Umme Rishad

Umme Rishad

Share

04/06/2024

বর্তমান সমাজে বিশাল বড় একটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বিয়ের পর বাবার পরিবারে স্ত্রীকে নিয়ে থাকা। এই সংঘাত যৌথপরিবারের এক চিরচেনা রূপ। আমি বহু দ্বিনি ভাইকেও এই সংঘাতের চিপায় অসহায়ভাবে আটকে থাকতে দেখেছি। করণীয় কী?

সমাধান এতো সহজ নয় বিশেষ করে এই জাহেলিয়াতের যুগে। এই জন্য আমি প্রায়ই বলি,

"হালাল খাবার না পেলে হারামে ঝাপিয়ে পরবো তাই আমার বিয়ে করা দরকার।" এই টেন্ডেন্সি আপনাকে সাংসারিক জীবনে লম্বা সময় সারভাইভ করতে দিবে না। চিন্তার পরিধি বৃদ্ধি করে যথা সম্ভব প্রস্তুতি নিয়ে তারপর বিয়ে করুন।"

প্রতিটা মেয়ের কিছু ব্যাসিক চাহিদা থাকে যেমন। উদাহরণস্বরূপ, আমার এমন একটা সংসার হবে যেখানে,

১. আমার একটা নিজের ঘর থাকবে, যা আমি স্বাধীনভাবে সাজিয়ে নিবো।
২. আমার নিজের একটা পাকঘর থাকবে, যেখানে আমি আমার ইচ্ছেমত নিত্যনতুন রেসিপি ট্রাই করতে পারবো। পাছে তেল, চিনি, নুন অপচয়ের খোঁটা দেয়ার কেউ থাকবে না।
৩. একটা প্রাইভেট স্পেস থাকবে যেখানে আমার স্বামী ব্যতীত অন্যকেউ জবাবদিহি চাইতে আসবে না।
৪. স্বামীর কাছে যে কোনো ছোটোখাটো আবদার বড়সড় করে দাবী করে বসলে পাছে কেউ "ন্যাকামো" বলে তাচ্ছিল্যের তীর ছুড়বে না।
৫. স্বামীর সাথে একান্তে সময় কাটালে বাঁকা চোখে কেউ তাকিয়ে থাকবে না৷
৬. সামাজিকতার নামে গায়রে মাহরাম আত্মীয়দের সামনে স্বামীর পরিবার ঠেলে পাঠাবে না৷
৭. প্রাপ্ত বয়স্ক দেবরকে প্রতিদিন খাবার বেড়ে দেয়ার ছুঁতোয় তার সামনে যেতে হবে না।
৮. শাশুড়ী ননদদের নোংরা রাজনীতির স্বীকার হয়ে স্বামীর চক্ষুশূল হতে হবে না।
৯. যেখানে আমাকে মূল্যবান নেয়ামত ভাবা হবে, কাজ করার যন্ত্র ভাবা হবে না।
১০. যেখানে আমাকে এবং আমার পরিবারকে যথাযথ মর্যাদা দেয়া হবে, লাঞ্চিত করা হবে না।

ইত্যাদি ইত্যাদি, নানারকম স্বপ্নে তারা বিভোর। আর এগুলো তাদের হালাল যৌক্তিক স্বপ্ন। যেখানে নসিহা করার অধীকার কারো নেই। অথচ খুব সামান্য পরিমাণ মেয়েই তাদের এই মৌলিক চাহিদার কাছাকাছি পৌছতে পারে। বিশাল একটা অংশই হয় পুরোপুরি বঞ্চিত ও লাঞ্চিত।

আপনাদের জানা আছে কিনা আমি জানি না। তবে বাংলাদেশের বিশাল সংখক মেয়ে বিয়ে করতে ভয় পায়, এতোটাই ভয় পায় যে বিয়ের নাম শুনলেই তারা আতকে ওঠে। কারন সে তার মায়ের সাথে একটা লম্বা সময় তার বাবার বাড়ির পরিবার থেকে এমন কিছু ঘটতে দেখে যা সে প্রতিটা মুহূর্ত একটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্নভেবে ভুলে যেতে চায়। কিন্তু সম্ভব হয় না।

কপি

08/05/2024

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য যদি মা-বাবার কাছে যেতে হয়, তাহলে আপনি বিয়ে করছেনই বা কেনো?

আপনার বিয়ে করার বয়স হয়েছে মানে সিদ্ধান্ত নেবার বয়স হয়েছে। কিন্তু, বিয়ের পর প্রতিটি সিদ্ধান্ত যদি মা-বাবাকে জিজ্ঞেস করে নিতে হয়, তাহলে আপনি স্বামী হিসেবে স্ত্রীর কাছে মর্যাদা হারাবেন।

স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাবেন কিনা, স্ত্রী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে বারবার তাকে বলা- ‘মাকে জিজ্ঞেস কইরো’, স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে যাবার আগে বাবার অনুমতি নেয়া লাগলে এটার ফল আসলেই নেতিবাচক। সাময়িক মনে হতে পারে কোনো অসুবিধা তো হচ্ছে না। কিন্তু, আপনার স্ত্রীর মনে ক্ষোভ জন্ম নেয়, আপনার প্রতি তার সম্মানবোধ উঠে যায়।

মাঝেমধ্যে তার কিছু ইচ্ছে করলে আপনি বলেন- “দেখি মা কী বলে।” তখন হয়তো সে কিছু বলে না। কিন্তু, মা যদি ‘না’ করেন, মায়ের ওপর না, বরং আপনার ওপরই তার রাগ হয়।

আপনি পারিবারিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অবশ্যই মা-বাবার পরামর্শ নিবেন, তাদেরকে শ্রদ্ধা করবেন। কিন্তু, স্বামী হিসেবে আপনার যে কর্তৃত্ব আছে, সেই কর্তৃত্বের চর্চা আপনিই করুন; আপনার মা-বাবাকে করতে দিবেন না। স্ত্রীর কোনো আবদার নাকচ করতে চাইলে তাকে বুঝিয়ে আপনিই নাকচ করুন। নিজের মা-বাবাকে ইনভলভ করে যখন দাম্পত্য জীবনের সিদ্ধান্ত নিবেন, কোনো এক সিদ্ধান্ত ভুল হলে স্ত্রী আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।

ঠিক তেমনি, স্ত্রীর বেলায়ও।

স্ত্রীরা বেশিরভাগ কথা মায়ের সাথে শেয়ার করে। স্বামী কী করলো, কী বললো, স্বামীকে এটা কীভাবে বলবে, স্বামীর কাছে কীভাবে চাইবে এগুলো নিয়ে সে মায়ের সাথে কথা বলে। মা-ও খুব আগ্রহ নিয়ে মেয়েকে বুদ্ধি দেন।

বিয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছাড়া দৈনন্দিন এসব ব্যাপারে মেয়ের মা যতো ইনভলভ হবে, পারিবারিক অশান্তি ততো বাড়বে।

মা যদি জিজ্ঞেস করে, “এটা বলার পর জামাই কী বললো?” স্ত্রীর তখন স্পষ্টভাবে বলা উচিত- “সরি মা, ও আমাকে কী বলেছে সেটা তোমাকে বলতে পারবো না।”

একজনের স্ত্রী হিসেবে স্বামীর প্রতি আপনার এই আত্মসম্মান থাকা উচিত।

আপনার দাম্পত্য জীবন নিয়ে নিজের মা-বাবার অতিউৎসাহ দেখলে তাদেরকে সম্মানের সাথে নিরুৎসাহিত করুন।

07/03/2024

দিনে দিনে আমরা অস্থিরতার এক পৃথিবীতে চলে এসেছি। To do list শেষ হবার নাম গন্ধ নেই। এই র‍্যাট রেসে আমাদের ব্যস্ততা কমে না। রাত আসে রাত যায়, দিন পার হয় চোখের পলকে। এরপর মনে পড়লো এই কথাটি:

'হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতের জন্য তুমি নিজের অবসর সময় তৈরি কর ও ইবাদতে মন দাও; তাহলে আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর; তবে- তোমার হাতকে ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব কখনোই দূর হবে না।’ [ইবন মাজাহ : ৪১০৭]

23/02/2024

যেই মেয়েটা স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য নতুন নতুন বেইকিং শিখে পেইজ খুলেছে, তার কাছে কাষ্টমার পিন্টারেস্ট থেকে ডাউনলোড করে একটা এক্সক্লুসিভ ডিজাইন দিয়ে বলবে এরকম একটা কেক বানিয়ে দাও।

সেলাই শিখে গলির মোড়ে টেইলারিংয়ের দোকান দিলে, কাষ্টটমার কোন মডেলের ডিজাইনার জামার ছবি এনে বলবে এরকম বানিয়ে দেন। নাপারলেই কাষ্টমার হারাবে।

ছাত্র অবস্থায় হাত খরচের জন্য একটা কোচিং সেন্টার খুলেন। ৫০০ টাকার ব্যাচে দিয়ে বাচ্চার গার্ডিয়ান আপনার কাছে আশা করবে ইন্ডিয়ান কোন সেলিব্রেটি টিচারের মতো পড়ানোর স্কিল।

অফিসে স্যালারি দিবে ১৫ হাজার। সেই ক্যান্ডিডেটের পাশ করা থাকতে হবে টপ কোন ভার্সিটি থেকে। সাব্জেক্ট হতে হবে বিবিএ/ইংলিশ/ ইকোনোমিক্স/ম্যাথ। সাথে অবশ্যই ভাল সিজিপিএ। ইংলিশ স্কিল, কম্পিউটার স্কিল হতে হবে ফার্স্ট ক্লাস লেভেলের। সেই জায়গাতেও দেখবেন ক্যান্ডিডেটের অভাব নাই।

বাচ্চাকে কড়া শাসনে রেখে ডিসিপ্লিন শিখিয়ে, আপনি তার জন্য কত কষ্ট করছেন এসব বুঝিয়ে মানুষ করে ফেলবেন? সেই দিন শেষ। আপনার থেকে অনেক গুন ভালো প্যারেন্টস সে youtube এ দেখে ফেলছে। আপনাকে এখন ওই সব বিদেশি বাপ মার মত ভাল হওয়া লাগবে। নাইলে বলবে আমাকে ভালবাসোনা।

গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে মোটামুটি কোন কিছু পারা দিয়ে আর কাজ চালানো সম্ভবনা। আগে প্রতিযোগিতা ছিলে একটা এলাকায়, অনেক বড় পরিসরে হলে দেশের মধ্যে। আর এখন প্রতিযোগিতা হচ্ছে বিশ্বের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে।
দিন দিন সবকিছু এত কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
and here only the fittest will survive.
যাস্ট টিকে থাকাটাই এখন বিশাল চ্যালেঞ্জ!

Want your business to be the top-listed Media Company in Chittagong?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Halishahar
Chittagong