পথ যাওয়ার পর কিছু বকাটে গুন্ডা এসে তাদের সাথে ঝামেলা করতে থাকে, গুন্ডাগুলো : কিরে মালটা তো সেই তুই কি একাই খাবি আমাদেরকেও দে মিলে মিশে খাই রাহুল রেগে যাচ্ছে এমন সময় মুক্তা রাহুল এর হাত শক্ত করে দরে ফেলে রাহুল যেনো কোনো ঝামেলা না করে তাদের সাথে। মুক্তা চাচ্ছে না এতোগুলা গুন্ডার সাথে রাহুল মারা মারি করুক এতে যদি রাহুলের কিছু হয়ে যায়। গুন্ডা গুলো এবার মুক্তার আচল দরে টানাটানি করতে থাকে রাহুল আর নিজেকে কনট্রোল করতে না পেরে গুন্ডার জোরে এক ঘুসি মারতেই সে ছিটকে গিয়ে দুরে পরে যায়, এবার সবাই একসাথে চলে আসে রাহুল কে মারতে রাহুল একের পর এক সবাইকে মারতে থাকে। শেষপর্যায়ে গুন্ডার ছুরির আঘাত রাহুলের বুকে এসে লেগে যায় রাহুল নিচে পরে যায় আর গুন্ডাগুলো পালিয়ে যায়। মুক্তা চিৎকার করতে করতে দৌড়ে এসে রাহুল কে জড়িয়ে দরে, এমন সময় পাশ দিয়ে কে যেন যাচ্ছে মুক্তা তার কাছে হেল্প চেয়ে দুজনে দরে রাহুলকে হসপিটালে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাহুল ও মুক্তার পরিবার হসপিটালে চলে আসে। অপারেশন শেষ, রাহুল এখন ঠিক আছে তবে হসপিটালে তাকে ৭ দিন থাকতে বলে ডাক্তার। এই ৭ দিন রাহুলের পাশে মুক্তা আঠার মতো লেগে ছিলো। একটু সময়ের জন্য ও রাহুলের থেকে আড়াল হয় নি, রাহুল এর খাওয়া দাওয়া ঔষধ এবং ওয়ারস রুমে নিয়ে যাওয়া সকল দায়িত্ব মুক্তা পালন করেছে। রাহুলের মনেও এখন মুক্তা কিছুটা জায়গা করে নিয়েছে। ৭ দিন শেষ আজকে তাদের বাড়িতে যাওয়ার পালা সবাই আসছে, গাড়িতে করে সবাই একসাথে যাচ্ছে রাহুলের পরিবার সবাই আছে। মার্কেটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো গাড়িটি, মার্কেটের ঠিক সামনে এসে রাহুল গাড়ি ব্রেক দিতে বলে
রাহুল : ২ মিনিট আমি আসছি
মুক্তা : আমি আসবো আপনার সাথে
রাহুল : আসতে হবে না, বসে থাকো ২ মিনিট লাগবে
রাহুল এর মা সহ অনেকে নিষেধ করে তাদের কথায় কান না দিয়ে রাহুল মার্কেটের ভিতর গিয়ে কিছু একটা কিনে নিয়ে ২ মিনিটের মধ্যেই চলে আসে। সবাই তাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে মার্কেটের ভেতর কেনো গিয়েছে, কিন্তু রাহুল সত্যিটা সবার কাছে লুকিয়ে রাখে।
#চলবে
11/06/2025
আমার কষ্ট। শেষ করা অনেক সুন্দর একটি গল্পের লিংক
পর্ব ১
https://www.facebook.com/share/p/16HwnsTmpF/
পর্ব ২
https://www.facebook.com/share/p/1FLf7yRqhK/
পর্ব ৩
https://www.facebook.com/share/p/1AZyKAeBPr/
পর্ব ৪
https://www.facebook.com/share/p/19KbCTcsbZ/
পর্ব ৫
https://www.facebook.com/share/p/159Z1YfB53/
পর্ব ৬
https://www.facebook.com/share/p/16D8oJUm36/
পর্ব ৭
https://www.facebook.com/share/p/1Akb86n8U7/
পর্ব ৮
https://www.facebook.com/share/p/1Bi3LowZ4G/
পর্ব ৯
https://www.facebook.com/share/p/19UJbQs4yd/
পর্ব ১০
https://www.facebook.com/share/p/1ApKMyejET/
পর্ব ১১
https://www.facebook.com/share/p/1Az7oqrxNt/
পর্ব ১২
https://www.facebook.com/share/p/19LtdiCMnn/
এই হ্যালো ঠিক আছেন আপনি, রুপা গাড়ি থেকে পানি নিয়ে আই, তাড়াতাড়ি নিয়ে আই, পানি মারার সাথে সাথে অনিকের চোখ খুলল, অনিক হা করে তাকিয়ে আছে মেয়েটির দিকে কি অপরুপ সুন্দর, মায়াবী চোখ, এভাবে কেউ রাস্তা পার হয়, কোথাও লাগেনি ত আপনার এই হ্যালো শুনছেন, অনিকের চোখের সামনে হাত দিয়ে ইশারা করতেই তার ভাবনা কেটে গেলো, আপনার হাত দিয়ে ত রক্ত পড়ছে চলুন আপনাকে হসপিটালে নিয়ে যায়,
রক্ত পরার দরকার আছে, এই রক্তের কোনো দাম নাই, আমি মরে গেলেও আফসোস করার মতো কেউ নেই, কি বলছেন এগুলো এতো কথা না বলে চলুন ত আমার সাথে, অনিক বসা থেকে উঠতে যায় কিন্তু উঠতে পারছে না, এই রুপা দরনা একটু, রুপা আর মায়াবতী দুজনের কাঁধ করে অনিক কে গাড়ির মধ্যে তুলে হসপিটালে নিয়ে যায়।
অনিকের চিকিৎসা শেষে
মায়াবতী : কিছু মনে না করলে আপনার ফোন নাম্বারটা কি পেতে পারি না মানে আপনি সুস্থ হলেন কিনা সেটা জানার জন্য
অনিক : আমার ফোন নাই ( লজ্জিত হয়ে)
মায়াবতী : কি বলেন এই যুগে আপনার মতো একটা ছেলের কাছে ফোন নেই, আমার ত বিশ্বাস ই হচ্ছে না
অনিক : যেটা সত্যি সেটাই বললাম, বেঁচে আছি এটাই বেশি।
মায়াবতী : আচ্ছা আগামীকাল এমন সময় আপনাকে কোথায় পাওয়া যাবে, বাসায় বাবা মা টেনশন করছে তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে, আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনি অনেক কষ্ট আছেন, আপনার দুঃখ গুলো আমার জানা দরকার।
অনিক : আমার দু:খ সুনলে সইতে পারবেন না। আমার জীবনের সাথে যে জরাবে সেও একসময় আফসোস করবে,তাই বলছি আর দেখা না করলেই ভালো হয়
মায়াবতী : বেশি কথা বলেন আপনি, কালকে এমন সময় কোথায় পাওয়া যাবে আপনাকে সেটা বলেন
অনিক : আমাদের মহল্লার পিছনে একটা মরা নদী আছে সেখানে প্রায় থাকি, সেখানে পাবেন।
মায়াবতী : আপনার কাছে কি ভাড়ার টাকা আছে
অনিক : না, হেটেই যেতে পারবো সমস্যা নাই , আপনি চলে যান, আপনার অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে মনে হয়
মায়াবতী : ১০০০ টাকার একটা নোট অনিকের হাতে দরিয়ে দিয়ে চলে যায়, যদিও অবশ্য অনিক নিতে চায় নি
অনিক টাকাটা পকেটে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্য হাটা দরলো, টাকাটা আগামীকাল কাজে আসবে তাই আর খুচরা করলো না। বাসায় ডুকতেই অনিকের বোন আনিকা
আনিকা : বাবা দেখো তোমার নবাবজাদা ছেলে এসেছে হুট করে অনিকের বাবা চলে আসলো
বাবা : তর কি একটুও লজ্জা নাই, তকে যে এতো কথা বলি তর গায়ে লাগে না, এতো মানুষ মরে তুই মরতে পারিস না, বাপের গারে বসে আর কতদিন খাবি, আর হাতে কি তর নতুন কোনো অভিনয় শুরু করছছ নাকি,
তাদের চিৎকার চেচামেচি শুনে অনিকের মা চলে আসলো, অনিকের মা হাতে একটা লাঠি নিয়ে অনিককে মারতে লাগলো আর বকাবকি করতে লাগলো, এক পর্যায়ে অনিকের হাতের কাটা জায়গায় বারি পরে
অনিক : 😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭 চিৎকার করে কান্না করতে করতে বেহুশ হয়ে মাটিতে পরে জায়
আনিকা : থাক মা আর মেরো না না হলে আবার মরে জাবে,
আনিকা ও তার বাবা মা বাসার বেতরে চলে যায়, এদিকে অনিকের রক্ত জড়া দেহ বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে ৩ ঘন্টা ১০ মিনিট পর অনিকের হুঁশ আসে, এর মাঝে তাকে কেউ একবার দেখতেও আসেনি, তখন রাত ৯ টা বাজে, অনিকের পেটে অনেক খুদা পেয়েছে, পুরো গায়ে রক্ত আর বালি, হেলে ডুলে কোনো রকম বাসায় ডুকলো, সবাই তখন খাবার খাচ্ছে, পেটের খুদা অনিক সইতে পারছে না, তাই অনিক ও খেতে বসে পরলো, সবাই মাছ দিয়ে খাচ্ছে আর অনিককে সাদা ভাত আর শুধু একটু ঝুল দিলো, অনিক কোনো অভিযোগ না করেই তাই দিয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে পরলো,
সকালে অনিকের গায়ে অনেক জর, পুরো শরীর ব্যাথায় কাপছে, না খেয়ে সারাদিন বিছানায় শুয়ে আছে কেউ একবারের জন্যও খবর নিতে আসেনি বিকাল বেলা অনিকের হঠাৎ মনে পরলো ঐ মেয়ের কথা ( যার নাম মায়াবতী কিন্তু অনিক কিন্তু এখনো নাম জানে না)
এদিকে মায়াবতী নদীর কিনারে এসে অপেক্ষা করছে অনিকের জন্য, প্রায় এক ঘন্টার মতো হলো অনিকের কোনো দেখা নাই, মায়াবতী আর অপেক্ষা করতে পারছে না চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে নিলো, গাড়িতে উঠতে যাবে ঠিক তখনি লক্ষ্য করলো কে যেনো তার দিকে এগিয়ে আসছে, চেহারা দেখা যাচ্ছে না, পুরো গায়ে চাদর দিয়ে মুরানো, মায়াবতী কিছুটা ভয় পেয়ে
( আপনাদের কমেন্টের উপর নির্ভর করবে চলবে কি চলবে না, ভালো সারা পেলে পরের পর্বদিবো, বানানে ভুল থাকতে পারে বুঝে নিয়েন)
#আমার কষ্ট
#পর্ব ০১
gp
#চলবে
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Cumilla