Shahriar
12/05/2026
গত রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়েছে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে। বিদায়বেলায় বিমানবন্দরের এক কোণে দাঁড়িয়ে দুহাত তুলে মোনাজাত করছিলেন তার বাবা জনাব হামিদ কায়সার। মেয়ের আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও, এই অসহায় বাবা তার সঙ্গী হতে পারেননি।
বাবার না যেতে পারার পেছনের কারণটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং বাস্তবতার এক চরম রূপ। মেয়ের চিকিৎসার বিপুল ব্যয় মেটাতে গিয়ে ইতোমধ্যে তার জীবনের সব সঞ্চয় ও জমানো এফডিআর শেষ হয়ে গেছে। এখন সন্তানের জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে নিজের শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করতে হচ্ছে তাকে। জমি বিক্রির সেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই বিশাল এই ঢাকা শহরে তিনি আজ একা পড়ে আছেন।
কারিনা কায়সার মিডিয়ার পরিচিত মুখ হওয়ায় তার বাবার এই ত্যাগের খবরটি হয়তো সহজেই ভাইরাল হয়েছে এবং মানুষের নজরে এসেছে। কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন অসংখ্য বাবা আছেন, যারা প্রতিদিন সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে নীরবে এর চেয়েও বড় সংগ্রাম করে যান। তাদের সেই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের খবরগুলো কখনোই খবরের শিরোনাম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় না।
বর্তমানে কারিনা কায়সারের শারীরিক অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন, তাই এটি কোনোভাবেই সমালোচনার সময় নয়। একজন বাবার এই অসহায়ত্বের মুহূর্তে আমাদের সকলের উচিত মন থেকে তার মেয়ের জন্য দোয়া করা। পরম করুণাময় যেন খুব দ্রুত তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তার বাবার কোলে ফিরিয়ে দেন।
08/05/2026
মাত্র দেড় মাসের সংসার! আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে একবুক স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করেছিলেন তাজুল ইসলাম। কিন্তু চরম দারিদ্র্যের কষাঘাতে বিয়ের মাত্র দেড় থেকে দুই মাসের মাথায় সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। নিদারুণ অভাবের কারণে তাকে নির্মমভাবে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান তার স্ত্রী।
অসুস্থ বাবা-মা, তিন ভাই আর তিন বোনসহ আট সদস্যের বিশাল পরিবারের ঘানি একা টানতেন তাজুল। দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সংসারের চাল-ডাল আর ওষুধের খরচ মেটাতেই পকেট শূন্য হয়ে যেত। ছোট ভাইয়ের পড়ালেখার খরচ জোগাতে গিয়ে নিজের জন্য কিছুই জমাতে পারতেন না তিনি।
তিনি কান্না করতে করতে বলছিলেন, এই চরম অভাব আর টাকা জমাতে না পারাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। যাওয়ার আগে স্ত্রী তাকে চরম আঘাত করে বলেছিলেন, তার পকেটে কোনোদিন দশ টাকাও জমবে না। "আপনাকে দিয়ে কিছু হবে না"—স্ত্রীর এমন তীক্ষ্ণ কথাগুলো আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
হৃদয় ভাঙা কষ্ট নিয়েও তাজুল এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। বারবার বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, সংসারে আজ মেঘ থাকলেও কাল হয়তো রোদ উঠবে। কিন্তু তার স্ত্রী কোনো সান্ত্বনাই মানেননি এবং আর কখনোই ফিরে আসেননি।
স্ত্রীর চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ তিন বছর কেটে গেলেও তাজুল আর নতুন করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি। তিনি মনে করেন, এখনো তার কাঁধে বিশাল পরিবারের যে দায়িত্ব আর অভাব রয়েছে, তাতে নতুন কাউকে আনা সম্ভব নয়। একা হাতে পরিবারের বোঝা টেনে নীরবেই জীবন পার করছেন তিনি।
08/05/2026
মেয়েটি ফেসবুকে লিখেছেন,আমি আর আমার নানী শাশুড়ি বেশিরভাগ সময়ই পাশাপাশি শুয়ে গল্প করি অথবা নিজেদের মতো মোবাইল চালাই। আমাদের দুজনের এই সময়গুলো বেশ আরামদায়ক আর সুন্দর কাটে। কিন্তু এই সুন্দর মুহূর্তের মাঝে যখনই আমার স্বামী কল করে, তখন এক মজার ঘটনা ঘটে। নানু কোনো কথা না বলে আস্তে করে আমার রুম থেকে বেরিয়ে অন্য রুমে চলে যায় এবং সবসময়ই সে এই কাজটা করে।
সেদিন রাত তখন প্রায় ১২টা, হঠাৎ আমার হাজব্যান্ড কল দিল। এত রাতে তো নানুর পক্ষে উঠে অন্য রুমে যাওয়া সম্ভব না, তাই সে কী করবে বুঝতে পারছিল না। কিছুক্ষণ পর দেখি সে আস্তে আস্তে উঠে সোজা আমার ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো তার কোনো সাধারণ প্রয়োজনেই ভেতরে গিয়েছে।
কিন্তু এদিকে অনেকক্ষণ পেরিয়ে গেলেও নানুর বের হওয়ার কোনো খবর নেই। শেষে আমি বাধ্য হয়ে ডাক দিলাম, নানু চলে আসো, অনেক আগেই কল কেটে দিয়েছে। আমার কথা শুনে নানু সুড়সুড় করে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসলো। আমি কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, রাইয়ান কল দিলেই তুমি এভাবে চলে যাও কেন নানু?
নানু তখন একটু মুচকি হেসে খুব লাজুক গলায় উত্তর দিল, এহ্ আমার শরম করে! অন্য সময় তার কোনো জড়তা থাকে না, কিন্তু আমি একটু হাই বেবি বললেই তার ভেতরের লাজুক কিশোরীটা যেন পুরোপুরি জেগে ওঠে। ছোটবেলায় পরিবারের সাথে টিভি দেখার সময় রোমান্টিক দৃশ্য আসলে আমরা যেভাবে লজ্জায় গায়েব হয়ে যেতাম, নানু ঠিক সেটাই করে।
বয়সের এত পার্থক্য থাকার পরও তার এই মিষ্টি লজ্জা আর ভালোবাসার অনুভূতি সত্যিই মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। সম্পর্কের মাঝে এই ছোট্ট ছোট্ট সম্মান আর মায়ার কারণেই হয়তো পরিবারগুলো এত সুন্দর হয়। আমাদের নানী শাশুড়িদের এই অমলিন ভালোবাসাগুলো এভাবেই টিকে থাকুক।
07/05/2026
অভিনেত্রী মৌ শিখা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এমন কিছু কথা শেয়ার করেছেন, যা অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
পর্দায় আমরা যাদের হাসিখুশি দেখি, তাদের বাস্তব জীবনটা সব সময় মসৃণ হয় না। এই অভিনেত্রী তার আলোচনায় স্বামী ও সংসারের সাথে বিচ্ছেদ, একাকীত্ব এবং চরম অর্থকষ্টের মতো কঠিন সময়ের কথা অকপটে তুলে ধরেছেন। এর পাশাপাশি মানসিক বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনের সাথে তার দীর্ঘ লড়াইয়ের কথাও উঠে এসেছে।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি ছিল যখন তিনি তার সন্তানদের কথা বলেন।"বাচ্চারা খোঁজ না নিক, তবুও তারা ভালো থাকুক"—শত অভিমান ও দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি কেবল সন্তানদের মঙ্গলই চেয়েছেন, যা প্রমাণ করে মায়ের ভালোবাসা কতটা নিঃস্বার্থ। নিজের জীবনের এতগুলো ঝড়ের পরও তিনি তার পরিবারের প্রতি গভীর টান অনুভব করেন।
জীবনের কঠিন সময়গুলো আমাদের সাময়িকভাবে ভেঙে দেয় ঠিকই, কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর অসীম শক্তিও জোগায়। মৌ শিখার এই মানসিক সংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ডিপ্রেশন বা অর্থকষ্ট জীবনের শেষ কথা নয়। শত হতাশার মাঝেও বুকে ভালোবাসা নিয়ে নতুন করে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই হলো জীবনের আসল জয়।
คลิกที่นี่เพื่อเป็นสมาชิก?
ประเภท
ติดต่อ บุคคลสาธารณะ
เว็บไซต์
ที่อยู่
Bang Kapi