D-Care Lab
29/06/2022
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কি ত্রুটিপূর্ণ যৌনক্রিয়া রোধ করতে পারবেন?
যৌন সমস্যা সহ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্ভূত স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জটিলতাগুলি বিলম্বিত করা এবং প্রতিরোধ করা সম্ভব।(6) নিম্নলিখিত টিপসগুলি এই জটিলতাগুলি প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে:(4,6)
– আপনার ব্লাড সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন: ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন কারণ হাই ব্লাড সুগার এবং লো ব্লাড সুগার, দুটোই যৌন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।(4)
– নিয়মিত ব্যায়াম করুন: শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ব্লাড সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ত্রুটিপূর্ণ যৌনক্রিয়ার বিকাশকে রোধ করতে পারে। তবে, লো ব্লাড সুগারের বিষয়েও সতর্ক হন কারণ সেটিও যৌন স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।(4,6)
– স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করুন: তাজা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন পুরো দানার শস্য, শাকসবজি এবং ফল খান। চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশী করে খান। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন এবং প্রচুর পরিমাণে জল খান।(6)
– স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন: নিয়মিত ওয়ার্কআউট এবং শারীরিক অ্যাক্টিভিটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আপনার ব্লাড সুগার এবং ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে।(4,6)
– মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ:(4) ডায়াবেটিস আবেগ সংক্রান্ত অশান্তি, ত্রুটিপূর্ণ যৌনক্রিয়া এবং গর্ভধারণেও অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে। পরামর্শদাতাদের সাথে আপনার সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন যাতে তারা আপনাকে যৌন সমস্যার সাথে সম্পর্কিত মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারেন।(4)
– আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে তবে ধূমপান এবং মদ্যপান এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলি ডায়াবেটিসের কারণে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।(6)
– ডায়াবেটিস এমন জটিলতার সৃষ্টি করে যা যৌনস্বাস্থ্য সহ শরীরের বিভিন্ন অর্গান সিস্টেমের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।(4,6) তবে, একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অবশ্যই এই জটিলতাগুলির শুরুতেই বিলম্ব ঘটাতে পারে বা এমনকি সেগুলি প্রতিরোধও করতে পারে।(5) বিশেষজ্ঞদের মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ডায়াবেটিসের কারণে তৈরি হওয়া এমন যৌন সমস্যাগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করতে পারে।(4)
নিয়মিত ব্লাড সুগার পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের কাছে ফলোআপ করা সহ কিছু সাধারণ জীবনযাত্রার পরিবর্তন স্ট্রেসের মাত্রা কম করতে এবং একজন ব্যক্তির সামগ্রিক সুস্থতা উন্নত করতে সহায়তা করে।(4)
একটি সুখী এবং সন্তোষজনক জীবন আপনার নিজের পছন্দের বিষয় – একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নিন; ডায়াবেটিসকে আপনার আনন্দ ছিনিয়ে নিতে দেবেন না!
12/06/2022
Gestational Diabetes কেন হয়
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসঃ-
ডায়াবেটিস মানে রক্তে শর্করার আধিক্য। নারীদের বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিস হয়—গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা জেসটেশনাল ডায়াবেটিস। এ ছাড়াও যাঁরা আগে থেকেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদেরও সন্তানধারণের সময় সতর্ক থাকতে হবে।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কিছু হরমোনের প্রভাবে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল থেকে উৎপন্ন কর্টিসল, হিউম্যান প্লাসেন্টাল ল্যাকটোজেন, প্রজেস্টেরন, প্রোল্যাকটিন, এস্ট্রাডিওল ইত্যাদি হরমোন রক্তের ইনসুলিনকে তার কাজ করতে বাধা দেয় এবং এর ফলে ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে শরীরের বিভিন্ন কোষে সঠিক পরিমাণে স্থানান্তরিত করতে পারে না। অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। যদি গর্ভাবস্থাতেই প্রথমবারের মতো ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, তবে তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (জেসটেশনাল ডায়াবেটিস মেলিটাস বা জিডিএম) বলা হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে মা ও শিশু দুজনেরই ঝুঁকি অনেক। তাই ঝুঁকি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে ডায়াবেটিস নির্ণয় এবং এর নিয়ন্ত্রণ।
যাঁদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস আছে, তাঁরা সন্তান নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন। মুখে খাবার ওষুধ পরিবর্তন করে ইনসুলিন গ্রহণ করবেন আর রক্তে শর্করা আগে থেকে সুনিয়ন্ত্রণে এনে তবে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
কিন্তু বেশির ভাগ আক্রান্ত নারীর সন্তান নেওয়ার আগপর্যন্ত শর্করা স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এটি সাধারণত সন্তান প্রসবের পর আর থাকে না। তবে পরবর্তী সময়ে গর্ভধারণের সময় ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। গবেষণা বলছে, যাঁদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ছিল, তাঁদের মধ্যে ১ দশমিক ৭ শতাংশ এক বছরের মাথায়, ১৭ শতাংশ ১০ বছরের মধ্যে আর ২৫ শতাংশ ১৫ বছরের মধ্যে পূর্ণ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন।
>> ঝুঁকি কাদের বেশিঃ—
ওজনাধিক্য: যেসব নারী গর্ভসঞ্চারের আগে থেকেই স্থূল বা বেশি ওজনে ভুগছেন। এ ছাড়া যাঁদের গর্ভাবস্থায় ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যায়। অতি ওজন ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
পারিবারিক ইতিহাস: যাঁদের ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস আছে।
আগে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: যদি আগেরবার গর্ভধারণের সময় ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। অথবা আগে অতি ওজনবিশিষ্ট সন্তান জন্মের ইতিহাস থাকে।
বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। ২৫ বছরের পর সন্তান নিলে ঝুঁকি বাড়তে থাকে।
অন্যান্য: যেসব নারীর পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের ইতিহাস আছে।
>> কীভাবে বুঝবেনঃ-
প্রত্যেক নারীর গর্ভাধারণের ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা পরীক্ষা করতে হবে। কারণ, এই সময়টি তাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিরূপণ করার সেরা সময় বলে বিবেচিত হয়। তবে ওপরে বলা ঝুঁকিগুলো যদি থাকে, তবে এই পরীক্ষা আরও আগেই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শুরুতে স্বাভাবিক থাকলেও ২৪ সপ্তাহের পর আবার করতে হবে। এই পরীক্ষার নাম ‘ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট’।
বারবার তৃষ্ণা পাওয়া, দুর্বলতা ও ক্লান্তি, মুখের ভেতরে শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, ঘন ঘন প্রস্রাবে বা অন্য কোনো সংক্রমণ হলে ডায়াবেটিস সন্দেহ করতে হবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Chittagong
4000