Samrat Akbar

Samrat Akbar

Share

19/01/2024

AI car place

Block-A house-11 bonosree rampura main road

আমাদের কাছে পেয়ে জাবেন আপনার সপ্নের গাড়িটা

আমরাই দিচ্ছি কম দামের মধ্যে ভাল মানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি

সরাসরি জাপান থেকে ইমপোর্ট করা toyota car

পেয়ে যাবেন ব্যাংক লোন এর সুবিধা

হয়ে যাবে সপ্ন পুরন

আর দেরি না করে চলে আসুন আমাদের শো-রুমে

Contract -01819912418

04/08/2023

#বাবা
পর্ব ২
লেখিকা

একটা বাবার কাছে মেয়ের এমন প্রশ্ন দুনিয়ার সব চেয়ে কঠিন প্রশ্ন। যার জবাব কখনো কোন বাবাই দিতে পারে না। বাবা হাউমাউ করে কেঁদে উঠে আমাকে জরিয়ে ধরে বলে,,
আমি পাপ করেছি রে মা! অনেক বড় পাপ করেছি,, তোর নতুন মা নিয়ে আসার বায়নাটি পুরোণ করে অনেক বড় পাপ করেছি।

আমার ছোট্ট মস্তিষ্কে বাবার প্যাচানো কথার আগামাথা কিছুই বুঝলাম না। কিন্তু মা বারান্দা থেকে তেড়ে এসে বাবার সাথে ঝগড়া শুরু করে দেয়। বাবা রেগে গিয়ে ব্যাথাকাতুর শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। দরজাতে ঠেকে দেওয়া মোটা বাঁশ হাতে মাকে মাড়াতে উঠে। কিন্তু মা পাল্টা সিলভারের জগ দিয়ে বাবার মাথায় বাড়ি মারে। বাবা আমার মেঝেতে পড়ে যায় আর আমি ভয়ে চৌকির তলায় লুকিয়ে পড়ি। বাবা কোকিয়ে কোকিয়ে বলে,,

হারামজাদি তোর বিচার আল্লাহ করবে। আল্লাহ ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না। তোর কপালে অনেক দুঃখ আছে, দেখে নিস,,,,,,,,,,,,৷

মা ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বাইরে চলে যায়। আমি চৌকির তলা থেকে বেরিয়ে এসে বাবাকে বসিয়ে দিই। তারপর বাবা আমাকে জরিয়ে ধরে অনেক কান্না করে। বাবা আর আমি প্রায় ঘুমিয়ে যাবো তখনই বাইরে থেকে হাসাহাসির শব্দ আসে। বাবা আবারও অসুস্থ শরীর নিয়ে উঠে যেতে চাইলে আমি নিষেধ করি।

এভাবে কেটে গেছে ৩ দিন। মা দিব্বি তিন বেলা খেয়ে দেয়ে স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করে। ওইদিনের পরে থেকে মা একবারও আমাকে কি বাবাকে ভাত খেতে ডাকে নি। খুব খুদা লাগলে আমি নিজেই হেশেলে গিয়ে খাওয়ার মতো কিছু পেলে তা নিয়ে এসে বাবাকে দিই আর আমিও খায়।

বাবা কিছুটা সুস্থ এখন। গ্রামের কেউ ভুলেও আমাদের বাড়িতে আসে না, শুধু বড়আব্বা আসে। বাড়িতে সঞ্চয় যতটুকু চাল ছিলো সব শেষ,, মা এসে বাবার মুখের সামনে চালের উঁচু নিচু চ্যাকা লাগা সিলভারে হাড়িটা আঁচড়ে ফেলে দিয়ে বলে,

বউ রাখার মুরোদ নেই তাহলে বিয়ে করছিলা কেন?

তোর যদি না পোষায় তাহলে তোর নাগরের কাছে চলে যা। আমি আর এক টাকার ও বাজার করবো না।

মা আর কোন কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ ঘরে গিয়ে নিজের কাপড় গোছাতে থাকে। বাবা আমাকে লাল একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে বলে,,

তোরশা মা! এটা দশ টাকার নোট,, যা মা! এই টাকা নিয়ে রমিজ মোল্লার দোকান থেকে বড় বড় দুইটা পাউরুটির নিয়ে খেতে খেতে চলে আয়।

আমি টাকা টা নিয়ে পাড়ার চিকন সরু ঘাটা(রাস্তা) দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম আর পাড়ার সবাই আমাকে দেখে কি কি সব বলতে শুরু করে। রমিজ মোল্লা আমাকে পাউরুটি না দিয়েই তাড়িয়ে দেয়। তারপর বাবাকে অনেক গালি দিতে দিতে ভিতরে চলে যায়।

আমিও খুদা পেটে হাটতে হাটতে বাড়ির দিকে ফিরে আসি। বাবা উঠোনের মাথায় মরা একটা গাছের গুড়ির উপর বসে আছে। আমি টাকা টা বাবাকে ফেরত দিয়ে বলি,,

বাবা উনি আমাকে পাউরুটি দেয় নি, তাড়িয়ে দিয়েছে।

কি বলিস মা! টাকা দেওয়ার পরে ও দেয় নি?

না বাবা দেয় নি?

চল! আমি যায় তোর সাথে।

না বাবা তুমি যেওনা। উনি তোমাকে অনেক গুলো গালি দিয়েছেন।

বাবা আমার কথা শুনা মাত্রই একদম চুপ করে বসে থাকেন। তারপর উঠে ঘরের ভিতর থেকে একটা আধা পুরাতন গেঞ্জি গায়ে দিয়ে আমাকে বলেন,

আয় তো মা! আমার সাথে আয়।

বাবা আমার হাত ধরে সাথে করে নিয়ে বাজারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। পুকুর থেকে পাড়ার কয়েকটি চাচি কাপড় ধুয়ে আসার সময় বাবাকে দেখে ইয়া বড় ঘোমটা দিয়ে নিজেদের আবরণ করতে থাকে। সবাই অনেক দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি আর বাবা আরো এগিয়ে যাচ্ছি। কিছুটা দূরে যেতেই দুইজন লোক সাইকেল চালিয়ে আসার সময় বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,,

নিজের মেয়ে থাকতে অন্যের মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করার কি দরকার!

কথাটা শোনার সাথে সাথে বাবা উনাকে একটা ঘুষি মারেন, আর উনারাও বাবাকে লাথি ঘুষি দেন। তারপর কিছু লোকজন জমা হয়ে আমার বাবাকে বাজে কথা বলতে থাকে। বাবা আমার, অপমানে লজ্জায় মাথা নিচু করে বাড়ির দিকে ফিরে আসে।

বাবা বাড়িতে আসার সাথে সাথে, মা কে, নারকেলের পাতার শিরা দিয়ে তৈরি ঝাটা দিয়ে মারতে শুরু করে। আমি মাকে জরিয়ে ধরে, বাবাকে মারতে নিষেধ করার সাথে সাথে বাবা হাতের ঝাটা টা ফেলে দেয়। তারপর আমাকে নিয়ে ঘরে এসে বয়ামে ভরে রাখা একটুখানি মুড়ি পানি দিয়ে ভিজিয়ে খেতে দিলেন। সারাদিন এমন অশান্তি দেখার পরে একটুও খিদা নেই আমার। বাইরে থেকে মা বিনাকি করে কান্না করছে।

-------------------

পরের দিন বাবা খুব ভোরে উঠে আমাকে সাথে নিয়ে গঞ্জের হাটে আসেন। আমাকে আস্তো একটা ডিম ভাজি দিয়ে ভাত খেতে দেয়। আমি বাবাকে বারবার খেতে বলার পরেও কেন যেন বাবা কিচ্ছু না খেয়েই, সামনে রাখা এক জগ পানি ঢকঢক করে খেয়ে নিলেন। তারপর তৃপ্তীর ঢেকুর তুলে বলেন,, আহ! অনেক পানির তেষ্টা পেয়েছিলো রে মা। পানি খেয়েই কেমন পেট টা ফুলে গেছে দেখ?

আমি বাবার পেটে একটা আঙুল দিয়ে গুতো দিতে চেষ্টা করি কিন্তু পেট টা অনেক শক্ত দেখে বললাম,

বাবা দেখো আমার আঙুল বাকা হয়ে গেছে?

হ্যাঁ রে মা! পেটে অনেক খাবার বন্দী হয়ে থেকে এমন শক্ত হয়ে গেছে।

কিন্তু বাবা তুমি তো কাল থেকে কিছুই খাও নি?

ধুর পাগলি! না খেলে পেট এতো শক্ত থাকে বল?

আমি ও বুঝলাম, সত্যিই তো, না খেলে পেট বড় হবে কেমনে? বাবা যাদের যাদের সাথে কাজ করেন সবাই কে আজ কাজ করার জন্য বলতে থাকে কিন্তু কেউ বাবাকে কোন কাজ দেয় নি। সবাই কি কি সব বলছিল। সারা দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা করে ও কেউ কোন কাজ দেয় নি। বাবা আমার হাতটা ধরে আবারও বাড়ির দিকে রওনা দেয়।

আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করি,

বাবা! ধর্ষণ কি অনেক বড় দোষ? মা তো আমাকে মাঝে মাঝেই এমন দোষের জন্য মারে, ছোঁয়ার মতো আমারও হাত পা কেটে রক্ত বের হতো। তুমি ও না হয় আমাকে ধর্ষণ করতে,, ছোঁয়া কে কেন করতে গেলে?

বাবা আমার গালে ঠাস করে থাপ্পড় মেরে দেয়। আমি থাপ্পড় সহ্য করতে না পেরে নিচে পরে যায়। অবাক হয়ে গেছি আমি,, বাবা আমাকে মা ছাড়া কখনো ডাকে নি, অথচ আজ সেই বাবা থাপ্পড় দিয়েছে। না আমি মোটেও কান্না করিনি। কেন যেন আমার কান্না পাচ্ছে না। আমি বাবার দিকে তাকিয়ে দেখি বাবা একটা গাছের সাথে মাথা ঠেকিয়ে কান্না করছেন। বাবাকে নতুন করে আর কিছু বলার সাহস পাইনি আমি।

কিছুক্ষণ পরেই বাবা আমার হাত ধরে হনহন করে টেনে নিয়ে চলে আসেন। তারপর আমার আর বাবার জামাকাপড় গুছিয়ে একটা টিনের সুটকেসে ভরে নেয়। এই সুটকেস টা বাবা কাপড় দিয়ে পেচিয়ে যত্ন করে তুলে রাখতেন। কখনো আমাকে হাত দিতে দিতেন না।

তারপর ঘরের দরজা বন্ধ করে তালা মেরে দেয়। যদিও মা কয়েকবার সামনে এসে পথ আটকাতে চেষ্টা করেছে কিন্তু বাবা কোন কিছু না শুনেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। কিছু দূরে এসে বাবা পকেট থেকে একটা সাদা রঙের মালা বের করে, একজন গহনার দোকানদারের কাছে দিয়ে কিছু টাকা নেয়। বাবা টাকা গুলো থেকে কিছু টাকা দিয়ে একটা পাউরুটি আর কলা কিনে খায় সাথে আমাকে ও দেয়। কলা আমার খুব ভালো লাগে, তাই আমার কলাটা বাবার আগেই শেষ করে ফেলেছি। বাবা আমাকে তার অবশিষ্ট কলা দিতে চাই কিন্তু আমি নিই নি। আমার মন বলছিল, পুরো কলাটা বাবা যেন খায়।

""""""""""""""

আমরা একটা সিমেন্টের চেয়ারে বসে আছি। কিছুক্ষণ পরে একটা বড় গাড়ি এসে দাঁড়ায়, বাবা আমার হাত ধরে সাবধানে গাড়িতে তুলে দিয়ে উনিও উঠেন। আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম,

বাবা এটা কি গাড়ি?

এটা বাস গাড়ি।

আমরা কোথায় যাবো বাবা!

আমরা ঢাকাতে যাবো। তারপর আমার তোরশা মা অনেক বড় ইসকুলে যাবে। মেলা পড়ালেখা শিখে বিদ্যান হবে।

বাবা আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বসে আছেন। বাস গাড়ির ঝাকুনিতে খুব আরাম লাগছে আমার। কেমন ঘুম ঘুম পাচ্ছে। বড় বড় নানান রকম ঘরবাড়ি, কতরকম গাড়ি, কি সুন্দর রাস্তা, এতো সব দেখতে দেখতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমি।

চলবে,,,,

গল্পটা যদি ভালো লাগে তাহলে প্রত্যেকে অন্তত দুই জন বন্ধুকে মেনশন দিয়ে গল্পটা পড়ার এবং পেইজটা প্রমোট করার সুযোগ করে দিবেন প্লিজ।

Want your business to be the top-listed Media Company in Riyadh?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


Riyadh
12111