USA Study Info
05/07/2026
সাব্বাশ এই না হলে পাইলট???
এই লাট সাহেবকে চিনে রাখুন। পত্রিকায় পুরো ঘটনা পড়ে আমার চোখ কপালে উঠার জোগাড় হয়েছে! এই লোক ঢাকা থেকে বিয়ে করতে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলো এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইটে। বিমান ছেড়ে দিয়েছে। মানে টেইক অফ (আকাশে উড়ে নাই) নাই। ট্যাক্সিতে চলছিল। ট্যাক্সি মানে যারা বুঝেন না; তাঁদের জন্য বলছি- বিমান যখন রানওয়েতে চলে আরকি। ঠিক রানওয়ে না; রানওয়েতে উঠার রাস্তা।
তো, বিমান ছেড়ে দিয়েছে। এই সময় এই লাট সাহেবের মনে হয়েছে- বিয়ের জন্য কেনা শেরওয়ানি ভুলে বাসায় ফেলে এসেছে। এরপর সে কেবিন অ্যাটেনডেন্টকে ডেকে বলেছে
- প্লেন থামান। বাসা থেকে শেরওয়ানি আনতে হবে।
অ্যাটেনডেন্ট উত্তরে বলেছে
- জরুরী স্বাস্থ্যগত বিষয় ছাড়া এই মুহূর্তে বিমান ফিরিয়ে নিয়ে যাবার কোন নিয়ম নেই।
সে চিৎকার করে বলেছে
- আপনি জানেন আমি কে?
এরপর সে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেছে
- আমি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স।
এই লোক এরপর বিমানের ককপিটে চলে গেছে। মানে পাইলট যেখানে বিমান চালায়। ওই পাইলট নাকি এই লোকের পরিচিত ছিল। এরপর বিমানটিকে ফিরিয়ে আনা হয়।
এর তিন ঘণ্টা পর অন্য একটা বিমানে এই লোক সহ বাদ বাকি প্রায় একশো যাত্রী চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। মানে এই লাট সাহেবের বিয়ের শেরওয়ানির জন্য অন্য যাত্রীদের তিন ঘণ্টা বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিমানের ভেতর অবশ্য আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল
- যাত্রীর শেরওয়ানি আনার জন্যই বিমান ফিরে যাচ্ছে।
এরপর এয়ার অ্যাস্ট্রা কী বলেছে জানেন?
- আসলে বিমানের এসি কাজ করছিল না। এই জন্য আমরা ফেরত এসছি।
মানে বুঝতে পারছেন তো? এয়ার অ্যাস্ট্রা হচ্ছে প্রাইভেট কোম্পানি। এখন যদি বলে- এই অফিসারে কারনে ফেরত এসেছে। তাহলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লাট সাহেবগুলো হয়ত এয়ার অ্যাস্ট্রার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবে!
বিমানের ভেতরে থাকা সকল যাত্রী বলেছে- এই প্রিন্স (পড়ুন লাট সাহেবের) কারনেই বিমান ফিরে গেছে। এখন উনারা গল্প বানাচ্ছেন। পৃথিবীর ৯১টা দেশ ঘুরেছি। এই মুহূর্তে যখন লেখাটা লিখছি; জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ঘুরে এই মুহূর্তে ফ্রান্সের এয়ারপোর্টে অবস্থান করছি। জীবনে কোন দিন শুনি নাই- কোন যাত্রীর ব্যক্তিগত শেরওয়ানির কারনে প্লেন ফিরে গেছে। তিন ঘণ্টা পর ছেড়েছে!
এই লোক যখন বিমানে উঠেছে। সে তো অন্য আর সবার মতই একজন যাত্রী। তাঁকে পরিচয় দিতে হলো কেন? আপনার পেশাগত কাজের বাইরে আপনার পরিচয় স্রেফ একজন সাধারণ নাগরিক। একটা উদাহরণ দেই। বেশ কয়েক বছর আগের কথা। আমি এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস নেয়া শেষ করে সন্ধ্যার বাস ধরে বাসায় যাব। বাসে উঠেছি। পাশে সাদা চামড়া, নীল চোখের একজন ভদ্রলোক বসেছেন। তাঁর সাথে কথা হচ্ছিলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন
- এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াও বুঝি তুমি?
- হ্যাঁ।
- এই শ্বেতশুভ্র তুষারের দেশে কেমন লাগে? এখানে তো সব সময়ই ঠাণ্ডা।
- আমার খারাপ লাগে না। সুইডেনে পড়াশুনা করেছি তো, তাই এস্তোনিয়ান আবহাওয়ায় খুব একটা খারাপ লাগছে না।
তিনি পরের স্টপে নেমে যাবেন। আমার মনে হলো জিজ্ঞেস করি
- তুমি কী করো?
তিনি বললেন
- আমি এই শহরের মেয়রের কাজ করছি এই মুহূর্তে।
শুনে আমি এত অবাক হয়েছি! মেয়র আমার পাশে বসে যাচ্ছে। কেউ তাকাচ্ছেও না। কেউ দুই পয়সার মূল্যও দিল না তাঁকে। কারন পেশাগত জায়গার বাহিরে এই বাসে তিনি কেবলই একজন যাত্রী। আপনাদের জানিয়ে রাখি আমার এই শহরে গনপরিবহন সম্পূর্ণ ফ্রি।
যা হোক, সকল বিষয় মেনে নিলাম। এই লাট সাহেব বিমানের ককপিটে কী করে গেলেন? আমি তো জানি বিমানের ককপিটে যাওয়া যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্তত এই কারনে হলেও তো তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত। তাছাড়া সে কীভাবে বিমান থামাতে বলে? এটা তো সবাই দেখেছে। বিমান থামাতে বলার এখতিয়ার কি তাঁর আছে নাকি? এটা তো অপরাধ। এর জন্য শাস্তি হবে তাঁর?
অবশ্য শাস্তি! গত দুই দিন ধরে টাংগাইলের পাসপোর্ট অফিসের ওই কর্মকর্তাকে নিয়ে লিখেছি। এখন পর্যন্ত কোন শাস্তি হয় নাই। উল্টো গতকালের পোস্টে একজন এসে কমেন্টে জানিয়েছেন
- আমিও গিয়েছিলাম। পেশার জায়গায় বেকার লিখেছি। কারন আমি কিছু করি না।
এরা আমাকে বলেছে
- আপনি যে বেকার; এর সার্টিফিকেট নিয়ে আসেন!
এরপর এই লোক টাকা দিয়ে কাজ সেরেছেন! চিন্তা করেন অবস্থা! এই দেশে সরকারি কর্মকর্তাদের কোন শাস্তি হয় না। হবেও না। এটাই সিস্টেম। উনারা হচ্ছেন জমিদার। আর সাধারণ নাগরিকরা সবাই এদের দাস! সামান্য শেরওয়ানির জন্য যে ক্ষমতা দেখায়। সে তো দেশ বিক্রি করে দিতে দুই মিনিটও ভাববে না।
তাই এদেরকে সামাজিক ভাবে শাস্তি দিন। এই লোকের ছবি ছড়িয়ে দিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করুন। ওর শেরওয়ানি পরে বিয়ে করার খায়েশ মিটিয়ে দিন। অন্তত পুরো বাংলাদেশের মানুষ জানুক- সে মানুষ না, একটা দানব।
The writer's credit- Islam