Itz priya

Itz priya

Share

01/06/2026

কয়েকবার রিমির দেহ ভোগ করে রিমির নগ্ন বুকের ওপর থেকে নেমে এক বান্ডিল টাকা ছুড়ে মেরে আয়ান বললো– এক রাতের জন্য এটা যথেষ্ট। যা-কিছু হয়েছে এখানেই ভুলে যাও।

রিমির মাথা এখনও ঝিমঝিম করছে, সে কোথায় আছে এখনও স্পষ্ট নয় তার কাছে। গতরাতে তো অফিসের সবাই মিলে পার্টিতে গিয়েছিল তারপর কি হলো?!

আয়ান গ্রুপ অব কোম্পানির সিইও আয়ান চৌধুরী একটা সাকসেস পার্টি আয়োজন করেছিল গতরাতে, সেখানে সব এমপ্লয়িদের আসা বাধ্যতামূলক থাকায় রিমিরও আসতে হয়েছিল, এসব পার্টি-ফার্টি রিমির অপছন্দ।

উঠতে গিয়ে নিজেকে বিবস্ত্র আবিষ্কার করে ওড়না টেনে বুক ঢেকে উঠে বসে আমতা আমতা করে রিমি জিজ্ঞেস করলো– আমি কোথায় আর এখানে এলাম কিকরে?

সার্ট প্যান্ট পরতে পরতে আয়ান বললো– শহরের সবচেয়ে দামী আর লাক্সারিয়াস হোটেল কক্ষে আছো তুমি। এখানে এক রাত কাটানোর ক্ষমতা তোমার মতো মিডল ক্লাসদের কল্পনার বাইরে।

নিজেকে পুরোপুরি পোষাক আবৃত করে উঠে দাড়িয়ে রিমি বললো– আপনি আমার সাথে এটা কি করলেন মিস্টার আয়ান, আপনি আমার জীবনটা কেন নষ্ট করলেন এভাবে বলুন।

ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসির রেখা স্পষ্ট হলো আয়ানের, ঘুরে দাড়িয়ে বললো– আমার সামনে কেউ কোনদিন রূপের অহংকার ও বড়াই করে টিকতে পারেনি রিমি, প্রমাণ তুমি নিজে। আমার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস তোমার হয় কি করে।

রিমি বললো– ওটা আমার অহংকার নয় নিজেকে সেফ রাখার জন্য ছিল, প্রতিটি মেয়ের কাছে তার ইজ্জত তার জীবনের চেয়েও বেশি মূল্যবান। প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন একজন আদর্শ জীবন সঙ্গী। আপনি যে কোটিপতি বাবার একমাত্র নষ্ট ছেলে সেটা আমি আগেই জেনেছি। আপনার প্রস্তাব আমাকে জীবন সঙ্গী করার জন্য ছিলনা, ছিল বিছানা সঙ্গী করার সেটাও অনুমান করেছিলাম মিস্টার আয়ান।

আয়ান বললো– একটা কথা কি জানো? টাকার জন্য অনেককেই ওসব আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে বিছানায় ঢলে পড়তে দেখেছি কি তুমি ভিন্ন, এই কারণেই তোমার প্রতি আরও আগ্রহ বেড়ে গেল। সোজা আঙুলে ঘি উঠবেনা তাই বাঁকাতেই হলো। ওকে টাকাগুলো নিয়ে এই রাতের কথা ভুলে যাও, ফের যদি টাকার দরকার হয় আমার পিএ'কে জানিয়ো, আবার একটি রাত আবার হাজার টাকার নোটের আরেকটা বান্ডিল।

টাকার বান্ডিল আয়ানের দিকে ছুড়ে মেরে এগিয়ে এসে আয়ানের শার্টের কলার ধরে রিমি বললো– এই টাকা পারবে আমার ইজ্জত ফিরিয়ে দিতে, বলুন পারবে? কেন নষ্ট করলেন আমার জীবন বলুন।

ধাক্কা দিয়ে রিমিকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে আয়ান বললো– চাইলে তোমাকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে পারি এখন এই মূহুর্তে, কিন্তু তোমার ব্যক্তিত্ব আদর্শ অহংকার আমার কাছে বেশ উপভোগ্য লাগে, ওগুলো নিয়ে আরও খেলতে চাই, সুতরাং আমি আমার যা ইচ্ছে করলাম এবার দেখতে চাই তুমি আমার কি ছিঁড়তে পারো মিস রিমি।

উঠে দাড়িয়ে আবারও আয়ানের শার্টের কলার ধরে রিমি বললো– আপনি আমার ইজ্জত হরণ করেছেন, আমার শরীরে নিজের শারীরিক চাহিদা মিটিয়েছেন। হয়তো আপনার কাছ থেকে স্ত্রীর অধিকার আদায় করবো নয় তো মরবো। এটাই ফাইনাল।

আয়ান গার্ডস বলে ডাকতেই দরজা খুলে আয়ানের কয়েকজন গার্ড পিস্তল হাতে রুমে ঢুকলো। আয়ান বললো– মিস রিমি, আমার একটা নির্দেশ আর পিস্তলের কয়েকটি গুলি এখনই তোমার নিশ্বাস চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে, বাট তোমার কথা আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করলাম। দেখতে চাই কীভাবে তুমি আমার থেকে স্ত্রীর অধিকার আদায় করো। গুড লাক।

গার্ড সহ রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেল আয়ান।

ক্লান্ত শরীরে বিধ্বস্ত বিষন্ন মনে বাসায় ফিরলো রিমি।
গতকাল রাতে কি তাহলে বিশ্বাসঘাতকতা হিয়া করেছে!
হিয়া রিমির কলিগ, দুজনেই এইচআর ডিপার্টমেন্টে। উপরস্থদের সাথে হিয়ার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক আছে। গতরাতে হিয়া এক গ্লাস সরবত দিয়েছিল রিমিকে, হয়তো ঐ সরবতেই ঘুমের ওষুধ বা নেশার দ্রব্য মেশানো ছিল।

বারান্দায় বসে বসে সবকিছুর হিসাব মেলাতে ব্যস্ত রিমি। আয়ানকে শিক্ষা দিতে হলে ওর আশেপাশে থেকেই শিক্ষা দিতে হবে, সুতরাং চাকরিটা ছাড়া যাবেনা। রিমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো বড়লোকদের নষ্ট ছেলেকে একটা উচিৎ শিক্ষা দিতেই হবে।

এভাবে প্রায় চার মাস অতিবাহিত হয়, নিজের ভেতর পরিবর্তন লক্ষ্য করে রিমি। মাথা ঘোরা, বমি ভাব, চেকআপ করিয়ে নিশ্চিত হয় সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ওলট পালট হয়ে যায় রিমির পৃথিবীটা।

অফিস শেষে সবাই যখন চলে গেল রিমি চলে আসলো সেজা আয়ানের অফিস রুমে। দরজা ঠেলে ভেতরে গিয়ে দাঁড়াতেই আয়ান বললো– আরে তুমি? ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন একটা ব্যর্থ মেয়ে হঠাৎ নষ্ট ছেলের কাছে যে। কি ব্যাপার?

রিমি বললো– মিস্টার আয়ান, আমার গর্ভে আপনার চার মাসের সন্তান।

রিমির কথা শুনেই " হোয়াট " বলে টেবিলে চাপড় দিয়ে উঠে দাড়িয়ে বললো– আর আর কোনো উপায় থাকেনা তখন তোমার মতো মেয়েরা এসবের আশ্রয় নেয়।

ড্রয়ার খুলে এক হাজার টাকার কয়েকটি বান্ডিল বের করে রিমির সামনে ছুড়ে ফেলে আয়ান বললো– এবরশন করে বাচ্চা ফেলে দিয়ে চিরতরে আমার সামনে থেকে চলে যাও।

রিমি বললো– বাচ্চা নষ্ট করা তো দূর, আপনি যদি আমাকে বিয়ে করে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার না করেন তাহলে আপনার মুখোশ আমি সবার সামনে উন্মোচন করবো আমার বাচ্চার কসম।

আয়ান ভীষণ ক্ষেপে গিয়ে এগিয়ে এসে রিমির পেটে একটা লাথি মারতেই একটা চিৎকার দিয়ে মেঝেতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেল রিমি...

চলবে...

গল্পঃ অধিকার আদায় ( প্রথম পর্ব )
লেখিকা – itz priya.

26/05/2026

বাসর রাতে বউকে টাচ করতে যাবো এমন সময় সে জিজ্ঞেস করলো– আপনি আর্জেন্টিনা নাকি ব্রাজিল?

আমি থতমত খেয়ে বললাম– এখন এসব কেন?

বউ বললো– ম্যাচ শুরুর আগে শিওর হয়ে নিতে হবে, আপনি দলের নাকি বিরোধী দলের।

: যদি বিরোধী দলের হই তাহলে?

: তাহলে কোলবালিশ জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়তে হবে।

এ কোন মসিবত, এরকম হবে বুঝলে বিশ্বকাপের সিজনে বুকে পাথর বেঁধে বিবাহের বাসনা বিসর্জন দিয়ে জার্সি বেচতাম।

বউ বললো– কি হলো বলেন কোন দল সাপোর্ট করেন?

বললাম– এটা কি খুবই আর্জেন্ট টিনা?

ও আপনাদের বলতে ভুলে গেছিলাম আমার বউয়ের নাম টিনা। যাই হোক বউ অবাক হয়ে বললো– কিহ!

আমি বললাম– ওসব বাদ, আমার কাছে তো আমার লক্ষী বউটাই আর্জেন্ট টিনা। ওসব আর্জেন্টিনা ব্রাজিল বাসর ঘরের বাইরে রেখে এসো আমরা করি।

বউ ভ্রু কুচকে বললো– করি মানে?

আমি বললাম– আরে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।

বউ কি যেন মনে করে আমাদের মাঝখানে কোলবালিশের বর্ডার টেনে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।

বউ ব্রাজিল আমি আর্জেন্টিনা, এই কারণে মাঝেমধ্যে আমার হোটেলে খেতে হয়, খাটের বাইরে ঘুমাতে হয়। বিশেষ প্রয়োজনে বউকে টাচ করতে গেলেও মাঝেমধ্যে মামলা খাবার ভয় হয়।

এইতো সেদিন রাতে, বন্ধুর দেয়া আর্জেন্টিনার জার্সি পরে বাসায় ফিরতেই বউ এমন ভাব করলো যেন সে আমাকে চিনেই না। সে রাতে নিজেকে ভাত বেড়ে খেতে হলো, মশারি টাঙ্গাতে হলো, দুজনের মাঝখানে সেই বিষফোড়া, মানে কোলবালিশ। ভাগ্য ভালো যে খাট থেকে বহিষ্কার করেনি।

বিশ্বকাপ কাছাকাছি আসলেই মাঠের লালকার্ড আমাদের খাটে বিরাজ করে। তার কথা হচ্ছে আমি আনুষ্ঠানিক ভাবে ব্রাজিল জয়েন না করলে সে আমাকে উপোস মারবে ভাতে এবং ঐ ইসে ( সবকথা খুলে বলতে হয়না )

নাহ এরকম আর চলতে পারেনা, এর একটা সমাধান করতেই হবে।

বিছানার চাদর আকৃতির একটা পোস্টার ছাপিয়ে আনলাম নেইমারের ছবির, সেটা ড্রইং রুমের ওয়ালে সেটে দিয়ে বউকে ডাকলাম। সে এসে এটা দেখে ভীষণ হ্যাপি, ফার্স্ট মোশনে আমার গালে একটা কিস দিয়ে মিস বললো– তাহলে ফাইনালি তুমি ব্রাজিল জয়েন করলে।

আমি বউকে বুকে টেনে ঠোঁটে একটা চুমু খেয়ে বললাম– আমার কাছে আর্জেন্টিনা ব্রাজিল নয়, আমার বউয়ের ইচ্ছা এবং হ্যাপিনেসটাই বড়ো সেনা।

আমার কথা শুনে বউ ইমোশনালি মোশন হারিয়ে ভিরমি খাবার উপক্রম।

আমি বললাম– মেসি গতবার বিশ্বকাপ জেতার পরে নেইমার মেসিকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করেছিল মনে আছে? তখন থেকেই আমি নেইমারেরও ফ্যান। ওদের একে অন্যর প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা আছে। কিছু অবুঝ ভক্তরাই একে অন্যর দলকে ছোট করে আনন্দ পায়। আমার কথা হচ্ছে কাপ যে দলই পাক দলটা হোক আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল।

বউ জল ছলছল চোখে এগিয়ে এসে বললো– এরকমই একটা মেসির পোস্টার ছাপিয়ে আনো।

আমি বললাম– আচ্ছা আনবো তার আগে চলো করি।

কথা শেষ হতে না হতেই আমার কলার ধরে টানতে টানতে বেডরুমে নিয়ে যেতে লাগলো টিনা। এত যে বলি– আরে মেসির পোস্টার কোন ওয়ালে লাগাবো সেই প্ল্যান করার কথা বলছি।

কে শোনে কার কথা, বউ আমাকে খাটের ওপর ছুড়ে ফেলে খটাস করে দরজা বন্ধ করে দিলো। মনে হচ্ছে ম্যাচের আগাম পূর্বাভাস। এই তোমরা কিন্তু রেফারি।

সমাপ্ত।

ছোটগল্পঃ আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল।

অপূর্ব নীল।

24/05/2026

'প্রেমিকের জন‍্যে ৫ মাসের বাচ্চাটি নষ্ট করলাম'
শুধুমাত্র তার সঙ্গে ঘর বাধব বলে; আর এই দিকে আমি যে বাচ্ছাটি নষ্ট করেছি সেটা শশুর বাড়িতে কেউ জানেনা!জানলে হয়তো মেরেই ফেলবে

'হাসপাতালের বাহিরে একটি রিকশা নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলাম প্রেমিক হাসিবের কাধে মাথা রেখে' শরীরটা ভিষন ক্লান্ত।
তবে বাচ্ছাটি নষ্ট করে খুব ভালোই লাগতেছে কারন প্রিয় মানুষটার সঙ্গে চিরকাল থাকতে পারবো!
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে বাড়ির সামনে চলে আসলাম ভাবতেই পারিনি আমি 'হাসিবের ডাকে জাগরত হলাম।

'মিমতা এই মিমতা তোমার বাড়ির সামনে এসেছি।
এখানেই নেমে পরি আমি ' কেউ দেখে ফেললে আমাদের প্লান শেষ।

'ওহ এসে পড়েছি।

'জ্বী!

'এরপর হাসিবের থেকে বিদায় নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলাম।
বাড়িতে পা দেয়া মাত্রই আমার স্বামী রাকিব বলে উঠলো ; কি ব‍্যপার মিমতা কোথায় গিয়েছিলে , তোমাকে বলছিনা এই সময়টা তোমাকে রেষ্টে থাকতে হবে প্লাস বেশি বেশি খাইতে হবে।
এটা ভুলে যেওনা আমার সন্তান কিন্তু তোমার গর্ভে।

'হ‍্যাঁ জানি।

'তাহলে বেপরোয়া ভাবে ঘুরতেছো কেনো।
যদি কিছু হয়ে যায় তখন।

'ঠিক আছে সরি।
আমাকে ক্ষমা করিও রাকিব।

'ক্ষমা চাইতে হবেনা রুমে চলো '

'স্বামির কথা মতোন মিমতা রুমে যাচ্ছিলো এমন মুহূর্তে রাকিব লক্ষ করলো মিমতার পা বেয়ে-বেয়ে রক্ত পরতেছে।
বউয়ের এমন অবস্থা দেখে রাকিব রুমে এসে মিমতাকে জিঙ্গেস করে।

'মিমতা তোমার পা বেয়ে রক্ত পরতেছে।
এই বিষয়টা কি লক্ষ করছো।

'কথাটি শুনেই মিমতা ভয় পেয়ে যায়।
কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা।

'এই জান বলোনা কি হয়েছে।

'হয়ত পা কেটে গিয়েছে 'চিন্তা করিওনা আমার ওষুধ লাগাচ্ছি।
তুমি তোমার কাজে যাও।

'ঠিক আছে নিজের খেয়াল রাখিও।
আমি কাজে গেলাম।

'হু!

'এরপর রাকিব কাজে বের হলেই মিমতা হাসিবকে ফোন দেয়।
হ‍্যালো হাসিব।

'জ্বী।

'রাকিব তো সন্দেহ করছিলো অল্পের জন‍্যে বেচে গেছি।
আর একটু হলেই ধরা খাইতাম।

'ওহ।

'শোন রাত্রে তোমাকে ফোন দিবো।
বতর্মান বাড়িতে অনেক লোক আছেন।

'ঠিক আছে জানে মন।
I Love you 😘

'I Love you To sona ummhhhaa 😘😘😘

'পাগলি কোথাকার।

'হ‍্যাঁ মহারাজ তোমার জন‍্যেই পাগল হয়েছি আমি।

'হু।

'ঠিক আছে এখন রাখলাম।
(কথাটি বলেই মিমতা ফোনটি রেখে দিলো ' আর মুহূর্তেই পিছন থেকে আওয়াজ আসলো ' কি ব‍্যপার বউমা হাসিব কে?)

'হাসিব কে মানে।
আপনি কি বলতে চাইতেছেন মা।

'কার সঙ্গে এভাবে কথা বললে।
তুমি কি ভুলে গিয়েছো তোমার সংসার আছে স্বামী আছে।

'ভুল-ভাল কথা বলবেন না মা।
আমি আমার বন্ধুর সঙ্গে কথা বললাম বুঝলেন।

'বন্ধুকে কেউ I love you বলে।
তার জন‍্যে পাগল হতে চায়।

'হ‍্যাঁ চায় কোন সমস্যা আপনার।
যদি সমস্যা হয়েই থাকে তাহলে আপনার ছেলেকে বলুন আমাকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন বিয়ে করতে বুঝলেন।

'ছেলের বউয়ের মুখে এরুপ কথা শোনার পর রাবেয়া বেগন কি বলবে তার জানা নেই' যেই বউকে নিজের মেয়ের মতোন দেখতেন সেই বউয়ের এরুপ ব‍্যবহার দেখে বেশ আশ্চর্য হন।

'বউমা আমি বুজতেছিনা কি বলবো।
তবুও একটি কথা বলি আমার ছেলেটাকে কষ্টদিওনা ও তোমাকে অনেক ভালোবাসে অনেক বিশ্বাস করে।

'সেটা আপনাকে ভাবতে হবেনা।
আর একটি কথা এই কথা গুলি যদি রাকিবের কানে যায় তাহলে মুহূর্তেই আমি রাকিবকে ডিভোর্স দিবো বলে রাখলাম।

'না বউমা আমি বলবো না।

'মনে থাকে যেনো।
আবারো বলতেছি যদা রাকিব জানে তবে আমার পেটের সন্তানকেও
শেষ করে দেবো কিন্তু বললাম।

'এই কথাটা শুনেই রাকিবের মা কান্না ভেজা চোখে বলেন।
মারে সন্তানটি নষ্ট করিশনা।
আমি কিচ্ছু বলবো না রাকিবকে।

'হু।

'এরপর রাকিবের মা কান্না করতে করতে নিজের রুমে চলে আসেন।
তার যেন সুখের সংসারে আগুন লেগে গেছে।
তার গোছালো সংসারটা চুর্ণ বিচুর্ণ হয়ে গেছে।

'রাবেয়া বেগমের এমন কান্না কাটি দেখে মিমিতা রুমে এসে শাশুড়ি মায়ের দুটি পা ধরে বলে' মা আমার ভুল হয়েছে আমাকে ক্ষমা করো।
আমি আর কখনো ওই ছেলের সঙ্গে কথা বলবো না।
আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি।

'রাবেয়া বেগম যেনো স্বপ্ন দেখতেছেন।
আসলেই কি এটা সত‍্যিই নাকি স্বপ্ন।
কিভাবে এতো সহজেই মিমতা সব ভুলে গেলো।

'কি হলো মা কথা বলুন।
নাকি রাগ করে আছেন বললাম তো ভুল হয়েছে।

'বউমা সত‍্যিই তুমি তোমার ভুলটি বুঝতে পেরেছো।

'হ‍্যাঁ মা বুঝতে পেরেছি।
দয়া করে মাপ করুন।

'মাপ করে দিয়েছি ' বউমা।
আর কখনো এমন ভুল করিওনা।

'হু! আর মা এসব রাকিবকে বলিয়েন না।
নাহলে অনেক কষ্ট পাবে।

'ঠিক আছে বউমা।
আমি রাকিবকে কিচ্ছুই বলবো না।

'শাশুড়ির মন জয় করে মিমতা একটি ভয়ংকর হাসি দেয়।
যেই হাসিবের মধ‍্যে অনেক কিছু লুকিয়ে আছে।

'মা তাহলে আমি আমার রুমে গেলাম।
আপনি রেষ্ট করুন।
কথাটি শেষ হতে না হতেই রাবেয়া বেগমের ফোনে একটি ফোন আসে।
ফোনটি রিসিভ করা মাত্রই রাবেয়া বেগম সেখানেই মাথা ঘুরে পরে যায়...

'পরর্বতী পর্বের জন‍্যে অপেক্ষায় থাকুন।

'গল্প: অমৃত_প্রেম।
পর্ব: ( ১ )

22/05/2026

J-- 'দরজা বন্ধ। কেউতো আমাদের দেখবে না। তাছাড়া এসবে সমস্যা কী? আজকালকার রিলেশনে এসব একটু-আধটু হয়। অবন্তী রাজি হয়ে যাও প্লিজ।'

-- 'না, সম্ভব না। তুমি এসব করছো কেনো আমার সাথে? আমাদের কি এরকম কোন কথা ছিলো আসিফ? তুমি কল করে বললে আসার জন্য, মেসে কেউ নেই, তার উপর তুমি অসুস্থ। তাই আমি চলে আসলাম। আর এখন এসব...চিহ! তুমি এতো নীচ?'

আসিফ জবাব দিলো,
- 'না।'
- 'তাহলে এখন তুমি এসব বলছো কেনো?'
- 'জানি না।"
- 'সব ছেলেরা কি এরকমই হয় আসিফ?'
- 'জানি না।'
- 'আশ্চর্য। সব কিছুতে জানি না মানে?'
- 'জানি না। বাট প্লিজ রাজি হয়ে যাও?'
- 'আশ্চর্য আসিফ! রাজি হয়ে যাবো মানে? তুমি আমার কাছে কী চেয়ে বসেছো সেদিকে নজর আছে তোমার?'

- 'কেনো? যা চেয়েছি তা কি আমাকে দেওয়া যায় না অবন্তী?'

আসিফের কথা শুনে অবন্তীর চোখে জল চলে আসলো। টপটপ করে যখন সেই জল বিছানায় পরা শুরু করলো তখন আসিফ ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে অবন্তীর চোখ মুছে দিয়ে বললো,

- 'আই এম সরি। আমি ভাবিনি যে আমার কথায় তুমি কষ্ট পাবা।'

অবন্তী নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,
- 'না সরি বলার দরকার নেই। তোমার যা ইচ্ছা তুমি করতে পারো। শুধু এটুকুই জানবো আমি, ছেলেরা দেহের আগে মন দেখে না। ভালোবাসে না। ভালোবাসতে জানে না। আর এই ভালোবাসতে না জানার কারণেই তাদের পরিণয় হয় না। পূর্ণতা আসে না।'

- 'হা হা হা। তুমি কি সত্যিই সিরিয়াস হয়েগিয়েছিলে অবন্তী? এনিথিং ইজ রঙ? আর ইউ সিরিয়াস? তুমি এই চিনলে তোমার আসিফকে?'

- 'মানে? এই চেনার মানেটা আবার কী?'
- 'আমাদের রিলেশনের আজ কতদিন হতে চললো অবন্তী?'
আসিফ অবন্তীকে জিজ্ঞেস করলো।

- 'প্রায় দুই বছর।'
- "এই দুই বছরের মধ্যে আমি তোমার কাছে কোন অন্যায় আবদার করেছি?'

- 'না।'
- 'তাহলে ভাবলে কীভাবে যে আজকেও আমি তেমন কিছু চেয়ে বসবো?'

অবন্তী নিশ্চুপ। কিছুক্ষণ পর সেই নিশ্চুপতা ভেঙ্গে কলিংবেল বেজে উঠলো। অবন্তী কিছুটা শিউরে উঠলো।

আসিফকে বললো,
- 'এখন কে এসেছে এই অসময়ে?'
- 'জানি না।'

- 'তুমি না বললে আজকে তোমার মেসের সব ফ্রেন্ডরা মিলে সিলেট বেড়াতে গিয়েছে, জ্বরের জন্য তুমি যেতে পারোনি তাই মেসে তুমি একাই আছো। এজন্য আমি চলে আসলাম। এখন আবার কে কলিংবেল দিলো?'

- 'উহু অবন্তী! এতো উদগ্রীব হচ্ছো কেনো? দেখি কে কলিংবেল দিলো। আমিতো জানি না কে এসেছে।'

- 'আচ্ছা যাও। গিয়ে দেখে এসো।'

আসিফ উঠে গেলো তার রুম থেকে। গিয়ে দরজা খুললো। নাহ! কেউতো নেই সামনে। তাহলে কলিংবেল কে দিলো?
হুট করে অবন্তী, আসিফের পেছনে পেছনে দরজা পর্যন্ত চলে আসলো।

পেছন থেকে অবন্তী জিজ্ঞেস করলো,
- 'কে এসেছে আসিফ?'
- 'জানি না। কলিংবেল দিলো। দরজা খুললাম। এখন দেখি কেউ নাই।'

অবন্তী খেয়াল করে দেখলো দরজার বা পাশে বক্সের মতো কিছু একটা রাখা। আসিফকে জিজ্ঞেস করলো,

- 'এইটা কী?'
- 'জানি না। এইটা কী? এখানে এইটা কে রেখে গেলো?'

- 'যে কলিংবেল দিয়েছে, সেই রেখে গিয়েছে। আচ্ছা দেখো এইটার ভেতরে কী আছে!'

আসিফ বললো,
- 'দেখবো মানে? যদি ভেতরে বমটম কিছু একটা থাকে তখন?'

- 'পাগল নাকি তুমি? কেউ বাসায় এসে বেল দিয়ে বম রেখে যাবে কেনো? মারার চিন্তা হলে অন্যভাবে মারবে। দেখো খুলে এইটার ভেতরে কী আছে।'


বক্সের আকৃতি আইসক্রিমের বক্সের মতো। তবে আইসক্রিমের বক্স থেকে কিছুটা বড়ো। শপিং বেগ থেকে বক্সটা বের করতেই অবন্তী দেখলো বাইরে একটা রেপিং পেপার টাইপ সবুজ রঙের কাগজ দিয়ে মুড়ানো। কাগজের ভেতরে বক্স আর বক্সের উপরে আরেকটা ছোট চিরকুট টাইপ কিছু একটা।

আসিফ পাশেই দাঁড়ানো ছিলো। অবন্তী দরজা বন্ধ করে রুমে আসলো। বক্সটা খুললো। ভেতরে মোরগের পোলাও। আর বক্সের উপরে একটা চিরকুট। অবন্তী চিরকুট টা খুললো।

সেখানে বড়ো বড়ো করে লেখা -

❝❝
"আই লাভ ইউ আসিফ। জানি তুমি অসুস্থ। আমি আসতে পারলাম না। নাহলে নিজেই নিয়ে আসতাম। একটা ছেলে জোগাড় করে পোলাও পাঠিয়ে দিলাম। বাসায় কেউ নেইতো এজন্য! তুমি খেয়ে নিও কিন্তু!"
❝❝❝

চিরকুটটা পড়ে অবন্তী আসিফের দিকে তাকালো। আসিফ বললো,

- 'কী হয়েছে? এখানে কী লেখা? আচ্ছা যাই লেখা হোক, পোলাও থেকে কী সুন্দর ঘ্রাণ বের হচ্ছে দেখছো অবন্তী?'

অবন্তী আসিফের হাত থেকে পোলাওয়ের বক্সটা মাটিতে ফেলে দিলো। সারা ফ্লোরে পোলাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো। আসিফ এই পরিস্থিতির জন্য মোটেও প্রস্তত ছিলো না। হাত দিয়ে অবন্তীর কাঁধে জোরে ধরে, অবন্তীকে কিছুটা ঝাকি দিয়ে আসিফ বললো,

- 'সমস্যাটা কী? তুমি এভাবে এই বক্সভর্তি পোলাও ফেলে দিলে কেনো অবন্তী?'

- 'অহ আচ্ছা। প্রেমিকার দেওয়া পোলাও ফেলে দিয়েছি এজন্য মনে কষ্ট লেগেছে বুঝি?'

- 'হুয়াট দ্য হেল অবন্তী! কী বলছো এসব? পোলাও, প্রেমিকার দেওয়া! মানেটা কী এসবের?'

- 'অহ! এখন তুমি মানেটাও জানো না তাইলে?'

- 'কী? মানে? তুমি কী বুঝাতে চাইছো আমাকে সরাসরি বলবা অবন্তী?'

- 'এই দেখো। চিরকুটটা পড়ো।'

আসিফ চিরকুটটা হাতে নিলো। সেখানে থাকা লেখাগুলো পড়লো।

অবন্তী বললো,
- 'পড়া হয়েছে?"

আসিফ কিচ্ছু বললো না। এবার অবন্তী আসিফের হাত থেকে চিরকুটটা নিজের হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলো জোরে জোরে -

– "আই লাভ ইউ আসিফ। জানি তুমি অসুস্থ। আমি আসতে পারলাম না। নাহলে নিজেই নিয়ে আসতাম। একটা ছেলে জোগাড় করে পোলাও পাঠিয়ে দিলাম। বাসায় কেউ নেইতো এজন্য! তুমি খেয়ে নিও কিন্তু!"

চিরকুটটা পড়েই অবন্তী ফ্লোরিং করা বেডে বসে পড়লো। হাউমাউ করে বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠলো অবন্তী।

আসিফ মাটিতে বসে বললো,
- 'আমাকে বিশ্বাস হয় না তোমার অবন্তী?'

অবন্তী কোন কথা বললো না। আসিফ অবন্তীর হাতে নিজের হাত রাখতেই অবন্তী হাতটা সরিয়ে নিলো। সরিয়ে নিয়ে বললো,

- 'তোমার এখন লজ্জা হওয়া উচিত ছিলো আসিফ! তুমি আমার হাতে ধরছো? আমার হাতে ধরার অধিকার তোমাকে কে দিয়েছে?'

আসিফ অবন্তীর কোন কথা শুনলো না। জোর করে অবন্তীর দুই হাতে হাত রেখে বললো,

- 'আমার কথা শুনো অবন্তী। আমাকে ভুল বুঝো না।।আমি জানি না এইটা কে করেছে, কেনো করেছে, কীসের জন্য করেছে। কিন্তু এইটা সত্যি, যে আমি এর কিছুই জানি না।'

হুট করে কলিংবেলটা তখন আবার বেজে উঠলো।

বেল বাজার সাথে সাথে আসিফ কিছুটা ভড়কে গেলো।এখন হুট করে নুসরাত চলে আসলো নাতো? নুসরাত কাল রাতে আসিফের সাথেই ছিলো। সকালে নয়টার নাগাদ উঠে নুসরাত তার বাসায় চলে যায়। তারপর আসিফ অবন্তীকে কল করেছিলো আসার জন্য।

এই চিরকুট আর পোলাও হয়তো নুসরাত পাঠিয়েছে কিন্তু আসিফ এইটা অবন্তীর সামনে স্বীকার করতে পারবে না। এই অবেলায় নুসরাত চলে আসলো নাতো আসিফকে দেখতে? যদি নুসরাত চলে আসে তাহলে অবন্তী কী রিয়েক্ট দেখাবে এখন? অবন্তীকে দেখে নুসরাত কী বলবে?

(চলবে)...

#গল্পঃ_অবন্তী
প্রথম পর্ব || ০১
লেখিকা –itz priya.
--------------------------------

17/05/2026

আমি যখন বারো বছরের ছিলাম, তখন নিজের চোখে দেখেছিলাম আমার মাকে তার অফিসের বসের সঙ্গে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে।
ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাসায় ফিরে বাবাকে সব বলেছিলাম।
আর পরদিন সকালেই মা একটা ব্যাগ গুছিয়ে, আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়েছিল যেন পুরো সংসারটা ভাঙার জন্য আমিই দায়ী।

তারপর ঠান্ডা গলায় বলেছিল—
“তুই যদি চুপ থাকতি… তাহলে আজ এই দিনটা দেখতে হতো না।”

সেদিন মা শুধু বাড়ি ছেড়ে যায়নি…
আমার ভেতরের ছোট্ট আমিটাকেও সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল।

সেদিন বিকেলে স্কুল ছুটি হওয়ার পর আমি রাস্তার পাশে ফুচকার দোকানের আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আকাশটা মেঘলা ছিল, বাতাসে ধুলোর গন্ধ। স্কুলব্যাগটা বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে আমি অপেক্ষা করছিলাম মায়ের জন্য। কারণ মা বলেছিল, সেদিন অফিস থেকে ফেরার পথে আমাকে নিয়ে একসাথে বাসায় ফিরবে।

কিন্তু তারপর…

আমি দেখলাম মা অফিস বিল্ডিংয়ের পেছনের সরু গলিটার দিকে হাঁটছে।
আর তার পেছন পেছন যাচ্ছিল একজন লোক।

লোকটাকে আমি চিনতাম।
মায়ের অফিসের বড় স্যার।

আমি প্রথমে কিছু বুঝিনি।
কৌতূহল নিয়ে একটু এগিয়ে গিয়েছিলাম শুধু।

তারপর দেখলাম…
লোকটা মায়ের কোমরে হাত রাখল।
মা একবার চারপাশে তাকাল।
আর ঠিক পরমুহূর্তেই লোকটা মাকে চুমু খেল।

আমার পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।

মনে হচ্ছিল কেউ যেন বুকের ভেতর থেকে জোর করে শ্বাস কেড়ে নিচ্ছে।
আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
কানে তখন রাস্তার গাড়ির হর্ন বাজছিল, দূরে আজানের শব্দ ভেসে আসছিল… কিন্তু আমার কাছে সবকিছু ঝাপসা লাগছিল।

এই মানুষটাই কি আমার মা?

যে মা প্রতিদিন নামাজ পড়ে…
মাঝে মাঝে কোরআন পড়তে পড়তে কেঁদে ফেলে…
যে মা আমাকে শিখিয়েছে, মিথ্যা বলা পাপ…

সেই মানুষটাই?

আমার ছোট্ট মাথা কিছুই বুঝতে পারছিল না।

আমি দৌড়ে সেখান থেকে চলে এসেছিলাম।
পুরো রাস্তা কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরেছিলাম।

আমাদের বাসাটা ছিল পুরান ঢাকার একটা পুরোনো গলির ভেতর। ছোট্ট ভাড়া বাসা। স্যাঁতসেঁতে দেয়াল। বারান্দায় শুকাতে দেওয়া কাপড়। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছিল ডালের গন্ধ।

বাবা তখন রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ডাল নাড়ছিল।

তার গায়ে ছিল পুরোনো একটা স্যান্ডো গেঞ্জি আর চেক লুঙ্গি। কপালে ঘাম জমে ছিল। অফিস থেকে ফিরেই হয়তো রান্না শুরু করেছিল আমাদের জন্য।

আমাকে দেখে বাবা অবাক হয়ে বলল,
“কি হয়েছে রোদেলা? তোর মুখ এমন সাদা কেন?”

আমি চুপ থাকতে চেয়েছিলাম।
খুব চেয়েছিলাম।

কিন্তু পারিনি।

কথাগুলো নিজে থেকেই বের হয়ে এসেছিল।

“আমি… আমি মাকে দেখেছি…”

বাবা হাঁ করে তাকিয়ে রইল।

আমি কাঁপা গলায় বললাম,
“মা একজন লোকের সাথে ছিল… উনি মাকে জড়িয়ে ধরেছিল…”

বাবার হাত থেকে খুন্তিটা মেঝেতে পড়ে গেল।

কিন্তু বাবা চিৎকার করেনি।
একটাও না।

আর সেটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর।

মানুষ যখন খুব বেশি কষ্ট পায়, তখন হয়তো চিৎকারও করতে পারে না।

বাবা শুধু স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
তার চোখের ভেতরটা মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল।

সেদিন রাতে আমি আর আমার দুই বোন পাশের ঘরে শুয়ে ছিলাম।
কিন্তু কারও চোখে ঘুম ছিল না।

মাঝরাতে হঠাৎ মা-বাবার চিৎকার শুনতে পাই।

প্রথমে মা সব অস্বীকার করছিল।
তারপর কাঁদছিল।
তারপর রেগে গিয়ে চিৎকার করছিল।

আর বাবার গলাটা…
ভাঙা ভাঙা লাগছিল।

আমি স্পষ্ট শুনেছিলাম বাবা বলছে—
“মেয়েটা নিজের চোখে দেখেছে, মিথ্যা বলবে কেন?”

তারপর একটা কাঁচ ভাঙার শব্দ।

আমার ছোট বোন মুন কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল।
আমি ওকে বুকের ভেতর চেপে রেখেছিলাম, অথচ নিজের শরীরটাই তখন কাঁপছিল।

পরদিন সকালটা ছিল অদ্ভুত নীরব।

মা আলমারির ওপর থেকে বড় নীল ব্যাগটা নামিয়ে কাপড় গুছাচ্ছিল।
মাঝে মাঝে চোখ মুছছিল, কিন্তু তার মুখে কোনো মায়া ছিল না।

ছোট বোনটা বারবার জিজ্ঞেস করছিল,
“মা তুমি কোথায় যাইবা?”

মা কোনো উত্তর দিচ্ছিল না।

আমি স্কুলড্রেস পরে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
জুতোর ফিতা পর্যন্ত বাঁধা হয়নি ঠিকমতো।

অনেক সাহস করে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
“তুমি কি আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছ?”

মা তখন ব্যাগের চেইন টানছিল।
হঠাৎ থেমে আমার দিকে তাকাল।

সেই দৃষ্টিটা আমি আজও ভুলতে পারিনি।

ওই চোখে মায়া ছিল না।
ভালোবাসা ছিল না।

ছিল শুধু রাগ।
অভিযোগ।
ঘৃণা।

মা ঠান্ডা গলায় বলেছিল—
“তুই যদি চুপ থাকতি, তাহলে আজ এই সংসারটা ভাঙত না।”

আমার বুকের ভেতর ধপ করে কিছু একটা নেমে গিয়েছিল।

আমি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম,
“আমি তো শুধু সত্যিটা বলেছি…”

মা তিক্ত হেসে বলেছিল,
“সব সত্যি বলতে হয় না।”

তারপর মা ছোট দুই বোনকে জড়িয়ে ধরল।
তাদের কপালে চুমু খেল।

কিন্তু আমার কাছে এল না।

আমার মাথায় হাতও রাখল না।

একবারও বলল না—
“ভালো থাকিস।”

তারপর দরজা খুলে বেরিয়ে গেল।

দরজাটা বন্ধ হওয়ার শব্দটা আজও আমার কানে বাজে।

সেদিনের পর থেকে আমাদের বাসার সবকিছু বদলে গিয়েছিল।

বাবা আর আগের মতো হাসত না।
শুক্রবার সকালে আর পুরোনো গান চালাত না।
চা বানাতে বানাতে গুনগুন করত না।

ধীরে ধীরে বাবা চুপচাপ মানুষ হয়ে গেল।

আর আমি…

আমি খুব দ্রুত বড় হয়ে গেলাম।

ভোরে উঠে নাস্তা বানাতাম।
বোনদের স্কুলে পাঠাতাম।
রাতে পড়তে বসে ঘুমিয়ে পড়তাম টেবিলের ওপর।

আমার বন্ধুরা যখন মায়ের সঙ্গে শপিংয়ে যেত, আমি তখন বাজারের ব্যাগ হাতে বাসায় ফিরতাম।

মা দিবসে স্কুলে যখন সবাই মাকে নিয়ে রচনা লিখত, আমি খাতার দিকে তাকিয়ে বসে থাকতাম।
কলম চলত না।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল রাতগুলো।

কারণ রাত হলেই একটা প্রশ্ন মাথার ভেতর ঘুরত—

যদি সত্যিই সব আমার কারণে হয়ে থাকে?

যদি আমি চুপ থাকতাম…
তাহলে কি মা থাকত?

বছরের পর বছর কেটে গেল।

মা আর কোনোদিন ফিরে আসেনি।

আমরাও একসময় তার অপেক্ষা করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

তারপর…

আমি যখন চব্বিশে পা দিলাম, সেদিন রাতে জন্মদিনের ছোট্ট আয়োজন শেষ করে নিজের ঘরে ফিরছিলাম। সবাই জোর করে হাসছিল, যেন আমরা এখনও স্বাভাবিক একটা পরিবার।

ঠিক তখনই আমার ছোট বোন নীলা দরজার সামনে এসে দাঁড়াল।

তার হাতে পুরোনো একটা প্লাস্টিকের ব্যাগ।

সে ধীরে ধীরে বলল,
“এটা আব্বুর আলমারিতে পাইছি…”

ভেতরে ছিল একটা পুরোনো ছবি।
মায়ের ছবি।

আর কিছু কাগজ।

কাগজগুলোর ওপরে আমার নাম লেখা।

আমার হাত ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।

আমি কিছু বলার আগেই নীলা কাঁপা গলায় বলল—

“আপা… মা আমাদের ছেড়ে যায়নি ওই ঘটনার কারণে…”

চলবে…

15/05/2026

নারিকেল তেল লাগিয়ে খেলাধুলা করার উপকারী জানুন শিখুন জানতে লজ্জা কিসের? #বাংলাদেশী #বাংলা #বাংলাদেশ #কাজের_মেয়ের_গর্ভে_আমার_সন্তান #রাগিণীর_অদ্ভুতুড়ে_সংসার #আলতো_ছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন__ #গল্প_মেন্টাল_হাসবেন্ড #কোমায়_থাকা_রোগী #গল্পঃ_পদ্মকাঁটা #কি__আবেশে #পর্ব_০১ #অন্তর_আসক্তি

15/05/2026

৪ বছর পর বিদেশ থেকে এসে দেখি আমার স্ত্রী প্রে*গনেন্ট, তাও ভ*রা পেট। তাকে শি*কল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে উঠানার মাঝখানে, ভ-রা পেট নিয়ে কেমন বা-চ্চাদের মত খেলছে অস্বাভাবিক ভাবে। পাশে ছোট ভাই আসিফ যত্ন নিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে।কো*মর সমান চুল গুলো গার পর্যন্ত এখন।কেমন এলেমেলো, দেখেই বুকটা কেমন হো হো করে উঠলো। ৪ বছর পর বিদেশ থেকে না বলে সবাইকে সারপ্রাইজ দিতে এসে, নিজেই যে এমন সারপ্রাইজ হয়ে যাবো ভাবতে পারিনি।

" তার মাঝে চোখে পড়ে মা আসছে। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আমার দিকে চোখ পড়তেই যেন ভয় পেলেন। চোখ মুখ কেমন শুকিয়ে গেছে। পর মুহূর্তে কিছুক্ষন স্থির দাঁড়িয়ে থেকে কাছে এসে কেমন চি*ৎকার কার জড়িয়ে ধরে।

__ আরিয়ান বাবা কেমন আছিস তুই? আমাদের না বলে এলি যে?

" চুপসে যাওয়া কন্ঠে কথাটা বলে (রিনা বেগম) মায়ের জড়িয়ে ধরতে আমার মন গোলেনা। মন তো সেই শখের নারীর দিকে পড়ে আছে। যে কিনা একটা ছিঁ*ড়া থ্রি পিস খালি পায়ে এলোমেলো, চুলে মাটি নিয়ে খেলা করছে। হঠাৎ আরিয়ান নামটা শুনে ছোট ভাই কেমন যেন ছি*টকে দূরে সরে, আমার দিকে তাকায়। শীতল পায়ে কাপাকাপা পায়ে হাটা দেয় প্রিয় নারীর কাছে, যাকে কিনা ৪ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম।

" আমি কাছে আস্তে দেখলাম কেমন ডেবডেব করে তাকিয়ে আছে, যেন একটা নি*ষ্পাপ বাচ্চা। সেই দৃ*ষ্টিতে হৃদপিণ্ডটা মনে হয় থমকে গেছে। হাঁটু গেঁড়ে পাসে বসতেই কেমন ছি*টকে দূরে সরে গেলো। ভালো করে তাকাতেই দেখলাম গলায়,হাতে, গালে অসংখ্য মা*ইরের ধাক। নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না না চাইতেও ফুঁফিয়ে কেঁদে উঠলাম। সযত্নে হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরলাম।

__ এই এই আমাকে ছুঁ*য়েও না, তুমি ও আমাকে ব্যথা দিবে তাইনা।

" বলেই ছি*টকে সরতে চাই প্রীতি, আমি পারলাম না ছা-ড়তে, শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মাথার এলোমেলো চুল ঠিক করে দিতে দিতে উত্তর দিলাম।

__ প্রিটি বউ আমি মা*রবো না তোমাকে। এইযে এসে গেছি কেউ মা*রবে না। কি হয়েছে তোমার? এমন করছো কেন? এইসব কি করে হলো?

" এইবার আর কান্না নিচু স্বরে চেপে রাখতে পারলাম না। শব্দ করে কেঁদে দিলাম। তাকিয়ে দেখি কেমন নি*স্পলক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

__ কি হলো বলো কে করেছে এমন?

__ জানিনা, তুমি করেছো তাইনা। ওইদিন রাতে আমি অনেক ব্য*থা পেয়েছি। চল আমরা পুতুল খেলি।

" বলেই ছোট বাচ্চাদের মত হাত তালি দিল। বুঝলাম না কি বলল? কিন্তু ওইদিন রাতে ব্য*থা পেয়েছে মানে কোনদিনের কথা বলছে?

__ আরিয়ান তোর বউকে সামলা। দেখ কেমন অ*বৈধ ভাবে পেট বাঁধিয়ে পেলেছে, কে জানে কোন পুরুষের বাচ্চা। তোর মা ভাই না থাকলে এতদিনে আরো কই জনের বা*চ্চা হতো, গুণেই শেষ করা যেতো না।

" অন্তত নোং*রা ভাবে কথাটা বলে আমার চাচী। কি করে উনি এটা বলল? এমন জ*ঘন্য কু*ৎসিত কথা? প্রীতি তো ওনার মেয়ের মতো। প্রীতির ভাবি উনার মেয়ে, তার পর ও এমন কথা কিভাবে বলল? ঘৃ*ণা ভরা চোখে সেদিকে তাকিয়ে মা ভাইয়ের দিকে তাকায়। তারা কেন তাকে এতদিন মিথ্যে বলেছে? ১ বছর ধরে মা ভাই তারমানে তাকে মিথ্যে বলেছে? প্রীতি বাড়িতে অথচ তাকে বলল?

চলবে..

প্রতিশোধ
পর্ব_১
লেখিকা – itz priya.

14/05/2026

মাত্র তিন দিন মালিশ করলেই রাতে ছক্কা মারতে পারবেন, জানুন শিখুন জানতে লজ্জা কিসের? #বাংলা #বাংলাদেশ #কাজের_মেয়ের_গর্ভে_আমার_সন্তান #আলতো_ছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন__ #কোমায়_থাকা_রোগী #রাগিণীর_অদ্ভুতুড়ে_সংসার #গল্প_মেন্টাল_হাসবেন্ড #বাংলাদেশী #গল্পঃ_পদ্মকাঁটা #অন্তর_আসক্তি #কি__আবেশে #পর্ব_০১

14/05/2026

"এসো আমার সাথে একটা রা*ত কা-টাও। যদি আমাকে সু*খী করতে পারো তাহলে তোমায় বিয়ে করব, নাহলে নয়।"

নিজের সামনে দাঁড়ানো অতীব সুদর্শন পুরুষটির মুখে এহেন কথা শুনে ভয়ে, ল*জ্জায় একদম গুটিয়ে গেল তানহা। দ্রুত কান চেপে ধরল সে৷ তানহাকে এমন করতে দেখে ভ্রুঁ কুচকে তাকাল শাহনওয়াজ সিদ্দিকি। এই মেয়েটা তো নিজের ইচ্ছাতেই এখানে এসেছে। তাহলে এখন এসবের মানে কি?

শাহনওয়াজ হালকা কেশে বললো,
"এই মেয়ে কি হলো তোমার? যা বলছি সেসব কি কানে যায়নি?"

তানহা আমতাআমতা করে বলে,
"আমি..আমি এমন মেয়ে নই..প্লিজ আমায় যেতে দিন।"

কথাটা শুনে মোটেই ভালো লাগল না শাহনওয়াজের। সে রাগী স্বরে বলে উঠল,
"এতই যদি স*তী-সাবি*ত্রী হোস তাহলে এখানে এসেছিলি কেন? এখন এসব কি নাটক করছিস? বেশি নাটক না করে জলদি গা থেকে ওড়নাটা সরা।"

তানহা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলে ওঠে,
"নাহ, একজন নারীর কাছে তার সম্মানের থেকে দামি কিছু না। আমি কোন কিছুর বিনিময়েই নিজের সম্মান বিস*র্জন দেব না।"

শাহনওয়াজের পুরো শরীর রা*গে, ক্ষো*ভে জ্ব*লে উঠল। সে তানহার বাহু শক্ত করে আকড়ে ধরে বলে,
"তাহলে এখানে কি রং তা*মা*শা করার জন্য এসেছিলি?"

তানহা এবার ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে। সে তো এতকিছু ভেবে এখানে আসেনি। সে নিজের বান্ধবীর কাছে শুনেছিল, এখানে আসলে সে নিজের জীবন পরিবর্তনের একটা সুযোগ পাবে। কিন্তু সেই সুযোগের জন্য যে এত বেশি দাম দিতে হবে সেটা তার কল্পনার বাইরে ছিল। তানহাকে এভাবে কাঁদতে দেখে শাহনওয়াজ বিরক্তির সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায়। এক ধাক্কায় তানহাকে দূরে ফেলে দেয়। তানহা ফ্লোরে পড়ে গিয়ে ব্য*থায় আ*র্তনাদ করে ওঠে। শাহনওয়াজের রাগ তবুও কমে না। সে সিকিউরিটি গার্ডদের উদ্দ্যেশ্যে বলে,
"এই মা*লটাকে জলদি বাইরে ফেলে এসো। এর চেহারাও আর দেখতে চাই না।"

অতঃপর সিকিউরিটি গার্ডরা তানহাকে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে যায়। শাহনওয়াজের সর্বসময়ের সাথী তথা তার সেক্রেটারি আকবর ধীর পায় এগিয়ে এসে হালকা ঢোক গিলে বলে,
"স্যার, বাইরে আরো অনেক মেয়ে অপেক্ষা করছে। আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে..."

শাহনওয়াজ রক্তিম চোখে তাকায় আকবরের দিকে। তাঁর এই দৃষ্টি দেখে আকবরের কন্ঠস্বর রু-দ্ধ হয়ে যায়। শাহনওয়াজ বলে ওঠে,
"আমার মুডটাই আজ ন*ষ্ট করে দিয়েছে এই স্টুপিড মেয়ে। এখন আর কোন মেয়ের সাথে দেখা করার রুচি নেই। ওদের সবাইকে চলে যেতে বলো।"

"স্যার, একটা মেয়ে নাহয় একটু বে*কে বসেছে কিন্তু বাকিরা.."

শাহনওয়াজের রাগী দৃষ্টি দেখে আর কথা না বাড়িয়ে আকবর তার নির্দেশনা মেনে নেয়। শাহনওয়াজ এবার একটা রকিং চেয়ারে বসে বলে ওঠে,
"আজ অব্দি কারো সাহস হয়নি, আমাকে রিজেক্ট করার। আমি সবাইকে রিজেক্ট করেছি। আর আজ কিনা ঐ সামান্য একটা মেয়ে আমাকে রিজেক্ট করলো! এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। এবার এর শেষ দেখেই ছাড়ব।"

আকবর ফিরে এসে শাহনওয়াজ সিদ্দিকির দিকে তাকিয়ে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে থাকে। তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে আজ তার রাগ সপ্ত আসমানে। আর হবে না-ই বা কেন? শাহনওয়াজ সিদ্দিকি হলো পুরো চট্টগ্রাম শহরের ত্রা*সের নাম। খাতায়-কলমে যদিও একজন সাধারণ বিজনেসম্যান তবে তার আসল পরিচয় আরো বেশি ভ*য়ানক। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যতো অ-নৈতিক চো*রাকার*বার সে পরিচালনা করে তা কারো অজানা নয়। তবুও ভয়ে কেউ তার বিরু*দ্ধে কিছু বলতে পারে না। যারাই তার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার চেষ্টা করে তাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয় সে। আজ অব্দি কতজনকে যে তার আদেশে মে*রে সমুদ্রে ভা*সানো হয়েছে তার কোন ইয়াত্তা নেই। এই শাহনওয়াজ সিদ্দিকির পরিবার বলে কিছু নেই। তার ইচ্ছা ছিল এবার বিয়ে করবে। সেজন্যই সে আজ এই আয়োজন করেছিল৷ তার ডাকে সাড়া দিয়ে অনেক মেয়েও এসেছিল। শাহনওয়াজের ইচ্ছা ছিল একে একে সব মেয়ের সাথে শা*রী*রিক সম্পর্ক স্থাপন করে যাকে তার ভালো লাগবে তাকেই স্ত্রী হিসেবে বরণ করে নেবে। কিন্তু প্রথমেই এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলো যা তার পুরো ইচ্ছাটাই শেষ করে দিলো। শাহনওয়াজ সিদ্দিকি আচমকা আকবরের উদ্দ্যেশ্যে বলে উঠল,
"ঐ মেয়ের সম্পূর্ণ বায়োডাটা আমার চাই।"

আকবর আজ্ঞাবহ দাসের মতো মাথা নাড়িয়ে বললো,
"আচ্ছা, স্যার..পেয়ে যাবেন।"

শাহনওয়াজ আশ্বস্ত হলো। আকবর ছেলেটা বড্ড কাজের। কিভাবে যেন এই ভী*তু মানুষটা তার মতো ভ*য়াবহ মানুষের সাথে মানিয়ে নিলো। আর এখন শাহনওয়াজের ছায়াসঙ্গী হয়ে উঠেছে সে।

★★
তানহা নিজের চোখের জল মুছতে মুছতে নিজের বাড়িতে প্রবেশ করল, নিজের বাড়ি বললে হয়তো ভুল হবে। সে তো এই বাড়িতে প*র*গাছার মতো বেড়ে উঠেছে। তখনকার ঘটনা সে কিছুতেই ভুলতে পারছিল না। জীবনে অনেক কিছু সহ্য করেছে সে। তবে এমন বা*জে পরিস্থিতি তার জন্য সম্পূর্ণ নতুন। তানহা বাড়িতে প্রবেশ করা মাত্রই একজন মধ্যবয়সী মহিলা এসে তার চুলের মু*ঠি টে*নে ধরে বলে,
"সকাল সকাল কোন নাং এর কাছে গিয়েছিলি ন*বাবজা*দী? বাড়ির সব কাজ কি তোর মরা মা এসে করবে?"

তানহা ব্যথায় আ*র্তনাদ করে উঠলো। এতেও দয়া হলো না তার সৎ মা মর্জিনা বেগমের। তিনি আরো জোরে তানহার চুল টেনে ধরে বললেন,
"তোর খুব ডানা গজিয়েছে তাই না মা**গী। তোর এই ডানা কিভাবে ছা*টতে হয় আমার জানা আছে। আজ সারাদিন একটা দানাও খেতে পারবি না তুই। এটাই তোর শা*স্তি।"

তানহার চোখ জলে টলমল করতে থাকে। সে কিছুই বলতে পারে না। মর্জিনা বেগম তাকে আরো নানারকম অ*শ্রা*ব্য গা*লম*ন্দ করতে থাকে। তানহার কাছে যদিও এসব নতুন নয়। নিজের মাকে হারানোর পর যখন তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে সৎমা নিয়ে এলো তখন থেকেই তাকে এসব সহ্য করতে হচ্ছে। তার আপন বাবাও কখনো তাকে কাছে টে*নে নেয়নি। আর সৎমা তো সৎমাই হয়। এই ন-রককু*ণ্ড থেকেই তো মুক্তি চেয়েছিল সে। তাই তো তার এক বান্ধবী যখন তাকে জানিয়েছিল, আজ হোটেল গ্র‍্যান্ড প্যালেসে গিয়ে শহরের অন্যতম ধনী বিজনেসম্যান শাহনওয়াজ সিদ্দিকির কাছে সাথে দেখা করলে তার জীবন বদলে যাবে তখন সে এতো কিছু না ভেবে চলে গিয়েছিল। বছর ২২ এর তানহা বুঝতে পারেনি এই দুনিয়ার চরম জটি*লতা।

তানহার উপর যখন এমন অ*ত্যাচার চলছিল তখনই সেখানে উপস্থিত হলো তার সৎ বোন মিহি। সে এসে তানহাকে একটুও দয়া দেখালো না। বরং তার উপর এমন অ*ত্যা*চার হতে দেখে যেন খুশিই হলো। নিজের মাকে উৎসাহ দিয়ে বললো,
"মা*রো এই বা*ন্দির বে*টিকে। ওর জন্য আজ আমায় না খেয়ে কলেজে যেতে হচ্ছে। প্রতিদিন সকালের রান্না তো ঐ করে, তাহলে আজ কেন এত ব্য*ত্যয় ঘটল। ওর মতো বা*ন্দী থাকতে কি এখন তুমি আর আমি রান্না করবো আম্মু?"

মর্জিনা বেগম তেতে উঠে বললেন,
"কখনো না। যদিও আমাদেরই এই বাড়ির সব কাজ করতে হয় তাহলে একে শুধু শুধু পু*ষছি কেন? এই মা**গী, যা জলদি গিয়ে রান্না বসা। আর বাড়ির সব কাজ আজ তুই করবি। আমি ছ*কিনাকে আজকে ছুটি দিয়ে দিয়েছি।"

বলেই তিনি তানহাকে ঠেলে সামনে পাঠান। তানহা অ*সহায় চোখে তার পানে তাকাতেই তিনি বলেন,
"এভাবে কি দেখছিস? তোর এইসব ন্যা*কা*মি দেখে আমার মন গ*লবে না। যা রান্নাঘরে।"

অগ*ত্যা তানহা রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায়। পেছন থেকে মা-মেয়ের হাসির আওয়াজ তার কানে আসে। যেন তাকে এভাবে অ*পদস্ত করে আর ক*ষ্ট দিয়ে তারা মহাখুশি। তানহা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। নিজের এই জীবনের সাথে তো সে মানিয়ে নিয়েছে। তবুও মাঝে মাঝে মুক্তির আশা জাগে মনে। সেই ছোট্ট থেকে এভাবে বড় হওয়ায় তার মা*নসিক বিকাশ সেভাবে ঘটেনি। কখনো প্র*তিবাদ করতে শেখেনি সে।

রান্নাঘরে এসে চোখের জল মুছে সে রান্নার কাজ শুরু করে। রোজকার এই নি*র্মম*তায় বয়ে চলতে থাকে তার জীবন। যেই জীবনের পারতে পারতে রয়েছে বি*ষাদের ছায়া।

অ'গ্নিদ'গ্ধ_ভালোবাসা
পর্বঃ১
লেখিকাঃ itz priya.

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Howrah?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address

Bangladesh, Daka, Kolkata
Howrah