Apurbo Ahmed Raju

Apurbo Ahmed Raju

Share

02/09/2024

এরশাদের অনেক বান্ধবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন জিনাত মোশাররফ। বিএনপির সাবেক শিল্প ও জ্বালানি মন্ত্রী একে এম মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী ছিলেন জিনাত। এমনও শোনা যায়, তার নামের সঙ্গে মিল রেখে জিনাত মোশাররফ নতুন নামকরণ করেছিলেন জিনাত হুসেইন। এরশাদ কান্ডের ফলে জিনাত মোশাররফের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। বর্তমানে বার্ধক্যে পর্যুদস্ত জিনাত লন্ডনে বসবাস করছেন। ১৯৯৭ সালের ২১ জুলাই সোমবারে প্রকাশিত দ্যা ডেইলি স্টারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যার হেডলাইন ছিল, "Zinat-Mosharraf reconciliation"! সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, জিনাত মোশাররফকে তার স্বামী একে এম মোশাররফ হোসেন ডিভোর্স লেটার পাঠালে জিনাত সে বিষয়ে কথা বলার জন্য তৎকালীন ঢাকা সিটির মেয়র মরহুম হানিফের অফিসে গিয়েছিলেন। জিনাত -মোশাররফের দাম্পত্য ইস্যু নিয়ে মেয়র হানিফের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। ১৯৯৭ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ অবজারভারে প্রকাশিত হয়েছিল এরশাদের একটি মন্তব্য। জিনাত সম্পর্কে এরশাদ বলেছিলেন, "Until the last moment of my life she (Zinat) will be part of my thoughts"!!

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ একটি দৈনিক পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, "এইচ এম এরশাদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় বিদেশি আসামিদের আইনজীবী ছিলাম আমি। বিচার হয় নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কারাগারের পাশের লাল ভবনে। সেখানে এরশাদ সাহেবের সঙ্গে আমার প্রায়ই দেখা হতো। তিনি তখন কারাবন্দি। এরপর তার আরো কিছু মামলায় লড়েছি। তার সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল। একদিন এরশাদ জিনাতকে নিয়ে আমার বাসায় এলেন। তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানালেন। কাজিও ঠিক করে ফেলেছেন। তবে শেষ অবধি তাদের বিয়েটা আর হয়নি।"

এরশাদ যুগের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী ছিলেন জিনাত মোশাররফ। পর্দার আড়াল থেকে সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ কর‍তেন জিনাত। যা রওশন এরশাদের মোটেও পছন্দ ছিলো না। যদিও তিনি জিনাতের সাথে এরশাদের ঘনিষ্ঠ মেলামেশা ঠেকাতে পারেননি। এরশাদের উপর প্রভাব খাটিয়ে জিনাত মোশাররফ জাতীয় সংসদে ২৯ নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য হয়েছিলেন। জিনাত- এরশাদের সম্পর্ক দীর্ঘ ১৪ বছর টিকেছিল। ১৯৯৭ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

24/08/2024

আমাদের দেশের মিডিয়াগুলো যে তাদের বায়াসনেইসের কারণে দৈন্য ভাব কাটাতে পারেনা, তার একটা সুস্পষ্ট উদাহরণ হলো— এরা এখনও শায়খ আহমাদুল্লাহ সাহেবকে ঠিকমতো এপ্রিসিয়েট পর্যন্ত করতে পারছে না।

এবারের বন্যায় শায়খ আহমাদুল্লাহ সাহেব তার আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যে মহাকর্মযজ্ঞ পালন করে যাচ্ছেন, তার ছিটেফোঁটাও দেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়াগুলোতে নাই। গতকাল একদিনে ২০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করেছে তারা, এটা স্রেফ একদিনের হিসাব। প্রতিদিন এই হিসাব বড় হতেই থাকবে। তাছাড়া ত্রাণ সামগ্রী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও যে কতভাবে গোছানো সব উদ্যোগ নিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, তা হিসাব করতে বসলে দিন পার হয়ে যাবে। হাজার হাজার ভলান্টিয়ার আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের হয়ে কাজ করছে এই দুর্যোগ মোকাবিলায়। এমনকি শুধু মুসলমানরাই না, হিন্দু ভাইয়েরাও এবার ডোনেশন করেছেন এখানে, তারাও ভলান্টিয়ার হিসাবে কাজ করেছেন। সবাইকে নিয়ে সামাজিক ভাতৃত্ব জোরদার করার একটা ভালো উপলক্ষ এটা।

আমি কারও উদ্যোগকেই ছোট করছিনা, এই দুর্যোগে এক বিন্দু অবদান যে রেখেছে, সেটাও অমূল্য। তবে আফসোসের জায়গাটা হলো দেশের টপ টায়ারের মিডিয়া হাউজগুলো এরকম বহু জায়গা এবং মানুষের উদ্যোগকেই এপ্রিসিয়েট করে বড় বড় স্টোরি করছে। অথচ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন এর এত বড় কীর্তি তাদের চোখে ঠিকঠাক পড়েনা কেন?

জাস্ট চিন্তা করেন সেইম কাজটাই যদি বিদ্যানন্দ ( জাস্ট উদাহরণস্বরূপ) বা অন্য কোন এনজিও অথবা কালচারাল জনরার কোন সংগঠন থেকে আসতো, তাহলে দেশের টপ টায়ারের মিডিয়া হাউজগুলো সব লিড স্টোরি করতো তাদের নিয়ে — আমি নিশ্চিত এটা হতোই!

কিন্তু অন্য অনেকের চেয়ে বহুগুণ বেশি কন্ট্রিবিউশন রাখার পরও আহমাদুল্লাহ সাহেব এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন নিয়ে তেমন কাভারেজ নেই কেন? এটার উত্তর খুঁজতে গিয়েই আমি বলি, আমাদের দেশের মিডিয়া এখনও একচোখ বন্ধ করেই চলতে পছন্দ করে।

এবারই কিন্তু প্রথম নয়।

২০২২ সালে সিলেটের বন্যায়ও খুবই ডেডিকেশন নিয়েই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কাজ করেছিলেন আহমাদুল্লাহ সাহেব। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কয়েক লক্ষেরও বেশি বৃক্ষরোপন করেছেন, ধারাবাহিকভাবে এবার বর্ষাতেও কয়েক লক্ষ গাছ লাগিয়েছেন এবং সেখানেই দায়িত্ব শেষ না করে ফলদ বৃক্ষ রোপন করে লোকাল কমিউনিটি ইন্ট্রিগেশনের মাধ্যমে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও করে তারা।

মানুষ এবং সমাজের কল্যাণে বহুকাজই তারা করেছে বিগত দিনগুলোতে। উপকূলীয় বাগেরহাট জেলার শরণখোলার মানুষজন সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগতে থাকে বছরজুড়েই। তাদের জন্য আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটা পানি শোধনাগার তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আইটি কোর্স, ফ্রিল্যান্সিং কোর্সও কনডাক্ট করা হচ্ছে, যাতে করে সমাজের বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা রাখা যায়। উনার ফাউন্ডেশনের যাকাত প্রজেক্টটাও একদম পারফেক্টলি কাজে লাগাচ্ছেন। শাড়ি লুঙ্গি দিয়ে যাকাতের টাকাটা ব্যবহার নয়, বরং যাকাতের অর্থ দিয়ে অস্বচ্ছল পরিবারের ইনকামের রাস্তা তৈরী করে দিয়ে তাদেরকে স্বাবলম্বী করার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছেন।

উনি কিন্তু পারতেন শুধু ধর্মীয় বয়ানসর্বস্ব কাজ করতে অন্য আরও বহু মানুষের মত। উনি সেটা না করে দ্বীনি আমলগুলো নিয়ে যেভাবে কথাবার্তা বলছেন, একইসাথে উনি মাঠে নেমে হাতেকলমে কাজ করে যাচ্ছেন। উনি প্র্যাকটিক্যালিটি ভালো বুঝেন এবং অত্যন্ত গোছানোভাবে নিজের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সমাজের মানুষের জন্য ডিরেক্ট কন্ট্রিবিউশন রাখছেন।

হুজুররা এইটা করে কেন, সেইটা বলে কেন টাইপ খুঁত ধরার বহু লোক আছে, সারাটাদিনই তারা শুধু হুজুরদের দোষই খুঁজে বেড়ায়। আমি বলছিনা যে সব হুজুরই ভালো বা তাদের কাজের সমালোচনা করা যাবে না। অবশ্যই সেটা করা যাবে এবং অ্যাবসার্ড কিছু করলে, সেটা নিয়ে সমালোচনা হওয়াটা অবশ্যই উচিৎ। আমি নিজেও অনেক সময় অনেকের সমালোচনা করেছি। কিন্তু একইসাথে তাদের ভালো কাজগুলোকে কি এপ্রিসিয়েট করা উচিৎ নয়? দুঃখের বিষয় হলো যারা সবসময়ই হুজুরদের দোষ ধরা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তারা কখনোই হুজুরদের ভালো কাজ নিয়ে প্রশংসা করে না বা জানতেও চেষ্টা করে না। এই একচোখ বন্ধ মার্কা দীনতা যতদিন না পর্যন্ত মিডিয়া কাটিয়ে উঠতে পারবে, ততোদিন পর্যন্ত তারা গণমানুষের মিডিয়া হয়ে উঠতে পারবে না।

শায়খ আহমাদুল্লাহ সাহেব, আপনার কাজগুলো হয়ত মিডিয়াপাড়ার লোকজন চোখে দেখে না ঠিকমতো কিংবা তারা দেখতেই চায় না আসলে! কিন্তু আপনার এই কাজগুলো যে দেশ ও সমাজের জন্য কতোটা ইম্প্যাক্টফুল, তা হয়ত চোখ-কান খোলা মানুষজন যারা আছে, তারা ঠিকই উপলব্ধি করতে পারে।

ধন্যবাদ জানাই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আহমাদুল্লাহ সাহেবকে। আল্লাহ যেন আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।

18/08/2024

বিএফ শাহীন কলেজে আহনাফের সকল সহপাঠী ক্লাসে-পরীক্ষার টেবিলে ফিরলেও ফেরেনি আহনাফ। আহনাফের টেবিলটা আজ ফাঁকা। তাঁর স্মরণে বন্ধুরা সেখানে ফুল রেখেছে। আহনাফের শোকাহত বন্ধুরা তাদের প্রিয় সহপাঠীকে ভুলে নাই, কখনো ভুলতে পারবে না।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গত ৪ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে গুলিতে নি হ ত হন আহনাফ।আহনাফের বয়স হয়েছিল ১৭ বছর।

18/08/2024

বঙ্গবন্ধু বাঙালির জাতির পিতা এতে কোনো দুই কথা নেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধু আর তার কন্যার মধ্যে পার্থক্য অনেক। কোটা বিরোধী আন্দোলন সমর্থন করেছি। শেখ হাসিনা সরকারের ভালো কাজগুলো মলিন হয়ে গেছিলো সীমাহীন দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে। বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল বিগত সরকার। তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা হলে আর রক্ষে ছিলনা। কি একটা ফালতু তথ্য প্রযুক্তি আইনের আটকে দিয়েছে বহু মানুষকে। সমালোচনা সহ্য করতে পারতো না লীগ সরকার। দুর্নীতি নৈরাজ্যের লাগাম টেনে ধরতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। যার মূল্য তাকে শোচনীয়ভাবে দিতে হয়েছে।

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রিজাইন দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। যেটা পলিটিক্যালি খুবই ডিসগ্রেসফুল। শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পর বিক্ষুব্ধ মানুষ গণভবনে ঢুকে পড়ে। যে যেভাবে পেরেছে গণভবন ডেসট্রয় করেছে। লুটপাট করেছে। লুটপাটকে বাহবা দেয়ার মত কিছু আমি দেখিনি। এটা অত্যন্ত ছোটলোকি কাজ হয়েছে। শেখ হাসিনার জামদানী শাড়ি তাঁতের শাড়ি সোনার চেন গার্বেজ কন্টেইনার টেবিল ফ্যান স্ট্যান্ড ফ্যান সিরামিকের প্লেট বাটি বিছানার চাদর বালিশ কমফোর্টার লুটপাট করে নেয়ার ছবি ভিডিও গর্বের সাথে পোস্ট দিয়েছে চোর/ চোরনীরা।

ক্ষমতায় রিজাইন দেয়ার কিছুদিন আগে গোলাপি রঙের তাঁতের শাড়ি পরনে দেখেছিলাম শেখ হাসিনাকে। কিন্তু সেই শাড়িটি দেখলাম ফ্লোরে বিছিয়ে তার উপর কয়েকটি জামদানী শাড়ি গাট্টি বেঁধে নিয়ে গিয়েছিল এক মহিলা। আফসোস হল ব্যাপারটা দেখে। এটাকে তবুও ইগ্নোর করা যায়। কিন্তু প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বাস নিয়ে যে ক'জন পশু বিকৃত উল্লাস আনন্দে মেতেছিল, ফটো তুলে সোশাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিয়েছিল, এই অসভ্য আচরণ মেনে নেয়া যায়না। অশিক্ষিত ইতর লোকটার কি একবারও মনে হয়নি তার মা বোনও অন্তর্বাস পরছে। সে কি তার মায়ের অন্তর্বাস নিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করতে পারতো??ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছিনা। জাতির পিতা হিসেবে তাঁকে সম্মানটুকু দেখানো উচিত ছিল।

এই জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু ও তার নিহত স্ত্রী পুত্র পুত্রবধূর বহু স্মৃতি সংরক্ষিত ছিল। সেই রক্তমাখা পাঞ্জাবিটাও পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী ইচ্ছে করলে জাদুঘর পোড়ানো রুখতে পারতো। জাতির জনকের স্মৃতিমাখা ৩২ নম্বরের বাড়ি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে একটি। জাদুঘর পুড়িয়ে দেয়ার তান্ডবে সেনাবাহিনী ইচ্ছে করলে বাধা দিতে পারতো। শেখ হাসিনার একনায়কতন্ত্র আমি অপছন্দ করি। দেশে গণতন্ত্র ছিলনা, যদিও তিনি সারাদিন গণতন্ত্রের বুলি কপচাতেন। ভাবুন একবার, বেগম জিয়ার শাসনামলে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরকে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনামলে ম্যাসাকার করে দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি। এটা খুব ন্যাক্কারজনক কাজ। আজ যদি সার্কিট হাউজ সংলগ্ন জিয়া জাদুঘরে এমনটা করা হতো, আমি সেটারও নিন্দা জানাতাম। যার যেটুকু সম্মান প্রাপ্য সেটা তাকে দেয়া উচিত। বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার পেছনে উনার মেয়ের দায়ভারও কম নয়।

#

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in London?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


London