NOOR

NOOR

Share

Photos 10/03/2017

আমরা যে দুনিয়ায় বসবাস করছি তা আসলে তৈরি হয়েছে আমাদের ব্যবহারের জন্য! কিন্তু আমরা ভুলটা করে বসি যখন আমরা চিন্তা করি এই দুনিয়ার জন্যই আমরা তৈরি, তাই দুনিয়াই আমাদের সব! আবার দুনিয়ার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই ধরে নিয়ে সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে একেবারে সন্ন্যাসী হয়ে যেতে হবে ব্যাপারটা তাও নয়! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি! তিনি দুনিয়াকে আখিরাতের পাথেয় হিসেবে যথাযথভাবে ব্যবহার করেছিলেন! তিনি অনুরত ছিলেন শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ সুবহানুতাআলার সাথে। কারণ মহান আল্লাহর কাছ থেকেই তিনি দুনিয়া আর আখিরাত কি জেনেছেন। আল্লাহ্‌ পবিত্র কুর’আনে বলেন-----
“ পার্থিব জীবন ক্রীড়া কৌতুক ছাড়া কিছু নয়, আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন- তারা যদি জানত!” [সূরা আনকাবুতঃ৬৪]

তাই দুনিয়ার ক্রীড়া কৌতুক থেকে আলাদা হয়ে পড়াই প্রকৃত বিচ্ছিন্নতা নয়। প্রকৃত বিচ্ছিন্নতা হল আমাদের মনোযোগ যখন আখিরাত থেকে সরে যায়! যখন আমাদের ভেতর ভর করে শুধুমাত্র দুনিয়া! হযরত আলি (রাঃ) এর একটি চমৎকার কথা বর্ণিত আছে, “Detachment is not that you should own nothing. But that nothing should own you"

আর আল্লাহ্‌ পবিত্র কুরআনে দুনিয়াকে সম্পদ বলেছেন। “দুনিয়া হল একটি ব্যবহার যোগ্য সম্পদ, এটি একটি হাতিয়ার”. এটা আমাদের পথ, আমাদের গন্তব্য নয়! দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক বুঝাতে রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এই দুনিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক কি? আমি এই পৃথিবীতে একজন পথিক যে একটি বৃক্ষের ছায়াতলে কিছুক্ষণের জন্যে অবস্থান নেয় এবং ক্ষণিকের বিশ্রাম শেষে বৃক্ষটিকে পিছনে ফেলে আসে”

এটাই ইসলাম! ইসলাম এভাবেই সত্য মিথ্যার পার্থক্য গড়ে দেয়! একজন মুসলিম হিসেবে আমরা আমাদের গন্তব্য জানি, এই পৃথিবীতে আমাদের কি করনীয় তাও জানি! তাই আমাদের যখন প্রশ্ন করা হয় তুমি কি করছ এই দুনিয়ায়? সৃষ্টির উদ্দেশ্য কি?? তখন আমরা মোটা মোটা বইয়ের ফাঁকে মাথা মোটা কাফেরদের থিউরি আর দর্শনে উত্তর খুঁজি না! এই প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ্‌ নিজেই দিয়েছেন...

“আমি জিন ও মানবকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র এই কারণেই যে, তারা আমারই ইবাদাত করবে”। [ সূরা আয-যা-রিয়াতঃ৫৬]

একজন বিশ্বাসী মুসলিম মাত্রই আখিরাতের ব্যবস্থাকারী, সে আখিরাতের জন্য বাঁচবে। কেন? কারণ তার আছে বিশ্বাস, আস্থা____ মহান আল্লাহর প্রতি! তার প্রতিশ্রুতির প্রতি! আর মহান আল্লাহ্‌ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন____
“আল্লাহ্‌ তায়ালা ইমানদার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের জান ও মাল খরিদ করেছেন এবং তার বিনিময়ে তাদের জন্য জান্নাত নির্দিষ্ট করে রেখেছেন”। [সূরা আত-তাওবাঃ১১১]

একজন সত্যিকারের মুসলিম সে মদ পান করবে না, যিনা করবেনা, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করবেনা এমনকি কারো কাছ থেকে একটা পয়সাও মেরে দেবে না কারণ সে জানে এসবের মাধ্যমে সে হয়ত এই দুনিয়ায় একটু ভাল থাকবে কিন্তু তাকে আখিরাত হারাতে হবে। আর একজন মুসলিমের কাছে দুনিয়া নয় আখিরাতই মুখ্য! নিজের উপর অত্যাচারী শাসকের নির্যাতনের জবাবে ইবন তাইমিয়া যেমন বলেছিলেন---

“তোমরা আমাকে কি করবে?
আমিতো এই পৃথিবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নই,
আমি আখিরাতের জন্য বাঁচি।”

আজ আমাদের দুনিয়া লোভী ভোগবাদী জীবনদর্শন আমাদের জীবনটাকেই অর্থহীন করে তুলছে দিন দিন। চেতন বা অবচেতন মনে হোক কিংবা চাপিয়ে দেওয়া সিস্টেমের মানসিকতার কারণে হোক আজ আমরা খাও-দাও-ফুর্তি কর জীবনটাকেই বেছে নিচ্ছি আখিরাত ভুলে। আর আমাদের মত হতভাগ্য মানুষগুলোর জন্যই হয়তো আলি (রাঃ) বলেছিলেন, “দুনিয়া হচ্ছে সাপের মত, ধরতে নরম কিন্তু এর কামড় খুব শক্ত”।

“প্রতিটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে আর তোমাদেরকে (তোমাদের কাজের) পুরোপুরি প্রতিদান কেয়ামতের দিন দিয়ে দেওয়া হবে। ভাল কাজের পুরস্কার বেহেশত আর খারাপ কাজের পুরস্কার জাহান্নাম। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে আর জান্নাতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সফলতা লাভ করল। আর দুনিয়ার জীবনতো ধোঁকার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়”। [সূরা আলে ইমরানঃ ১৮৫]

যারা আখিরাত নিয়ে চিন্তিত থাকবে তারা আখিরাতে নিশ্চিন্ত থাকবে।

Photos 23/02/2017

‘প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে চলে’ - এই কথাটা আমরা অনেকবারই শুনেছি জীবনে। না শুনলেও উপলব্ধি করেছি নিশ্চয়ই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি কে সেই সত্ত্বা যিনি প্রকৃতির এই নিয়ম তৈরি করেছেন??!
আজ আমরা যে খাদ্যটা মুখে তুলে নিচ্ছি আমরা কি জানি সেই খাদ্য কিভাবে কত ঘটনা প্রবাহ পেরিয়ে শত হাত ঘুরে আমাদের কাছে এসেছে??

ধরুন যদি অনেকদিন সূর্য না উঠত? তাহলে কিভাবে গাছপালা ফল ফলাতো??, যদি না পাওয়া যেত ফসল ফলানোর আবশ্যকীয় আবহাওয়া বা অন্যান্য উপাদান?? কার তৈরি করা নিয়মে প্রতিনিয়ত চলছে এইসব??
আমরা কি কখনো উপলব্ধি করেছি আমাদের অনুভুতিগুলো নিয়ে?? কেন আমাদের মধ্যে ভালো লাগা মন্দ লাগার অনুভুতিগুলো তৈরি হয়?! কে সেই সত্বা যিনি আমাদের মধ্যে এই উপাদানগুলো জুড়ে দিয়েছেন?! যে শিশুটির কয়েক ঘন্টা আগে মাত্র চোখ ফুটেছে কিভাবে সে তার মাকে চিনে যায়? কিভাবে এতটা আপন ভাবে??!

বুকের খাঁচায় বসানো রয়েছে অদ্ভুত এক যন্ত্র, নাম তার হৃদযন্ত্র, যা সারা জীবন রক্ত সঞ্চালন করে চলেছে। কার হুকুমে? কার পরিকল্পনায়?! চোখ? সেতো আরেক বিস্ময়! প্রশান্তিতে চারিদিক তাকালেও শান্তি, ক্লান্তিতে দুচোখ বন্ধ করলেও শান্তি। নতুন আইফোন ক্যামেরার রেসুলুসান নিয়ে কতই না কৌতূহল আমাদের। কখনো কি ভেবে দেখেছি আমাদের চোখ জোড়া নিয়ে। আন্দাজ করতে পারেন এগুলো কত রেসলুশানের?? কতটা সফিস্টিকেটেড?!

আমাদের সৃষ্টির এই পরিকল্পনা, এই নির্মাণশৈলী বর্ণনা করে শেষ করার মত নয়। আমরা যা কিছু অনুভব করি, সবই একটি সুপরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট নিয়মে চলছে এবং গড়ে উঠেছে। এর রয়েছে একজন মহান স্রষ্টা। তিনি এক মহান পরিকল্পনাকারী। The ultimate planner, The programmer...

Want your business to be the top-listed Business in Chittagong?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


Halishohor
Chittagong
4000