Digun Da
12/06/2026
আজকের আবহাওয়াটা একদম অন্যরকম। সন্ধের পর থেকেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আর চারপাশটা ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে। টেবলের দোকানের টিমটিমে হ্যারিকেনের আলোয় আড্ডাটা বসেছে। আজ কোনো হাসি-ঠাট্টা নেই, পরিবেশটা বেশ থমথমে আর রহস্যময়।
দ্বিগুণ দা আজ একটা কুচকুচে কালো চাদর মুড়ি দিয়ে বসে আছে। চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করতে করতে সে হ্যারিকেনের শিখাটা একটু বাড়িয়ে দিল। আলোর নাচনে ওর ছায়াটা পেছনের দেওয়ালে মস্ত এক অসুরের মতো দেখাচ্ছে। পটল আর হাবলু ভয়ে ভয়ে ওর গা ঘেঁষে বসল।
**হাবলু:** (গলাটা একটু নামিয়ে) "দ্বিগুণ দা, কাল তুমি চিলির খনির সোনার ঘটির কথা বলতে চেয়েছিলে। কিন্তু আজ চারপাশটা কেমন যেন থমথমে লাগছে। আজ কোনো হাসির গল্প নয়, তোমার জীবনের আসল কোনো রহস্য-রোমাঞ্চকর ঘটনা বলো না, যেটা শুনলে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে!"
দ্বিগুণ দা বিড়িতে একটা লম্বা টান দিল। আগুনের ফুলকিটা অন্ধকারে একবার জ্বলে উঠেই দপ করে নিভে গেল। সে একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে পটলের দিকে তাকাল। ওর চোখ দুটো চশমার আড়াল থেকে কেমন যেন চকচক করছে।
**দ্বিগুণ দা:** "রহস্য? রোমাঞ্চ? তোরা যেগুলোকে রহস্য বলিস—ওই ভূত-প্রেত আর গোয়েন্দা গল্প—ওগুলো তো স্রেফ বাচ্চাদের রূপকথা রে! তোরা কি জানিস, বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল (Bermuda Triangle)-এর নাম শুনেছিস? যেখানে জাহাজ আর প্লেন গেলে চিরকালের জন্য ভ্যানিশ হয়ে যায়?"
**পটল:** "হ্যাঁ হ্যাঁ! ওটা তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রহস্য! ওখানকার খবর তো বিজ্ঞানী বা নাসার লোকেরাও বলতে পারে না!"
**দ্বিগুণ দা:** (এক ঝটকায় মাথার লম্বা চুলগুলো চাদরের বাইরে বের করে গম্ভীর গলায় বলল) "**চুপ কর পটল!** বেশি আইনস্টাইন সাজিস না! নাসা তো সেদিনও আমার কাছে ইমেইল পাঠিয়েছিল ডবল ক্লু খোঁজার জন্য। আজ থেকে ঠিক তেরো বছর আগের কথা। আমি তখন স্পেশাল নেভাল ফোর্সের আন্ডারওয়াটার ইনভেস্টিগেটর। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের ঠিক মাঝখানে একটা আমেরিকান সাবমেরিন নিখোঁজ হয়ে যায়। ইউএস প্রেসিডেন্ট নিজে আমায় ফোন করে বললেন, 'দ্বিগুণ দা, আপনি ছাড়া এই মহাশূন্য আর পাতালের রহস্য কেউ ভেদ করতে পারবে না। প্লিজ বাঁচান!'"
**হাবলু:** (ভয়ে ঢোক গিলে) "তুমি একা গিয়েছিলে ওখনে?"
**দ্বিগুণ দা:** "হ্যাঁ, একটা ডবল ইঞ্জিন স্পিডবোট নিয়ে আমি রাতের অন্ধকারে ঠিক ওই ট্রায়াঙ্গেলের ডেঞ্জার জোনে ঢুকলাম। চারপাশটা ঠিক আজকের মতোই কুয়াশায় ঢাকা, আর সমুদ্রের জলটা নীল নয়—একদম আলকাতরার মতো কালো! হঠাৎ দেখলাম, সমুদ্রের মাঝখানে জলটা বনবন করে ঘুরে মস্ত এক ডবল সাইজ ঘূর্ণি তৈরি করছে। কম্পাস বিকল, জিপিএস ডেড! চোখের পলকে আমার বোটটা টেনে নিল সেই জলের অতল গভীরে।"
**পটল:** "ওরে বাবা! তারপর? তুমি মরে যাওনি?"
**দ্বিগুণ দা:** "মরব কেন? দ্বিগুণ দা কি এত সহজে হার মানে? জলের তলায় প্রায় পাঁচশো ফুট নিচে গিয়ে যখন আমার জ্ঞান ফিরল, দেখলাম আমি এক অদ্ভুত কাঁচের প্রাসাদে বন্দি। আর আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সাত ফুট লম্বা এক ছায়ামূর্তি, যার গায়ে আঁশের মতো চামড়া আর চোখ দুটো জ্বলন্ত কয়লার মতো লাল! সে খসখসে গলায় বলল, 'মানব সন্তান! তুই এমন এক জায়গায় এসেছিস যেখান থেকে কেউ ফেরে না। আমিই এই ট্রায়াঙ্গেলের রক্ষক—কালভৈরব!'"
**হাবলু:** (হাঁ করে) "বলো কী! সে তোমাকে খেতে আসেনি?"
**দ্বিগুণ দা:** "এসেছিল রে! তার হাতে ছিল এক বিশাল আদিম তলোয়ার। সে বলল, 'যদি বাঁচতে চাস, তবে আমার একটা ধাঁধার উত্তর তোকে ডবল লজিকে দিতে হবে, নইলে তোকে এই জলের তলায় চিরকাল বন্দি থাকতে হবে।' ধাঁধাটা ছিল—*পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী অথচ অদৃশ্য জিনিসটা কী?*"
**পটল:** "কী ছিল ওটার উত্তর? বাতাস? নাকি অন্ধকার?"
**দ্বিগুণ দা:** (একটু রহস্যের হাসি হেসে) "তোদের ওই সিঙ্গেল মগজে ওটাই আসবে! আমি তখন বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে, মুখের কোণে জমে থাকা সমুদ্রের নোনা জলটা থুতু করে ফেলে বললাম, 'কালভৈরব, ওটার উত্তর হলো—**মানুষের লোভ আর টেবলের দোকানের চায়ের বাকি খাতার রহস্য!** দুটোই অদৃশ্য, কিন্তু ওটার ভারে পুরো দুনিয়া ডবল হয়ে তলিয়ে যাচ্ছে!' উত্তরটা শোনা মাত্রই সেই ছায়ামূর্তি বিকট চিৎকার করে উঠল। প্রাসাদের কাঁচের দেওয়ালগুলো চুরমার হয়ে ভেঙে গেল!"
**হাবলু:** "তারপর? সাবমেরিনটা পেলে?"
**দ্বিগুণ দা:** "হ্যাঁ, সেই ভাঙা প্রাসাদের পেছনেই নিখোঁজ সাবমেরিনটা আটকে ছিল। আমি ওটার চেইন ধরে এক হাতে টেনে ডবল স্পিডে সমুদ্রের ওপরে নিয়ে এলাম। আমেরিকানরা তো আমায় দেখে জয়ধ্বনি দিতে লাগল! কিন্তু আসল রহস্যটা কিন্তু অন্য জায়গায়..."
**পটল:** "কী রহস্য?"
**দ্বিগুণ দা:** (কণ্ঠস্বর আরও নিচু করে) "সেই কালভৈরব যখন হেরে গেল, সে যাওয়ার আগে আমার চাদরের তলায় একটা অদ্ভুত কালো রঙের পাথর গুঁজে দিয়েছিল। বলেছিল, 'দ্বিগুণ দা, এই পাথরটা তোমায় ডবল ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা দেবে।' আমি ওটা পকেটে নিয়েই ফিরেছিলাম।"
ঠিক এই সময় হঠাৎ হ্যারিকেনের আলোটা দপ করে নিভে গেল! পুরো দোকান ঘুটঘুটে অন্ধকার। পটল আর হাবলু ভয়ে চিৎকার করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। ঠিক তখনই পেছনের অন্ধকার থেকে একটা গম্ভীর আর কর্কশ গলা ভেসে এল—
**টেবল:** "ওরে দ্বিগুণ! বারমুডার কালভৈরব পাথর দিয়েছিল কি না জানি না, কিন্তু কাল রাতে আমার ক্যাশ বাক্স থেকে যে কুচকুচে কালো ওজনের বাটখারাটা তুই কুয়াশার মধ্যে ভুল করে পকেটে পুরেছিলি, ওটা আগে ফেরত দে! ওটার চক্করে আজ সকাল থেকে আমি খদ্দেরদের ডবল ওজনে মাল কম দিচ্ছি! আর ওদিকে তোর মা লাঠি নিয়ে এই বৃষ্টির মধ্যেই আসছে, বলছে মেজ পিসির আলমারি থেকে যে কালো চাদরটা তুই গায়ে দিয়ে পালিয়েছিস, ওটা নাকি পিসেমশাই কাল শ্রাদ্ধের বাড়িতে পরে যাবেন!"
অন্ধকারের মধ্যেই হুটোপুটি শব্দ হলো। কয়েক সেকেন্ড পর স্ট্রিট লাইটের আলোয় দেখা গেল দ্বিগুণ দা চাদরটা এক ঝটকায় কাঁধে ফেলে উঠে দাঁড়িয়েছে। ওর লম্বা চুলগুলো বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে গেছে। সে পটলদের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—
**দ্বিগুণ দা:** "দেখলি তো? টেবলটার হিংসে দেখ! ওটা বাটখারা নয়, বারমুডার সেই মহাজাগতিক পাথর, ওটার টানেই হ্যারিকেনটা নিভে গেল! আর টেবল ভাবছে ওটা ওজনের লোহা! সত্য কথা বললে এই দুনিয়ায় কেউ সইতে পারে না। **বেশি আইনস্টাইন সাজিস না তোরা!** আজ আসি।"
দ্বিগুণ দা চাদরটা উড়িয়ে বৃষ্টির অন্ধকারের মধ্যে দ্রুত পায়ে মিলিয়ে গেল। যাওয়ার সময় দূর থেকে ওর গলার আওয়াজ ভেসে এল—
"কাল বিকেলে ঠিক সময়ে আসিস। কাল তোদের বলব—**হিমালয়ের সেই কুখ্যাত ইয়েতি (Yeti) কেন মানুষের রক্ত খায় না, আর তিব্বতের হিমবাহের নিচে কোন ডবল প্রাচীন মমি আজও আমার দেওয়া পাসওয়ার্ডের জন্য অপেক্ষা করছে!** ওটা শুনলে তোদের রক্ত একদম হিম হয়ে ঝাপসা হয়ে যাবে!"
পটল আর হাবলু অন্ধকার মাঠের দিকে তাকিয়ে কাঁপতে কাঁপতে ভাবল, কাল কি সত্যিই কোনো মমি জেগে উঠবে?
#দুনিয়াগোল #বাঙালিরআড্ডা #দ্বিগুণদাঅফিশিয়াল #ডবলমজা
31/05/2026
বিকেলের পর হালকা সন্ধে নেমেছে। তবে আজ আড্ডাটা টেবলের দোকানের বেঞ্চে নয়—আজ পটল আর হাবলু দ্বিগুণ দা-র সাথে সোজা চলে এসেছে একটা খা-খা করা ফুটবল মাঠে। মাঠের এক কোণে একটা ভাঙা গোলপোস্টের বাঁশের ওপর দ্বিগুণ দা দুই পা ঝুলিয়ে বসে আছে।
চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার, শুধু দূরে একটা স্ট্রিট লাইটের টিমটিমে আলো এসে পড়েছে ওর মুখে। কাঁধের লম্বা চুলগুলো রাতের হাওয়ায় উড়ছে। দ্বিগুণ দা পকেট থেকে একটা দেশলাই বের করে একটা নতুন বিড়ি ধরাল। আগুনের আলোয় ওর চশমাটা চকচক করে উঠল।
পটল: "দ্বিগুণ দা, তুমি যে মাঝে মাঝে বলো তুমি নাকি ডবল স্পিডের ফুটবলার ছিলে? মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল সবাই নাকি তোমার পেছনে ঘুরত? আজ সেই লাইনের একটা খতরনাক গল্প বলো!"
দ্বিগুণ দা বিড়ির ধোঁয়াটা মাঠের অন্ধকারের দিকে ছুড়ে দিয়ে পটলের দিকে একচোখ বুজে তাকাল।
দ্বিগুণ দা: "মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল? তোদের ওই লোকাল ফুটবল নিয়েই মাথা ঘুরে যায় রে! তোরা কি জানিস, ব্রাজিলের ওই যে বিখ্যাত ফুটবলার পেলে বা এখনকার মেসি-রোনাল্ডো—এরা কার কাছে ফ্রি-কিক মারা শিখেছে?"
হাবলু: "কার কাছে আবার? তাদের নিজস্ব কোচ ছিল!"
দ্বিগুণ দা: (বাঁশের ওপর একটা জোরে চাপড় মেরে গর্জে উঠল) "চুপ কর হাবলু! আবার মাঝখান থেকে তড়পাচ্ছিস? কোচ তো ওনারা পরে রেখেছেন, তার আগে ওনাদের টেকনিকের মেইন সাপ্লাই যেত এখান থেকে! আজ থেকে বছর পনেরো আগের কথা। আমি তখন কোপা আমেরিকার একটা স্পেশাল ম্যাচে রেফারি আর চিফ স্ট্রাইকার—দুটো পজিশনেই একসাথে ব্যাক-আপ দিচ্ছিলাম।"
পটল: "সেকি! একজন মানুষ একই ম্যাচে রেফারি আর স্ট্রাইকার দুটোই হতে পারে নাকি?"
দ্বিগুণ দা: (এক ঝটকায় চুলগুলো পেছনে ঠেলে) "পারে না মানে? যখন প্লেয়ারদের ডবল কোয়ালিটি থাকে, তখন ফিফা স্পেশাল পারমিশন দেয়। তো, ম্যাচ চলছিল আর্জেন্টিনার সাথে ব্রাজিলের। খেলা একদম শেষ মুহূর্ত, স্কোর ১-১। এমন সময় আর্জেন্টিনা একটা পেনাল্টি পেল। মেসি শট নিতে যাবে, কিন্তু ব্রাজিলের গোলকিপার গোলপোস্টে এমন এক ডবল সাইজ সম্মোহন বিদ্যা খাটাল যে মেসির হাত-পা কাঁপতে শুরু করল। ও তো ভয়ে শট-ই নিতে পারছে না, মাঠের মাঝখানেই হাউহাউ করে কাঁদছে!"
হাবলু: "মেসি কাঁদছে? তারপর কী হলো?"
দ্বিগুণ দা: "ফিফা প্রেসিডেন্ট তখন গ্যালারি থেকে আমায় চিৎকার করে বললেন, আর্জেন্টিনা ফুটবলকে আজ আপনিই বাঁচাতে পারেন, কিছু একটা করুন!' আমি তখন রেফারির বাঁশিটা পকেটে পুরে, মেসির কাঁধে হাত দিয়ে বললাম, 'লিওনেল, নো টেনশন। তুই সর, পেনাল্টিটা আজ তোর হয়ে দ্বিগুণ দা নেবে।' আমি যখন বলটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, ব্রাজিলের গোলকিপার আমায় দেখে ল্যাদ খেয়ে গেল।"
পটল: "তুমি শট মারলে?"
দ্বিগুণ দা: "মারব মানে? আমি বিড়িটা মুখের এক কোণে চেপে ধরে, খালি পায়ে বলটাতে এমন একটা 'ডবল কার্ভ শট' মারলাম যে বলটা সোজা আকাশে উঠে গেল। সবাই ভাবল বল স্টেডিয়ামের বাইরে চলে গেছে! কিন্তু আসল খেলা তো ওখানেই— বলটা মাইনাস আশি ডিগ্রি কোণ করে মেঘের আড়াল থেকে এমনভাবে ঘুরল যে ব্রাজিলের গোলকিপার তো দূর, ক্যামেরাম্যানরাও বল খুঁজে পাচ্ছিল না। বল যখন গোলপোস্টের জাল ফেরে ভেতরে ঢুকল, তখন জালের পেছনে রাখা টেবলের চায়ের কেটলিটা পর্যন্ত ভয়ে কাঁপছিল!"
হাবলু: "বলো কী! ওই শটের পর মেসি তোমাকে জড়িয়ে ধরেনি?"
দ্বিগুণ দা: (একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উদাস হয়ে গেল) "জড়িয়ে ধরে ওনারা কেঁদেছিলেন রে! মেসি তো ওনার ১০ নম্বর জার্সিটা খুলে তখনই আমায় গিফট করতে চাইল। কিন্তু গণ্ডগোলটা পাকাল অন্য জায়গায়। ব্রাজিলের ডিরেক্টররা ফিফাকে গিয়ে কমপ্লেন করল যে, দ্বিগুণ দা শট মারার সময় যে বিড়ির ধোঁয়াটা ছেড়েছিল, ওটা আসলে এক ধরনের 'স্মোক স্ক্রিন হ্যাকিং'! ফিফা তখন পলিটিক্স করে ওটা মেসির গোল বলে চালিয়ে দিল। আমি রাগে মাঠের ওখানেই বুটজোড়া খুলে ফেলে চলে এলাম। ফুটবলটাই ছেড়ে দিলাম রে!"
ঠিক এই সময় মাঠের ওপার থেকে টেবল টর্চের আলো ফেলতে ফেলতে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এল, "ওরে দ্বিগুণ! তুই এখানে বসে কোপা আমেরিকার গল্প দিচ্ছিস? ওদিকে পাড়ার ক্লাবের ছেলেরা তোকে খুঁজছে! কাল রাতে ক্লাবের ক্যারাম বোর্ডের যে দুটো 'ডবল স্ট্রাইকার' পাউডার দেওয়ার নাম করে তুই পকেটে পুরেছিলি, ওগুলো ফেরত দিয়ে যা! আর তোর মা লাঠি নিয়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, বলছে বাড়ির নতুন ফুটবলটা তুই নাকি কোন ড্রেনে লাথি মেরে হারিয়ে এসেছিস!"
দ্বিগুণ দা বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে বাঁশ থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ল। পাঞ্জাবির ধুলোটা ঝেড়ে পটলের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—
দ্বিগুণ দা: "দেখলি তো? টেবলটার হিংসে দেখ! ওটা ক্লাবের স্ট্রাইকার নয়, মেসি আমায় মেডেল হিসেবে পাঠিয়েছিল। আর ফুটবলটা ড্রেনে যায়নি, ওটা কাল রাতে সেই ব্রাজিল গোলকিপার স্বপ্নে এসে প্র্যাকটিস করার জন্য চেয়ে নিয়ে গেছে। যাক গে, আজ চলি, তোরা কাল আসিস।"
যেতে যেতে সে নিজের লম্বা চুলে একটা ফাইনাল চাড়া দিয়ে বলল, "কাল তোদের বলব, চিলির খনিতে যে ডবল সোনা পাওয়া যায়, ওটা আসলে সোনা নয়—ওটা হলো আমার ছোটবেলার হারিয়ে যাওয়া পিতলের ঘটি। ওটা শুনলে তোদের মগজ একদম ঝাপসা হয়ে যাবে!"
দ্বিগুণ দা রাজকীয় চালে মাঠের অন্ধকারের মধ্যে মিলিয়ে গেল। পটল আর হাবলু ভাঙা গোলপোস্টের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল, সত্যিই যদি বলটা মেঘের ওপরে চলে গিয়ে থাকে!
#দ্বিগুণদাঅফিশিয়াল #ডবলমজা #দুনিয়াগোল #বাঙালিরআড্ডা
12/05/2026
বিকেলের রোদটা আজ বেশ কড়া, কিন্তু টেবলের দোকানে আড্ডা তাতেও কমেনি। দ্বিগুণ দা একটা জলচৌকির ওপর আয়েশ করে বসেছে। আজ তার মেজাজটা আরও ডবল চড়া। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে সে পটল আর হাবলুর দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন সে কোনো মহাজাগতিক সত্য উদ্ঘাটন করতে চলেছে।
হাবলু: "দ্বিগুণ দা, কাল তো বললে জিব্রার গায়ের সাদা-কালো দাগের রহস্য বলবে। আসলে জিব্রা কি কালো ঘোড়া যার ওপর সাদা রং করা, নাকি সাদা ঘোড়া যার ওপর আলকাতরা ঢালা?"
দ্বিগুণ দা বিড়িতে একটা জবরদস্ত টান দিয়ে ধোঁয়াটা রিং করে ছাড়ল। তারপর অত্যন্ত করুণার চোখে হাবলুর দিকে তাকাল।
দ্বিগুণ দা: "তোর ওই মগজটা দিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বেরোবেও না হাবলু! দুনিয়াটা কি তোর ড্রয়িং খাতা নাকি যে যখন খুশি রং করে দেবে? তোরা ভাবিস জিব্রা জন্ম থেকেই ওরকম? ইতিহাস বলছে অন্য কথা, আর সেই ইতিহাসের পাতায় আমার নামটা ডবল অক্ষরে লেখা আছে।"
পটল: "কেন দ্বিগুণ দা? তুমি কি জিব্রার জন্মলগ্নে আফ্রিকা গিয়েছিলে?"
দ্বিগুণ দা: (এক ঝটকায় চুলগুলো পেছনে ঠেলে) "আফ্রিকা তো আমার নিজের বাড়ির উঠোনের মতো রে! তখন আমি আফ্রিকার জাম্বো-কঙ্গো জঙ্গলের চিফ অ্যাডভাইজার। জিব্রারা তখন ছিল ধবধবে সাদা, একদম ধোয়া তুলোর মতো। তাদের গায়ের রং দেখে জঙ্গলের অন্য পশুদের চোখ ধাঁধিয়ে যেত। কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়— বাঘ আর সিংহরা জিব্রাদের অত দূর থেকে দেখতে পেয়ে হাপুস-হুপুস করে খেয়ে ফেলত।"
হাবলু: "সেকি! তাহলে তো জিব্রা বংশটাই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা!"
দ্বিগুণ দা: "হচ্ছিলও তাই। তখন জিব্রাদের রাজা এসে আমার পায়ে লুটিয়ে পড়ল। বলল, 'দ্বিগুণ দা, আপনিই একমাত্র মানুষ যিনি আমাদের বাঁচাতে পারেন। আমাদের এমন কিছু একটা ডবল বুদ্ধি দিন যাতে জঙ্গলের ভেতরে আমরা ইনভিজিবল হয়ে যাই।' আমি তখন ভাবলাম, কী করা যায়? আমার মাথায় তখন একটা আইডিয়া এল।"
পটল: "কী আইডিয়া?"
দ্বিগুণ দা: "আমি তখন জিব্রাদের বললাম, 'তোরা সবাই গিয়ে জঙ্গলের পুরনো রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়।' ওরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। আমি তখন রেললাইনের ধারের বড় বড় সিগন্যাল পোস্টের কালো আলকাতরা আর চুন নিয়ে এলাম। তারপর প্রত্যেকের গায়ে একটা করে সাদা দাগ আর একটা করে কালো দাগের কোডিং করে দিলাম।"
হাবলু: "রেললাইনের কোডিং? জিব্রার গায়ে?"
দ্বিগুণ দা: (গর্জে উঠে) "চুপ কর!! তড়পাস না একদম! আমি যখন বলছি কোডিং, তখন সেটা কোডিং-ই! ওই দাগগুলো আসলে ছিল 'ডবল রিফ্লেকশন বারকোড'। বাঘ বা সিংহ যখন জিব্রাদের দিকে তাকাত, ওই সাদা-কালো দাগের রিফ্লেকশনে তাদের মাথা ঘুরে যেত। তারা দেখত জিব্রা নয়, যেন এক ডজন পিয়ানো কিবোর্ড রাস্তা দিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে! ব্যাস, ড্রাগনদের মতো বাঘেরাও ভয় পেয়ে জিব্রা খাওয়া ছেড়ে দিল।"
পটল: "কিন্তু এখন তো রেললাইন নেই, তাও কেন দাগগুলো রয়ে গেল?"
দ্বিগুণ দা: (একটু মৃদু হেসে) "সেটাই তো ডবল রহস্য। আমি যখন জিব্রাদের গায়ে ওই রং মাখাচ্ছিলাম, তখন একটা ম্যাজিক মন্ত্র পড়ে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, 'যতক্ষণ না জিব্রা রাজা আমাকে এক ভাঁড় কড়া লিকারের চা খাওয়াচ্ছে, ততক্ষণ এই দাগ উঠবে না।' কিন্তু জিব্রা রাজা তো কৃপণ, সে চা না খাইয়েই পালিয়ে গেল। তাই আজ পর্যন্ত দাগগুলো পার্মানেন্ট হয়ে রয়ে গেল। জিব্রারা আসলে সাদা-কালোর জেলখানায় বন্দি হয়ে আছে আমার ওই চায়ের ঋণের জন্য!"
এই সময় টেবল (দোকানি) হাঁক দিল, "ওরে দ্বিগুণ! জিব্রা রাজার চা তো দূর, আমার দোকানে তোর গত এক মাসের চা আর বিড়ির যে 'বারকোড' হিসেব জমে আছে, সেটা কবে শোধ দিবি? ওদিকে তোর মা লাঠি হাতে এদিকেই আসছে, বলছে বাড়ির সাদা দেওয়ালে তুই নাকি আলকাতরা দিয়ে আঁকিবুঁকি করেছিস!"
দ্বিগুণ দা তড়াক করে উঠে দাঁড়াল। পকেট থেকে একটা ছেঁড়া রুমাল বের করে মুখটা মুছে বলল—
দ্বিগুণ দা: "দেখলি তো? নরো বা টেবলরা চিরকালই সংকীর্ণমনা হয়। জিব্রার রহস্য শুনে ওর হিংসে হচ্ছে। বাড়ির দেওয়ালে আমি জিব্রার ডবল ইভোলিউশন আঁকছিলাম, আর মা ভাবছে ওটা আলকাতরা! যাক গে, বেশি আইনস্টাইন সাজিস না তোরা। আসছি!"
দ্রুত পায়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে সে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলল, "কাল আসিস, তোদের বলব কেন সাপের পা থাকে না, আর আগে সাপেদের যে ডবল জুতো পরতে হতো সেটা তারা কোথায় লুকিয়ে রেখেছে। ওটা জানলে তোদের মাথা একদম ঝাপসা হয়ে যাবে!"
পটল আর হাবলু একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবল, জিব্রার বারকোডটা কি সত্যিই স্ক্যান করা যায়?
#দ্বিগুণদাঅফিশিয়াল #ডবলমজা #বাঙালিরআড্ডা #দুনিয়াগোল
12/05/2026
বিকেলের রোদে পাড়ার রকে বসে আছে পাঁচজন। মাঝখানে আসর জমিয়ে বসেছে দ্বিগুণ দা। রোগা শরীর, পরনে একটা ঢিলেঢালা পাঞ্জাবি, আর কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুলে হাত বোলাতে বোলাতে সে একটা আধপোড়া বিড়িতে টান দিল। পটল আর হাবলু ওর ডাবল সাইজ গল্প শোনার জন্য মুখিয়ে আছে।
পটল: "আচ্ছা দ্বিগুণ দা, ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি বিড়াল নাকি বাঘের মাসি। কিন্তু একটা চার ফুটের বাঘের মাসি এতটুকু একটা মিনমিনে বিড়াল হয় কী করে? এটা কি আদৌ সম্ভব?"
দ্বিগুণ দা বিড়ির ধোঁয়াটা ওপরের দিকে ছেড়ে পটলকে একটা কড়া ধমক দিয়ে উঠল।
দ্বিগুণ দা: "থাম তো পটল! তোদের মতো ল্যাদখোরদের নিয়ে আর পারি না! বুদ্ধি তো নেই-ই, তার ওপর আবার লজিক খুঁজিস! ইতিহাস তো জানিস না, জানবিই বা কী করে? সব সময় তো রকে বসে দাঁত ক্যালাচ্ছিস!"
পটল একটু দমে গেল। দ্বিগুণ দা এবার চুলে একটা ঝাপটা দিয়ে বলতে শুরু করল—
দ্বিগুণ দা: "বিড়াল কেন বাঘের মাসি, সেটার সাক্ষী আমি নিজে। আমার ঠাকুরদাদা তখন সুন্দরবনের জঙ্গলে সার্ভে করতে গিয়েছিলেন, আমি ছিলাম তাঁর সঙ্গে। তখন বাঘের সাইজ ছিল এখনকার ছাগলের মতো, আর বিড়াল ছিল এখনকার রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের চেয়েও বড় ডাবল সাইজের!"
হাবলু: "সেকি ! তুমি জঙ্গলেও সার্ভে করেছিলে???
দ্বিগুণ দা এবার হাবলুর দিকে ঘুরে চোখ রাঙিয়ে গর্জে উঠল—
দ্বিগুণ দা: "চুপ কর!! আবার মাঝখান থেকে তড়পাচ্ছিস? আমি যখন বলছি আমি ছিলাম, তার মানে আমি ছিলাম! কথা না বাড়িয় মুখ বুজে শোন, নইলে এখনই উঠে চলে যাব কিন্তু!"
হাবলু: এই না না ঠিক আছে.. ঠিক আছে.. তুমি বলো..
দ্বিগুণ দা: "তখন সুন্দরবনের বাঘেরা ছিল বড্ড ভীতু। একবার একদল বাঘকে এক পাল হরিণ তাড়া করেছিল। বাঘেরা ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করল। তখন ওই বিশালকার বিড়ালটা—যার নাম ছিল 'হাঁড়িমুখো হুলো'—সে এগিয়ে এল। বাঘের সামনে দাঁড়িয়ে সে এমন এক হুঙ্কার দিল যে হরিণের পাল তো দূর, বনের গাছপালা পর্যন্ত কাঁপতে শুরু করল।"
পটল: "তারপর?"
দ্বিগুণ দা: "তারপর বাঘেরা সেই হুলোর পায়ে লুটিয়ে পড়ল। হুলো তখন বাঘদের বলল, 'ভয় পাস না ভাগ্নেরা, তোদের আমি ফাইট শেখাব।' সেই থেকে বাঘেরা বিড়ালকে 'মাসি' বলে ডাকতে শুরু করল। বিড়ালই বাঘদের শিখিয়েছিল কী করে নিঃশব্দে পা ফেলে শিকার ধরতে হয়। কিন্তু বিড়াল একটা চালাকি করেছিল—সব শেখালেও গাছে চড়াটা শেখায়নি। কারণ সে জানত, বাঘ যদি গাছে চড়া শেখে, তবে একদিন মাসিকেই খেয়ে ফেলবে।"
হাবলু: "তাহলে বিড়াল এখন এত ছোট হয়ে গেল কী করে?"
দ্বিগুণ দা বিড়িতে শেষ টান দিয়ে আলতো করে বলল, "হুম গুড কোয়েশ্চন.. গুড কোয়েশ্চন.. বাঘেরা যখন শিকার ধরা শিখে খুব অহঙ্কারী হয়ে গেল, তখন বিড়াল মাসি দুঃখে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিল। সে ভাবল, আমি যদি এদের ডাবল পাওয়ার দিই আর এরা যদি আমার সম্মান না করে, তবে আমি আর বড় থাকবই না। সেই থেকে বিড়াল শোক করতে করতে শুকিয়ে ছোট হতে হতে এইটুকু হয়ে গেল। শুধু তেজটা রয়ে গেল ভেতরে।"
এই সময় পাশের দোকান থেকে মোদক কাকা চেঁচিয়ে উঠলেন, "ওরে দ্বিগুণ! বাড়িতে তোর মা বিড়ালের দুধের বাটিটা ভেঙে ফেলার জন্য তোকে লাঠি নিয়ে খুঁজছে, আর তুই এখানে বসে বাঘ-বিড়ালের গল্প দিচ্ছিস? যা, বাড়ি গিয়ে আগে মাসির ঝাড়ি খা!"
দ্বিগুণ দা এক ঝটকায় তার লম্বা চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। পটলদের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "দেখলি তো? সত্য কথা বললে লোকে সইতে পারে না। ওই বিড়ালটা আসলে আমার বাড়ির দুধ চুরি করতে আসেনি, এসেছিল আমাকে অভিনন্দন জানাতে যে আমিই একমাত্র মানুষ যে এই সত্যিটা জানে। কাল আসিস, ড্রাগন কেন এখন আর আগুন বের করতে পারে না, সেই ডাবল রহস্যটা বলব।"
দ্বিগুণ দা লম্বা চুলে চাড়া দিতে দিতে বাড়ির দিকে পা বাড়াল। পটল আর হাবলু একে অপরের দিকে তাকিয়ে শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
#দ্বিগুণদাঅফিশিয়াল #ডবলমজা #বাঙালিরআড্ডা #দুনিয়াগোল
"কী রে, হাঁ করে দেখছিস কী? চিনতে পারছিস না?
এতদিন পাড়ার রকে বসে তোদের জ্ঞান দিয়েছি, এবার ভাবলাম মার্ক জাকারবার্গের এই ফেসবুকের দুনিয়াটাতেও একটু পা রাখা যাক। এখানে দেখি সবাই শুধু সিঙ্গেল সিঙ্গেল কথা বলে, কেউ ডবল বোঝে না!
মনে রাখবি—দুনিয়া চলে গোল করে, আর দ্বিগুণ দা চলে ডবল করে! এখানে লজিক খুঁজতে আসবি না, এখানে শুধু ম্যাজিক।
টেবলের দোকানের কড়া লিকার চায়ের মতো কড়া সব আড্ডা হবে আর রহস্যের সমাধান সেও এই দ্বিগুণ দা-র কাছেই পাবি।
তোরা যারা জ্যান্ত লিজেন্ডকে দেখতে চাস, তারা চটপট পেজটা ফলো দিয়ে রাখ। আর খবরদার, আড্ডায় আসতে দেরি হলে কিন্তু ডবল ধমক অবধারিত! বেশি 'আইনস্টাইন' সাজিস না, ঝটপট ঢুকে পড়।
আসছি খুব তাড়াতাড়ি... তৈরি থাকিস!"
#দ্বিগুণদাঅফিশিয়াল #ডবলমজা #দুনিয়াগোল #বাঙালিরআড্ডা
Click here to claim your Sponsored Listing.