Hello Tanjil
26/08/2025
দুজন ব্যারিস্টার এবং ফকিন্নির পোলারা
============================
কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন- শেষ রাতে হাঁসের মাংস খেতে তিনি নীলা মার্কেটে গিয়েছিলেন, কিন্তু দোকান বন্ধ থাকায় পরে ওয়েস্টিন হোটেলে গিয়ে নাস্তা করেছেন।
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তরাধিকার সূত্রে অগাধ সম্পত্তির মালিক ও একটি নামমাত্র দলের নেতা ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থ মন্তব্য করেন- যে ছেলে আগে ক্যান্টিনে ভাত খুঁজতো, সে এখন ওয়েস্টিনে গিয়ে হাঁস খুঁজে। অথচ বাস্তবতা হলো, ব্যারিস্টার পার্থের মতো অভিজাত পরিবারের জন্য ওয়েস্টিন, সোনারগাঁও, রেডিসন- এসব হোটেল হাতের মোয়া। ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টারি পড়াশোনা করতেও যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রামের এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াটাই তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। তুলনা করতে গেলে দুজনের অর্থনৈতিক অবস্থান আকাশ-পাতাল ভিন্ন। একজন মন্ত্রী পদমর্যাদার মানুষ যদি ওয়েস্টিনে নাস্তা করেন, সেটি কি এতই অস্বাভাবিক যে তার ওপর ব্যঙ্গ করতে হবে? অথচ যখন বিগত স্বৈরশাসকরা পুরো দেশটাই গিলে খাচ্ছিল, তখন এ ব্যারিস্টারদের কণ্ঠে কোনো প্রতিবাদের ঝড় ওঠেনি।
একইভাবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, যিনি উচ্চবিত্ত পরিবারের কন্যা এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে ব্যারিস্টারি করেছেন, আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রকাশ্যে ফকিন্নির বাচ্চা আখ্যা দিয়েছেন। এ মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের প্রতি অভিজাত শ্রেণীর গভীর তাচ্ছিল্যের বহিঃপ্রকাশ।
বাস্তবতা হলো- এই দেশের বড় বড় আন্দোলনে বুক পেতে গুলি খেয়েছে, প্রাণ দিয়েছে গরিব ঘরের সন্তানরা। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলন- ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রক্ত দিয়েছে দরিদ্ররা, আর পরবর্তীতে ভাগবাটোয়ারায় জোট বেঁধেছে অভিজাতরা।
আজ যখন তরুণ নেতারা লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ ঘটাচ্ছেন, তখন তাদের নিয়ে মিথ্যা সমালোচনা তোলা হচ্ছে- ঢাকা ছাড়া হলে পাঁচজনও পাবে না, কিংবা ওরা সিকিউরিটির নামে নাটক করছে। অথচ সবাই জানে, স্বৈরাচার ও নব্য স্বৈরাচাররা সুযোগ পেলেই এসব তরুণ নেতাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইবে। তাই সিকিউরিটি প্রশ্ন তোলা আসলে কপটতা ছাড়া আর কিছু নয়।
এমনকি এক নেতা এতটা ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন যে বলেছেন- আমি প্রস্রাব করলেই তারা ভেসে যাবে। এই বক্তব্য আসলে আন্দোলনবিরোধী ব্যঙ্গ নয়, বরং গণমানুষের প্রতি ঘৃণার প্রকাশ।
এ দেশের ইতিহাস প্রমাণ করেছে- অভিজাত শ্রেণী সবসময় প্রভু বদলেছে, কখনো ব্রিটিশদের, কখনো পাকিস্তানিদের, কখনো স্বৈরাচারী শাসকদের গোলামী করে ধন-সম্পদের মালিক হয়েছে। আর গরিব ঘরের সন্তানরা লড়াই করেছে, রক্ত দিয়েছে, কবর দিয়েছে আপনজনকে।
আজ যারা আন্দোলনের বীর সন্তানদের নিয়ে কটাক্ষ করছেন, তাদের জন্য এটি সতর্কবার্তা- দেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি পাড়ায় ফকিন্নির ছেলেদের সংখ্যা বাড়ছে। ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তারাই হবে প্রধান শক্তি। সুতরাং অর্থনৈতিক অবস্থান, পরিবারিক পটভূমি কিংবা পোশাক-পরিচ্ছদ দিয়ে কাউকে ছোট করার সংস্কৃতি যত দ্রুত ত্যাগ করবেন, ততই ভালো।
কারণ, সময় বদলাচ্ছে। অতীতের মতো এখন আর অভিজাতদের ইশারায় জনগণ চলবে না।
লেখা: সংগৃহীত ও পরিমার্জিত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Sylhet