Science Bee

Science Bee

Share

17/05/2026

মানুষ কি কখনো বয়স বেড়ে যাওয়া একেবারে থামাতে পারবে? কল্পবিজ্ঞানের এই স্বপ্নকে এবার বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে রাশিয়া, কারণ তারা তৈরি করছে বিশ্বের প্রথম 'অ্যান্টি-এজিং ভ্যাকসিন' বা বার্ধক্য প্রতিরোধী ওষুধ। মূলত এটি একটি জিন থেরাপি, যা কোষের বয়স বেড়ে যাওয়া ধীর করতে সাহায্য করবে।

রাশিয়ার মন্ত্রী ডেনিস সেকিরিনস্কি জানিয়েছেন, এই পরীক্ষামূলক চিকিৎসাটি মানবদেহের 'RAGE' নামক একটি রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে কাজ করবে। শরীরে এই রিসেপ্টরটি সক্রিয় হলেই কোষের বয়স বাড়তে শুরু করে, তাই জিনগতভাবে একে আটকে দেওয়ার মাধ্যমে তারুণ্য দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব হবে। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী তাতায়ানা গোলিকোভা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই যুগান্তকারী ওষুধের উৎপাদন শুরু করা যাবে, যা একসময়ের অবিশ্বাস্য একটি চিন্তাকে বাস্তবে পরিণত করবে।

অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্পটি পরিচালনা করছে রাশিয়ার ইনস্টিটিউট অফ এজিং বায়োলজি অ্যান্ড মেডিসিন। মূলত দেশে জনসংখ্যার ক্রমাবনতি এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই এই বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি নির্দেশে ২০২৫ সালে শুরু হওয়া 'নিউ টেকনোলজিস ফর হেলথ প্রিজারভেশন' নামক একটি জাতীয় প্রকল্পের অধীনে এই গবেষণা চলছে। এই কর্মসূচির জন্য দুই ট্রিলিয়ন রুবেলেরও বেশি (প্রায় ২৬.৪ বিলিয়ন ডলার) এক বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে রুশ সরকার।

তবে বিজ্ঞানের চমকের বাইরেও এই বিপুল বিনিয়োগের পেছনে রয়েছে কিছু রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণ। ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, পুতিনের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের প্রধান মিখাইল কোভালচুকের 'অনন্ত জীবন' এবং 'রুশ জিনোম' আবিষ্কারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই প্রকল্পের জন্ম। পুতিনের বড় মেয়ে এন্ডোক্রিনোলজিস্ট মারিয়া ভরোন্তসোভা জড়িত আছেন এমন একটি জেনেটিক্স উন্নয়ন কর্মসূচিও তদারকি করেন কোভালচুক। বিষয়টি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, ৭৩ বছর বয়সী পুতিনসহ রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রায় সবারই বয়স বেশ বেশি, অথচ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাধারণ রুশ পুরুষদের গড় আয়ু মাত্র ৬৭ বছরের কাছাকাছি। তাই নিজেদের আয়ু বৃদ্ধি এবং বার্ধক্য ঠেকানোর এই বিপুল প্রচেষ্টা রাশিয়ার উচ্চপদস্থ নেতাদের কাছে কেবল একটি বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনই নয়, বরং ব্যক্তিগত একটি তাগিদও বটে।

Khairul Alom Fadush
Team Science Bee

16/05/2026

ডাক্তাররা একসময় ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট পানির থলি দেখে সেগুলোকে 'সিস্ট' ভেবেছিলেন এবং রোগটির নাম দিয়েছিলেন পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা PCOS। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এগুলো আসলে কোনো সিস্ট নয়, বরং হরমোনের কারণে আটকে থাকা অপরিণত ডিম্বাণু। এই ভুল ধারণা ভাঙতে ১২ই মে চিকিৎসা সাময়িকী 'ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে রোগটির নতুন নাম ঘোষণা করা হয়েছে— পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা PMOS।

14/05/2026

২০১১ সালে ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গলে একটি ম্যাকাক বানর ফটোগ্রাফার ডেভিড স্লেটারের ক্যামেরার বোতাম চেপে নিজের একটি হাস্যোজ্জ্বল সেলফি তুলেছিল। এই একটি ছবি জন্ম দেয় এক আইনি লড়াইয়ের, যেখানে প্রশ্ন ওঠে—মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী বা সত্তা কি কোনো শিল্পের মালিকানা বা কপিরাইট পেতে পারে? দীর্ঘ যুক্তিতর্কের পর মার্কিন কপিরাইট অফিস এবং আদালত রায় দেয় যে, মানুষ ছাড়া অন্য কেউ বা কোনো প্রাণী কপিরাইট ধারণ করতে পারে না, যার ফলে ছবিটি পাবলিক ডোমেইনে চলে যায়।

বানরের সেই অদ্ভুত ঘটনাটি বর্তমানে এআই-এর দুনিয়ায় এক বিশাল প্রভাব ফেলেছে। স্টিফেন থ্যালার নামের এক কম্পিউটার বিজ্ঞানী তার তৈরি করা 'ডাবাস' (Dabus) নামক এআই সিস্টেমের তৈরি একটি ছবির কপিরাইট দাবি করলে মার্কিন আদালত তা নাকচ করে দেয়। বানরের সেলফির সেই একই যুক্তিতে আদালত জানায়, যদি কোনো শিল্প সম্পূর্ণ এআই বা যন্ত্রের দ্বারা তৈরি হয়, তবে কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি তার মালিকানা পাবে না। এই সিদ্ধান্তটি বড় বড় বিনোদন কোম্পানিগুলোকে মানুষের বদলে সস্তা 'এআই স্লাপ' বা স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট দিয়ে বাজার ভরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে, কারণ তারা এই কনটেন্টগুলোর আইনি স্বত্ব দাবি করে ব্যবসা করতে পারবে না।

তবে এআই এবং মানুষের যৌথ কাজের ক্ষেত্রে আইনের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। যেমন জেসন অ্যালেন নামের এক ব্যক্তি ৬২৪ বার নির্দেশ বা প্রম্পট দিয়ে এবং ফটোশপ ব্যবহার করে মিডজার্নি এআই-এর সাহায্যে একটি ছবি তৈরি করে শিল্পকলা প্রতিযোগিতায় জয়ী হন এবং পরবর্তীতে এর আইনি অধিকার দাবি করেন। এআই-এর সহায়তায় তৈরি কোনো কাজে ঠিক কতটা মানুষের মেধা বা অবদান থাকলে সেটির কপিরাইট পাওয়া যাবে, তা নিয়ে আদালত এখনো চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আপাতত মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতা যে যন্ত্রের তৈরি কাজের চেয়ে আইনিভাবে সুরক্ষিত, তার জন্য সেই হাস্যোজ্জ্বল বানরটিকে আমরা ধন্যবাদ দিতেই পারি।

Khairul Alom Fardush
Team Science Bee

Telephone