SEFAT

SEFAT

Share

13/02/2026

নোয়াখালী ০৪ আসন সদর-সুবর্ণচরে বিএনপি বিজয় হওয়ায় গভীর রাতে সুবর্ণচর উপজেলায় আ°ওয়ামী স্টাইলে স*ন্ত্র|সী স্লোগান।

17/10/2025

05/09/2025
21/08/2025

চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না।
আজ এক বাবা তার পুরো পরিবারসহ চলে গেছেন পরপারে। তিনি একটি চিরকুট লিখে গেছেন সবকিছু।

বিছানার পাশে পড়ে থাকা ওই চিকুটে লেখা ছিল,‘‘আমরা ৪জন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেব, আর দেখা হবে না। আমি মিনারুল। নিচে যেসব লেখা লিখব, সব আমার নিজের কথা, এই কারণে লিখে যাচ্ছি, কারণ, আজ রাতে আমরা ৪ জন মা... রা যাবো। এর জন্য কারও কোনো দোষ নেই। কিন্তু এই লেখাটি লিখে না গেলে, পুলিশ অন্য কাউকে ফাঁসিয়ে দিয়ে টাকা খাবে। আমি মিনারুল প্রথমে আমার বউকে, তারপর আমার মাহিনকে, তারপর আমার মিথিলাকে....এরপর আমি নিজে, চলে গেলাম। আর দেখা হবে না, খোদা হাফেজ।

এরপর লেখা ছিল, ‘আমাদের চারজনের মরা মুখ যেন আমার বাপের বড় ছেলে আর তার বউ-বাচ্চা না দেখে এবং বড় ছেলে যেন জানাজায় না আসে। আমাদের চারজনকে কাফন দিয়ে ঢাকতে আমার বাবা যেন টাকা না দেয়। এটা আমার কসম।’’

আরেক পৃষ্ঠায় লেখা ছিল, ‘আমি নিজে একা চলে যেতে পারতাম-কিন্তু আমার বউ, ছেলেমেয়েকে দেখার কেউ নেই। তারা কার আশায় বেঁচে থাকবে। ঋণের বোঝা আর বইতে পারছি না। আমরা চলে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না। এখন থেকে আমার জন্য আর কাউকে অন্যের কাছে ছোট হতে হবে না। আমার বাবা আমার জন্য অনেক লোকের কাছে ছোট হয়েছে। আর হতে হবে না।’’

এরপরই ঘটে হৃদয়বিদারক ঘটনা।
কিন্তু এই বাস্তবতার বাইরেও আরও একটি সত্য আছে।

মিনারুল নামের এই ব্যক্তি একসময়ে জুয়া খেলতো। জুয়া খেলার সময়ই তিনি ঋণের বেড়াজালে আটকে পড়ে। আর বের হতে পারেননি। সেই ঋণ পরিশোধ করতে এখন তার প্রতি সপ্তাহে ২৭০০ টাকা করে দিতে হয়। কিন্তু পাড়া গাঁয়ে কাজ করে, পরিবার সংসারের খরচ জুগিয়ে সপ্তাহে অতিরিক্ত ২৭০০ টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না।

এরমধ্যেই একদিন তিনি তার বাবাকে অনুরোধ করেন। বলেন, ‘‘ আব্বা আমি তো আপনার জমি একসময় ভাগে পাবোই, আমার অংশ থেকে একটা জমি বিক্রি করে আমার ঋণের ২ লাখ টাকা শোধ করে দেন।’
কিন্তু তার বাবা মিনারুলের এই কথা শোনেননি। ফলে তার ঋণও পরিশোধ হয়নি।

মিনারুল জুয়া খেলা ছেড়ে দিয়েছেন বহু আগেই। কিন্তু তিনি ঋণ থেকে বের হতে পারেননি। তবে তিনি এখন ঋণ পরিশোধে মরিয়া ছিলেন। কিন্তু এখন বর্ষাকাল। প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলে কাজ পাওয়া যায় না। ফলে তিনি ঋণের টাকার সাপ্তাহিক কিস্তিও দিতে পারছিলেন না। পাওনাদারের কটু কথা তাকে প্রতিদিনই শুনতে হতো।

স্ত্রী সন্তানের ভরণপোষণ দিতেও তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। বাচ্চাদেরকে সর্বশেষ মাংস দিয়ে ভাত খাইয়েছে সেই কোরবানীর ঈদে। বাচ্চারা শাক-ভাত দিয়ে আর খেতে চায় না। কিন্তু মিনারুলের উপায় নেই। সে না পেরেছে বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকাতে, না পেরেছে স্ত্রীর চোখের দিকে তাকাতে। আর শেষ ভরসা জন্মদাতা পিতার আচরণেও পেয়েছে ভীষণ কষ্ট। তাকে সাহায্য করতে কেউই আসেনি।

মিনারুলের মা আজ মাছ রান্না করেছে। নাতিদের সাথে করে তিনি মাছ ভাত খাবেন। রান্না শেষে যখন তার মা তাদেরকে ডাকতে যান-ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে।

এটা রাজশাহীর পবা উপজেলার বামুনশিকড় গ্রামের ঘটনা।

ঋণ যে কত বড় বোঝা তা কি আমরা বুঝতে পারছি?
তবে এই ঘটনার জন্য শুধু মিনারুলকে দায়ী করলেই হবে না। এর পেছনে সবচেয়ে বড় দায়-সেই সব ব্যক্তির যারা তাকে জুয়া খেলার জন্য টাকা ধার দিয়েছিল। দায় আছে ওই সমাজের রাষ্ট্রের।

একজন মানুষ ভালো হওয়ার জন্য আমাদের চোখের সামনে একা এভাবে লড়াই করে গেল, অথচ তাকে আমরা কেউ সহযোগিতা করলাম না। সমাজ বদলাবে কিভাবে! রাষ্ট্রও কি পেরেছে গ্রামগুলো থেকে সুদি ব্যবসা বন্ধ করতে?

আর বাবা মায়েদেরকে বলছি, সন্তানের বিশ্বাস ভাঙবেন না। দেয়ালে পিঠ ঠেকে না গেলে কোন সন্তানই পিতার কাছে হাত পাতে না।

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Chittagong?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Shefatullahpakistan@gmail. Com
Chittagong