Science Express

Science Express

Share

14/04/2026

বেলারুশের Pavel Silivonchik একটি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় তার ডান চোখ হারান। সেই দুর্ঘটনায় তার নাকের বড় একটি অংশও নষ্ট হয়ে যায় এবং মুখজুড়ে গভীর দাগ পড়ে। ডাক্তাররা স্কিন গ্রাফটের মাধ্যমে তার মুখের কিছু অংশ পুনর্গঠন করেন, এমনকি ভাস্করদের সাহায্যে পুরোনো ছবির ভিত্তিতে তার নাকও আবার তৈরি করা হয়। কিন্তু হারানো চোখটি ছিল সবচেয়ে কঠিন সমস্যা।
সংক্রমণ যাতে তার সুস্থ চোখে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সার্জনরা চোখটি পুরোপুরি অপসারণের পরামর্শ দেন। কিন্তু পাভেল, যিনি ডায়াবেটিসেও ভুগছিলেন, বারবার অপারেশনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “যা কাজ করে না, আমি তা আঁকড়ে ধরে থাকি না।”
তখনই তিনি ভিন্ন একটি পথ বেছে নেন—আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের বদলে তিনি একজন মেডিকেল ট্যাটু শিল্পীর কাছে যান, যিনি ট্রমা ও ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা রোগীদের জন্য অত্যন্ত বাস্তবসম্মত 3D কাজ করেন। এই জায়গাটাতেই আসে Paramedical Tattoo—যা আসলে চিকিৎসা ও শিল্পের এক অসাধারণ মিশ্রণ।
প্যারামেডিক্যাল ট্যাটু সাধারণ ট্যাটুর মতো নয়। এখানে লক্ষ্য থাকে দাগ, পোড়া অংশ বা অপারেশনের চিহ্নকে এমনভাবে ঢেকে দেওয়া, যেন তা স্বাভাবিক ত্বকের মতো দেখায়। শিল্পী শুধু আঁকেন না—তিনি প্রথমে রোগীর ত্বক ভালোভাবে বিশ্লেষণ করেন, পুরোনো ছবি থাকলে সেগুলো দেখেন, তারপর সেই অনুযায়ী কাস্টম রঙ তৈরি করেন। অনেক সময় এমন নিখুঁত শেডিং করা হয় যে বাস্তব আর ট্যাটুর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যায়।
পাভেলের ক্ষেত্রেও শিল্পীটি প্রায় এক বছর সময় নিয়ে তার পুরোনো ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেন, রঙ তৈরি করেন এবং কৃত্রিম ত্বকে অনুশীলন করেন। এরপর খুব সূক্ষ্মভাবে ত্বকের উপরিভাগে রঙ প্রয়োগ করে তার বন্ধ চোখের পাতার ওপর একটি চোখের আকৃতি তৈরি করেন।
শেষ ফলাফল—একটি অবিশ্বাস্যভাবে বাস্তবসম্মত চোখের ট্যাটু, যা প্রথম দেখায় একেবারে স্বাভাবিক মনে হয়।
এটা কোনো সার্জারি নয়, তাই তুলনামূলকভাবে ঝুঁকি কম। তবে পুরোপুরি স্থায়ীও নয়—সময় গেলে রঙ হালকা হতে পারে, তখন আবার ঠিক করতে হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, এই পদ্ধতি একজন মানুষকে তার হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করে—যা অনেক সময় যেকোনো অপারেশনের চেয়েও বেশি

📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha

07/04/2026

নীরব ঘরে বসে আছেন আপনি। চারপাশে কোনো শব্দ নেই, অথচ আপনার কানে বাজছে এক অদ্ভুত আওয়াজ—নিজের শরীরের ভেতরের শব্দ। হৃদস্পন্দনের ঢিপঢিপ, রক্তের প্রবাহের শো-শো কিংবা চোখ নড়াচড়ার ক্ষুদ্র খসখস শব্দ। কল্পনায় অস্বস্তিকর মনে হলেও বাস্তবে অনেক মানুষ ঠিক এমন ভৌতিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। তারা বছরের পর বছর ডাক্তারদের কাছে গিয়েছেন, কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই তাদের অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। অনেককে বলা হয়েছে এসব কেবল কল্পনা, আবার কেউ ভুল রোগ নির্ণয়ের শিকার হয়েছেন।

১৯৯৫ সালে এই রহস্যময় অবস্থার সমাধান খুঁজে পান যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির চিকিৎসক ড. লয়েড মাইনর। তিনি এক রোগীর সঙ্গে দেখা করেন, যিনি শব্দ শুনলে চোখে দৃষ্টিবিভ্রম অনুভব করতেন। বিস্ময়কর এই উপসর্গ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ড. মাইনর আবিষ্কার করেন এক বিরল রোগ—Superior Canal Dehiscence Syndrome (SCDS)। মানুষের কানের ভেতরে সুপিরিয়র সেমিসারকুলার ক্যানাল নামের সূক্ষ্ম গঠনটি শক্ত হাড় দিয়ে ঢাকা থাকে। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সেই হাড়ে ছোট্ট একটি ছিদ্র তৈরি হয়। এই ছিদ্র হয়ে ওঠে এক অস্বাভাবিক “তৃতীয় জানালা” যার মাধ্যমে শরীরের ভেতরের ক্ষুদ্র শব্দ কানে প্রবেশ করে অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে শোনা যায়। ফলে রোগীরা নিজের হার্টবিট, নিজের কণ্ঠস্বরের প্রতিধ্বনি, এমনকি চোখের নড়াচড়ার শব্দ পর্যন্ত শুনতে পান। শুধু তাই নয়, ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, হাঁটা-চলাফেরাও হয়ে ওঠে কঠিন।

ড. মাইনর শুধু রোগটির কারণ খুঁজে পাননি, তিনি এর চিকিৎসার পথও খুলে দেন। তিনি এক ধরণের অস্ত্রোপচার প্রবর্তন করেন, যেখানে হাড় ও টিস্যু ব্যবহার করে সেই ছিদ্র সিল করে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল ছিল তাৎক্ষণিক ও নাটকীয়। যেসব রোগী বছরের পর বছর ধরে নিজেদের শরীরের শব্দ শুনে ভুগছিলেন, তারা হঠাৎ করেই শান্ত নীরবতায় ফিরে আসেন। শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক হয়ে যায়, ভারসাম্যের সমস্যা কমে যায় আর মানসিক যন্ত্রণার অবসান ঘটে।

এরপর থেকে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ জনস হপকিন্সে গিয়েছেন এই অস্ত্রোপচার করাতে। কেউ কেউ দেশ-বিদেশ পেরিয়ে ভ্রমণ করেছেন শুধু সেই সুযোগের জন্য—যাতে তারা আবার নীরব জীবনে ফিরতে পারেন। কারও জন্য সবচেয়ে অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হলো যখন প্রথমবার তারা বুঝতে পারেন, আর নিজের চোখ নড়াচড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে না।

ড. লয়েড মাইনরের আবিষ্কার প্রমাণ করেছে যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় এখনো বহু রহস্য অপেক্ষা করছে। যেসব উপসর্গকে একসময় অবাস্তব ভেবে উড়িয়ে দেওয়া হতো, সেগুলোই হতে পারে জটিল শারীরবৃত্তীয় বাস্তবতা। আর চিকিৎসার অগ্রগতি মানুষের জীবনকে ফেরাতে পারে স্বস্তি, নীরবতা এবং স্বাভাবিকতার সহজ আনন্দে।

📍 যুক্ত হোন : বিজ্ঞানচর্চা - BigganChorcha

Want your business to be the top-listed Engineering Company in Cumilla?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address


Maijdee Court
Cumilla