Abegi-mon
27/05/2024
স্বামীকে সর্বদা পায়ের নিচে রাখতাম।এই যুগে তো নারীরাই সব,পুরুষদের প্রয়োজন কিসে?
এমন মনোভাব আমার ছোটকাল থেকেই ছিলো।বিয়ের পর বিষয়টা বাস্তব জীবনে উপলব্ধি করার চেষ্টা করলাম।স্বামীকে সবসময় নিজের কথায় নাচাতাম।
দেখতে বেশ রুপবতী এবং শিক্ষিত হওয়ায় আমি যাই বলতাম স্বামী তাই শুনতো।বিষয়টা প্রথম প্রথম ভালোই লাগতো।স্বামীকে বরাবর অবহেলা করতাম।বলা বাহুল্য; তার সাথে চাকরের মতো ব্যবহার করতাম।
ফলস্বরূপ,নিজেকে অনেক সম্মানিত এবং বড় কিছু মনে হলেও মনের দিক থেকে শান্তিটা যেন অনেক দূরে হারিয়ে গেলো।পরিবারের লোকজনও আড়ালে আবডালে আমায় নিয়ে সমালোচনা করতে শুরু করলো।এলাকার লোকজনও বাজে দৃষ্টিতে আমায় দেখতো।নিজেকে কেমন যেন রোবটিক মনে হতো।
বাবার বাড়ি ঘুরতে গেলাম।একরাতে মাকে কাঁদতে কাঁদতে বললাম
" মা,সবাই তো বলে পুরুষের হাতের রোবট কখনো না হতে।আমি তো ঠিক তেমনিই হয়েছি,বরং স্বামীকেই আমার চাকর বানিয়ে রেখেছি।কিন্তু মা, আমার জীবনে সুখ নেই কেন?কেন অন্যসব মেয়েদের মতো স্বামী সংসারে আমার মন বসে না? কেন আমার মনে ভালোবাসার শিহরণ জাগে না? "
মা হেসে বললো " স্বামীকে চাকর বানিয়েছিস রে মা! আর নিজে যে হয়েছিস চাকরানী,সেদিকে নজর রেখেছিস?সুখ পাবি কি করে? সুখ পেতে হলে রাজরাণী হতে হয়,স্বামীকে বানাতে হয় রাজা "
মায়ের কথা সেইরাতে আমায় বিস্মিত এবং অভিভূত করলো।ঠিকই তো! স্বামীকে চাকর বানিয়ে নিজেই তো চাকরানী হয়ে গেছি!
এরপর থেকে স্বামীকে স্বামীর মর্যাদা দিতে শুরু করলাম।স্বামীর সব কথা শুনি,ওনার ইচ্ছের দাম দিই,নিজেকে পরিপাটি হিসেবে ওনার সামনে উপস্থাপন করি।
এখন গর্ব করে বলতে পারি আমার মতো সুখী মেয়ে খুব কম জনই আছে।স্বামীকে রাজা বানিয়েছি,নিজে হয়েছি রাজরাণী।জীবনের আসল সুখ তো এখানেই নিহিত।স্বামীকে চাকর না,রাজা বানালে তবেই রাণীর সম্মান পাওয়া যায়।
গল্প #গুরুত্ব
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ- তুমি ওই দিনকে ভয় করো , যে দিন তোমার মুখে তালা লাগিয়ে দেয়া হবে আর তোমার হাত পা তোমার ক্রিত কর্মের সাক্ষী দিবে । ---ু সুরা ইয়াসিন (৬৫)
Click here to claim your Sponsored Listing.