juri dutta

juri dutta

Share

23/06/2026

"একটি ভুল মেসেজ কখনও কখনও মানুষের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে। কিন্তু সেই রাতের দরজার কড়া নাড়ার শব্দ যে এত বড় এক সত্যকে সামনে নিয়ে আসবে, তা কল্পনাও করেনি তৃষা…"

শিশুখাদ্যের ডিব্বাটা উল্টে-পাল্টে শেষবারের মতো দেখল তৃষা। যদি সামান্য একটু গুঁড়োও থেকে যায়! কিন্তু না, ভেতরে আর কিছুই নেই। রান্নাঘরের ক্ষীণ আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা তরুণী মায়েটার বুকটা হুহু করে উঠল। পাশে ঘরের খাটে তার সাত মাসের মেয়ে মিহি ক্ষুধায় কেঁদে চলেছে। কান্নার সেই শব্দ যেন প্রতিটি মুহূর্তে তৃষার অসহায়তাকে আরও গভীর করে তুলছিল।

তৃষা মেয়েকে কোলে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরল। "আর একটু অপেক্ষা কর মা, আমি কিছু একটা করব," ফিসফিস করে বলল সে। কিন্তু নিজের কণ্ঠস্বরই যেন তাকে বিশ্বাস করাতে পারছিল না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক বিপদ তার জীবনের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। সংসারের শেষ সঞ্চয়টুকুও ফুরিয়ে গেছে অনেক আগেই।

পুরনো ব্যাগ থেকে মানিব্যাগ বের করে হিসাব করল সে। সব মিলিয়ে আছে মাত্র একশো টাকারও কম। অথচ শিশুখাদ্য কিনতে দরকার তার দশগুণেরও বেশি টাকা। বাড়িওয়ালা প্রতিদিন ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। নতুন চাকরি পেলেও প্রথম বেতন হাতে আসতে এখনো অনেক দিন বাকি।

কিন্তু মাত্র কয়েক মাস আগেও তৃষার জীবন এমন ছিল না। শহরের একটি নামী প্রতিষ্ঠানে ভালো পদে চাকরি করত সে। সম্মান, স্থায়িত্ব, সুন্দর ভবিষ্যৎ— সবই ছিল। তারপর একদিন অফিসের কিছু আর্থিক অনিয়ম তার চোখে পড়ে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোই যেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে দাঁড়ায়। কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে চাকরি হারাতে হয়, আর তারপর থেকে যেন দুর্ভাগ্য তার পিছু ছাড়েনি।

চরম অসহায় অবস্থায় মোবাইল ফোনটা হাতে নিল তৃষা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুরনো পরিচিত এক সহৃদয় মহিলার নম্বর বের করল। বহু বছর আগে সেই মানুষটি তার বিপদের সময় সাহায্য করেছিলেন। শেষ ভরসা হিসেবে ছোট্ট একটি বার্তা লিখল সে— মেয়ের জন্য কিছু টাকা ধার চেয়ে।

মেসেজ পাঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করল তৃষা। মিনিটের পর মিনিট কেটে গেল, কিন্তু কোনো উত্তর এল না। সে জানত না, নম্বরটির আগের মালিক অনেক আগেই সেটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছেন। আর এখন সেই নম্বর অন্য কারও হাতে।

শহরের অপর প্রান্তে তখন একা বসে ছিলেন দেশের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী আদিত্য সেন। উৎসবের রাত, চারদিকে আনন্দের আমেজ, অথচ তার মন কোথাও স্থির হচ্ছিল না। হঠাৎ ফোনে আসা অচেনা মেসেজটি খুলে পড়লেন তিনি। কয়েকটি সাধারণ বাক্য, কিন্তু সেই কথাগুলো যেন তাকে বহু বছর পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে গেল।

ছোটবেলার দারিদ্র্য, মায়ের অসহায় চোখ, না খেয়ে কাটানো রাত— সব স্মৃতি একসঙ্গে ফিরে এল। বহু বছর আগে তিনিও এমন অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। তাই অচেনা এক মায়ের আর্তি উপেক্ষা করতে পারলেন না।

খুব দ্রুত তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন তৃষার বর্তমান অবস্থার কথা। তারপর কোনো দেরি না করে প্রয়োজনীয় খাবার, শিশুখাদ্য, ডায়াপার এবং আরও অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে রাতেই বেরিয়ে পড়লেন।

গভীর রাতে পুরনো একটি বহুতলের সামনে গাড়ি থামল। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে তিনি দরজায় কড়া নাড়লেন। ভেতরে আতঙ্কিত তৃষা কাঁপা কণ্ঠে জানতে চাইল, "কে?"

বাইরে থেকে শান্ত স্বরে উত্তর এল, "আপনার পাঠানো একটি ভুল মেসেজ আমার কাছে পৌঁছেছিল।"

দরজা খুলতেই তৃষা অবাক হয়ে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে সে চিনতে পারল না। কিন্তু তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজনকে দেখে তার শরীর যেন জমে গেল।

কারণ সেই মানুষটিই ছিল সেই ব্যক্তি, যার কারণে কয়েক মাস আগে তার চাকরি হারাতে হয়েছিল। যে মানুষটি তার জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল, সে আজ মাঝরাতে তার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে।

তাহলে কি নতুন কোনো বিপদ অপেক্ষা করছে? নাকি আজ প্রকাশ পাবে এমন এক সত্য, যা তৃষার জীবনকে চিরদিনের জন্য বদলে দেবে?

চলবে...

পরের পর্বে কী হতে পারে বলে আপনার মনে হয়? কমেন্টে জানান।

20/06/2026

আমার খুব কষ্ট হচ্ছে 😌😌

Want your business to be the top-listed Media Company in KOLKATA?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address

Habra
Kolkata
743272