Muslims rights
31/10/2025
মক্কার বাজারে একসময় সাধারণ থোব পাইকারি বিক্রি হতো ৭০ থেকে ৮০ রিয়ালে। কেরালা আর পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা বছরের পর বছর এই বাজার চালিয়ে যাচ্ছিল। সবার একটা অঘোষিত বোঝাপড়া ছিল। সীমিত লাভ, কিন্তু স্থায়ী ব্যবসা। বাজারে শান্তি ছিল, প্রতিযোগিতা ছিল সম্মানজনক।
একদিন সেই শান্ত বাজারে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ঢুকলেন চোখে স্বপ্ন, মাথায় অঙ্ক। গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মানুষ, নিজের বুদ্ধিতে বিশ্বাসী। ভাবলেন, “এই থোব তো বাংলাদেশেই বানানো যায়, অনেক কম দামে। তাহলে আমি যদি কম দামে বিক্রি করি, সবাই আমার কাছ থেকে কিনবে।”
তিনি তাই করলেন।
বাংলাদেশ থেকে থোব তৈরি করে আনলেন এবং বিক্রি শুরু করলেন মাত্র ৩০–৪০ রিয়ালে। কেরালার ব্যবসায়ীরা হতবাক, পাকিস্তানিরা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কেউ টিকতে পারল না।
কয়েক মাসের মধ্যে তিনি মার্কেট দখল করলেন। টাকা গুণে শেষ হয় না। পরে দোকানদারদের বললেন, “তোমরা এখন নাও, বিক্রি করো, পরে টাকা দিও।”
দেখতে দেখতে পুরো সাপ্লাই চেইন বদলে গেল। সবকিছু বাকি। নগদ ব্যবসা হারিয়ে গেল। বাইরের চোখে তিনি তখন সফল ব্যবসায়ী। কিন্তু ভেতরের সত্যটা ছিল অন্যরকম।
যারা আগে ৭০–৮০ রিয়ালে বিক্রি করে ভালোভাবে বেঁচে ছিল,
তারা এখন টিকে থাকার লড়াই করছে। গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি রিয়াল হারিয়েছে, কারণ বাজার এখন “বাকি-নির্ভর”।
যে সিস্টেম একসময় স্থিতিশীল ছিল, সেটা এখন দেউলিয়া মানসিকতায় ভরা। তিনি যদি ইন্ডাস্ট্রি বুঝতেন, তবে দাম হুট করে অর্ধেক নামাতেন না। হয়তো দুই বা পাঁচ রিয়াল কমাতেন, কিন্তু ভারসাম্য রাখতেন। তাহলে শ্রমিকও ভালো থাকত, বাজারও টেকসই হতো। কিন্তু তিনি বুঝলেন শুধু নিজের লাভ। ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ বুঝলেন না।
এটাই বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বড় দুর্বলতা। তারা লাভ বোঝে, কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি বোঝে না। তারা বাজার দখল করতে জানে, কিন্তু বাজার টিকিয়ে রাখতে জানে না। ফলাফল?
বাজারে সবাই আছে, কিন্তু শান্তিতে কেউ নেই। কারণ কেউ ইন্ডাস্ট্রি বাঁচানোর চিন্তা করে না, সবাই নিজের লাভের গল্প লেখে।
14/09/2025
নতুন বাংলাদেশে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে: গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘ইসলামি ও দেশপ্রেমিক সমমনা সব দলের সমন্বয়ে একটি ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। নতুন বাংলাদেশে আগের মতো সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন-খারাবি থাকবে না। দেশ হবে সাম্যের, ঐক্যের, ন্যায়ের ও ইনসাফের। নতুন বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সমান অধিকার ভোগ করবে।’
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খলশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিগত সরকার দেশের আলেম-ওলামাদের ওপর অকথ্য জুলুম-নির্যাতন করেছিল। জামায়াত, হেফাজত, চরমোনাইয়ের হাজার হাজার আলেম-ওলামাকে বিনা অপরাধে বছরের পর বছর জেলে রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেছে। কারণ একটাই—তাঁবেদারি সরকারব্যবস্থা ও ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে কথা বলা। এখন সময় এসেছে আলেম-ওলামাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ থেকে জুলুম-নির্যাতনের অবসান ঘটানো। তাই আগামী নির্বাচনে আলেম-ওলামা, দেশপ্রেমিক জনতা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁবেদারি ও আধিপত্যবাদী শক্তির চির অবসান ঘটাতে হবে।
সংসদ সদস্য থাকাকালীন নিজের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘২০০১ সালে আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন। আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসমুক্ত ডুমুরিয়া গড়েছিলাম। সড়ক কার্পেটিংসহ মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ, শ্মশান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, ডুমুরিয়া মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, নতুন বিদ্যুতায়নের উন্নয়ন করেছিলাম। আগামী সংসদ নির্বাচনে আবার যদি আপনারা আমাকে দায়িত্ব দেন, তাহলে অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের বাকি কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ।’
জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘গত ১৯ জুলাই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাবেশে আমাদের দলের প্রধান শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতির ব্যাপারে জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন। ২০০১ সালে আমাদের ১৬ জন এমপিসহ দুজন মন্ত্রী ছিল জোট সরকারে। তৎকালীন এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার চিরুনি দিয়ে চেষ্টা করেছিল জামায়াত নেতাদের দুর্নীতি খুঁজে বের করতে। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের একজন এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি টাকারও দুর্নীতি খুঁজে পায়নি। তাই আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের ভালোবাসায় জামায়াতে ইসলামী যদি সরকার গঠন করে তাহলে এ দেশ থেকে দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।’
সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুল গণি খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলার আমির এমরান হুসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আবু ইউসুফ মোল্লা, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ ফকির। মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমির গাজী সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা ছাত্রশিবিরের নেতা মো. বোরহান উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডুমুরিয়া উপজেলার সহসভাপতি মুফতি আব্দুস সালাম, হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি দেবপ্রসাদ মণ্ডল প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.