Aish Humaira
23/09/2025
মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি গত মাসে। একমাত্র মেয়ে। ছেলেটা ছোট এখনো কলেজে পড়ে।
আজ মেয়ের বাসায় দাওয়াত পরেছে। ইফতারের দাওয়াত।
কাল রাতেই মেয়েকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলাম - তোর কি কি খেতে মন চায়? কি আনবো?
মেয়ে আমার এক লম্বা লিস্ট ম্যাসেজ করে পাঠালো। কিন্তু লিস্টের কোথাও মেয়ের পছন্দের কোন কিছু দেখলাম না। আমার মিসেস কে বললাম - মেয়ে তো জীবনেও মিষ্টি খায় নাই। আজ এতগুলা পদের মিষ্টি নিতে বলল কেন?
ফলও তো কোনদিন জোর করে খাওয়াতে পারি নাই। তবুও ৬ পদের ফলের নাম লিখে দিছে। আবার লিখছে ১০ কেজি দেশি দুধ আর ৮ টা দেশি মুরগি নিতে। এগুলাও তো তারে খাওয়াইতে পারতাম না এই বাসায় রেখে। এক মাসেই মেয়ের খাবারের রুচি বদলে গেলো? যাক ভালো অভ্যাস হয়েছে।
সে কোন কথার উত্তর দিলো না। যেন তার এতে কোন মাথা ব্যাথা নেই।
সকাল সকাল উঠে ঠাটারি বাজার গিয়ে দেশি মোরগ নিলাম। আগের রাতে একজনকে গোয়ালের দুধ এনে দিতে বলেছিলাম। সেও নিয়ে হাজির।
যাওয়ার পথে ফল আর মিষ্টি কিনে নিবো।
আমি যখন দুপুর বেলা নামাজে পড় রেডি হচ্ছি তখন আমার স্ত্রী মাত্র কুরআন পড়তে বসলো।
তার মেয়ের বাড়িতে যে তার দাওয়াত সেটা সে পাত্তাই দিচ্ছে না।
জোরে এক ধমক দিয়ে বললাম - মেয়েটার বাসায় তাড়াতাড়ি যাবো। দুটো গল্প করবো তা না উনি দেরি করে যাবে।
সে এখানেও কোন কথা না বলে এক পাতা পড়ে উঠে গেলো রেডি হতে।
ছেলেকেও ধমকিয়ে রেডি করলাম।
আমার বাসা থেকে ওর বাসায় যেতে প্রায় ৪৫ মিনিট লাগে। রাস্তায় জ্যাম থাকলে আরো বেশি সময় লাগে।
এক সিএনজি তে সবার জায়গা হচ্ছে না।
আমি মুরগি দুধ নিয়ে এক সিএনজি তে উঠলাম আর মা ছেলেকে আরেকটায় তুলে দিলাম।
রাস্তা theke ওর লিস্ট করা সব ফল নিলাম।
আমার ভীষণ আনন্দ লাগছে। মেয়েটাকে কত দিন পর দেখবো। কত কথা জমে আছে।
ছেলের চেয়ে মেয়েটাকেই আমার বেশি আপন লাগে। ও জন্মনোর সময় বারবার করে আল্লাহর কাছে বলেছি আল্লাহ একটা জান্নাত দিয়েন আমার ঘরে। মেয়েটার নামও রেখেছি জান্নাত।
ওদের বাসায় গিয়ে দরজায় নক করতেই বেয়াই সাহেব গেট খুলে দিলো। একে একে সবাই আসলো আমাদের স্বাগতম জানাতে। কিন্তু মেয়েটা এলো না।
যা যা এনেছি সব ওদের হাতে তুলে দিচ্ছিলাম কিন্তু কারো মুখে তেমন আনন্দ দেখলাম না।
আমরা বসেছি পরে মেয়েটা দৌড়ে আসলো। আমাকে দেখেই হেসে বললো - তুমি অনেক শুকায় গেছো আব্বা। আমি উঠে দাঁড়িয়ে মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরতে হাত বাড়িয়ে দিলাম।
তখন আমার জান্নাত বললো - আব্বা আমার গায়ে অনেক ঘাম। তুমি ফ্যা
06/09/2025
গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমের দেশে, নোয়াখালীর এক গুণধর দেবর তখন ভাবীর বাসায় 'ওভারটাইম ডিউটি'তে ব্যস্ত। ভেবেছিলেন, ভাই বিদেশে, লাইন তো পুরাই ক্লিয়ার! কিন্তু তিনি ভুলে গিয়েছিলেন, পাড়া-প্রতিবেশী নামক একদল সজাগ 'সিসিটিভি ক্যামেরা' ২৪/৭ চালু থাকে!
ঘটনা আর কিছুই না, দেবর-ভাবীর দীর্ঘদিনের "গোপন মিটিং" চলছিল এলাকাবাসীর নাকের ডগায়। সবাই ভাবতো, আহা! কী সুন্দর সম্পর্ক! দেবর তার ভাবীর কত খেয়াল রাখে! কিন্তু সেই খেয়াল রাখতে গিয়ে যে তারা নিজেরাই 'খেয়ালে' থাকবে না, তা কে জানতো!
যেই না গভীর রাতে কর্ম সম্পাদন করতে গিয়েছেন, অমনি এলাকাবাসী "রেড অ্যালার্ট" জারি করে হাতে-নাতে ধরে ফেললো। তারপর আর কী! সকালের নাস্তার বদলে জুটলো ঘরের খুঁটির সাথে রাজকীয় বাঁধন এবং সাথে মুখরোচক চুনকালির প্রলেপ। হিসেবে ছিল উত্তম-ম*ধ্য*ম নামক গণসংবর্ধনা!
তবে হাসি-ঠাট্টা বাদ দিয়ে সিরিয়াস কথায় আসি:
ব্যাপারটা হাসির হলেও এর পেছনের কারণটা কিন্তু কা*ন্নার। বিদেশে থাকা ভাইটা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা পাঠায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, আর সেই পরিবারের সদস্যরাই তার পিঠে ছু*রি চা*লায়। যে দেবরকে ছোট ভাইয়ের স্নেহ দিয়ে আগলে রাখার কথা, সেই দেবরই হয়ে ওঠে ঘরের শ*ত্রু বিভীষণ।
এই প*র*কী*য়া নামক সামাজিক ব্যা*ধি আজ ক্যা*ন্সা*রের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এর জন্য শুধু একজন দায়ী নয়, আমাদের ঢিলেঢালা পারিবারিক শাসন, সন্তানদের খোঁজখবর না রাখা এবং নৈতিক শিক্ষার অভাবও অনেকাংশে দায়ী। একটা ভুলের কারণে পুরো পরিবারের সম্মান মাটিতে মিশে যায়।
এখন আপনাদের কাছে প্রশ্ন:
এই প*র*কীয়া নামক "ভাইরা*স" সমাজ থেকে দূর করার জন্য আপনার মূল্যবান ‘প্রেসক্রিপশন’ কী? খুঁটির সাথে বেঁধে উত্তম-ম*ধ্য*ম দেওয়া কি সঠিক সমাধান, নাকি এর চেয়ে ভালো কোনো ‘ট্রিটমেন্ট’ আছে?
কমেন্টে আপনার আইডিয়া শেয়ার করুন!
#প্রবাসী #পরকীয়া
#নোয়াখালী #দেবর_ভাবী #পরকীয়ার_ফাইনাল_ম্যাচ #সামাজিক_অবক্ষয় #প্রবাসীর_কষ্ট #ভাইরাল_টপিক
কপি
06/09/2025
আমার বরের পছন্দ সুন্দর ভাজা মাছ। লো হিটে অনেকটা সময় ধরে আস্তে আস্তে ভাজা মাছ, যেটার ভিতরে-বাইরে দুইটাই সুন্দর মচমচ করবে। একদম সিদ্ধ সিদ্ধ ভাব থাকবেনা।
এদিকে তার রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী মাছ ভাজতে গিয়ে আমাদের সবার কম্ম কাবার।
চুলার পাড়ে দাড়িয়ে থেকে থেকে আমরা ভাজা ভাজা হয়ে যাই, কিন্তু মাছ আর ভাজা হয়না।
খেতে বসে বর উদাস গলায় বলেন, নাহ, মাছটা ঠিক মত ভাজা হয়নাই।
তোমরা কেউ ঠিকমত মাছ ভাজতে পারোনা।
নাহ, মাছ টা কেমন সাদা সাদাই থেকে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি!
উনাকে যতই বুঝাই আমরা কত সময় নষ্ট করে এই মাছ ভেজেছি, উনি এর মর্ম আর বোঝেন না!
গতকাল আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম।
বর বললেন, তুমি মাছটা মেরিনেট করে দাও, আজ আমি ভাজব নাহয়।
উনি কাটাবাছা, মাজামাজিতে যতটা এক্সপার্ট, রান্নাবান্না, ভাজাভুজিতে অতটা পারদর্শী নন।
ভাজতে গিয়ে তেল ছিটে, আর উনার বুকের ভিতর ধরফর করে।
কিন্তু মায়া করে যে মানা করব, সেটা করলাম না।
এরপর উনি তিনটা মাছ ভাজলেন ৪৫ মিনিট ধরে, লো হিটে, চুলার পাড়ে, দাড়িয়ে দাড়িয়ে।
এরপর আমি রান্নাঘরে আসলাম। উনাকে জিজ্ঞেস করলাম,
আচ্ছা, যখন রেগুলার কাজকর্ম থাকে আমাদের, এভাবে এত সময় ধরে মাছ ভাজা কি কোন ভাবে প্র্যাক্টিকাল বল তো?
এইবার উনি একটা সেকেন্ড ও সময় নিলেন না। একবারেই মেনে নিলেন,
না, এটা একদম প্র্যাক্টিকাল না! এত সময় ধরে মাছ ভাজলে অন্য কাজ কখন করব! এইরকম ভাজা মাছ খেতে হলে একমাত্র ছুটির দিনে যখন হাতে সময় থাকবে তখন খেতে হবে!
কথায় বলে বুদ্ধিমানেরা দেখে শিখে।ঠেকে শিখে না।
এই কথা ছোটবেলায় জানার পর থেকে আজীবন বুদ্ধিমান হওয়ার চেষ্টা করে গেছি। কতটুকু পেরেছি জানিনা, কারণ নিজের কাছে আমার নিজেকে বড়ই স্টুপিড বলে মনে হয়। এইকারণে আশে পাশে আমার যা ঘটে সেখান থেকেই শেখার চেষ্টা করি।
এইরকমই বিশাল বড় একটা লাইফ লেসন পেয়েছিলাম আমার আব্বুর একটা কথা শুনে।
সারাজীবন আমার আম্মু সংসারের প্রতিটা কাজ নিজের কন্ট্রোলে নিয়ে করেছেন। সেইখানে আব্বুর, আমার বা ভাইয়ার কোন হাত ছিলনা। আমরা জানতামও না এই বিশাল বড় পাহাড়াসম একটা বাড়ি ফাংশন করে কিভাবে, এটা কিভাবে ম্যানেজ করা হয়। কিভাবে সব পরিষ্কার থাকে, কিভাবে সময়মত টেবিলে দশ রকম পদের খাবার চলে আসে, কিভাবে আমাদের জামা কাপড় সবসময় লন্ড্রি করা একদম রেডি থাকে।
খাবার দিতে সামান্য লেইট হলেই আব্বু বিরক্ত হতেন, এমন কি কাজ থাকে যে খাবারটা সময় মত দেওয়া যায়না!
সংসারের খুটিনাটি এসব ম্যানেজ করার যে কষ্ট টা সেটা উনি আম্মু বেচে থাকতে কখনোই বুঝে উঠতে পারেন নি।
অথচ আম্মু চলে যাওয়ার দেড় বছর পরই একদিন ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আমাকে আব্বু বললেন,
এখন তো দেখছি তোমার আম্মু যা যা বলতো সবই ঠিক বলত। এখন বুঝতে পারছি এই কাজের লোক চালানো কিরকম কঠিন। সংসারের এই কাজ গুলো কিভাবে যে তোমার আম্মু ম্যানেজ করতো আমি তো চিন্তাই করতে পারিনা!
অথচ এই ছোট্ট একটা acknowledgment পাওয়ার জন্য আম্মু ৭০ বছর অপেক্ষা করেছেন। আর আক্ষেপ করেছেন, আমি মরে গেলে বুঝবি তোরা সবাই।
আব্বু সত্যি বুঝলেন, কিন্তু সেই বোঝাটা যার জন্য সবচেয়ে দামী ছিল সেই মানুষ টা আর নেই। যে মানুষটা এই কথা গুলো শুনলে মনে করত তার জীবন হয়তো আসলেই গুরুত্বপূর্ণ, তার সারাজীবন ধরে করে যাওয়া কাজগুলোর ভ্যালিডেশন আছে, সম্মান আছে সেই মানুষ টা আর থাকলো না।
কি লাভ হল এই বোঝার?
সেইদিন আমার শিক্ষা হয়ে গেছিল, এই জীবনে আমার কাজের ভ্যালিডেশন আমি বেচে থাকতে থাকতেই যেন আমার পরিবারের, আমার আশে পাশের মানুষগুলো বুঝতে পারে। এসব আক্ষেপ অভিমান নিয়ে আমার সারা জীবন আমি কাটাতে চাইনা।
আমি চাইলে হয়তো আম্মুর মত, বা বাকি মা খালাদের মত সব কাজ করতে পারতাম।
আমি করিনি।
আমি সব কাজ করে দিয়ে আমার পার্টনারকে আরো স্পয়েলড করতে চাইনি। একজন মানুষের সব কাজ করে দেওয়াকে ভালবাসা বলেনা।
আমার পার্টনার যথেষ্ট সেনসিটিভ, রেস্পন্সিবল - কিন্তু উনিও আমার মত জমিদারের নাতির মত বেড়ে উঠেছেন। কাজ করতে চাইলেও উনার অনেক সময় লেগেছে সংসারে পুরোপুরি ইনভলভ হতে।
তবে এটা ঠিক, উনার মন মানসিকতা উদার না হলে হয়তো ইচ্ছাটাই থাকতো না। এইখানে উনাকে আমি ফুল ক্রেডিট দেই।
আমার কাছে মনে হয় সংসার একটা টিম ওয়ার্ক। এখানে ভালবাসার অর্থ হচ্ছে দুজন মিলে সুখ, কষ্ট, কাজ কর্ম, হার্ডশিপ, অ্যাচিভমেন্ট সব মিলে ঝুলে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়া। নাহলে আমরা একে অন্যের অবস্থান বুঝব কিভাবে? একে অন্যকে রেস্পেক্ট ই বা করব কিভাবে? একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীলই বা হব কিভাবে?
একটা ছোট্ট মাছ ভাজা থেকে যদি নিজেদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং পাকাপোক্ত হয়, তবে একবার মাছ ভাজাই যায়, তাই না?
একটা সময় ছিল বর বলতেন, এটা তো তুমি ঝটপট রান্না করে ফেলতে পারো। খুব সহজ রান্না করা!
এখন আমি রান্না করলে উনি আরো দশটা কাজ করে দিয়ে আমাকে রেস্ট নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন, আর বলেন, তুমি রান্না করেছ, এটাই তো অনেক কষ্টের। বাকি টা আমি করে দিচ্ছি ঠিক আছে?
This is all I ever desired.
Validation and acknowledgement of each other's job!
মানুষের আবেগী পোস্ট দেখে বিভ্রান্ত হবেন না, যারা বুক ফুলিয়ে বলেন, যাকে ভালবাসি তার জাংগিয়াও ধুয়ে দিব।
আপুমনি, একসময় এই করতে করতে দেখবেন ভালবাসাটাই জানালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। জীবনে আর কিছুই ভাল লাগেনা। আর দাম হয়তো মরে যাওয়ার পর পেলেও পেতে পারেন, বেচে থাকতে চিন্তাও করবেন না। কারণ নিজেকে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড তো আপনি নিজেই বানিয়ে দিয়েছেন।
দুজন মানুষের মধ্যে ভালবাসা ধরে রাখা এত সহজ নয়।
দুইজনকেই কাঠখড় পুড়িয়ে ঝড় তুফান সামলে সংসার আগলে রাখতে হয়। কথাটা যত দ্রুত বুঝবেন তত মঙ্গল।
©অনিমা চৌধুরী
♥️
Click here to claim your Sponsored Listing.