Sharaj & Rhrishav
17/05/2026
মোল্লা"র জীবনকথা
আমি মোল্লা মাসুদ রহমান। আমি ২০০০ সাল থেকে আমি সংগীত শিক্ষা দানের সঙ্গে যুক্ত। ঢাকার অদূরে সাভারে “সুর রঙ সংগীত একাডেমি” নামে একটি ছোট্ট সংগীত শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করি ২০০৪ সালে। তারও আগে অন্য একটি সংগীত একাডেমিতে শিক্ষকতা করতাম। একটা সময় অল্প কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, সাভার শাখায় সংগীত শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছি। সংগীতকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার পূর্বে লেখাপড়ার ছাত্র পড়িয়েই আমার জীবনযাত্রার শুরু হয়। ধীরে ধীরে একটা সময়ে সুরের পথই হয়ে ওঠে আমার জীবনচলার প্রধান অবলম্বন।
জীবনে নানা চড়াই-উতরাই গেছে কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কখনো কেউ জানতে চায়নি, আমি আমরা কেমন আছি, কীভাবে চলছি। অবশ্য এ দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বাইরে অসংখ্য মানুষ নানা শ্রেণি-পেশায় জীবিকা নির্বাহ করলেও, রাষ্ট্র পক্ষ থেকে তাদের খোঁজ নেওয়ার সংস্কৃতি এদেশে গড়ে ওঠেনি। এটাই আমাদের বাস্তবতা। তবে আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকেরই ন্যূনতম নিরাপত্তা ও সম্মানের অধিকার রাষ্ট্র পক্ষ থেকে থাকা উচিত। যেহেতু সেই চল আমাদের দেশে এখনো গড়ে ওঠেনি, তাই নিজের কর্মের মূল্য ও নিয়ম নিজেকেই নির্ধারণ করে নিতে হয়েছে।
আমি মানুষের বাড়িতে গিয়ে গান শেখাই মানে এটাই আমার পেশা, এটাই আমার চাকরি। একজন সরকারি চাকরিজীবী যেমন নিয়মতান্ত্রিক সুবিধা পান, আমিও তেমনি আমার শ্রম ও সময়ের একটি সুশৃঙ্খল কাঠামো তৈরি করেছি। আমার শিক্ষার্থীরা আমার কাছে বারো মাসের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় তালিম নেয়। অর্থাৎ, দু’মাস শিখে কয়েক মাস বিরতি দিয়ে আবার শুরু, এভাবে আমি কাউকে শেখাই না। বিশেষ প্রয়োজনে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস বন্ধ রাখতে পারে, তবে মাসিক ফি চালু রেখে। কারণ সংগীত শিক্ষা কেবল শখ নয়, এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি ধারাবাহিক সাধনার সম্পর্ক।
আমি মুসলিম, আর মুসলিম সমাজে বছরে দুটি বড় আনন্দের উৎসব- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এই দুই ঈদ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ফি’র অর্ধেক পরিমাণ উৎসব ফি গ্রহণ করি আমি। পাশাপাশি বছর শেষে একটি ছোট্ট বাৎসরিক সেশন ফি রয়েছে।
তবে একটি বিষয় আমি সবসময় হৃদয়ে ধারণ করি, অর্থের অভাবে যেন কারও সংগীত শিক্ষা বন্ধ না হয়। যে শিক্ষার্থী নিয়মিত ফি দিয়ে শিখতে অপারগ, তাকে আমি অনলাইনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শেখাই। এ কার্যক্রম অফলাইনেও শুরু করার ইচ্ছে আছে। কিন্তু কম পারিশ্রমিকে আমি শেখাই না। কারণ শিল্প ও শিক্ষার মর্যাদা আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অসুবিধার কথা জানালে, কোনো অস্বস্তি তৈরি না করে তাকে সরাসরি ফ্রি ক্লাসে যুক্ত করে নিই আমি। বর্তমানে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে অসংখ্য ছেলে-মেয়ে আমার কাছে পেইড ও ফ্রি উভয় ব্যবস্থাতেই তালিম নিচ্ছে।
অনলাইন ও অফলাইনে গ্রুপ এবং একক ক্লাস ফি সমূহের নির্ধারিত একটি কাঠামো রয়েছে। যার সামর্থ্য আছে, সে নিয়ম অনুযায়ী শিখবে; আর যে অপারগ, তার জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা।
ঢাকায় “সুর রঙ সংগীত একাডেমি'র” আমাদের কোনো শাখা নেই। তবে সপ্তাহে একদিন ঢাকায় গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে তালিম দেই আমি।
সম্প্রতি অনলাইনে বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে গান ও গল্পের একটি আন্তরিক আড্ডার আয়োজন শুরু করেছি। সেখানে অনেক প্রবীণ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। সুর, স্মৃতি আর গল্পে ভরা এই আয়োজন আমাকে ভীষণ আনন্দ দিচ্ছে।
এভাবেই সুরের ভেতর দিয়ে মানুষের ভালোবাসায় চলছি। আপনাদের দোয়া ও আশীর্বাদে ভালো আছি, আলহামদুলিল্লাহ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Savar
1340